ইরানে ফের মার্কিন হামলা, উপকূলীয় এলাকায় দফায় দফায় বিস্ফোরণ

ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ ও দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহতে দফায় দফায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ভোরে এসব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর আগে কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।

বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ হামলার খবর প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তবে বিস্ফোরণের কারণ, হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এমন এক সময়ে হামলার খবর সামনে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছেন।

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল। আমরা জিতেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কি না, তা আমি জানি না। কারণ, কয়েক মাস ধরে আমরা কোনো লড়াই করছি না।’

তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছোট পরিসরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। এসব অভিযানকে প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি কিংবা জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন থেকে ইরানকে বিরত রাখতেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।

এদিকে মঙ্গলবার ভোরে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর লেঙ্গেহতে সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে।

তবে এসব বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি সংবাদমাধ্যম দুটি। হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়েও কিছু জানানো হয়নি।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশ বার্তা আদান-প্রদান করছে। কাতারের মধ্যস্থতায় এ যোগাযোগ সহজ করতে দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন বলেও জানান তিনি।

এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। পরে এপ্রিলে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।

হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। তবে প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন থমকে যায়।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর