Home Blog

‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দিবস’ পালন জাসদের

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরকে ‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালন করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার আলোচনা সভা ও সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের নেতা কর্নেল আবু তাহের বীরউত্তমের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে দলটি।

বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তানের শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে কর্নেল তাহেরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জাসদের সহসভাপতি মীর হোসাইন আকতারের সভাপতিত্বে ও জনসংযোগ সম্পাদক শরিফুল কবির স্বপনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা শফি উদ্দিন মোল্লা, শওকত রায়হান, নঈমুল আহসান জুয়েল, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, সাইফুজ্জামান বাদশা, মনির হোসেন, সাজ্জাদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আবু হানিফ, কাজী সাইমুল হক, শুভংকর দে বাপ্পা, সরদার খোরশেদ, পারভেজ আক্তার শিল্পী, গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান ছিল রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তনের লক্ষ্যে সাধারণ সিপাহিদের একটি সুশৃঙ্খল বিপ্লবী প্রচেষ্টা। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার জাসদ নেতা কর্নেল তাহের ও বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার নেতৃত্বে সিপাহি-জনতার এই অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। জাসদের বলিষ্ঠ ও ঐতিহাসিক ভূমিকার কারণে সেদিন ক্ষমতালোভী অফিসারদের ক্ষমতার জন্য উন্মত্ততা, বিশৃঙ্খলা ও রক্তারক্তি বন্ধ হয়েছিল। জিয়াউর রহমানসহ অসংখ্য অফিসার ও সৈনিকের জীবন রক্ষা পেয়েছিল।

বক্তারা বলেন, সিপাহি-জনতার সেই অভ্যুত্থানের সঙ্গে কারা বিশ্বাসঘাতকতা করে ঔপনিবেশিক আমলের রাষ্ট্রকাঠামো বহাল রেখেছিল এবং অভ্যুত্থানের মহানায়ক কর্নেল তাহেরকে অবৈধ ও বেআইনি সামরিক ট্রাইব্যুনালে মিথ্যা মামলায় প্রহসনমূলক বিচারে ফরমায়েশি রায় দিয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছিল, সেটা সবাই জানে। পরে জাসদ ও বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার নেতাদের দীর্ঘমেয়াদি সাজা প্রদানও দেশের রাজনীতির ইতিহাসে বেইমানি ও বিশ্বাসঘাতকতার কালো অধ্যায়। সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান বিপ্লবী রাজনীতির অনুপ্রেরণা জোগাবে যুগ যুগ ধরে।

স্কুলছাত্রী হত্যার রহস্য কাটেনি, তিনজন গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ১৬ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী হত্যার ঘটনায় বাবার মামলায় সন্দেহভাজন তিন কিশোর-তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। গতকাল শনিবার তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন–উপজেলার দক্ষিণ ঘটকের আন্দুয়া গ্রামের মো. শুভ ওরফে শান্ত (২২) ও মো. রাশেদ হাওলাদার (১৯) ও একই উপজেলার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়ার ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর। গত বৃহস্পতিবার মেয়েটির লাশ উদ্ধারের রাতেই তার বাবা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। পুলিশ সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাদের আটক করে। গতকাল শনিবার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

স্বজনের তথ্য মতে, টেস্ট পরীক্ষা দেওয়ার জন্য গত মঙ্গলবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় দশম শ্রেণির ওই ছাত্রী। সেদিন বিকেলে বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা বিদ্যালয়ে গেলে শিক্ষকেরা জানান, সে পরীক্ষায় অংশ নিতে যায়নি।  গত বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় লোকজন মেয়েটির বাড়ির অদূরে একটি ডোবায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে জানায়। পুলিশ বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, এই কিশোরীকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। তবে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছেন।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান এ বিষয়ে সমকালকে বলেন, কিশোরী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে তিনজনকে বৃহস্পতিবার রাতেই আটক করা হয়। দফায় দফায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তারা কোনো তথ্য দেননি। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা সবাই অস্বীকার করেছেন। তবে তিনজনের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ করেছেন। তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা খুলনায় চাঁদার জন্য এক মাসে চার স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে হামলা প্রকাশ্যে চায়নিজ কুড়াল হাতে এলেন পাঁচ যুবক, মুহূর্তে তছনছ ডায়াগনস্টিক সেন্টার

দুপুর পৌনে ১টা। খুলনা নগরীর ব্যস্ত পিটিআই মোড়। পাশের নিউ এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে তখন রোগীর ভিড়। অসংখ্য মানুষের সামনে চায়নিজ কুড়াল হাতে সেন্টারে প্রবেশ করলেন পাঁচ যুবক। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা কাচের দরজা, জানালা, এসি, টিভিসহ সামনে যা পেয়েছেন তা কুপিয়ে ও ভেঙে তছনছ করেন। এরপর সবার সামনে দিয়ে বের হয়ে যান।

ঘটনাটি গতকাল শনিবারের। গত এক মাসে খুলনায় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের চতুর্থ ঘটনা এটি। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে পঞ্চম ঘটনা। আগের প্রতিটি ঘটনার মতো এবারও মালিকপক্ষ ‘বোবা’ হয়ে গেছে। পুলিশও কিছু বলতে পারছে না।

তবে তিন তলা ওই ভবনের অন্য প্রতিষ্ঠানের লোকজন জানায়, প্রতিটি ভাঙচুরের পেছনে শীর্ষ সন্ত্রাসী নূর আজিম ও তার ‘বাহিনীর’ সদস্যরা জড়িত। মূলত দাবি করা চাঁদা না পেয়ে এবং ভয় দেখাতে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভাঙচুর চালানো হয়। জড়িতরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় সন্ত্রাসীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

ঘটনাস্থল ঘুরে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে পাঁচ যুবক খানজাহান আলী রোডে ভবনটির নিচতলায় নিউ এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে প্রবেশ করেন। তারা চায়নিজ কুড়াল দিয়ে দুটি এসি, একটি টিভি, সামনের দরজার কাচ, রিসিপশন কাউন্টারসহ যা পেয়েছেন সব ভেঙেছেন। এ সময় তাদেরই একজন ভিডিও ধারণ করছিলেন। তারা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক কর্মীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন। এ সময় ভেতরে থাকা রোগীরা ভয়ে ছোটাছুটি করছিলেন। ভাঙচুর শেষে যুবকরা বের হয়ে যান।

ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বেশ কিছুদিন আগে টুটপাড়ার নূর আজিম বাহিনীর এক সদস্য পরিচয়ে আমাকে ফোন দেয়। আমি বলি এই নামে কাউকে চিনি না। এ কথা বলার পরপরই বিপরীত দিক থেকে ফোন কেটে দেওয়া হয়। মালিকপক্ষের কারও কাছে চাঁদা চেয়েছে কিনা আমার জানা নেই।’

আগের ঘটনাগুলোর মতোই দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করে সবাইকে শনাক্ত করা গেছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।’

এর আগে গত মাসের মাঝামাঝি নগরীর রয়েল মোড়ে সিটি কুইন্স ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। গত ২৪ অক্টোবর নগরীর সন্ধানী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে ৮-১০ জন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা চিকিৎসকের চেম্বারের সামনের কাচ, চেয়ার ও টেবিল ভাঙচুর করে এবং ক্যাশ কাউন্টারেও তাণ্ডব চালায়। যাওয়ার সময় আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে তারা ক্লিনিকের বাইরে ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

সন্ধানী ক্লিনিকের ঘটনার চার দিন পর ২৮ অক্টোবর নগরীর আহসান আহমেদ সড়কে ‘চাইনিজ প্যালেস’ রেস্তোরাঁয় ভাঙচুর চালানো হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে কয়েকজন যুবক রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করে মালিককে খুঁজতে থাকেন। মালিককে না পেয়ে এবং রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ তাদের কথিত ‘ভাইয়ের’ ফোন কল রিসিভ না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে যুবকরা সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর চালান।

৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় মহানগরীর শামসুর রহমান রোডে রংধনু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং আব্দুল্লাহ প্যাথলজিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর করা হয়।

খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙচুরের ঘটনাগুলোতে ভুক্তভোগীরা কোনো মামলা করেনি। সন্ধানীতে গুলির খোসা পাওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। ওই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

প্রযুক্তিনির্ভর সিনেমায় সিনথিয়া

০

অভিনেত্রী, নৃত্যশিল্পী ও মডেল সিনথিয়া ইয়াসমিন এবার সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত প্রথম সিনেমার নাম ‘গ্যাপ’। মাবরুর রশীদ বান্নাহ পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্যের এই সিনেমাটি নির্মাতার দাবি অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রথম এআই সিনেমা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে মীরা চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিনথিয়া।

প্রথম সিনেমা, তাও আবার নতুন প্রযুক্তিনির্ভর নির্মাণে যুক্ত হতে পেরে উচ্ছ্বসিত সিনথিয়া। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশের প্রথম এআই সিনেমায় অভিনয় করতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত। এই সিনেমার জন্য পাঁচ দিন শুটিং করেছি। এরপর এআই প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে। গল্পটিও চমৎকার। আশা করছি, দর্শকের ভালো লাগবে। বান্নাহ ভাইকে ধন্যবাদ আমাকে এমন একটি কাজের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য।’

অভিনয়ের পাশাপাশি নাচ নিয়েও ব্যস্ত সময় কাটছে সিনথিয়ার। তিনি বলেন, ‘নৃত্যশিল্পী হিসেবে অভিনয়ে নিয়মিত থাকা সহজ নয়। দুই মাধ্যমেই সমানভাবে কাজ করে যেতে চাই। ভবিষ্যতে ভালো কাজের পাশাপাশি ওটিটিতেও অভিনয়ের ইচ্ছা রয়েছে।’

এদিকে সালাহউদ্দিন লাভলুর ‘ফুলগাঁও’ ধারাবাহিকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিনথিয়া।

গত আগস্টে ফ্রান্সের বিভিন্ন স্টেটে ‘মহুয়া পালা’য় মহুয়া রূপে নৃত্য পরিবেশন করে প্রশংসিত হন সিনথিয়া। সম্প্রতি ‘নৃত্যকলা সম্মাননা ২০২৬’ অর্জন করেছেন এই শিল্পী।

পোল্যান্ডে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৬

পোল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ক্রাকোর ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্রে বন্দুকধারীর হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজনের বাড়ি থেকে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারী উগ্র ডানপন্থী ও অতিজাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার কিছু আগে ক্রাকোর ঐতিহাসিক ও জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র মেইন মার্কেট স্কয়ারে গাড়ি নিয়ে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালান এক বন্দুকধারী। প্রায় তিন মিনিট ধরে চলে এই হামলা। এতে ছয়জন নিহত হন। তাদের মধ্যে চারজন নারী ও দুজন পুরুষ। নিহতদের তিনজন পোলিশ নাগরিক, একজন ব্রিটিশ এবং বাকি দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

আহত ১৬ জনের মধ্যে অস্ট্রিয়া, জার্মানি, পর্তুগাল, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের পাঁচজন নাগরিক রয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজন পুলিশ সদস্যও আছেন। তাদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ। বাড়িটি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে ওস্ত্রোভিয়েক শভিয়েন্তোক্রজিস্কি এলাকায় অবস্থিত। উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে দুজন নারী ও একজন পুরুষ রয়েছেন। তারা সন্দেহভাজনের পরিবারের সদস্য হতে পারেন বলে জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

টাস্ক বলেন, পোল্যান্ডে এর আগে এমন ভয়াবহ সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেনি। ক্রাকোতে মানুষের জীবনের ওপর চালানো এই নিষ্ঠুর হামলাকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবেই অভিহিত করতে হবে।

২৫ বছর বয়সী সন্দেহভাজন ব্যক্তি পোল্যান্ডের নাগরিক। হামলার সময় তার পরনে ছিল সামরিক কৌশলগত পোশাক এবং সঙ্গে ছিল সামরিক ধাঁচের অস্ত্র। তার গাড়ি থেকে আরও অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তিনি পোল্যান্ডের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য নন বলে জানিয়েছে সরকার। হামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পোল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সিন কিয়েরভিনস্কি বলেন, প্রাথমিকভাবে সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি উগ্র ডানপন্থী আদর্শে আকৃষ্ট ছিলেন। তার মধ্যে অতিজাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গিও ছিল।

হামলার পরপরই ক্রাকো শহরজুড়ে বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাজধানী ওয়ারশসহ দেশের অন্যান্য স্থানেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আগামী ১১ নভেম্বর পর্যন্ত ক্রাকোতে শোক পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী টাস্ক জানান, হামলাকারীর সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে তা পুলিশকে জানাতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।

স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার কিছু আগে হামলা শুরু হয়। মেইন মার্কেট স্কয়ার ক্রাকোর ঐতিহাসিক কেন্দ্রের একটি সুসজ্জিত চত্বর, যা দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। হামলার সময় গুলিতে আশপাশের দোকানের কাচের সামনের অংশ ভেঙে যায়। একটি ট্রামেও গুলি চালানো হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীর গাড়ি শহরের কেন্দ্র দিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটে যাচ্ছে। গুলির শব্দ শুনে মানুষ প্রাণভয়ে ছোটাছুটি করছেন।

ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা যায়, মানুষ পালানোর সময় বিভিন্ন টেবিল উল্টে পড়ে আছে এবং চারপাশে জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। পুলিশ হামলাকারীর গাড়িকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকধারীর গুলিবিনিময় শুরু হয়।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুই পুলিশ সদস্য গুলিতে আহত হয়েছেন। তাদের একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন, অন্যজনের অবস্থা তুলনামূলক ভালো। তারা হলেন- সিনিয়র কনস্টেবল ইয়াকুব কুলিক ও সিনিয়র কনস্টেবল আর্তুর মোরানস্কি। তাদের সাহসিকতার প্রশংসা করে টাস্ক বলেন, তারা অনেক মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। তাদের প্রকৃত বীর বলেও অভিহিত করেন।

হামলার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তিনি বলেন, ভয়াবহ এই গোলাগুলির ঘটনায় আমি মর্মাহত ও শোকাহত। নিহতদের পরিবারের সদস্য, আহত ব্যক্তি এবং সহিংসতার শিকার সবার প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে পোল্যান্ডের জনগণের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এই হামলাকে এমন একটি বিয়োগান্তক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার প্রভাব পোল্যান্ডের সীমানা ছাড়িয়ে আরও দূর পর্যন্ত অনুভূত হবে।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। আমি ভুক্তভোগীদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানায়। হামলার পর যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর পোল্যান্ডে ভ্রমণসংক্রান্ত পরামর্শ হালনাগাদ করেছে। ওই এলাকায় অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

হামলার সময় ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, গুলির শব্দে পুরো চত্বরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ক্রাকোর ২৪ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সেজারি বলেন, প্রথমে আমি বুঝতে পারিনি শব্দগুলো গুলির। পরে রাস্তায় চারটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে ঘটনার ভয়াবহতা বুঝতে পারি।

তিনি আরও বলেন, তখনও গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল, অনেক মানুষ চিৎকার করছিলেন। এ সময় একজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকা আরেক ব্যক্তিকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে দেখি।

যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল থেকে আসা ক্যাটলিন শ্যাসবি জানান, হোটেলের কক্ষে অবস্থান করার সময় তিনি গুলির শব্দ শুনতে পান। পরে পুলিশ বাইরের রাস্তা অবরুদ্ধ করে ফেললে তাকে হোটেলের ভেতরেই আশ্রয় নিতে বলা হয়।

পোলিশ সংবাদমাধ্যম ইনের্শিয়াকে আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন,আমি গাড়ির চালকের পাশের জানালা দিয়ে গুলি ছুড়তে এবং ধোঁয়া বের হতে দেখেছি। পরে প্রাণভয়ে দৌড়ে মেইন মার্কেট স্কয়ারের পুলিশ স্টেশনে আশ্রয় নিই। সেখানে গিয়ে দেখি, অনেক মানুষ মেঝেতে শুয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করছেন।

বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ ১০ বছরে তিন গুণ

গত এক দশকে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বেড়েছে। ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যকার ১০ বছরে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণস্থিতি প্রায় তিন গুণ হয়ে ১১৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। গত বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট-২০২৬-এ বাংলাদেশসহ সদস্য দেশগুলোর ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিদেশি ঋণের পরিসংখ্যান রয়েছে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের চাপ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনীতিতে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ঋণ বাড়ার পাশাপাশি আসল ও সুদ পরিশোধের ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এতে করে দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে উল্লেখিত বাংলাদেশ সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৫ সালে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ ছিল ৩৮ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। ২০১৭ সালে তা ৫১ বিলিয়ন ছাড়ায়। ২০২১ সালে মোট ঋণ দাঁড়ায় ৯১ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলারে। ২০২৫ সালে এসে ১১৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। এতে করে এক দশকে বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ১৯২ শতাংশ।

প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলছে, গত এক দশকে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি ঋণের ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল সবচেয়ে দ্রুত। ২০১৫ সালে সরকারের নেওয়া দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ৪ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলারে। বেড়েছে সাড়ে সাত গুণেরও বেশি। একই সময়ে বহুপক্ষীয় ঋণ ২০ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ৪৫ দশমিক শূন্য ৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। বহুপক্ষীয় উৎসের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ঋণ ১১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন থেকে ২২ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এ ছাড়া আইএমএফের ঋণ ১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ৬ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

ঋণ পরিশোধের বোঝা 
ঋণ বৃদ্ধির সঙ্গে বার্ষিক পরিশোধের খরচ বাড়ায় আর্থিক ঝুঁকি গভীর হয়েছে। ২০১৫ সালে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুদ বাবদ বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হয়েছিল ৩৩১ মিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে এই সুদের পরিমাণ প্রায় আট গুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলারে। আসল পরিশোধ এ সময়ে ১ দশমিক ২৯ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ফলে ২০২৫ সালে কেবল দীর্ঘমেয়াদি ঋণের আসল ও সুদ মেটাতে বাংলাদেশকে মোট ৭ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশের অনুকূলে যে পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ ছাড় হয়েছে, তার চেয়ে আগে নেওয়া ঋণের সুদ ও আসল মিলিয়ে পরিশোধের অঙ্ক দ্বিগুণ। দেশি ও বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধ বাজেটের একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, ঋণ পরিশোধ সক্ষমতার সূচকগুলোতে বড় পতন ঘটেছে। ২০১৫ সালে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের প্রায় ৭১ শতাংশের সমপরিমাণ রিজার্ভ ছিল। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ২৫ শতাংশে। একই সঙ্গে জাতীয় আয় এবং রপ্তানি আয়ের বিপরীতে বৈদেশিক ঋণের অনুপাতও অনেক বেড়ে গেছে।

বৈশ্বিক পরিস্থিতি
বিশ্বব্যাংকের ‘আন্তর্জাতিক ঋণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মোট বৈদেশিক ঋণ সাড়ে ৫ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৯ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। উচ্চ সুদের হারের কারণে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য ঋণ পরিশোধ কঠিন হয়ে উঠেছে। বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ)-ভুক্ত দরিদ্র দেশগুলোর ঋণ ৮ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালে আইডিএ-ভুক্ত দেশগুলোকে নতুন বেসরকারি ঋণে গড়ে ৮.২ শতাংশ এবং বন্ডে ৯.৪ শতাংশ উচ্চ সুদ দিতে হয়েছে, যা বহু দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো ২০২৫ সালে রেকর্ড ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার আসল ও সুদ পরিশোধ করেছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলো নতুন প্রাপ্ত অর্থায়নের চেয়ে ৪৩৬ বিলিয়ন ডলার বেশি ঋণ পরিশোধ করেছে। দুর্বল মার্কিন ডলারের কারণে অন্যান্য মুদ্রার ঋণ ডলারে রূপান্তরে ঋণের হিসাব আরও বড় হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় নির্বাচনেও ১১ দলের জোট চান মামুনুল হক

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের সমঝোতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভিন্ন ভিন্ন প্রার্থী দেওয়ার কারণে চলমান আন্দোলনের ঐক্য দুর্বল হতে পারে এবং মাঠপর্যায়ে বিভেদ তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বড় দল হিসেবে এর দায় জামায়াতের ওপরই বর্তাবে।’

শনিবার ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। তাঁর দল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে মাহবুবুল হক এবং উত্তরে মুর্শিদুল আলম সিদ্দীকের নাম ঘোষণা করে।

মামুনুল হক বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে পরবর্তী আন্দোলনেও ১১ দলীয় ঐক্যের সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এই ঐক্যের ভিত্তিতে সমঝোতা প্রয়োজন। কিন্তু ১১ দলের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা শুরু করেছে।’

তাঁর মতে, সবগুলো দল ভিন্ন ভিন্ন প্রার্থী দেওয়ার কারণে চলমান আন্দোলনের ঐক্যে দুর্বলতা দেখা দিতে পারে এবং মাঠপর্যায়ে বিভেদ তৈরি হতে পারে। সেজন্য আন্দোলনের ঐক্যের স্বার্থে আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সমঝোতার আহ্বান প্রয়োজন।

খেলাফত আমির  বলেন, ‘আমরা আপাতত এককভাবে ইউনিয়ন, জেলা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করছি। পাশাপাশি আলোচনার দরজাও খোলা রাখছি।’

নয়াপল্টনে প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রকামী মানুষকে ষড়যন্ত্র করে দমিয়ে রাখা যাবে না পরাজিতরা মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে

দেশের বিরুদ্ধে আবার ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে দমিয়ে রাখতে চায়; তারা আমি-ডামি নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়। তবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো এবারও তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের ভেতরে বা বাইরে সব ষড়যন্ত্র আমরা শেষ করে দেব। কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত ‘সার্বভৌমত্ব’ শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের সার্বভৌমত্ব র‍্যালি হোক বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার দিন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ জীবন দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছে, সেটি হোক গণতন্ত্র রক্ষার দিন।

এ সময়ে প্রধানমন্ত্রী নিজে স্লোগান ধরে বলেন– ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কেনো দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ। আসুন, আমরা আমাদের অসমাপ্ত বিপ্লব শুরু করি আজ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা শুধু স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ফিরিয়ে আনে নাই; দেশের মানুষ স্বৈরাচার, ষড়যন্ত্রকারীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। যেভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একইভাবে সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছে; দেশের মানুষের অংশগ্রহণে, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।’

বক্তব্য শেষ করে প্রধানমন্ত্রী হেঁটে র‍্যালিতে যোগ দেন। এ সময় তিনি হাত উঁচিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছে সমাপনী বক্তব্য দেন।

বিএনপির এ কর্মসূচি ঘিরে দুপুর ১২টা থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে সমবেত হতে শুরু করেন। তাদের  হাতে ছিল লাল-সবুজ পতাকা এবং জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আলোকচিত্র-সংবলিত প্ল্যাকার্ড।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন তারেক রহমান। এরপর আর্মি স্টেডিয়ামে ক্যাডেট ও স্কাউটদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য ডিসপ্লে উপভোগ করেন। সেখান থেকে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত গ্রাম পুলিশদের মহাসমাবেশে যোগ দেন। পরে নয়াপল্টন থেকে বিএনপির শোভাযাত্রায় যোগ দিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এসে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তিনি। সন্ধ্যায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে দিবসটি উপলক্ষে কনসার্টের আয়োজন করা হয়।

পরাজিতরা মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে কর্মসূচির সমাপ্তির আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে যারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, মানুষের অধিকার, ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করত, তাদের জনগণ বারবার পরাজিত করেছে। আবারও তারা মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আসুন, এই জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, যে কোনো মূল্যে আমরা আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব এবং বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করব– এটাই হোক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রতিজ্ঞা।
তিনি বলেন, যতদিন স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন এই বিপ্লবের র‌্যালি চলমান থাকবে।

ছয় কিলোমিটার হাঁটলেন প্রধানমন্ত্রী
সরকারের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে থেকেও প্রটোকল ও আনুষ্ঠানিকতার বলয় ভেঙে রাজপথে হাজারো নেতাকর্মীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দীর্ঘ ছয় কিলোমিটার পথ হেঁটেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই পুরো পথে প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে রাস্তার দুই ধারে হাজার হাজার মানুষ দাঁড়িয়ে হাতে নেড়ে শুভেচ্ছা জানায়। উঁচু উঁচু দালানেও উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা গেছে।

শোভাযাত্রায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যসহ সর্বস্তরের নেতারা অংশ নেন। বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছে সমাপনী বক্তব্য দেন। শোভাযাত্রাটি কাকরাইল মোড়, প্রধান বিচারপতির বাসভবনের পাশ দিয়ে রমনা পার্ক সড়ক, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় হয়ে বাংলামটর, ফার্মগেট, ইন্দিরা রোড হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি, উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু প্রমুখ।

৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ম্যাগনা কার্টা 
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গতকাল সকালে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ক্যাডেট ও স্কাউটদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ডিসপ্লে উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিএনসিসি, ক্যাডেট ও স্কাউটদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের ম্যাগনা কার্টা বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর হলো স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনা কার্টা। দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী; যারা এই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছেন, নাগরিক হিসেবে সবার একটাই পরিচয়– আমরা বাংলাদেশি। এই পরিচয় আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করেছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আমাদের বাংলাদেশি পরিচয় নির্ধারণের জন্য ভিত্তিভূমিও রচনা করেছিল। সুতরাং যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য ততদিন প্রাসঙ্গিক থাকবে।

অনুষ্ঠানে বিএনসিসির তিন হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটের ৫০০ সদস্য অংশ নেন। তিন পর্বে সাজানো হয় ডিসপ্লে অনুষ্ঠান। প্রথম পর্বে রণাঙ্গনের যোদ্ধা থেকে রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠা জিয়াউর রহমানের ইতিহাস তুলে ধরা হয়। দ্বিতীয় পর্বে খালেদা জিয়ার আপসহীনতার অনির্বাণ যাত্রা এবং তৃতীয় পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদের পরম্পরা ফুটিয়ে তোলা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও দেশ গঠনে তরুণদের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। অনুষ্ঠান শেষে চমৎকার পরিবেশনার জন্য ক্যাডেট ও স্কাউটদের ধন্যবাদ জানান তিনি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, বিমানবাহিনী প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সচিব এবং সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মী
দিবসটি উপলক্ষে দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে অবস্থিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ সময় রাষ্ট্রপতি তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর জিয়া উদ্যানে যান। তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দুই নেতার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তারা ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে নেতাকর্মীরা দুই সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

লিবিয়ায় নিয়ে জিম্মি মুক্তিপণ আদায়কারী ও হুন্ডি চক্রের ৩৪ জনের সম্পদ জব্দ

ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে লোকজনকে লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতন করত একটি চক্র। পরে তাদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করে সেই অর্থ জমা রাখা হতো বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে। ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে চক্রটির ৩৪ ব্যক্তির ১১১টি ব্যাংক হিসাবে ৩৭৬ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এসব ব্যাংক হিসাবের মধ্যে দেড় কোটি টাকা জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি চক্রটির স্থাবর সম্পত্তি দেখভালের জন্য নড়াইলের জেলা প্রশাসককে রিসিভার (তত্ত্বাবধায়ক) নিয়োগ করা হয়েছে। সিআইডি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মানব পাচার, মুক্তিপণ আদায় ও হুন্ডির সঙ্গে ৩৪ জন জড়িত। তাদের মধ্যে কাজী বিল্লাল, রাব্বানী ফরাজিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিরা দেশে-বিদেশে পলাতক।

চক্রের যেসব সদস্যকে পুলিশ খুঁজছে, তারা হলেন– চাঁপাইনবাবগঞ্জের জুয়েল আলী, তোজাম্মেল হক; নওগাঁর মঙ্গলবাড়ির গৌরী রাণী মোহন্ত; মাদারীপুরের শিপু কবিরাজ; কুমিল্লার আছমা বেগম, আব্দুল্লাহ আল নোমান, কাজী বিল্লাল হোসেন ও নুসরাত শাহিন ইতি; কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের হানিফ মিয়া; রংপুরের জিয়াউর রহমান; চট্টগ্রামের রেজাউল করিম; খুলনার তাওহিদুল ইসলাম, সামিম সানা ও আবদুল হাই; নড়াইলের সাতবাড়িয়ার আওয়াল ফরাজি, রুবেল ফরাজি, মিনা বেগম, আলাউদ্দিন, রবিউল ইসলাম, রাকিবুল, আইয়ুব আলী ও রুহুল আমিন; যশোরের অভয়নগরের আরশাদ আলী; নীলফামারীর ডিমলার নুরুল ইসলাম, মিনা আক্তার, সহিদুল ইসলাম, মাসুদুর রহমান, রিপন মিয়া, ফেরদৌস ওয়াহেদ, আব্দুর রহিম, আব্দুস সালাম, মোহাম্মদ আলী শেখ ও মুরাদ মোল্লা।

সিআইডির সূত্র বলছে, যেসব ব্যাংক হিসাবে মুক্তিপণের অর্থসহ অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলোর মধ্যে জুয়েল আলীর ২৩টি হিসাব রয়েছে। এর মধ্যে তাঁর মালিকানাধীন জে কে এন্টারপ্রাইজের চারটি, মিতু গার্মেন্টসের আটটি এবং নিজের নামে ১১টি হিসাব রয়েছে। তাঁর একটি হিসাবে জমা হয়েছে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ৪ হাজার ২৩১ টাকা। এর মধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে ৮ কোটি ৩২ লাখ ৯ হাজার ৮৮২ টাকা।

তদন্ত সূত্র বলছে, তাঁতীবাজারের কাজী গোল্ড হাউস নামে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত কাজী বিল্লালের নির্দেশে তাওহিদুল ইসলাম ও সামিম সানা সিঙ্গাপুরসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের কাছ থেকে বিদেশি মুদ্রা গ্রহণ করতেন।

এরপর কাজী গোল্ড হাউসের মাধ্যমে প্রবাসীদের স্বজনদের কাছে মোবাইল ব্যাংকিং ও প্রচলিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হতো।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা লিবিয়ায় আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের মুক্তির বিনিময়ে অর্থ আদায়ের জন্য কয়েকটি ব্যাংকের নির্দিষ্ট হিসাব নম্বর ব্যবহার করেছেন। একই সঙ্গে লিবিয়ার মুদ্রা ও ডলার স্থানান্তরে হুন্ডির আশ্রয় নিয়েছেন। এসব লেনদেনে প্রতি এক লাখ টাকায় ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা কমিশন দেওয়া হতো। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কেউ কেউ কমিশনের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যাংক হিসাব ব্যবহারে তাদের প্ররোচিত করেছেন। সব মিলিয়ে তদন্তে ৩৪ অভিযুক্তের মালিকানাধীন ১৮টি প্রতিষ্ঠান অবৈধ অর্থ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সিআইডির একটি সূত্র বলছে, লিবিয়া ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় আলাউদ্দিন-আওয়াল চক্রের সদস্যরা সক্রিয়। ১২ বছর আগে আলাউদ্দিন লিবিয়ায় যান। পরে আওয়ালের সঙ্গে মানব পাচারে যুক্ত হন। লিবিয়ায় ভুক্তভোগীদের আটকে রাখা, মুক্তিপণ আদায় এবং দেশের সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করতেন আলাউদ্দিন।

সূত্রটি আরও বলছে, চক্রের সদস্যরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে মানুষকে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা নিতেন। পরে তাদের আওয়াল ও আলাউদ্দিনের কাছে লিবিয়ায় পাঠানো হতো। এরপর ভুক্তভোগীদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা আদায় করত চক্রের সদস্যরা।

তদন্তে যুক্ত এক কর্মকর্তা বলেন, লিবিয়ায় শতাধিক ক্যাম্প রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব ক্যাম্পে মানুষকে জিম্মি করে নির্যাতন করা হয়। জিম্মি ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে ৫ লাখ থেকে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ নেওয়া হয়েছে।

কানাডার নতুন অভিবাসন পরিকল্পনা ঘোষণা, তিন বছরে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ পিআর দেওয়ার লক্ষ্য

আগামী তিন বছরে ১১ লাখ ৪০ হাজার নতুন স্থায়ী বাসিন্দা (পিআর) গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে নতুন অভিবাসন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে কানাডার ফেডারেল সরকার। ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত প্রতিটি বছর ৩ লাখ ৮০ হাজার করে নতুন স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

গত ৫ নভেম্বর প্রকাশিত ‘ইমিগ্রেশন লেভেলস প্ল্যান ২০২৭-২০২৯’-এ এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭, ২০২৮ ও ২০২৯—প্রতিটি বছরই সমানসংখ্যক স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণ করবে কানাডা।

ইমিগ্রেশন, রিফিউজি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডার (আইআরসিসি) নতুন পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক অভিবাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দক্ষ কর্মী, প্রাদেশিক মনোনয়ন কর্মসূচি (পিএনপি) এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক অভিবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে অধিকাংশ নতুন স্থায়ী বাসিন্দা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পরিবার পুনর্মিলন, শরণার্থী ও মানবিক বিবেচনায় অভিবাসনের সুযোগও অব্যাহত রাখা হবে।

নতুন পরিকল্পনায় ফরাসিভাষী অভিবাসীদের জন্যও বিশেষ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কুইবেক প্রদেশের বাইরে ফরাসিভাষী স্থায়ী বাসিন্দার হার ২০২৭ সালে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০২৮ সালে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৯ সালে ১২ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী বিদেশি কর্মীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অভিবাসন ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কানাডা সরকার।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন পরিকল্পনায় দক্ষতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং ইংরেজি বা ফরাসি ভাষায় দক্ষতার বিষয়গুলো কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসে আগ্রহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তবে সরকারের ঘোষিত ১১ লাখ ৪০ হাজার স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা কোনো আবেদনকারীর পিআর পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। প্রত্যেক আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্মসূচির নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। এ কারণে আবেদন করার আগে কর্মসূচির শর্ত যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে কানাডার অনুমোদিত অভিবাসন পরামর্শকের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।