যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নিয়ে ধোঁয়াশা হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানি ড্রোন ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র

0
6

তিন মাসেরও বেশি সময় যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শান্তিচুক্তির একটি খসড়ায় সম্মত হয়েছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ে যেতে পারে। গতকাল শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এ তথ্য জানান। তবে পাল্টা মন্তব্য এসেছে ইরানের পক্ষ থেকে। ফলে চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

গতকাল শাহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লেখেন, ‘আমরা অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় শান্তিচুক্তির খুব কাছে রয়েছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সব চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছি। তাৎক্ষণিকভাবে ইলেকট্রনিক পন্থায় শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী, এই ঐতিহাসিক চুক্তি দীর্ঘমেয়াদি শান্তির ভিত্তি রচনা করবে।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্বাক্ষর আজ রোববার হবে না বলে জানায় ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘায়ি বলেন, আগামী দিনগুলোতে সমঝোতা স্বাক্ষরের সম্ভাবনা বাতিল করে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে সাক্ষরের দিনক্ষণ নিয়ে কোনো মন্তব্য করার আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপর পক্ষের দ্বিধার কারণে। বাঘায়ির দেওয়া তথ্যানুসারে, ইসলামাবাদ বা জেনেভায় আগামী এক দিন বা দুই দিনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য কোনো আলোচক দল পাঠানোর পরিকল্পনাও নেই ইরানের।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় যুদ্ধ। ইরানে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। পরে পাল্টা জবাব দেয় তেহরানও।
চুক্তির বিষয়ে যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গত শুক্রবার জানান, চুক্তিতে যদিও পরিবর্তন আসা সম্ভব, তার পরও এ সংঘাতের মধ্য দিয়ে তাঁর দেশের অবস্থান দৃঢ় হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ যুদ্ধে জয়ী হয়েছে ইরান।’

এক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আরাঘচির এ মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হতে থাকা ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র জানায়, ওই ড্রোনগুলো বাণিজ্যিক নৌযানের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছিল। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডও পরে ওই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি তারা জানিয়েছে, জলপথ খোলা রয়েছে।

যুদ্ধ অবসানের আলোচনার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষ এরই মধ্যে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এ চুক্তির পরে শুরু হবে। সব মিলিয়ে ৬০ দিন আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রস্তাবে তেহরানের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও রয়েছে বলে জানা গেছে।

জুলাইয়ে দাফন করা হবে আলি খামেনিকে
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে আগামী ৯ জুলাই দাফন করা হবে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে তথ্যটি। ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তেহরানে ৪ ও ৫ জুলাই বিদায়ী অনুষ্ঠান হবে, জানাজা অনুষ্ঠিত হবে ৬ জুলাই। আর কোমে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে ৭ জুলাই। ৯ জুলাই আরেকটি জানাজার পর মাশহাদ শহরে ইমাম রেজার মাজারে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে দাফন করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here