ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর উদ্ধার তৎপরতায় সরকারের অবহেলা ও উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তাদের দাবি, অনেক এলাকায় সময়মতো উদ্ধারকারী দল পৌঁছেনি। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা অনেক মানুষকে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারাই খালি হাতে উদ্ধারের চেষ্টা করেছেন।
উপকূলীয় শহর লা গুইরায় ধসে পড়া একটি ১২ তলা ভবনের সামনে অপেক্ষা করছেন মিগেল অস্কার নুনেজ। তার ৩৪ বছর বয়সী ছেলে অ্যাঞ্জেল ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিগেল বলেন, ‘আমার ছেলে হয়তো ভূমিকম্পে মারা যায়নি। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে যদি তার মৃত্যু হয়, সেটি মেনে নেওয়া কঠিন। দ্রুত আরও উদ্ধার সহায়তা প্রয়োজন।’
গত বুধবার আঘাত হানা যমজ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৭০০ জন নিহত হয়েছেন। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ একে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
একই ভবনের বাসিন্দা কেভিন মন্টিলা অভিযোগ করেন, ভূমিকম্পের পর উদ্ধার অভিযান শুরু হতে অনেক দেরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘শুরুতে শুধু স্থানীয় মানুষজন উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছিল। পুলিশ এলেও কার্যকর কোনো সহায়তা করেনি। সরকারের প্রতিক্রিয়া ছিল হতাশাজনক ও অকার্যকর।’
বর্তমানে ঘটনাস্থলে ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ার উদ্ধারকারী দল, ভারী যন্ত্রপাতি এবং ক্রেন দিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দিন নষ্ট হয়ে গেছে।
উপকূলীয় বেলো হরিজন্তে আবাসিক এলাকায়ও একই চিত্র দেখা গেছে। ধসে পড়া দুটি বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপে স্বেচ্ছাসেবক ও স্বজনরা কোদাল, লোহার রড এমনকি খালি হাতেও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিখোঁজ চাচাকে খুঁজছেন উইলিয়াম রদ্রিগেজ। তিনি বলেন, ‘অনেক জায়গায় সাহায্য অনেক দেরিতে এসেছে, আবার কোথাও এখনো পৌঁছায়নি। তবুও আমরা খোঁজা বন্ধ করিনি, কারণ এখনও কেউ জীবিত থাকতে পারেন।’
স্থানীয় বাসিন্দা হুয়ান আভেন্দো জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের চিৎকার শুনে তিনি ও তার স্বজনরা খালি হাতে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করেন। তার ভাষ্য, সরকারি উদ্ধারকারী দল ভূমিকম্পের প্রায় দুই দিন পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনও শত শত মানুষের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। অনেকের মরদেহ হয়তো কখনোই উদ্ধার করা সম্ভব হবে না। ফলে এই দুর্যোগে প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা হয়তো কোনো দিনই জানা যাবে না।




