এখন থেকে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পেতে দিতে হতে পারে ১৬ লাখ টাকা

0
3

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নতুন কঠোর আইন আনতে যাচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত আইনে, আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় খরচে থাকা-খাওয়ার ব্যয়ের অংশ হিসেবে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড (প্রায় ১৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা) পরিশোধ করতে হবে। এ অর্থ পরিশোধ না করলে তারা স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাসের অনুমতি (সেটেলমেন্ট) পাবেন না।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হবে।

নতুন এই আয়ভিত্তিক অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা প্রস্তাবিত ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম বিল’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা একে শিক্ষা ঋণ পরিশোধ ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করলেও মানবাধিকার ও শরণার্থী সহায়তা সংস্থাগুলো এর তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, যুদ্ধ, নির্যাতন ও দুর্ভিক্ষ থেকে পালিয়ে আসা মানুষের ওপর এটি কার্যত অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার শামিল।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই প্রকল্প থেকে সরকারের আর্থিক লাভ খুবই সীমিত হবে। কারণ আশ্রয় পাওয়ার পাঁচ বছর পরও অধিকাংশ শরণার্থীর আয় তুলনামূলক কম থাকে। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থী মর্যাদা পাওয়ার পাঁচ বছর পর মাত্র ১৩ শতাংশের বার্ষিক আয় ২০ হাজার পাউন্ড বা তার বেশি ছিল। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের জাতীয় জীবিকা নির্বাহযোগ্য ন্যূনতম মজুরি বছরে প্রায় ২৫ হাজার পাউন্ড।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়তা দেওয়া যেমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তেমনি আয় করতে সক্ষম হলে তাদেরও সেই সহায়তার একটি অংশ ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, যারা আর্থিকভাবে সক্ষম হবেন, তাদের কাছ থেকে ব্রিটিশ জনগণের দেওয়া সহায়তার প্রতিদান হিসেবে এই অর্থ পরিশোধের প্রত্যাশা করা হবে।

হোম অফিস জানিয়েছে, আশ্রয়প্রার্থীদের মোট প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড পরিশোধ করতে হবে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী এই অর্থের পরিমাণ পরিবর্তনের ক্ষমতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে থাকবে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির পরিচালক ম্যাডেলিন সাম্পশন বলেন, আয়ের সীমা তুলনামূলক কম নির্ধারণ না করলে খুব অল্পসংখ্যক শরণার্থীই এই প্রকল্পের আওতায় অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। তার মতে, এতে সরকারের রাজস্ব আয় খুব বেশি বাড়বে না, বরং কিছু শরণার্থী কাজ করতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন বা সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র এড়িয়ে বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে পারেন।

এদিকে, প্রস্তাবিত বিলে ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের অনুচ্ছেদ ৮ অভিবাসন ও বহিষ্কারসংক্রান্ত মামলায় কীভাবে প্রয়োগ হবে, সে বিষয়ে নতুন নির্দেশনা যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিবাসীদের বয়স নির্ধারণ প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা এবং আধুনিক দাসত্ব-সংক্রান্ত আইনের কিছু বিধান সংশোধনেরও প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here