ইরাকের সাত প্রদেশে ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২০ জন, আহত হয়েছেন ৩২ জন। এর মধ্য দিয়ে আরও একবার সামনে চলে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিধি বাড়ার শঙ্কা।
বিবিসির খবর বলছে, ইরাকের পপুলার মবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) ওপর আঘাত হানা হয়েছে। গোষ্ঠীটির ভেতরে ইরান সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়ারা আধিপত্য বিস্তার অবস্থানে রয়েছে। পিএমএফ এক বিবৃতিতে গতকাল বুধবার সকালে হামলা ও হতাহতের তথ্যটি নিশ্চিত করে জানায়, বাগদাদ, ওয়াসিত, নিনেভেহ, বসরা, কিরকুক, কারবালা ও দিয়ালা প্রদেশে হামলা হয়েছে।
এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, উত্তরের নিনেভেহ ও মধ্যাঞ্চলের দিয়ালায় সবচেয়ে মারাত্মক আক্রমণ হয়েছে। পিএমএফ এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী আক্রমণ’, ‘গুরুতর সীমালঙ্ঘন’ ও ‘ইরাকের সার্বভৌমত্বের প্রতি আঘাত’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
অন্যদিকে ইরান এই হামলার ঘটনাকে ইরাকের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ও সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ওই মিলিশিয়াদের হামলা চালানোর নির্দেশনা দিয়েছিল। এ কারণেই তাদের ওপর আঘাত হানা হয়েছে।
সেন্টকমের দেওয়া তথ্যানুসারে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান পূর্ব ইরাকে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। মূলত এর আগের ৭২ ঘণ্টায় আইআরজিসির নির্দেশনায় পরিচালিত ড্রোন হামলার জবাব দিতেই ওই অভিযান চালানো হয়। ড্রোন আক্রমণ ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ ছিল এবং তা ব্যর্থ হয়েছে বলেও উল্লেখ করে তারা।
সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, আইআরজিসি ও তাঁর সন্ত্রাসী প্রক্সিরা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিক্রিয়া থেকে বাঁচতে চাইলে, তাদের হামলা চালানো বন্ধ করতে হবে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি অভিযোগ করেন, ইরাকের ভূখণ্ড থেকে সৌদির পূর্বাঞ্চল ও রিয়াদে তেল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে গত সোমবার ও মঙ্গলবার হামলা চালায় ইরান সমর্থিত সন্ত্রাসী মিলিশিয়ারা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘সৌদি আরব এই সংঘাতের পরিসর বৃদ্ধি হোক, তা চায় না। তবে নিজেদের ওপর কোনো হামলা হলে তার জবাব দেবে।’
জর্ডানে ইরানের হামলা
এদিকে, জর্ডানে নতুন করে আঘাত হেনেছে ইরানও। সেখানে মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার কথা জানিয়েছে তারা। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গতকাল ভোরে ইরানের পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে তারা। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে তিনটি তেলের ট্যাংকারে আঘাত হেনেছে তাদের সামরিক বাহিনী। ওই নৌযানগুলো সতর্কবার্তা আমলে নেয়নি এবং অনিরাপদ ও অবৈধ পথে চলাচল করছিল বলেও উল্লেখ করেছে তারা।
চীনের কাছ থেকে অস্ত্র পাবে ইরান
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান চীনের কাছ থেকে বেশকিছু ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার পাবে, যা কাঁধে বসিয়েই চালানো সম্ভব হবে। ইরান মোট চারশটি অর্ডার করেছে। এবার তারা ওই অর্ডার থেকে প্রথম ধাপ পাচ্ছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র এ তথ্য জানায়। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানিয়েছে, এই খবর ভিত্তিহীন।
ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম। উত্তরপশ্চিম ইরানের পিরানশাহর সীমান্তে এক এলাকার কাছে ওই আক্রমণ হয়েছে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ফার্সের খবরে আরও জানানো হয়, ওই প্রদেশের জনবসতিহীন এক এলাকায় আঘাত হেনেছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।




