রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে দেখা করলে মিলবে ফ্যামিলি কার্ড ইউএনও অফিসে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে নারীর অভিযোগ

0
2

‘রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে দেখা করলে মিলবে ফ্যামিলি কার্ড’ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এমন প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ করেছেন এক নারী। এই ঘটনায় গত মঙ্গলবার শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছেন তিনি।

এর আগে সোমবার তাঁর অভিযোগের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আশরাফ উদ্দিন আকন্দ। তিনি শিবপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ওই নারী স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়ার পর থেকে বান্ধারদিয়া এলাকায় বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন।

অভিযোগকারী নারী জানান, পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আকন্দ তাঁকে রাত ১২টার দিকে পুকুরপাড়ে দেখা করতে বলেন। বিনিময়ে তাঁকে একটি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। তাঁর অভিযোগ, এর আগেও ওই নেতার অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা আশরাফ উদ্দিন আকন্দ। তিনি বলেন, ‘আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে আমার দলেরই কিছু লোকের প্ররোচনায় পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রায় পাঁচ মাস আগে আমার পা ভেঙে যায়। এখনও আমি পুরোপুরি সুস্থ নই। এমন অবস্থায় রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’ তাঁর ভাষ্য, অভিযোগকারী নারী মাছিমপুর ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামের ভোটার ও বাসিন্দা। ঈদের সময় তিনি কাপড় ও চালের স্লিপ চেয়েছিলেন। তিনি তা দিতে পারেননি। এরপর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

শিবপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন জানান, ফেসবুকে ভিডিওটি দেখেছেন তিনি। আশরাফ উদ্দিন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্ররোচনায় মিথ্যা অভিযোগ করা হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শিবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ রিকাবদারের ভাষ্য, বিষয়টি শুনেছেন তিনি। পৌর বিএনপির সভাপতি, সাধারণত সম্পাদককে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

শিবপুর থানার ওসি কোহিনূর মিয়া জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ‘মঙ্গলবার আমার অফিসে এসেছিলেন ওই নারী। মৌখিক অভিযোগ করেছেন। আমি তাঁকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া জন্য থানায় বলে দেব।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here