সন্তান বিক্রি করে ফোন কেনার অভিযোগ, বাবা আটক

পটুয়াখালীর দশমিনায় এক বছর বয়সী সন্তানকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে আইফোন কেনার অভিযোগ উঠেছে বাবা মারুফ মুন্সির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার দশমিনা উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের বড়গোপালদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে শিশুটির বাবাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, উপজেলার বড়গোপালদী গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে মারুফের সঙ্গে তার স্ত্রী বৃষ্টি আক্তারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। পারিবারিক বিরোধের কারণে তাদের এক বছরের ছেলে মুসাকে তার দাদা মফিজ মুন্সি ও দাদি মাহফুজা বেগম লালন-পালন করে আসছিলেন।

শনিবার মারুফ ঢাকা থেকে বাড়ি এসে ছেলে মুসাকে সঙ্গে করে নিয়ে যান। এরপর শিশুটিকে নিয়ে তিনি আর বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে স্বজনরা জানতে পারেন, উপজেলার গয়নাঘাট গ্রামের ইমরান হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে বিক্রি করে দিয়েছেন মারুফ। স্বজনদের অভিযোগ, শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার বিনিময়ে পাওয়া টাকা দিয়ে আইফোন কিনেছেন মারুফ মুন্সী।

শিশুটিকে নিজের কাছে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ইমরান বলেন, মারুফ আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে এক লাখ টাকা নিয়েছে। মারুফের স্ত্রীর সঙ্গে তার ডিভোর্স হওয়ায় সন্তান পালন সম্ভব নয় বলে শিশুটিকে আমাকে লালন-পালনের জন্য দিয়েছে। শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে তার স্ত্রীর ঝামেলা থাকায় মুসাকে আমি লালন-পালন করতাম। দুই দিন আগে আমার ছেলে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে মুসাকে নিয়ে যায়। পরে আর বাড়িতে ফিরে না এলে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, আমার নাতিকে অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে সে। সেই টাকায় নাকি মোবাইল কিনেছে। আমি আমার নাতিকে ফেরত চাই এবং আমার ছেলের বিচার চাই।

শিশুটির দাদা মফিজ মুন্সি বলেন, নাতিকে ফেরত চাই। আমার সন্তান মারুফ ও ইমরানের বিচার চাই।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার শত শত মানুষ মারুফ মুন্সীর বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন ঘটনা শুনে। এক বছরের শিশুকে কীভাবে, কোন পরিস্থিতিতে এবং কী উদ্দেশ্যে অন্যের কাছে দেওয়া হয়েছে; তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

এ ব্যাপারে দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, শিশুটির বাবা মারুফ মুন্সিকে আজ সন্ধ্যায় আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে সে আইফোন কেনার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলছেন, শিশুটিতে বিক্রি না করে ইমরান হোসেনের কাছে লালন পালন করতে দিয়েছেন। ওসি আরও বলেন, শিশুটিকে উদ্ধার ও ইমরানকে আটক করে একত্রে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আসল রহস্য বের হয়ে আসবে। শিশুকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, পুলিশের সহায়তায় শিশুটিকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর