ছাড়ের তুলনায় বিদেশি ঋণ পরিশোধ আড়াই গুণ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বিদেশি ঋণ বাবদ যে অর্থ পাওয়া গেছে, তার প্রায় আড়াইগুণ পরিশোধ করতে হয়েছে পুরোনো ঋণ বাবদ। মাসটিতে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশের কাছ থেকে প্রায় ১৮ কোটি ডলার পাওয়া গেছে। অথচ এ সময় ঋণের সুদ এবং আসল বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৪৫ কোটি ডলারেরও বেশি।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) গতকাল রোববার বিদেশি ঋণ প্রাপ্তি ও পরিশোধের হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, গত জুলাই মাসে বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রকল্প সহায়তা বাবদ ঋণ পাওয়া গেছে প্রায় ১৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। এ সময় অনুদান পাওয়া গেছে প্রায় পাঁচ লাখ ডলারের কিছু বেশি। এই ঋণ ও অনুদান মিলে মাসটিতে মোট ১৮ কোটি দুই লাখ ডলারের মতো পাওয়া গেছে।

গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে ছাড় হয়েছিল এর চেয়ে বেশি। ওই মাসে প্রায় ২০ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের ঋণ ও তিন লাখ ডলারের অনুদান পাওয়া যায়। দুই খাতে মোট অর্থ পাওয়া যায় ২০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থাৎ নতুন অর্থবছরের প্রথম মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড় কমেছে তিন কোটি ডলারের মতো।

অন্যদিকে গত জুলাই মাসে পুরোনো ঋণের আসল পরিশোধ করা হয়েছে ৩৪ কোটি ডলারের বেশি। আর ঋণের সুদ বাবদ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ডলারের কিছু বেশি। এই দুই খাতে মোট পরিশোধ করা হয়েছে ৪৫ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের প্রথম মাসে মোট পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৪৪ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের মতো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এক মাসে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৬৬ লাখ ডলার। দেশীয় মুদ্রায় গত মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল পাঁচ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই মাসে ছিল পাঁচ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা।
ইআরডির প্রতিবেদনে দেখা যায়, গেল জুলাই মাসে বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতিও কমেছে বেশ।  উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলো মাত্র এক কোটি ৪১ লাখ ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে মাসটিতে, যা গত অর্থবছরের প্রথম মাসে ছিল আট কোটি ৩৫ লাখ ডলার ঋণ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঋণ প্রতিশ্রুতি কমেছে সাত কোটি ডলারের মতো। অর্থাৎ এক দিকে ঋণের অর্থছাড় কমেছে। অন্যদিকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতিও কমলো। অথচ ঋণ পরিশোধ বেড়েছে। সব মিলিয়ে বিদেশি ঋণ পরিস্থিতি অনুকূল নয়।

ঋণ প্রাপ্তির চেয়ে পরিশোধ দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইআরডির-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, অনেক প্রকল্পে রেয়াতকাল শেষ হয়েছে। পরিশোধের সময় শুরু হয়েছে। সেই চাপ আছে। আবার গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বড় অঙ্কের বিদেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে। এগুলোর কোনো কোনোটির পরিশোধের মেয়াদ ছিল কম, অথচ সুদের হার বেশি। এসব মিলিয়ে গত দুই অর্থবছর থেকেই ঋণ পরিশোধে চাপ তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছর বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল বাবদ ৪৪৯ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। দেশের মুদ্রায় পরিশোধের এই পরিমাণ ৫৪ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছর ছিল ৪০৮ কোটি ডলার বা ৪৯ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৪১ কোটি ডলার বা ছয় হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা।

গত অর্থবছর ঋণের অর্থছাড় ও প্রতিশ্রুতি অনেক কমে গেছে। গত অর্থবছরে দেশে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড়ের পরিমাণ কমে ৮০৭ কোটি ডলারে নেমেছে। আগের অর্থবছরে বৈদেশিক অর্থছাড়ের পরিমাণ ছিল ৮৫৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ অর্থছাড় কমেছে ৪৯ কোটি ডলার। অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণ প্রতিশ্রুতি কমে ৫২৪ কোটি ডলারে নেমেছে। আগের অর্থবছরে প্রতিশ্রুতি ছিল ৮৩২ কোটি ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছর প্রতিশ্রুতি কমেছে ৩০৮ কোটি ডলার।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর