মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় কৌশলগত, রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সেই কমিটির প্রথম বৈঠক হতে যাচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠাকালীন তিন সদস্য তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধানরা উপস্থিত থাকবেন।
বৈঠকে অংশ নিতে যাওয়া প্রতিনিধিদের নিয়েই মূলত এই কমিটি। এর লক্ষ্য যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেওয়া। সোমবার প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। একইসঙ্গে তিন দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ এবং সশস্ত্র বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারে আলোচনার আশা করা হচ্ছে।
অংশগ্রহণকারীরা যৌথ উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়নসহ প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা গভীর করা, পাশাপাশি যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতা নিয়েও আলোচনা করতে পারেন। কমিটির কাজ পরিচালনার জন্য একটি সচিবালয় ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার কাঠামোও বৈঠকে নির্ধারণ করা হতে পারে।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা একটি বার্তা পুনর্ব্যক্ত করতে পারেন। সেটি হলো- যারা অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদার এবং সহযোগিতামূলক নিরাপত্তা কাঠামোর মাধ্যমে সমস্যা মোকাবিলা করতে চায়, তাদের জন্য চুক্তিটি সম্ভাবনার দ্বার হিসেবে কাজ করবে।
সৌদি আরবের মক্কায় ৭ আগস্ট যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এতে বলা হয়েছে, যেকোনো একটি পক্ষের ওপর হামলাকে সব পক্ষের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে চুক্তিতে অন্য দেশের অংশগ্রহণেরও সুযোগ রাখা হয়েছে। ১২ আগস্ট লন্ডনভিত্তিক গণমাধ্যম আশার্ক আল-আওসাতকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান বলেন, পরিসর বাড়ানোর আশা করা হচ্ছে। আগামীতে হয়তো এমন পরিবেশ তৈরি হবে, যখন এই অঞ্চলের সব দেশ এক ছাতার নিচে আসবে।
সৌদি মালিকানাধীন গণমাধ্যমটিকে এরদোয়ান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নতুন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ভার নিজেদের কাঁধে নেওয়ার তাগিদ থেকে চুক্তিটির উদ্ভব। এখানকার শক্তিগুলোকেই আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান করতে হবে। চুক্তিটি সেই লক্ষ্য অর্জনের প্রথম ধাপ।
এরদোয়ান বলেন, বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া সমীকরণ এড়িয়ে আঞ্চলিক বিষয়ের সমাধান করতে হবে। বিদেশিদের দেওয়া সমাধান কেবলই বিপর্যয় ডেকে আনে। বিষয়টি সবার ভালো করে জানা হয়ে গেছে।
চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলের আধিপত্যকে প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তিন মিত্রকে একটি বিকল্প নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে এরদোয়ান বলেন, এটি নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ প্রকল্প গড়ে তোলার পথও উন্মুক্ত করবে।
এরদোয়ানের আগে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ৮ আগস্ট বলেছিলেন, পরবর্তী ধাপে মিসর এই চুক্তিতে যোগ দিতে পারে। এজন্য কারিগরি কিছু বিষয়ে সমাধান বাকি। তবে কায়রো এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।


