এক জীবনে আর কি চাই!

এক জীবনে আর কি চাই!

বাংলাদেশে জন্ম নিয়ে এ জীবনে কত কিছু দেখলাম। পাকিস্তান ভাঙ্গা দেখলাম। স্বাধীন বাংলাদেশ দেখলাম। বঙ্গবন্ধুকে দেখলাম, তাঁর দেশে ফিরে আসা দেখলাম, তার শাসনামল দেখলাম, তাঁর মৃত্যু দেখলাম। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মেজর জিয়ার নির্মম হত্যাকান্ড দেখলাম। সাত্তারকে দেখলাম, বিনা রক্তপাতে এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণ দেখলাম। নূর হোসেনের ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লেখার কারণে পুলিশের গুলীতে হত্যা দেখলাম। শেখ হাসিনা’র আগমন দেখলাম। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন দেখলাম। এরশাদের পতন দেখলাম। খালেদা জিয়ার উত্থান দেখলাম। পতন দেখলাম। তত্বাবধায়ক সরকার দেখলাম, এর বিলুপ্তি দেখলাম। নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস দেখলাম। বিচার বিভাগ, মিডিয়া, শিক্ষা ব্যবস্থার ধ্বংস দেখলাম। শেখ হাসিনা’র শাসন দেখলাম, ক্ষমতাচ্যুতি দেখলাম। জুলাই ষড়যন্ত্র ও মব ভায়োলেন্স দেখলাম। জামাতের গর্তে থেকে বেরিয়ে এসে ক্ষমতার কাছাকাছি চলে আসা দেখলাম। বিশ্ব-বাটপার ইউনূসের দেশ-বিক্রী দেখলাম। এখন দেখছি তারেক জিয়ার উত্থান। এক জীবনে আর কি চাই? আপাতত: দু’টি জিনিষ দেখার অপেক্ষা (১) জুলাই জঙ্গীদের শেষ পরিণতি (২) শেখ হাসিনা’র পুন:-প্রত্যাবর্তন।  

 

ভারত খারাপ, চীন ভাল

পাকিস্তানে কোন কম্যুনিষ্ট নেই, নেই বাম  আন্দোলন। চীনে কোন ইসলামিষ্ট নেই, নেই কোন ইসলামিক জঙ্গী তৎপরতা। কারণ কি? কারণ হচ্ছে, ‘মাইরের ওপর ওষুধ নেই’। বাংলাদেশে সামাজিক সম্প্রীতি বলতে কিছু নেই, কখনো ছিলোনা, আছে শুধু বৈষম্য আর বৈষম্য। চরম ধর্মীয় বিভেদ, বৈষম্য,সাম্প্রদায়িক নির্যাতন থাকা সত্বেও এগুলো কোন ইস্যুই নয়? কারণ হচ্ছে, দেশটা কট্টর সাম্প্রদায়িক, সমাজটা সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পে ভরপুর, মানুষগুলো মনে ঘৃণা আর ঘৃণা। অন্যদিকে ভারতে আপনি কম্যুনিষ্ট পাবেন, বাম আন্দোলন পাবেন; ইসলামিষ্ট পাবেন, পাকিস্তানপন্থী সন্ত্রাসী পাবেন, ভারত ভাঙ্গার কথাবার্তা শুনবেন। সামাজিক মৈত্রী আছে-বৈষম্যও আছে; সাম্প্রদায়িকতা আছে- ব্যাপক অসাম্প্রদায়িকতা গোষ্ঠী ও চেতনা আছে!! একদল মুসলমানের বিপক্ষে আছে, বিশাল একটি জনগোষ্ঠী মুসলমানের পক্ষে দাঁড়িয়ে কথা বলে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা চীনে আপনি একটি ইহুদি পরিবার পাবেন না, ভারতে বিপুল সংখ্যক ইহুদি নিরাপদে বসবাস করে? অথচ ভারত ভালো না। বাঁশ দিলেও পাকিস্তান ভাল, চীন ভালো। 

 

নেপালে আসলে কি ঘটেছে? 

নেপালে আসলে কি ঘটেছে? সেখানে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা হয়েছে, তিনজন নিহত, পুলিশসহ বেশকিছু মানুষ আহত হয়েছে। ঠিক কি ঘটেছিলো জানা মুশকিল, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিউজ, ভিডিও দেখে যা জানা যায় তা হচ্ছে, দুই সম্প্রদায়ের মানুষ পাশাপাশি তাঁদের ধর্মানুষ্ঠান পালন করছিলো, একদলের বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজে অন্য দলের ব্যাঘাত ঘটে। এনিয়ে প্রথমে কথা কাটাকাটি, উত্তেজনা ও পরে সেটি দাঙ্গায় রূপ নেয়। নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ অন্তত: ৮জনকে গ্রেফতার করেছে। নেপাল ল্যান্ডলকড রাষ্ট্র, সীমান্ত ভারত ও চীনের সাথে। ২০২১ সালের জনসংখ্যা জরিপ অনুযায়ী জনসংখ্যা ৩কোটি’র একটু কম, ৮২% হিন্দু, ৯% বৌদ্ধ, মুসলিম ৫.১%, খ্রিষ্টান ৩%। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে দ্রুত মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে, অভিযোগ রয়েছে সেখানে গত দুই দশকে প্রচুর বাংলাদেশী মুসলমানের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। নেপালে আনুমানিক দেড়লক্ষ মুসলমান আছে, অধিকাংশ সুন্নি। অধিকাংশ মুসলমানের বসবাস দক্ষিণের ‘টেরাই’ অঞ্চলে। বেশকিছু রোহিঙ্গা নেপালে ঢুকে পড়েছে। পাকিস্তানের আইএসআই ও বাংলাদেশী কট্টরপন্থী মুসলমান নেপাল থেকে ভারত বিরোধী অনেক ষড়যন্ত্র পরিচালনা করে থাকে। সম্প্রীতি রাজাকার মামুনুল হক নেপাল গেছেন।  

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর