মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় চেতনানাশক দ্রব্য মেশানো খাবার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন একই পরিবারের ছয় সদস্য। এই সুযোগে তাদের বাড়িতে চুরির অভিযোগ উঠেছে। দুর্বৃত্তরা বাড়ির প্রধান ফটক ও দুটি ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে টাকা ও রুপার গহনা নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। গত শুক্রবার রাতে পয়লা ইউনিয়নের বাইলজুরী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীরা হলেন– বাইলজুরী গ্রামের বাসিন্দা ও দৌলতপুর উপজেলার কল্যাণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রমজান আলী, তাঁর মা বেদেনা বেগম, স্ত্রী জাহানারা আক্তার, তাদের তিন সন্তান রাইয়ান হোসেন, রিদোয়ান হোসেন ও মাইশা আক্তার।
জানা গেছে, গত শুক্রবার শিক্ষক রমজান আলীসহ তাঁর পরিবারের সবাই অচেতন ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। সন্ধ্যায় তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরিবারের সবাই হাসপাতালে থাকায় রাতে বাড়ি ফাঁকা ছিল। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকে চুরি করে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে বাড়ির ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে দুর্বৃত্তরা। পরে দুটি ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে কাঠ ও স্টিলের আলমারি, ওয়ারড্রপ, লেপ-তোশকসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করে। একপর্যায়ে একটি মানিব্যাগ থেকে এক হাজার ১০০ টাকা নিয়ে যায়। এ ছাড়া প্রায় ৯ ভরি ৬ আনা ওজনের দুই জোড়া রুপার নূপুর এবং তিনটি রুপার আংটি চুরি করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে গতকাল শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।
শিক্ষক রমজান আলী বলেন, খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক দ্রব্য মেশায় দুর্বৃত্তরা। এতে তাঁর পরিবারের ছয় সদস্য অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকায় বাড়ি ফাঁকা ছিল। গত শনিবার সকালে বাড়িতে গিয়ে তারা তালা ভাঙা ও ঘরের মালপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর ধারণা, বাড়ির সবাই হাসপাতালে থাকার সুযোগেই দুর্বৃত্তরা চুরি করেছে। সুস্থ হওয়ার পর তারা সবাই বাড়িতে ফিরেছেন।
ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, চুরির ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পরিবারের ছয় সদস্য কীভাবে অসুস্থ হয়েছেন এবং তাদের অসুস্থতার সঙ্গে চুরির ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


