নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের ছাদে স্থাপন করা হয় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। প্রায় এক কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপিত প্রায় প্রকল্পটি প্রায় আট বছর ধরে অকেজো পড়ে রয়েছে।
জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, আইপিসিসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত থাকায় সরকারি অর্থের এই বিনিয়োগের কার্যকারিতা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্র জানায়, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের আওতায় ২০১৩ সালে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি স্থাপন করা হয়। প্রকল্পে ৩০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ১০০টি সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, আইপিসিসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয় এক কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
প্রকল্পটি চালু থাকার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়, উপজেলা পরিষদ, কৃষি, মৎস্য, সমবায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন, স্থানীয় সরকার, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এবং ইউএনওর বাসভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। তবে প্রকল্পটি চালুর দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে বিভিন্ন যন্ত্রাংশে ত্রুটি দেখা দিতে শুরু করে।
এক পর্যায়ে পুরো সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচলহীন হয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত প্রায় আট বছর ধরে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, আইপিসিসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। এগুলো মেরামত বা পুনরায় চালুর বিষয়ে এতদিন কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
দীর্ঘ দিন অব্যবহৃত থাকায় প্রকল্পের যন্ত্রপাতি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ব্যাটারি, ইনভার্টার ও কন্ট্রোলারসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি দীর্ঘ দিন রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া পড়ে থাকলে সেগুলোর কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। ব্যাটারি, ইনভার্টার, কন্ট্রোলারসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা নিয়মিত পরীক্ষা এবং ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের প্রকল্প অচল হয়ে পড়তে পারে। এতে সরকারি বিনিয়োগের কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বঞ্চিত হয়।
এদিকে প্রকল্পটি স্থাপনের পর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কোনো প্রতিষ্ঠান বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ছিল, কত বছর পর্যন্ত ওয়ারেন্টি বা মেইনটেন্যান্স সুবিধা ছিল এবং প্রকল্পটির বিকল হওয়ার পর কেন সময়মতো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি– এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমা বলেন, তিনি নতুন এসেছেন এবং স্থানীয় প্রকৌশলীর সঙ্গে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। প্রকল্পটি সচল করতে কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান বা বিশেষজ্ঞ দিয়ে একটি প্রাক্কলন (এস্টিমেট) করানো হবে। ব্যয় কম হলে এবং উপজেলা তহবিল থেকে তা বাস্তবায়নের মতো সংস্থান থাকলে তহবিল থেকেই কাজটি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।


