কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে যাওয়া এক সাংবাদিকের ওপর হামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে পৌরসভার কালীবাড়ী মন্দিরের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মাহবুবুল আহসান উল্লাসের অভিযোগ, হামলায় নেতৃত্ব দেন কু্ষ্টিয়া-৪ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ছেলে শোভন হোসেন ও এমপির চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে কুমারখালী থানায় তিনি মামলা করেছেন।
আহত মাহবুবুল আহসান উল্লাস বাংলা টিভির কুমারখালী ও খোকসা উপজেলা প্রতিনিধি। পাশাপাশি কুমারখালী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আইইউজিআইপি-৫ নম্বর প্যাকেজের আওতায় কুমারখালীর গণমোড় থেকে হিম্মত মোড় পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়নকাজ চলছে। এতে বরাদ্দ হয় প্রায় দেড় কোটি টাকা। নড়াইলের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নূর কনস্ট্রাকশন এটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এক বছরের মধ্যে তাদের কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি মাত্র ১৪ শতাংশ।
এলজিইডির আওতাধীন এই কাজের বিষয়ে গত ২৯ জুলাই প্রকল্পটির পরিচালক তোফায়েল আহমেদের সই করা চিঠিতে সংশ্লিষ্ট প্যাকেজের অনুকূলে ব্যাংকে সংরক্ষিত জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত করে ঠিকাদারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিলে পৌরসভাকে অনুরোধ করা হয়।
সূত্র জানায়, গত ১৮ আগস্ট কুমারখালী পৌরসভার প্রশাসক ও ইউএনও ফারজানা আখতার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নূর কনস্ট্রাকশনের মো. ইউনুস আল মামুনকে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী অপসারণ ও রাস্তার নিম্নমানের কাজ বন্ধ রাখার চিঠি দেন। সেই নির্দেশনা অমান্য করে ঠিকাদার কু্ষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ছেলে শোভন হোসেন, চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন ও জিয়াউর রহমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রুহুল আমীনের লোকজনের সহায়তায় নিম্নমানের সামগ্রী দিয়েই রাস্তার কাজ চালিয়ে যান। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
গতকাল শনিবার দুপুরে ইউএনও ফারজানা আখতার সরেজমিনে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। এ সময় সংসদ সদস্যের স্বজনেরা তাঁর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাস ও সমকালের কুমারখালী প্রতিনিধি মিজানুর রহমান নয়ন বচসা ও অনিয়মের দৃশ্য ধারণ শুরু করেন। ইউএনও কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে চলে গেলে কালিবাড়ী মন্দিরের সামনে এমপির স্বজনেরা উল্লাসের ওপর হামলা চালান। এ সময় সমকাল প্রতিনিধিকে চিত্র ধারণে বাধা দিয়ে তাঁর পথ অবরোধ করে রাখেন।
এলোপাতাড়ি মারধরে সাংবাদিক উল্লাসের চোখ, মুখ, পিঠসহ শরীরের নানা জায়গায় গুরুতর আঘাত পান। তাঁর চোখের নিচ থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন
বক্তব্যের জন্য আনোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি বলেন, উল্লাসের বাড়ি তাদের এলাকায়। কাজের শুরুতে তিনি (উল্লাস) চাঁদা দাবি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন। তবে হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্যে রাজি হননি।
কুমারখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি লিপু খন্দকার বলেন, এমপির ছেলে শোভন হোসেনের নেতৃত্বে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা সাংবাদিক উল্লাসের ওপরে হামলা করেছে।


