সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণে জ্বালানি তেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। গোষ্ঠীটির দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
গতকাল শনিবার ওই স্থাপনার আশপাশ থেকে আগুনের শিখা ও ধোঁয়ার বড় কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষ বা সৌদি আরামকোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন এলাকায় সৌদি আরব হামলা চালাচ্ছে। এর জবাবে রিয়াদের কাছে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালানো হয়েছে।
ইয়াহিয়া সারির দাবি, হুতিদের হামলার কারণে রিয়াদের দক্ষিণে ওই তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। গত ২৪ ঘণ্টায় হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোয় সৌদি আরব প্রায় ৬০টি বিমান হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে গত জুলাইয়ে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এরপর থেকে দুই পক্ষই পরস্পরের বিভিন্ন অবস্থানে হামলা চালিয়ে আসছে।
হুতিরা ইয়েমেনের আরও কিছু এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পাশাপাশি লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালিতে নিজেদের অবস্থান জোরদার করেছে। ওই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে হুতিদের ওপর বড় ধরনের অভিযান চালাচ্ছে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী। সাম্প্রতিক এসব হামলায় হাজারো হুতি যোদ্ধা হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।
হুতিদের কোণঠাসা করতে বড় ধরনের অভিযান শুরুর পরিকল্পনাও করছে সৌদি আরব। ইরানপন্থী এই গোষ্ঠীকে পরাস্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে সৌদি আরব সহযোগিতা পাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


