কাজী আজিজুল হক খোকন আর নেই
নিউইয়র্ক প্রতিনিধিঃ অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক খবর কাজী আজিজুল হক খোকন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
নিউইয়র্কে নিখোঁজের ৫ দিন পর বাংলাদেশি ও শ্রমিকলীগ নেত আজিজুল হক খোকনের মৃত্যুর খবর মিললো বুধবার স্থানীয় সময় রাতে সাড়ে ১০ টার দিকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান।
সিদ্দিকুর রহমান জানান, গত শনিবার থেকে বাসা থেকে নিখোঁজ ছিলেন আজিজুল হক খোকন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর বুধবার রাতে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। নিখোঁজের ওইদিনই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে তাকে সিটির একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এখানে তার নিজের স্বজন ও পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্রুকলিনের আই ৯৯ উইনত্রোপ স্ট্রীট চীফ মেডিকেল এক্সামিনার কার্যালয় ফিউনারেলে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে তার মরদেহ রয়েছে।
নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির অত্যন্ত পরিচিত মুখ, সবার প্রিয় কাজী আজিজুল হক খোকন আর নেই। কিছুতেই কেউ মেনে নিতে পারছে না কেউ , চিরচেনা সেই মানুষটির সঙ্গে আর কখনো দেখা হবে না! এই প্রবাসজীবনে নিঃসন্দেহে কাজী আজিজুল হক খোকন-্এর মুখে থাকত সেই চিরচেনা হাসি। কথাবার্তায় ছিল অদ্ভুত এক আপনত্ব। অত্যন্ত সজ্জন, বিনয়ী, সদালাপী এবং অমায়িক মানুষ ছিলেন তিনি। নিখোঁজের পর থেকে নিউইয়র্কের পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটি উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছিল। সবার মনে একটাই প্রশ্ন—কোথায় আছেন খোকন ? কেমন আছেন তিনি? মনে মনে সবাই আশা করছিল, হয়তো হঠাৎ কোনো একদিন খবর আসবে, খোকনকে পাওয়া গেছে। তিনি ভালো আছেন। কিন্তু সেই অপেক্ষার শেষ হলো সবচেয়ে হৃদয়বিদারক সংবাদ দিয়ে। পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর জানা গেল, তিনি আর বেঁচে নেই! কী নির্মম এই সংবাদ! কী অসহায় মানুষের জীবন!
প্রায় তিন দশক আগে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় এসেছিলেন তিনি। মাগুরার সন্তান এই মানুষটি দীর্ঘ প্রবাসজীবনে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশে গিয়েছিলেন। জ্যাকসন হাইটসের পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে অনেক বড় ছিল তাঁর মানবিক পরিচয়। তিনি ছিলেন একজন ভালো মানুষ, একজন আপনজন। নিউইয়র্কের ব্যস্ত প্রবাসজীবনে এমন মানুষ খুব বেশি পাওয়া যায় না, যাঁদের সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বললেও মনটা ভালো হয়ে যায়। তিনি ছিলেন তেমনই একজন মানুষ।
প্রসঙ্গত খামারবাড়ি গ্রোসারি ও নবান্ন রেস্টুরেন্ট সংলগ্ন অবকাশ স্টোরে কাজ করতেন খোকন। কিউ গার্ডেনের বাসায় একা থাকতেন তিনি। প্রায় ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও তাঁর অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র হয়নি বলে জানা গেছে। শারীরিকভাবেও কিছুটা অসুস্থ ছিলেন তিনি।
এদিকে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জন্মভূমির সম্পাদক রতন তালুকদার প্রয়াত কাজী আজিজুল হক খোকন-এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে এবং তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের গভীর সমবেদনা জানান।


