জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা ইনকের বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬ গত ১ নভেম্বর রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয় ‘চট্টগ্রাম ভবনে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে বর্তমান কমিটির মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধিসহ চারটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আবু তাহের। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ ঈছা এবং গীতা পাঠ করেন কার্যকরী কমিটির সদস্য পল্লব রায়। এরপর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
সমিতির প্রয়াত নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের স্মরণে নীরবতা পালন এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের জ্যেষ্ঠ সদস্য মুনীর আহমেদ।
সভার প্রথম পর্বে কোষাধ্যক্ষ শফিকুল আলম আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব উপস্থাপন করেন। সদস্যদের অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হলে হিসাব বিবরণী সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম তাঁর প্রতিবেদনে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সদস্যদের সহযোগিতায় কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
উল্লেখযোগ্য আয়োজনের মধ্যে ছিল দুটি বৃহৎ বনভোজন, দুটি ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান, বৈশাখী উৎসব, অভিবাসন ও করবিষয়ক সেমিনার, নিউইয়র্ক সিটির ডিস্ট্রিক্ট ৩৯-এর কাউন্সিল সদস্য শাহানা হানিফ এবং বাংলাদেশের সংসদ সদস্য সারওয়ার আলমগীরকে সংবর্ধনা। এ ছাড়া সমিতির আটজন প্রয়াত সদস্যের দাফনের জন্য বিনামূল্যে কবরের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
সভাপতি মোহাম্মদ আবু তাহের তাঁর প্রতিবেদনে সদস্যদের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনের নয় দিন আগে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় প্রচারে সরাসরি অংশ নিতে পারেননি। ওই সময় চট্টগ্রামবাসীর ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য তিনি নিজের ও পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নির্বাচনী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণার অভিযোগও তোলেন তিনি।
সমিতির আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতিসাধনের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সভাপতি। এ প্রসঙ্গে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা দুটি মামলার বিষয়েও তাঁর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
এরপর সংবিধান সংশোধনী কমিটির প্রধান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ সেলিম প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো উপস্থাপন করেন। সংশ্লিষ্ট ধারা ও উপধারার ব্যাখ্যা দেন কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নুরুল আনোয়ার।
ট্রাস্টি বোর্ডের কো-চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিঠু সাধারণ সভায় চারটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবগুলো হলো- আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুমোদন, বর্তমান কমিটির মেয়াদ ৩ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ৩ নভেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বৃদ্ধি, সংবিধানের প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুমোদন, সমিতির আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংগঠনের বিধান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ।
উপস্থিত সদস্যদের ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে চারটি প্রস্তাবই গৃহীত হয়। সভায় জানানো হয়, গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো অনুমোদনের দিন থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
সভায় বক্তব্য দেন- সাবেক ট্রাস্টি চেয়ারম্যান ও সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ; সাবেক সভাপতি কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজম; প্রতিষ্ঠাতা কোষাধ্যক্ষ ও বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামসুল আলম চৌধুরী; জ্যেষ্ঠ ট্রাস্টি সদস্য মুনীর আহমেদ; ট্রাস্টি সদস্য ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহজাহান; ট্রাস্টি সদস্য সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বাবর ও আবুল কাশেম চট্টলা; সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও বর্তমান ট্রাস্টি সদস্য মিজানুর রহমান জাহাঙ্গীর; ট্রাস্টি সদস্য আবু তালেব চৌধুরী চান্দু; উপদেষ্টা সদস্য সাহাবুদ্দিন চৌধুরী লিটন; মোহাম্মদ দিদারুল আলম, মোহাম্মদ জামালাউদ্দিন, মতিউর রহমান চৌধুরী, কানেকটিকাটের মোহাম্মদ আবুল কালাম এবং নিউজার্সির আব্দুল্লাহ আল মামুন।
সাবেক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য দেন আরিফ চৌধুরী, খোকন কে চৌধুরী, আশ্রাব আলী খান লিটন, মোহাম্মদ রুমি, অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ, কাজী ইকবাল, মোহাম্মদ আমিন, মেজেবাউদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ কাউসার চৌধুরী, বাসন আলী ও উত্তম দাস।
বর্তমান নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য দেন কলিমুল্লাহ মাস্টার, তানিম মহসিন, হাজী তৌহিদুল আলম, জাবের শফি, মোহাম্মদ নুরুল আমিন, আক্তার হোসেন, অজয় প্রসাদ তালুকদার, ইমরুল কায়সার, নাসিরুদ্দিন ও মোহাম্মদ মহিম উদ্দিন।


