বিদেশি ঋণের সুদাসল পরিশোধ বাবদ ব্যয় বাড়ছেই। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের পরিমাণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের গত জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে ৯ মাসে ৩৫২ কোটি ৫০ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে সরকার। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৩২১ কোটি ২০ লাখ ডলার।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্যমতে, গত জুলাই-মার্চ সময়ে বিদেশি ঋণের আসল বাবদ ২২৭ কোটি ৬৪ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আসল বা মূল ঋণ পরিশোধ করা হয়েছিল ২০১ কোটি ১০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ঋণের সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ১২৪ কোটি ৮৬ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১২০ কোটি ১০ লাখ ডলার।
উল্লেখ্য, কয়েক বছর ধরে পুরোনো বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে চাপ বাড়ছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল মিলিয়ে ৪০৯ কোটি ডলার শোধ করেছে বাংলাদেশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যা ছিল ৩৩৭ কোটি ডলার।
এদিকে বিদেশি ঋণ-অনুদান ছাড় ১৯ শতাংশ কমে গেছে। চলতি অর্থবছরে ৯ মাসে উন্নয়ন সহযোগীরা প্রায় ৩৮৯ কোটি ১৮ কোটি ডলারের মোট ঋণ ও অনুদান ছাড় করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৮০ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ঋণ ছাড় হয়েছে ৩৫০ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের। আগের বছরের একই সময়ে ছাড় হয়েছিল ৪৪৭ কোটি ৫৯ লাখ ডলার।
ইআরডির তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে সব মিলিয়ে ২৮০ কোটি ৪১ লাখ ডলার নতুন ঋণ-অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশগুলো। গত অর্থবছরের একই সময়ে ৩০০ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের মতো প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ঋণ-অনুদানের সবচেয়ে বেশি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটি ওই সময়ে প্রায় ১২৭ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আইডিএ। সংস্থাটি সাড়ে ৪১ কোটি ডলারের মতো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে রাশিয়া।




