ডিএসইতে লেনদেন কমে সাড়ে ৫ মাসের সর্বনিম্ন

নাজুক অবস্থায় দেশের শেয়ারবাজার। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৪৬৭ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এ লেনদেন গত প্রায় সাড়ে ৫ মাসের সর্বনিম্ন। অথচ দেড় মাস আগে গত ১৪ জুলাই ঢাকার এ বাজারে শুধু শেষ ঘণ্টায় ৫২৮ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টের পর এক দিনে সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল গত ১২ জুলাই।

লেনদেনে এমন পতনের কারণ জানতে চাইলে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিতে নতুন নেতৃত্ব আসার পর অনেকেই বাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ছিলেন। মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে পতনের ধারা থেকে বের হয়ে ঊর্ধ্বমুখী হয় শেয়ারবাজার। এ ধারা গত ১৪ জুলাই পর্যন্ত বা টানা প্রায় দুই মাস স্থায়ী হয়। এর পর প্রায় এক মাস অনেকটাই স্থিতিশীল থেকে গত ১১ আগস্ট থেকে ফের দরপতন শুরু হয়েছে। হঠাৎ দরপতনে বিভ্রান্ত তারা। গত তিন সপ্তাহের দরপতনে প্রায় সব শ্রেণির বিনিয়োগকারীর পুঁজি কমেছে, কেউ কেউ লোকসানেও পড়েছেন।
দরপতনের কারণ ব্যাখ্যায় বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, প্রথম দিকে কারসাজি প্রতিরোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং স্টক এক্সচেঞ্জের নানামুখী তৎপরতা বাজারে একটা প্রভাব ফেলে। একটি অংশ নিষ্ক্রিয় হয় বা শেয়ার বিক্রি করে। এতে বাজার খানিকটা থমকে যায়। এর পরই গ্যাস সংকটে একের পর এক কারখানা বন্ধের খবর আসে। এতে অর্থনীতি বড় ধরনের চাপে পড়তে যাচ্ছে–এমন ধারণায় বিনিয়োগকারীরা আরও সতর্ক হয়ে পড়েন। এর মধ্যে অর্থমন্ত্রীসহ দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে গ্যাস সংকটের আশু সমাধান নেই–এমন স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার পর পরিস্থিতি বেশি নাজুক হয়েছে। বর্তমান দরপতনের এটিই বড় কারণ বলে অনেকের বিশ্বাস।

অন্যতম প্রধান ব্রোকারেজ হাউস শেলটেক-এর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় এর কিছুটা আভাস আছে। চলমান দরপতনের জন্য প্রধানত তিনটি কারণকে চিহ্নিত করেছে ব্রোকারেজ হাউসটি। প্রতিষ্ঠানটির মতে, দেশে চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকট, ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর তদারকি এবং জুনে হিসাব বছর শেষ হওয়া কোম্পানিগুলোর আসন্ন লভ্যাংশ ও বার্ষিক আয় ঘোষণার আগে বিনিয়োগকারীদের মাঝে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাও দরপতনের কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউসের সিইও সমকালকে বলেন, বিনিয়োগকারীরা খবরের কাগজে পড়ছেন বা টিভি নিউজে দেখছেন, গ্যাস সংকটে কারখানা বন্ধ হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা হতাশা প্রকাশ করছেন। আবার সরকারের অর্থমন্ত্রী বলছেন দ্রুত গ্যাস সংকটের সমাধান দিতে পারবেন না। এ অবস্থা বিনিয়োগকারীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এখনকার শেয়ারবাজারে সে ধারা দেখা যাচ্ছে। ফলে শেয়ারদর ও লেনদেন দুটোই কমছে।

বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে বিএসইসি বা স্টক এক্সচেঞ্জের আকস্মিক পরিদর্শনের কোনো প্রভাব আছে কিনা জানতে চাইলে কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, গ্যাস সংকটের আগে এ ইস্যুতে অনেকে কথা বলছিল। গত জুন ও জুলাই মাসে বহু কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। কিছু শেয়ারের দর অযৌক্তিক হারে বাড়ার নেপথ্যে কারসাজি ছিল। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং স্টক এক্সচেঞ্জ এসব কারসাজি প্রতিরোধে তৎপর। ফলে ব্রোকারেজ হাউস পরিদর্শনে যাওয়ায় কারসাজির চক্রগুলো সতর্ক হয়ে শেয়ার বিক্রি করেছে।
কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউস থেকে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনার পর স্টক এক্সচেঞ্জের এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার পর আকস্মিক পরিদর্শন বেড়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি কারসাজির তদন্ত পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসকে চিঠি দিয়ে আইন মেনে সচেতনভাবে শেয়ার কেনাবেচার বার্তা দেওয়া হয়েছে। এ কারণেও অনেকে কারসাজির চক্র সতর্ক হয়।
এদিকে গতকাল লেনদেন বেশ কম হলেও বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। লেনদেন হওয়া ৩৪৯ কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে ১৭২টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৫২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫২টির দর। দুপুর ১২টায় তিন শতাধিক শেয়ারের দর বেড়েছিল। টানা তিন দিনে ১৪৬ পয়েন্ট পতনের পর দুপুর পৌনে ১টায় ডিএসইএক্স সূচক ৫৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫৬৯৩ পয়েন্ট ছাড়ায়। যদিও শেষ পর্যন্ত অনেক শেয়ারের দর কমায় সূচকটি আগের দিনের তুলনায় ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫৬৫৫ পয়েন্টে ‘ক্লোজ’ হয়েছে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর