পতনের ধারা দেশের শেয়ারবাজারে। আগের সাত কর্মদিবসের মধ্যে ছয় দিন পতন হয়। বড় দর পতনে চলতি সপ্তাহের লেনদেন শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৮৪ শতাংশ শেয়ার দর হারিয়েছে। এতে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স প্রায় ৬৪ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৭২২ পয়েন্টে নেমেছে। এ নিয়ে সর্বশেষ আট কর্মদিবসে সূচকটি হারাল ১৮১ পয়েন্ট।
গত বৃহস্পতিবার ডিএসইএক্স সূচক লেনদেনের পুরো সময়ে আগের দিনের তুলনায় কমবেশি ঊর্ধ্বমুখী ছিল। গতকালসহ বাকি সাত দিনের প্রতিদিন শুরুর দিকে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত পতনে লেনদেন শেষ হয়, যার ব্যতিক্রম গতকালও হয়নি।
গতকাল সকাল ১০টায় যথারীতি ঊর্ধ্বমুখী ধারায় লেনদেন শুরু হয়। এতে প্রথম ১০ মিনিটে সূচক ২৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫৮১৪ পয়েন্ট ছাড়ায়। এরপর দর পতন শুরু হলে সূচকও কমে। লেনদেন শেষ হওয়ার ৫ মিনিট আগে সূচকটি দিনের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ৯৮ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৭১৫ পয়েন্ট পর্যন্ত নামে।
বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা বলেন, একদিকে ব্যাপক শিথিলতাসহ মার্জিন ঋণ বিধিমালা সংশোধন হয়েছে। অন্যদিকে একটু একটু করে কমছে ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদহার। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার কথা। কিন্তু ঘটছে উল্টো।
এর কারণ ব্যাখ্যায় তারা জানান, দেশে কয়েক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের সংকট তীব্র চলছে। সরকারও দ্রুত সমাধান করতে পারবে না বলে জানিয়েছে। গ্যাস সংকটে অনেক কলকারখানা ঠিকমতো উৎপাদন করতে পারছে না। রোববার তালিকাভুক্ত ফু-ওয়াং ফুড কোম্পানি গ্যাস সংকটের কারণ দেখিয়ে ‘লে-অফ’ ঘোষণা করেছে। স্বাভাবিকভাবে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের ওপর এ অবস্থার প্রভাব থাকতে পারে।
বাজার সূত্র জানায়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নতুন নেতৃত্ব আগে থেকে চলে আসা নানা অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে পদক্ষেপ নিচ্ছে। স্টক এক্সচেঞ্জও সক্রিয়। এর ফলে বাজারে জুয়াড়ি চক্র এবং কারসাজিকে উৎসাহিত করে– এমন পক্ষের লেনদেন কমেছে। এতে বাজারে হঠাৎ করে শেয়ার চাহিদা কমেছে। এর বড় প্রভাব আছে।
গতকাল যেখানে দুই শতাধিক কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি দিয়ে দিনের লেনদেন শুরু হয়েছিল, সেখানে ২৯৯ কোম্পানির শেয়ারদর হ্রাসের মধ্যে লেনদেন শেষ হয়। দর বেড়েছে মাত্র ২৮ কোম্পানির শেয়ারের, অপরিবর্তিত থেকেছে ২২টির। খাতওয়ারি লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এমন একটি খাতও ছিল না, যার সিংহভাগ শেয়ার দর হারায়নি। আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত গড়ে আড়াই শতাংশ হারে দর হারিয়েছে। বীমা খাতের গড় দর কমেছে ২ শতাংশের বেশি। সর্বাধিক বাজার মূলধনি খাত ব্যাংক খাত ১ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে।
দর পতনের মধ্যে শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। ডিএসইতে গতকাল ৩৯ কোটি টাকা বেড়ে ৭১১ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির তুলনায় কিনেছেন বেশি। ৭১১ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রির মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশ ছিল ৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। একই পরিমাণ টাকার শেয়ার ক্রয়ে তাদের অংশ ছিল ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এদিন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা কেনার তুলনায় বিক্রি করেছেন বেশি।


