ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের লক্ষ্য করে সোমবার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বাংলাদেশ সময় রাত ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করবেন। তখন তিনি কঠোর পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবেন।
এই পদক্ষেপগুলো নজিরবিহীন হতে যাচ্ছে বলে আগেই সতর্ক করেছিল ওয়াশিংটন। এ কারণে বিষয়টিকে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ বা সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অভিযান বা যুদ্ধ বলা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপের পাল্টা জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। অর্থনৈতিক যুদ্ধ চলতে থাকলে তারা উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সব ধরনের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেবে।
রোববার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে স্কট বেসেন্ট লিখেন, ভোর (স্থানীয় সময় সোমবার) হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ শুরু হবে। এটি এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে বড় আর্থিক অভিযান।
প্রায় ৬ মাস ধরে যুদ্ধে লিপ্ত দুই দেশ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একে অপরের ওপর সামরিক হামলা চালায়নি। সংঘাত অবসানে অর্থবহ কোনো আলোচনাতেও যোগ দেয়নি।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত নিবন্ধে বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানকে তুষ্ট করার জন্য যারা দেশটির সঙ্গে লেনদেন করে সেসব ‘ভীতু দেশগুলোকে’ লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে। এই লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার পরিণতি কী হতে পারে, তা ভেবে দেখা উচিত।
সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কয়েকদিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বড় ধরনের জবাবের ইঙ্গিত আছে। সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের প্রধান মোহসেন রেজাই রোববার বলেছেন, অর্থনৈতিক যুদ্ধ চলতে থাকলে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি হবে না।
রপ্তানি বন্ধের পথ হিসেবে মোহসেন রেজাই হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের কথা উল্লেখ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধে অংশ নেওয়া দেশগুলোকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।


