৪ সংসদ সদস্য আদিবাসীদের আয়কর অব্যাহতি বহাল চান

0
4

পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর আরোপিত নতুন আয়কর প্রত্যাহারের দাবিতে অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছেন ওই অঞ্চলের চার সংসদ সদস্য। গত ১০ জুন জাতীয় সংসদে পেশকৃত অর্থবিলে আদিবাসীদের বেতন ও আর্থিক সম্পদ থেকে অর্জিত আয়ের ওপর কর আরোপের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা বাতিলের অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। চিঠিতে স্বাক্ষরকারী সংসদ সদস্যরা হলেন খাগড়াছড়ি আসনের আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের দীপেন দেওয়ান, বান্দরবান আসনের সাচিং প্রু এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাধবী মার্মা।

অর্থমন্ত্রীর কাছে লেখা চিঠিতে তারা জানিয়েছেন, আদিবাসীদের বর্তমান আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় তাদের পূর্বের মতো পূর্ণাঙ্গ আয়কর অব্যাহতির সুবিধা বহাল রাখা প্রয়োজন। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় বসবাসরত আদিবাসীদের সিংহভাগ আয়ের উৎস জুম চাষ ও কৃষি। কাপ্তাই বাঁধের ফলে আদিবাসীদের অধিকাংশ ধানী জমি তলিয়ে যাওয়ায় তারা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ছাড়া পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ অঞ্চলের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছেন। এখনও প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষের প্রধান উৎস ঝরনা বা কুয়ার পানি এবং ৫০ শতাংশ মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা নেই।

চিঠিতে বলা হয়, ১৯৪৮ সালের আয়কর অধ্যাদেশ এবং পরবর্তীকালে ২০২৩ সালের আয়কর আইনের ষষ্ঠ তপশিলে আদিবাসীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে করমুক্ত রাখা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত অর্থবিলে ‘বেতন হতে আয় ও আর্থিক সম্পদ হতে আয় ব্যতীত’ শব্দগুলো যুক্ত করার ফলে এখন থেকে আদিবাসীদের বেতন ও জমানো টাকার ওপর কর দিতে হবে, যা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। আদিবাসীদের ওপর এই করের বোঝা চাপিয়ে দিলে তাদের জীবনমানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
চিঠিতে সংসদ সদস্যদের প্রধান দুটি দাবি হলো, ২০২৩ সালের আয়কর আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী বাতিল করে আদিবাসীদের বেতন ও আর্থিক সম্পদের ওপর কর অব্যাহতি বহাল রাখা এবং ব্যক্তিগত আয়ের পাশাপাশি আদিবাসীদের মালিকানাধীন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান (যেমন, ফার্ম, কোম্পানি, সমিতি ইত্যাদি) যেসব কাজ পার্বত্য জেলায় পরিচালিত হয়, সেগুলোকে করমুক্ত ঘোষণা করা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here