বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের অভাব। দুই শিফটে তিন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দুটি কক্ষে বসিয়ে পাঠদান করতে হয়। ছোট মাঠে বছরজুড়ে থাকে কাদাপানি। প্রতিদিন অন্য মাঠে গিয়ে অনুশীলন করতে হয় খুদে ফুটবলারদের। এভাবেই জাতীয় পর্যায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে তারা। বলছিলাম নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কথা।
জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে নান্দাইল পৌর শহরের সাত নম্বর ওয়ার্ডে ৪০ শতাংশ জমির ওপর গড়ে ওঠে আচারগাঁও উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মাঠের পূর্বপাশে পশ্চিমমুখী করে শুরুতে নির্মিত ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হলে ২০১৪ সালে উত্তর পাশে দক্ষিণমুখী করে তিন কক্ষের আরেকটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। তিন কক্ষের দুটি শ্রেণিকক্ষ হিসেবে এবং অন্যটি অফিসকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ২০৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য ছয় শিক্ষক রয়েছেন। দুই শিফটে দুটি কক্ষে তিন শ্রেণির পাঠদান করতে হচ্ছে। তাই একটি কক্ষে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসাতে হয়। এতে অনেকাংশে স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।
গত সোমবার বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, চারপাশ বাসাবাড়িতে ঘেরা বিদ্যালয়ের মাঠটি কিছুটা নিচু। আশপাশের বৃষ্টির পানি মাঠে জমা হয়ে সংকীর্ণ নালা দিয়ে নেমে যায়। ফলে শিক্ষার্থীরা কখনোই বিদ্যালয়ের মাঠটি ব্যবহার করতে পারে না। তাই বিকেল হলেই বিদ্যালয়ের বালিকা ফুটবল দলের সদস্য পরশমনি, পৌষি, রওনক, সুমাইয়া, জান্নাতুল, পূর্ণিমা, মাবিয়া, ঝুমাসহ অন্যরা কোচ দেলোয়ার হোসেন উজ্জলকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে ভালো মাঠের খোঁজে। কোনোদিন পৌর শহরের নান্দাইল পাইলট বালিকা বিদ্যালয়, কোনোদিন চন্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে গিয়ে অনুশীলন করে। এভাবেই ফুটবল দলটি ইউনিয়ন, উপজেলা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে জাতীয় পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০ জুন ঢাকায় বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্যায়ের খেলা হয়। খেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওইদিন বিকেল ৪টায় বালক ও বালিকা মিলে চারটি দলের খেলা হয়। নান্দাইলের আচারগাঁও উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বালিকা ফুটবল দলের সঙ্গে খেলায় অংশ নেয় পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোড়গাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বালিকা দল। খেলায় আচারগাঁও বিদ্যালয় ৪-২ গোলে হেরে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। রানার্সআপ দলের ‘স্টপার ব্যাক’ পরশমনি টুর্নামেন্টে ম্যান অব দা ম্যাচ এবং সর্বোচ্চ গোলদাতার গৌরব অর্জন করে গোল্ডেন বুট ও ৩০ হাজার টাকা পুরস্কার পেয়েছে। এ ছাড়া দল পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে ট্রফি মেডেল এবং দুই লাখ টাকা। শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
পরশমনি আক্তার জানায়, খেলায় চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে আরও ভালো লাগত। তবে দুঃখের কথা হচ্ছে তাদের বিদ্যালয়ের ছোট মাঠটি সব সময় কাদাপানিতে একাকার হয়ে থাকায় সেখানে খেলাধুলা বা অনুশীলন করা যায় না। তাই মাঠটি সংস্কার করা জরুরি।
দলের আরেক সদস্য পূর্ণিমা বলে, বিদ্যালয়ের দুটি কক্ষে তিনটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস করা খুবই কষ্টকর হচ্ছে। তাই বিদ্যালয়ে একটি ভবন নির্মাণ জরুরি।
প্রধান শিক্ষক সজিম উদ্দিন ভূঁইয়ার ভাষ্য, দলের সাফল্যে তারা খুশি। আগামীতে আরও ভালো করার জন্য এখন থেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, কর্দমাক্ত মাঠে মাটি ভরাট, সীমানা প্রাচীর এবং নতুন একটি ভবনের জন্য নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষ বরাবর অনেক আবেদন করেছেন, কিন্তু কাজ হচ্ছে না।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুননেছা বেগম জানান, ওই বিদ্যালয়ে একটি নতুন ভবন নির্মাণ এবং মাঠে মাটি ভরাটের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।
গত বুধবার যোগাযোগ করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত বলেন, আগামীতে মাঠে মাটি ভরাটের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে ভবন নির্মাণের বিষয় নিয়ে এ মুহূর্তে কিছু বলতে পারছেন না বলে জানান তিনি।




