ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হোস্টেলে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত

0
2

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের (মমেক) বাঘমারা ছাত্র হোস্টেলে ছাত্রদের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই ছাত্র গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ঘটনায় কলেজে ৭ দিনের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাস ও হোস্টেল এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মমেকের এম-৬১ ব্যাচের ছাত্র হামিদুর রহমান (২২) ও তার সহপাঠী আসাদুল্লাহ মোয়াজের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বিতণ্ডা হয়। হামিদুর রহমান ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপের অনুসারী এবং আসাদুল্লাহ মোয়াজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুরুতে হামিদুর তার রুমে নিয়ে মোয়াজকে জুনিয়রদের সামনে চড়-থাপ্পড় মারেন। এর কিছুক্ষণ পর মোয়াজ রড নিয়ে এসে চা দোকানের সামনে হামিদুরকে লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে হামিদুরের মাথা ফেটে যায়। সহপাঠীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।

পুলিশ হেফাজতে ফের হামলা
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম ও পুলিশ সদস্যরা বাঘমারা হোস্টেলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। রাত ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে পুলিশ অভিযুক্ত মোয়াজকে আটক করে হেফাজতে নিয়ে যাওয়ার সময় হোস্টেল গেটেই পুনরায় হামলার শিকার হন তিনি।

হামিদুরের পক্ষের নাফিউল নামের এক জুনিয়র ছাত্র পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যেই মোয়াজের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে রক্তাক্ত অবস্থায় মোয়াজ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পুলিশ দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মমেক হাসপাতালের ৬ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করে। চিকিৎসকদের মতে, মোয়াজের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর।

ঘটনার পর হামলাকারী নাফিউলকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. মতিউর রহমান এবং ড্যাব-এর কেন্দ্রীয় নেতা ডা. ইসহাকসহ ছাত্রদল ও কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. মতিউর রহমান বলেন, ছাত্রদের গন্ডগোলের মধ্যে আছি। কিছুক্ষণ পর পর হামলা পাল্টা হামলা হচ্ছে। পুলিশ এগুলো নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। আপাতত ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলব।

mmc 1776494982

কোতোয়ালি থানার ওসি মো. শিবিরুল ইসলাম জানিয়েছে, বর্তমানে হোস্টেল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্র হোস্টেলের আতঙ্কিত সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, হোস্টেলে দুই গ্রুপের মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছি।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী সাত দিনের জন্য সব প্রকার ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার সকাল ৮টার মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাজমুল আলম খান বলেন, আগামী ৭ দিনের জন্য সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। কলেজের পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here