আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতেও। তবে, বৈশ্বিক এই চাপের মধ্যেও সরকার ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে দেশে তেলের দাম খুব সামান্য বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
আজ রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান অস্থিতিশীলতা এবং সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ‘যুদ্ধ শুরুর আগে যে দামে তেল পাওয়া যেত, এখন সেই দাম অনেকটাই বেড়ে গেছে। এতে করে আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে আমাদের ওপর সরাসরি চাপ পড়ছে।’
ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, এই পরিস্থিতির কারণে ইতোমধ্যে জ্বালানি আমদানিতে সরকারের ব্যয় অন্তত দুই বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। এই অতিরিক্ত ব্যয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি করলেও সরকার পুরোটা ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়নি। বরং বড় একটি অংশ ভর্তুকি হিসেবে নিজেই বহন করছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা যদি বিশ্ববাজারের সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বয় করতাম, তাহলে দেশের বাজারে জ্বালানির দাম আরও অনেক বেশি বাড়ত। কিন্তু জনগণের কথা চিন্তা করে আমরা সেই পথে যাইনি। সীমিত আকারে দাম সমন্বয় করেছি, যাতে চাপটা সহনীয় থাকে।
জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ভোগান্তি কমানোই এখন প্রধান অগ্রাধিকার। প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
আজ রোববার থেকে সারাদেশে নতুন দামে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। সংশোধিত মূল্য অনুযায়ী—ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিন—সব ধরনের জ্বালানির দামই বেড়েছে। ফলে পরিবহন ব্যয়সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিজেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ডিজেলে ১৫ টাকা, অকটেনে ২০ টাকা, পেট্রোলে ১৯ টাকা এবং কেরোসিনে ১৮ টাকা করে বাড়তি দিতে হচ্ছে ভোক্তাদের।




