লিবিয়ায় জিম্মি হবিগঞ্জের যুবক রায়হান হত্যা করে লাশ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দালাল চক্রের

0
5

ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় আটকে রাখা নবীগঞ্জের যুবক রায়হান চৌধুরীকে (৩০) নিয়ে নতুন করে আতঙ্কে পড়েছে তার পরিবার। রায়হানের বাবার অভিযোগ, মানবপাচার মামলার প্রধান আসামির জামিনে বাধা দিলে রায়হানকে হত্যা করে লাশ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে দালাল চক্র।

সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় লিবিয়া থেকে দালাল শামীম ও রাকিব ফোন করে রায়হানের বাবা আবু তাহের চৌধুরীকে এই হুমকি দেন। এদিকে, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ঢাকা সিআইডির অ্যান্টি-ট্র্যাকিং মনিটরিং সেল বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

রায়হান চৌধুরীর বাবা আবু তাহের চৌধুরী জানান, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় তাকে ফোন করেন মানবপাচার চক্রের সদস্য শামীম ও রাকিব। তারা বলেন, তোমার পুত্রকে পেতে চাইলে আগামী ১১ মে মানবপাচার মামলার প্রধান আসামি নজরুল ইসলামের জামিন শুনানি হবে হবিগঞ্জ জেলা দায়রা জজ আদালতে যে জামিন শুনানি হবে তাতে বিরোধিতা করা যাবে না।

গতকাল সোমবার সকালে হবিগঞ্জ জেলা জজ আদালত থেকে প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মামলার বাদী আবু তাহের চৌধুরীকে জামিন শুনানিতে থাকার জন্য চিঠি প্রেরণ করা হয়। উক্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, আসামির জামিনে যেতে তার কোনো আপত্তি থাকলে আদালতে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য প্রদান করার জন্য। এই চিঠি পাওয়ার পরই গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ফোন আসে।

নবীগঞ্জের যুবক রায়হান চৌধুরী (৩০)-কে ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় আটকে রেখে ২৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পরও ছেড়ে দেওয়া হয়নি। বরং আবারও ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার জন্য মারপিট করে হাতের আঙুল কেটে দিয়ে  হাতের কবজি কাটার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এখন নির্যাতনের পর গত দুই মাস ধরে সে নিখোঁজ রয়েছে। এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা।

গত রোববার মানবপাচার মামলার প্রধান আসামি গোপনে জামিন নেওয়ার চেষ্টা করলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।

এ বিষয়ে মামলার বাদী আবু তাহের চৌধুরী বলেন, আমি মামলা করে বিপাকে পড়েছি। আমি এখন আমার ছেলের কোনো সন্ধান পাচ্ছি না। গতকাল আদালতের চিঠি পাওয়ার পরই দালাল ও মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা ফোন করে আমাকে বাড়াবাড়ি না করতে বলেছে। তারা বলছে, এ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করার জন্য এবং শামীমের বাবা নজরুলের জামিনে বাধা না দিতে। অন্যথায় রায়হানকে হত্যা করে লাশ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, গতকাল দৈনিক সমকালসহ বিভিন্ন পত্রিকায় রায়হানের নিউজ প্রকাশের পর দালাল রাকিব ও শামীম আবারও ফোন করেছে। এ সময় তারা তাকে বলেন, “এসব বিষয়ে মিডিয়ায় কেন প্রচার করা হলো—পরিণাম ভালো হবে না।”

এদিকে গতকাল সোমবার বিকেলে মানবপাচার রোধে ঢাকা সিআইডির অ্যান্টি ট্র্যাকিং মনিটরিং সেল থেকে এসপি কাওসার আহমদ ফোন করেন। তিনি বলেন, আমরা জাতীয় দৈনিক সমকালে প্রকাশিত নিউজ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে মামলার বাদী আবু তাহের চৌধুরীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছি। তার কাছ থেকে জবানবন্দি নেওয়ার কথাও জানান তিনি। কীভাবে আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় এবং দেশে যারা আছে তারা যেন বিদেশে পালিয়ে না যায়—এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তিনি দৈনিক সমকালকে জানান, আমরা এখনও মামলার নথিপত্র পাইনি। আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ শুরু করেছি, যাতে আসামিরা দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে না পারে। যারা বিদেশে আছে তাদের ব্যাপারেও কাজ করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here