অনশনের ২০তম দিনে হাসপাতালে নেওয়া হলো সোনম ওয়াংচুককে

0
5

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ২০ দিন ধরে অনশনরত পরিবেশকর্মী ও উদ্ভাবক সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। শনিবার ভোরে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে নেওয়া হয়।

দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ওয়াংচুককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক বর্তমানে সচেতন রয়েছেন এবং তার শারীরিক গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো স্থিতিশীল।

এদিকে যন্তর মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। তাদের দাবি, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে গিয়ে কিছু বিক্ষোভকারী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সামান্য উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে পুলিশ সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।

শুক্রবার ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা চিকিৎসকেরা তার অবস্থাকে জরুরি বলে উল্লেখ করেন। তাদের আশঙ্কা, অনশন অব্যাহত থাকলে তার বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে জানানো হয়েছে, গত কয়েক দিনে তার ওজন ৮ কেজির বেশি কমেছে এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।

দুই দিন আগে দিল্লি হাইকোর্ট ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য প্রতিদিন পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন। আদালত বলেন, ‘যেকোনো নাগরিকের জীবনই মূল্যবান।’ একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকে তার জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওয়াংচুক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশন করছেন। তার অভিযোগ, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।

গত কয়েক দিনে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা, সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ডিম্পল যাদব এবং আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ বিরোধী দলের কয়েকজন নেতা ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করে তার প্রতি সংহতি জানান। একই সঙ্গে তারা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে অনশন ভাঙার আহ্বান জানান।

যন্তর মন্তরের এই আন্দোলনের আয়োজক অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির দাবি, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করতে হবে এবং ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার আনতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here