দলের আইনপ্রণেতাদের বিদ্রোহ কাটিয়ে উঠবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক দলগুলো পরাজয় কাটিয়ে উঠতে পারে, কিন্তু অনেক সময়ই হঠাৎ করে ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়া সহ্য করতে পারে না। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস একই ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।
ক্ষমতা হারানোর এক মাস পার হতে না হতেই দলটির বেশির ভাগ আইনপ্রণেতা বিদ্রোহ করে বসেছেন। তাদের এ বিদ্রোহে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, আদৌ দলের ক্ষমতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে থাকবে কিনা। মমতা কোনো সাধারণ আঞ্চলিক নেত্রী নন। ২০১১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গে কমিউনিস্ট শাসনের অবসান ঘটান, যা অনেকেই ‘অসম্ভব’ বলে মনে করতেন। টাইম ম্যাগাজিন একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশ্বের একশ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
মমতার দলের বিদ্রোহ এরই মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে যে, বিজেপির জোট ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) আবারও সীমানা নির্ধারণ বিল উত্থাপন করবে। জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সীমানা নির্ধারণ বিল ২০১১ সালের জরিপের ভিত্তিতে নির্বাচনী সীমানা ঠিক করতে চায়। গত এপ্রিলে এটি পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হলেও প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়। এনডিএর বর্তমানে লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহীরা যেভাবে বিজেপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, তাতে অনেকেই মনে করছেন আগামীতে এ ইস্যু ফিরে আসবে।
এরই মধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থীদের একহাত নিতে শুরু করেছেন মমতা অনুগত সাংসদরা। গতকাল তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ওদের (বিদ্রোহী আইনপ্রণেতা) নেতা পাল্টে গিয়েছে। ওদের নেতার নাম নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু ডাইরেক্টলি বলতে পারছে না যে বিজেপি করি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এ মন্তব্যের জবাবে বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম আইনপ্রণেতা কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, ‘আমি শুরু থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলাম। ২০০১ সালে আমি বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে কাউন্সিলর হিসেবে লড়েছিলাম। আমি একটি রাজনৈতিক পরিবার থেকে এসেছি। …আমার মাথা কাটা যেতে পারে, কিন্তু আমি মাথা নত করব না। আমি অনেক সহ্য করেছি। এ ধরনের লোকদের কথায় আমার কিছুই যায়-আসে না।’
এদিকে, মঙ্গলবার মমতা অনুগত আরেক সাংসদ কীর্তি আজাদ দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে বলেন, যদি রাজনৈতিক নৈতিকতা থাকে, যদি সৎ হন, তবে (নিজেদের) তৃণমূলের সাংসদ বলবেন না। রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করা বিদ্রোহী সুখেন্দু শেখর রায়ের উদাহরণ টেনে আজাদ জানান, তাঁর মতো অন্যদেরও তৃণমূল ও সাংসদ পদ ছেড়ে দেওয়া উচিত।
মমতার বাড়িতে তল্লাশি
এদিকে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবর বলছে, স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা জানতে তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গতকাল তল্লাশি চালানোর জন্য সার্চ ওয়ারেন্ট নিয়ে উপস্থিত হয়েছিল ভারতের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মমতার বাড়ি ও তৃণমূল কার্যালয় দুটোই কলকাতার ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে অবস্থিত। সেখানে সিআইডি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী সঙ্গে নিয়ে পৌঁছানোর পরপরই তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বাধা সৃষ্টি করেন। তৃণমূলের সাবেক সাংসদ তথা দলের কোষাধ্যক্ষ শুভাশিস চক্রবর্তী জানান, মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে রয়েছেন। তিনি তাদের অনুপস্থিতিতে সিআইডিকে প্রবেশ করতে দিতে পারেন না। পরে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে সিআইডি সেখানে প্রবেশ করে।
সিআইডি মূলত বিধানসভায় জমা পড়া এক চিঠির স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। ওই চিঠিতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। এতে ৭০ জন আইনপ্রণেতার স্বাক্ষর ছিল।




