জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। শনিবার রাতে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে কুয়েতে থাকা দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, জর্ডানে শুক্রবার মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জন্য দায়ী ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত কেশম দ্বীপে থাকা উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত হানা হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে বাহরাইন জানিয়েছে, তারা নিজেদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা কয়েকটি আকাশীয় হামলা প্রতিহত করেছে।
গত কয়েক দিনে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার মাত্রা বেড়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগ তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বন্দর অবরোধ কার্যকর করেছে। অন্যদিকে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে। ফলে গত জুনে হওয়া প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে।
রোববার আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করায় দুটি জাহাজ ‘দুর্ঘটনার’ শিকার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবাধীন এবং ‘অনিরাপদ নৌপথ’ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোও একই ধরনের পরিণতির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা।
এদিকে জর্ডানের রাজধানী আম্মানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ‘নির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য হুমকির’ কারণে দেশটির কর্তৃপক্ষ আকাবা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দর খালি করেছে। একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের ওই এলাকায় ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, টানা অষ্টম রাতের মতো পরিচালিত এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জন্য দায়ী আইআরজিসি বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করা।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জর্ডানে নিহত দুই সেনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, তাদের আত্মত্যাগ যুক্তরাষ্ট্রের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।
এই সংঘাতে নিখোঁজ থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর এক পাইলটকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। এতে চলমান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটিতে অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।




