রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিভিন্ন একাডেমিক ভবন ও হলের দেয়ালে স্থাপন করা অধিকাংশ অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডারের মেয়াদ আট মাস আগে শেষ হয়েছে। সেগুলো সরিয়ে নতুন সিলিন্ডার রাখার বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, এ বিষয়ে কিছুই জানে না। এর ফলে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভুগছেন শিক্ষার্থীরা।
তারা বলছেন, আবাসিক হলগুলোর প্রতিটি কক্ষেই ইলেকট্রিক চুলায় রান্নার সুবিধা আছে। এই চুলা থেকে যে কোনো দুর্ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রাথমিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার। আট মাস আগে মেয়াদ শেষ হলেও এ বিষয়ে উদাসীন প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রতিটি আবাসিক হলে একাধিক অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার স্থাপন করে প্রশাসন। এক বছর মেয়াদি এই সিলিন্ডারগুলোর মেয়াদ ছিল গত বছরের ২ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রায় আট মাস আগে মেয়াদ শেষ হওয়া সিলিন্ডারগুলো পুনঃস্থাপনের জন্য এখনও সরিয়ে নেওয়া হয়নি।
সরেজমিন দেখা গেছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার আছে ছয়টি, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনে আটটি, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ একাডেমিক ভবন ও মমতাজ উদ্দীন একাডেমিক ভবনে আছে সাতটি করে। এ ছাড়া হলগুলোতে প্রতিটি ব্লকের আলাদা আলাদা তলায় একটি করে সিলিন্ডার রয়েছে। এর মধ্যে সৈয়দ আমীর আলী হল, শাহ মখদুম হল, নবাব আব্দুল লতিফ হল ও শহীদ ড. শামসুজ্জোহা হল। ওই চারটি একাডেমিক ভবনের মোট ২৫টি অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডারের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। প্রতিটি সিলিন্ডার ‘বেঙ্গল ফায়ার টেকনোলজি’ সরবরাহ করেছে।
শাহ মখদুম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী দুলাল সরকার বলেন, আমাদের হলের অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডারের মেয়াদ শেষ। আমাদের ব্লকের সিলিন্ডারটি একদিন চেক করার জন্য আমরা লক খুলে পুশ করি। কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় কোনো গ্যাস বের হয়নি।
উদ্বেগ প্রকাশ করে সৈয়দ আমীর আলী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সাকিব মল্লিক বলেন, আমাদের ১৭টি হলে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী থাকেন। তাদের প্রত্যেকের কক্ষের সামনে চুলার ব্যবস্থা আছে। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে। অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডারগুলো প্রাথমিকভাবে আমাদের নিরাপত্তা দেয়। কিন্তু সব জায়গার সিলিন্ডারেরই মেয়াদ শেষ।
প্রশাসনের উদাসীনতা নিয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী পুশরাম চন্দ্র বলেন, এটা একটা শোপিসের মতো সাজানো রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে প্রশাসন বরাবরই উদাসীন। তাদের এ বিষয়ে আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক ও মাদার বখশ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শাহ হুসাইন আল মাহদী সমকালকে বলেন, অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডারগুলোর মেয়াদ শেষ হয়েছে– এটি আমার জানা ছিল না। আমি দ্রুতই পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, হল ও একাডেমিক ভবনের অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডারগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। আমরা খুব শিগগিরই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে সিলিন্ডারগুলো রিফিলের ব্যবস্থা করব।




