ট্রাম্প ‘হতাশা থেকে’ চুক্তি করেছেন: মোজতবা খামেনি

0
5

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া চুক্তির পর ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এখনো ওই অঞ্চলে অবস্থান করবে। খামেনির দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘হতাশা থেকে’ বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করে এই চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হলেও তা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান মেনে নেওয়ার শামিল হবে না।

চুক্তির পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে কিছু বিষয়ে আপত্তি থাকলেও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের আশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন। পেজেশকিয়ান তাকে নিশ্চিত করেছিলেন যে ইরানের জনগণের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন থাকবে।

চুক্তির প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার অঙ্গীকার এবং দেশটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠন। এছাড়া ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রয়োজন হলে উভয় পক্ষের সম্মতিতে বাড়ানো যাবে।

মূলত শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক আয়োজন হওয়ার কথা ছিল। তবে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, দূরবর্তী পদ্ধতিতে চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ায় অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। যদিও উভয় দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে আরও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত ও কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা এগিয়ে নিতে শিগগিরই সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ইরানের জন্য পুনর্গঠন তহবিল গঠনের বিষয়টি নিয়ে রিপাবলিকান দলের একাংশ সমালোচনা করেছে। রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি একে ‘দশকের সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতি ব্যর্থতা’ বলে মন্তব্য করেছেন।

অন্যদিকে ভ্যান্স বলেন, ইরানকে তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করতে হবে এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ না হলে তেহরান কোনো আর্থিক সুবিধা বা নিষেধাজ্ঞা শিথিলতার সুযোগ পাবে না।

ইসরাইলের কয়েকজন মন্ত্রী চুক্তির সমালোচনা করলেও ভ্যান্স তাদের জবাবে বলেন, ‘বাস্তবতা মেনে নেওয়ার সময় এসেছে।’ একই সঙ্গে তিনি লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটানো হামলারও সমালোচনা করেন। তবে চুক্তি ঘোষণার পরও ইসরাইল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে, যা শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here