ভুল পদক্ষেপ চীন-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত বাঁধাবে, ট্রাম্পকে শির হুঁশিয়ারি তাইওয়ান প্রসঙ্গ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তাইওয়ান ইস্যুতে সতর্ক করেছেন চীনের নেতা শি জিনপিং। তিনি বলেছেন, তাইওয়ান প্রশ্নে কোনো ভুল পদক্ষেপ দুই দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে।

বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে শীর্ষ সম্মেলনের শুরুতেই ট্রাম্পকে এই কঠোর বার্তা দেন চীনের প্রেসিডেন্ট। বৈঠক শুরুর কিছুক্ষণ পর চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে শির বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। শি বলেছেন, চীন-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাইওয়ান প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

প্রায় দুই ঘণ্টা ১৫ মিনিট স্থায়ী হওয়া বৈঠকে শি আরো বলেন, যদি এই বিষয়টি ভুলভাবে মোকাবিলা করা হয়, তবে দুই দেশ একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হতে পারে বা সংঘাতেও জড়িয়ে যেতে পারে। এটি চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে।

বৈঠকে গ্রিক রাজনৈতিক তত্ত্বের অবতারণাও করেন শি। তিনি বলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি তথাকথিত ‘থুসিডাইডস ট্র্যাপ’ এড়িয়ে বড় শক্তিগুলোর সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে? সহযোগিতা উভয় পক্ষের জন্যই মঙ্গলজনক, অন্যদিকে সংঘাত উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।’

থুসিডাইডস ট্র্যাপ বলতে, উদীয়মান শক্তি যখন কোনো ক্ষমতাসীন শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে তখন যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হওয়াকে বোঝায়।

তাইওয়ানকে চীন নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। প্রেসিডেন্ট শি একাধিকবার প্রকাশ্যে দ্বীপটিকে চীনের ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। অপরদিকে সম্প্রতি তাইওয়ানের কাছে বড় অঙ্কের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যা নিয়ে এর আগে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বেইজিংয়ের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হয়েছে।

শির ‘রূঢ় ভাষা’র ব্যাখ্যা
বৃহস্পতিবারের বৈঠকে শি জিনপিংয়ের মন্তব্যের পর তাইপে (তাইওয়ানের রাজধানী) পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তারা চীনকে আঞ্চলিক শান্তির জন্য ঝুঁকি হিসেবে অভিহিত করেছে। জোর দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বারবার তাইওয়ানের প্রতি তাদের স্পষ্ট ও দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সোমবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে শি-র সঙ্গে কথা বলবেন। তাঁর এমন বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থানের বিপরীত। কারণ, ওয়াশিংটন বরাবরই তাইওয়ান নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা বা পরামর্শ করার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে আসছিল।

চীনা গণমাধ্যম ‘চায়না নেইকান’-এর সম্পাদক অ্যাডাম নি এএফপিকে বলেন, চীনের পররাষ্ট্রনীতিতে এ ধরনের ‘রূঢ় ভাষা’ খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। তবে শি জিনপিংয়ের মুখ থেকে এমন কথা শোনাটা ব্যতিক্রমী ঘটনা। বৈঠকের বক্তব্যের মাধ্যমে শি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তাইওয়ান ইস্যুটি দুই পরাশক্তির মধ্যে একটি ‘বারুদ ভর্তি ড্রাম’ হয়ে আছে।

ট্রাম্পের মুখে ‘বন্ধু’
চীন সফরে গিয়ে শির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। শি-কে একজন মহান নেতা ও বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, দুই দেশের সামনে এক চমৎকার ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। তবে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানোর রাজকীয় আড়ম্বরের আড়ালে শি জিনপিংয়ের সুর ছিল কিছুটা সংযত। তিনি বলেন, দুই দেশের আসলে প্রতিদ্বন্দ্বী নয় বরং অংশীদার হওয়া উচিত।

গত এক দশকের মধ্যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এটিই প্রথম বেইজিং সফর। যদিও ট্রাম্পকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে, তবে এর নেপথ্যে দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বাণিজ্য এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা রয়েই গেছে।

জাঁকজমকপূর্ণ ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ ট্রাম্পকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেন শি। এ সময় সামরিক ব্যান্ডের সুর, তোপধ্বনি এবং একদল স্কুলশিক্ষার্থীর উচ্ছ্বসিত ‘স্বাগতম’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। পুরো আয়োজনটি বেশ উপভোগ করতে দেখা যায় ট্রাম্পকে। তিনি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক আগের চেয়ে আরো উন্নত হতে যাচ্ছে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর