মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাপ, যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষায় তেহরান হরমুজ প্রণালি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথটি পুনরায় চালু করতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে দু’পক্ষই। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনায় তৈরি হওয়া নতুন প্রস্তাব ও ধারণাগুলো কাতারি প্রতিনিধিরা মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এখন ওয়াশিংটনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।

‘পরমাণু প্রশ্নে কিছুটা নমনীয় তেহরান’

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা সংকট সমাধানের লক্ষ্যে কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। একাধিক পরোক্ষ বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। এসব আলোচনাকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারাও। তারা জানিয়েছেন, পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে তেহরান কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছে। তবে কোন পক্ষ আগে পদক্ষেপ নেবে–তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

শর্ত পূরণ হলে হরমুজ খোলার অঙ্গীকার

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য তিনটি শর্ত দিয়েছে তেহরান। শর্ত অনুযায়ী, লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধ বন্ধসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সাত দিনের সমন্বিত যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে। জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ ফেরত দিতে হবে এবং তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। এছাড়া ইরানি বন্দরগুলোতে আরোপিত নৌ অবরোধের অবসান ঘটাতে হবে। পাঁচ দিনের মধ্যে এসব শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। এরপর সপ্তম দিনের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচিসহ দ্বিপক্ষীয় চুক্তির জন্য আলোচনা শুরু হতে পারে।

ছাড় দেওয়ার খবর অস্বীকার ট্রাম্পের

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় ইরানকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়ার খবর অস্বীকার করেছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরান বিপদে পড়েছে বলেই হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য তাড়াহুড়ো করছে। অন্যদিকে সিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান যুদ্ধ চায় না এবং তারা পারমাণবিক বোমা তৈরির পক্ষে নয়। তবে সার্বভৌমত্বের জন্য লড়তে তারা প্রস্তুত আছে।

সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা

সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। সরবরাহ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম তীব্র গতিতে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৭৭ ডলারে এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৯৩ দশমিক ৯৪ ডলারে পৌঁছেছে।

‘ইরান না পারলে কাউকে তেল বিক্রি করতে দেওয়া হবে না’

জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা নিয়ে ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান যদি তেল বিক্রি করতে না পারে, তবে এই অঞ্চলের অন্য কাউকেই তেল রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না। তেহরানের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোও ঝুঁকিতে পড়বে।

‘দুই পক্ষই অনড় থাকলে সংকট কাটার সম্ভাবনা কম’

মধ্যপ্রাচ্যে গত সাত মাসের এই যুদ্ধে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে হুতিরা। সম্প্রতি গোষ্ঠিটি লোহিত সাগরে পশ্চিমা জাহাজ ও সৌদি অবকাঠামোয় হামলা চালাতে শুরু করেছে। এতে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াশিংটন যদি পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবিতে অনড় থাকে এবং তেহরান যদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তে অটল থাকে, তবে সংকট দ্রুত কাটার সম্ভাবনা কম।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর