যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্মতিতে শান্তিচুক্তির চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। গতকাল শুক্রবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো চূড়ান্ত হওয়া বাকি।
সব ঠিক থাকলে এ চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে অবসান হতে পারে গত কয়েক মাস ধরে চলে আসা রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও উত্তেজনার। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার জানান, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি অতি সন্নিকটে এবং যে কোনো সময় এটি স্বাক্ষরের দিনক্ষণ জানানো হতে পারে। এ কারণে ইরানে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়িত হওয়ার সবচেয়ে কাছে রয়েছে। তিনি গণমাধ্যমকে চুক্তিতে কী আছে, তা অনুমান করতে মানা করেন।
এদিকে, চুক্তির খসড়া চূড়ান্তের বিষয়গুলো সামনে এলেও এখনও লেবানন ইস্যুর কোনো সুরাহা হয়নি।
ইরানের চুক্তিতে লেবানন ইস্যু
এসব খবর সামনে আসার আগে পশ্চিমা এক সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের একটি সমঝোতা আগামীকাল রোববারের মধ্যেও স্বাক্ষরিত হয়ে যেতে পারে। চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাব্য ভেন্যু হতে পারে জেনেভা।
সূত্র সেই সময় আরও জানায়, সমঝোতার ভাষা নিয়ে কাজ চলছে। ইরান আগের অবস্থান ধরে রেখেছে যে, তাদের সঙ্গে হওয়া চুক্তির আওতায় লেবানন থাকবে এবং সেখানেও যুদ্ধ থামাতে হবে।
যা জানা গেছে চুক্তি সম্পর্কে
ইরানের গণমাধ্যমে গতকাল শুক্রবার চুক্তির খসড়ার বিষয়ে কিছু তথ্য দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, খসড়ায় ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, বিদেশে তাদের জব্দ থাকা শত শত কোটি ডলারের তহবিল অবমুক্ত করে দেওয়া, লেবাননসহ সব ধরনের যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে লড়াই থামানোর বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
তবে ইরান এত ছাড় পেলেও যুক্তরাষ্ট্র এ চুক্তি থেকে ঠিক কী পাচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি বলেই উল্লেখ করেছিল বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তবে গতকাল শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, চুক্তি সম্পর্কে ইরানি গণমাধ্যমে ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
লেবাননে যুদ্ধবিরতি
আলজাজিরার খবর বলছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। দেশটির টায়ার জেলায় আবারও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি বলছে, মাজদান জৌন ও মারাক্কেহ শহরে বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, টায়ার জেলার চামা শহরে ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা। সেখান থেকেও কোনো হতাহতের খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ইসরায়েল নতুন করে দক্ষিণ লেবাননের তিন গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য সরে যাওয়ার নির্দেশনা জারি করেছে।




