অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবিতে বিক্ষোভ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনা এবং অব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখতে গঠিত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশের দাবিতে বিক্ষোভ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের ফটকের সামনে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে নাগরিক সংগঠন ‘ময়মনসিংহ মঞ্চ’।
সমাবেশে বক্তারা হাসপাতালের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ময়মনসিংহ বিভাগসহ আশপাশের অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের সুচিকিৎসার ভরসাস্থল এই হাসপাতাল। অথচ অব্যবস্থাপনা ও নানা অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সংগঠনের নেতারা বলেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগে, যা দ্রুত লিফটে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভবনে অবস্থানরত রোগী, স্বজন ও চিকিৎসা কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ভবনের পাঁচটি সিঁড়ির মধ্যে মাত্র একটি চালু থাকায় হুড়োহুড়ি করে নিচে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে অনেকেই মারা যান।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রশাসন ও বিভাগীয় কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, দুর্ঘটনার সূচনা থেকেই প্রকৃত সত্য ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। সাংবাদিকরা প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের বরাতে হতাহতের স্পষ্ট তথ্য সামনে আনলেও প্রশাসন প্রথমে তা অস্বীকার করে। পরবর্তী সময়ে দুজনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করলেও পদদলিত হওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়, যা নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এমনকি আহতদের সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশেও প্রশাসন রহস্যজনক নীরবতা বজায় রাখছে।

তদন্ত কমিটির ঢিলেঢালা প্রক্রিয়া সম্পর্কে বক্তারা জানান, প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা একাধিকবার বাড়ানো হয়। শেষ পর্যন্ত প্রতিবেদন জমা পড়লেও প্রকাশ করা হচ্ছে না।
ময়মনসিংহ মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘এটি হাসপাতালের নিজস্ব বা গোপনীয় কোনো বিষয় নয়। এটি গোটা ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষের জীবন ও সুরক্ষার প্রশ্ন। সংবাদ সম্মেলন ডেকে দ্রুত এই প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।’ তদন্ত প্রতিবেদন গোপন রাখা হলে ভবিষ্যতে হাসপাতালের দুর্নীতি ও অবহেলা মারাত্মক রূপ নেবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
আরও বক্তব্য দেন, সংগঠনের সংগঠক আবু বকর ছিদ্দিক রুমেল, আব্দুল হান্নান আল আজাদ, ইঞ্জিনিয়ার এম এ জিন্নাহ প্রমুখ। তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খানের ভাষ্য, তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়টি গোপনীয়। এটি হাসপাতালের পরিচালকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়ে পরিচালক বলতে পারবেন।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম ফেরদৌস বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আপনাদের সঙ্গে পরে কথা হবে। এখন কিছু বলা যাচ্ছে না।’

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর