সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) জন্মতারিখ বা বয়স সংশোধনের ক্ষমতা আবারও মাঠ পর্যায়ে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ বা নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলো এখন এই কাজ করতে পারবে।
এনআইডিতে এলাকা পরিবর্তন বা ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম নির্ধারিত ফি দিয়ে অনলাইনে সম্পন্ন করা যাবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় জটিলতা কমিয়ে সহজ করা হয়েছে। প্রবাসীদের আবেদন ও বায়োমেট্রিক পাওয়ার পর বাংলাদেশে দ্বৈত তদন্তের (ভেরিফিকেশন) বদলে এক ধাপে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।
ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, আগের প্রক্রিয়ায় জন্মতারিখ তথা বয়স সংশোধন করাতে নাগরিকদের দূরদূরান্ত থেকে ঢাকায় ছুটতে হতো। ভোটার স্থানান্তর সেবা নিতে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোতে আসা-যাওয়া করতে হতো। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো তাদের। এমন হয়রানি কমাতে নতুন নিয়ম চালু করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ইসির সাম্প্রতিক ১২তম কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অবশ্য জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষমতা বছর তিনেক আগেও মাঠ পর্যায়ে ছিল। ডেটাবেজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ বয়স জালিয়াতি বা জালিয়াতিমূলক অপরাধের অপচেষ্টা ঠেকানোর কথা বলে ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর এনআইডি সংশোধনের নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা নির্দেশিকা জারি করে ইসি। নির্দেশনা অনুযায়ী জন্মতারিখ বা বয়স পরিবর্তনের মতো স্পর্শকাতর আবেদনগুলোকে ‘ঘ’ ক্যাটেগরিভুক্ত করে নিষ্পত্তির ক্ষমতা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের মহাপরিচালক বা কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের হাতে দেওয়া হয়। এতে ঢাকায় দৌড়াদৌড়ির পাশাপাশি মাসের পর মাস ফাইল আটকে থাকায় সাধারণ নাগরিকের চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। হয়রানির এমন চিত্র বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর এনআইডি সেবা সহজ করার উদ্যোগ নেয় ইসি।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, এখন থেকে নাগরিকরা এসএসসি, জেএসসি বা পিইসি সনদের ওপর ভিত্তি করে জন্মতারিখ সংশোধন প্রক্রিয়া আগের মতো মাঠ পর্যায় তথা উপজেলা/জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে পারবেন। বিভাগীয় তথা সিটি করপোরেশনভুক্ত এলাকায় এই কাজ করবেন সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তারা। এ ছাড়া নাগরিকরা ভোটার এলাকা পরিবর্তন বা এনআইডি স্থানান্তরের জন্য অনলাইন আবেদনের মাধ্যমেই নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন। এ জন্য তাদের সরাসরি অফিসে যেতে হবে না। এনআইডি সংশোধনের জন্য প্রথমবার আবেদনের ক্ষেত্রে ভ্যাটসহ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫ টাকা।
প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। আগে প্রবাসীদের অনলাইন আবেদন ও বায়োমেট্রিক পাওয়ার পর দেশে দুই দফা তদন্ত করা হতো। তদন্ত প্রতিবেদন ইতিবাচক এলে তা সিস্টেমে আপলোড করা হতো। নতুন নিয়মে প্রবাসীরা আবেদন ও বায়োমেট্রিক দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা অনলাইনে আপলোড হয়ে যাবে এবং ঢাকায় প্রাথমিক তদন্ত শেষে তথ্যের সঠিকতা মিললেই এনআইডির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। ফলে অতিরিক্ত একটি ধাপ কমে গেল।
এ ছাড়া ভোটার তালিকায় তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে বয়সের সময়সীমা আরও কমিয়ে আনার চিন্তাভাবনা করছে ইসি। বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকের এনআইডি ও ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যা ১৮ বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় সক্রিয় হয়। এই তথ্য সংগ্রহে বয়সসীমা আরও কমিয়ে এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি বা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির বয়স পর্যন্ত নামিয়ে আনা যায় কিনা– সেটার পর্যালোচনা চলছে।
ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, এনআইডি সংশোধনে ভোগান্তি কমাতে মাঠ পর্যায়ে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে জেএসসি, এসএসসি বা পিএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষার সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন এখন থেকে স্থানীয় পর্যায়েই নিষ্পত্তি করা হবে।




