রাজধানীতে বৃষ্টি কমতে পারে আজ, বাড়তে পারে উত্তরাঞ্চলে

0
5

রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। চলতি বর্ষা মৌসুমে ঢাকায় এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। একই সময়ে গতকাল রোববার দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে, সেখানে রেকর্ড করা হয়েছে ১৬০ মিলিমিটার।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আজ সোমবার রাজধানীতে বৃষ্টির তীব্রতা কমতে পারে। তবে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত জুলাই মাসে ঢাকায় গড়ে প্রায় ৩৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। সে হিসাবে এক দিনেই মাসিক গড় বৃষ্টিপাতের প্রায় অর্ধেক নেমে এসেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাব যুক্ত হওয়ায় দেশের মধ্যাঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর প্রভাবে ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুরসহ আশপাশের এলাকায় অল্প সময়ের মধ্যে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হয়েছে। একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে চট্টগ্রামেও।

নাজমুল হক বলেন, এপ্রিল ও মে মাসে বজ্রসহ বৃষ্টি সাধারণত বিচ্ছিন্নভাবে হয়। কিন্তু জুন-জুলাইয়ে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বৃষ্টিপাতের বিস্তৃতি অনেক বেশি হয় এবং একটি শহরের প্রায় সব এলাকা এর আওতায় আসে।

তবে চলতি মৌসুমে ঢাকায় এটি সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিপাত হলেও অতীতের কয়েকটি রেকর্ডের চেয়ে কম। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় এক দিনে সর্বোচ্চ ৩৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল ২০০৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল ২০০৯ সালের ২৮ জুলাই। এ ছাড়া ১৯৫৬ সালে এক দিনে ৩২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। ২০২২ সালে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে ২৪ ঘণ্টায় ২৫৫ মিলিমিটার এবং ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড় ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ২০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গতকাল সকালে বান্দরবানের সাঙ্গু, সুনামগঞ্জ ও সিলেটের কুশিয়ারা এবং নেত্রকোনার সোমেশ্বরী নদীর পাঁচটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

কেন্দ্রের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরীসহ কয়েকটি নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে পারে। এতে নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া ও হালদা নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here