Home Blog Page 100

সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক আহত

কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার সকালে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী কাটাপাহাড় সীমান্তসংলগ্ন মিয়ানমার অংশে এ ঘটনা ঘটে।

আহত যুবকের নাম মো. সালমান (২৭)। তিনি উখিয়ার ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা এবং মো. নিজামত আলীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণে তার পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে ।

ক্যাম্পের বাসিন্দা আহমদ উল্লাহ জানান, সীমান্তের ওপারে যাওয়ার সময় হঠাৎ মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে সালমান গুরুতর আহত হন। পরে অন্য রোহিঙ্গাদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘মিয়ানমার সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা যুবক আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। তবে বিভিন্ন সময় অভিযোগ পাওয়া যায়, কিছু রোহিঙ্গা অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে মাদক আনার সঙ্গে জড়িত। বৈধ কোনো কারণ ছাড়া তাদের সীমান্তের ওপারে যাওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত।’

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, ‘মাইন বিস্ফোরণে আহত হওয়ার বিষয়ে এখনো থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কোনো তথ্য জানায়নি।’

এদিকে, গতকাল রোববার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হন।

ঈদে বানান স্বাস্থ্যকর পানীয়

এবারের কোরবানির ঈদ পড়েছে গরমের মধ্যে। উৎসবের দিনগুলোতে পোলাও, মাংস, বিরিয়ানি তো খাওয়া হয়ই । এর পাশাপাশি থাকে নানা পদের মিষ্টি। এসব ভারী খাবার খাওয়ার পর হজম সহায়তার জন্য বাড়িতে তৈরি করতে পারেন স্বাস্থ্যকর পানীয়।

মাঠা
উপকরণ: ফুলক্রিম দুধের টক দই ১ কেজি, বিট লবণ ১ চা চামচ, সাদা লবণ স্বাদমতো, চিনি ২-৩ টেবিল চামচ, ঠান্ডা পানি ২ গ্লাস, লেবুর রস ১-২ টেবিল চামচ, ছানা-মাখন সামান্য (পরিবেশনের জন্য)।
প্রস্তুত প্রণালি: টক দইয়ে পানি বাদে সব উপকরণ মিশিয়ে নিতে হবে। এবার পানি মেশাতে হবে। মাঠা কতটুকু ঘন রাখা হবে তার ওপর নির্ভর করে পানি দিতে হবে। গ্লাসে মাঠা ঢেলে ছানা-মাখন দিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

Pic 8 1779698387

বোরহানি 

উপকরণ :টক দই ১ কেজি, পানি আধা লিটার, ডালসহ পুদিনা পাতা বাটা ১ চা চামচ, ধনেপাতা ১ চা চামচ, বিট লবণ আধা চা চামচ, সাদা গোলমরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ, কাঁচামরিচ বাটা আধা চা চামচ, জিরা ভাজা গুঁড়া আধা চা চামচ, সাদা সরিষা গুঁড়া আধা চা চামচ, লবণ পরিমাণমতো ও চিনি প্রয়োজন মতো

প্রস্তুত প্রণালি :দই ভালোভাবে ফেটিয়ে নিয়ে পানি দিন । এরপর একে একে সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার ছেঁকে বরফ কুচি দিয়ে পরিবেশন করুন।

Pic 6 1779698416

টক দই পুদিনা পাতার শরবত

উপকরণ

পুদিনা পাতা এক কাপ, টক দই ২৫০ মিলিলিটার, ধনেপাতা আধা কাপ, কাঁচামরিচ কুচি দুটি, কাঁচা আম দুই টুকরা, গোলমরিচের গুঁড়া সামান্য, বরফ কুচি সামান্য ও লবণ স্বাদমতো।

প্রস্তুত প্রণালি

প্রথমে পুদিনা পাতা ও ধনেপাতা কুচি ভালো করে ধুয়ে একটি ব্লেন্ডারে নিন। এবার এর মধ্যে টক দই, কাঁচামরিচ কুচি, কাঁচা আম, গোলমরিচের গুঁড়া ও লবণ দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করুন। আধা কাপ পানি দিয়ে আবারও ব্লেন্ড করে নিন। এবার ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে একটি গ্লাসে মিশ্রণটি ঢেলে নিন। ওপরে সামান্য বরফ কুচি দিয়ে পরিবেশন করুন ঠান্ডা পুদিনা-টক দই শরবত।

ছোট কাকু সিরিজ এবার কিশোরগঞ্জে, যুক্ত হলেন মম

ঈদ এলেই দর্শকদের জন্য নতুন চমক নিয়ে হাজির হয় জনপ্রিয় শিশুতোষ সিরিজ ‘ছোটকাকু’। বরাবরের মতো এবারও আসছে এর নতুন কিস্তি ‘কিশোরগঞ্জের কিশোরদল’। তবে এবারের আয়োজনে রয়েছে বাড়তি আকর্ষণ। এই সিরিজের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কিংবদন্তি নির্মাতা ও অভিনেতা আফজাল হোসেনের পরিচালনায় অভিনয় করেছেন জাকিয়া বারী মম। আর সেই অভিজ্ঞতা মমর কাছে হয়ে উঠেছে ভীষণ আবেগ আর মুগ্ধতার।

সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন লোকেশনে শেষ হয়েছে নাটকটির শুটিং। শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগরের জনপ্রিয় ‘ছোটকাকু’ সিরিজ অবলম্বনে নির্মিত এই আট পর্বের গোয়েন্দাধর্মী নাটকের নাট্যরূপ দিয়েছেন মাসুম রেজা। নির্মাণে ছিলেন আফজাল হোসেন, সহপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আরিফ খান।

বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন আফজাল হোসেন। এরই মধ্যে নাটকটির পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজও শেষ হয়েছে। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন রওনক হাসান, আহসান হাবিব নাসিম, তাহমিনা সুলতানা মৌ, শাহেদ আলী, তানভীর হোসেন ও মারিয়া ফারিহা উপমা প্রমুখ। অভিনয়ের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রেও দেখা যাবে আফজাল হোসেনকে।

‘ছোটকাকু’ নিয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে আফজাল হোসেন বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই দুঃসাহসিক অভিযানভিত্তিক ছগল্পের প্রতি আমার আলাদা আগ্রহ ছিল। সেই ভালো লাগা থেকেই ছোটকাকু সিরিজের সঙ্গে দীর্ঘ পথচলা। শিশুদের জন্য দেশে খুব বেশি কাজ হয় না বলেই এই সিরিজ নির্মাণে আলাদা আনন্দ পাই।’

অন্যদিকে, আফজাল হোসেনকে নিয়ে গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন মম। তিনি বলেন, “আফজাল হোসেনরা তো এ সময়ের হাইপে ওঠা মানুষ নন, তাঁরা সত্যিকারের গুণী মানুষ। তিনি আমাদের দেশের সম্পদ। একজন শিল্পীর কাছ থেকে কী চান, সেটা তিনি খুব পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিতে পারেন। একজন পরিচালক ও অভিনয়শিল্পীর মধ্যে এই কমিউনিকেশনটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।”

মম জানান, নাটকটির জন্য তিনি দুই দিন শুটিং করেছেন। গত শুক্রবার শেষ হয়েছে তাঁর অংশের কাজ। চ্যানেল আইয়ের ঈদ আয়োজনের অংশ হিসেবে ‘কিশোরগঞ্জের কিশোরদল’ প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে প্রচারিত হবে।

তীব্র গরম আর যুদ্ধ-উদ্বেগের আবহে শুরু হজের আনুষ্ঠানিকতা

পবিত্র হজ পালন আজ সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লাখের বেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনার পরিস্থিতির আবহেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা সৌদি আরবে জড়ো হয়েছেন।

হজের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দিনে মক্কায় উপস্থিত বহু হজযাত্রীরা তাঁবুর নগরী হিসেবে পরিচিত মিনায় সমবেত হন। এর আগে, তীব্র দাবদাহের মধ্যে তারা মসজিদুল হারামে অবস্থিত পবিত্র কাবা শরিফ প্রদক্ষিণ করেন।

আগামী মঙ্গলবার হজযাত্রীরা আরাফাতের ময়দানে গিয়ে সমবেত হবেন। সেখানে তাঁরা নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও বিশেষ মোনাজাত করবেন।

এদিকে গরমের কারণে ধর্মীয় বিভিন্ন আচার সম্পন্ন করার সময় অনেক হজযাত্রী ছায়ার জন্য ছাতা ব্যবহার করছেন। কেউ কেউ সঙ্গে পোর্টেবল বা হাত-পাখা রাখছেন। শরীর সতেজ ও হাইড্রেটেড রাখতে স্বেচ্ছাসেবীরা পানির বোতল বিতরণ করছেন এবং বড় ফ্যান বা পাখার সাহায্যে চারদিকে হালকা পানির কুয়াশা ছিটানো হচ্ছে।

গরমের পাশাপাশি এবার সৌদি আরবসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্যে এক ভিন্ন আবহ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের অবসানে একটি প্রাথমিক চুক্তির কথা বলা হলেও কিছু বিষয়ে মতবিরোধের কারণে তা সম্পন্ন হতে দেরি হওয়ার শঙ্কা করা হচ্ছে।

এছাড়া, জ্বালানি সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখেও বিভিন্ন দেশ হজযাত্রীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ হজ মৌসুম শুরুর আগে থেকেই সার্বিক বিষয়ে জরুরি বা বিকল্প পরিকল্পনা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে। একইসঙ্গে দেশটির হজযাত্রীদের ওপর যাতে অতিরিক্ত খরচ চাপানো না হয় তা নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা জারি করে।

সরকারের পরিচালন ও সুদ পরিশোধ ব্যয় বাড়ছেই

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) সরকারের পরিচালন ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৪ কোটি টাকা। এ ছাড়া বরাদ্দ অনুসারে পরিচালন ব্যয়ের হারও বেড়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম মাসে পরিচালন ব্যয় ছিল এ খাতে মোট বরাদ্দের ৬২ শতাংশ, যা এবার বেড়ে হয়েছে ৬৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, পরিচালন ব্যয় বাড়লেও উন্নয়ন ব্যয়ের বাস্তবায়ন কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন হার গত বছরের তুলনায় ২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ২৩ শতাংশে নেমে এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে ব্যয় ছিল ৭১ হাজার ১৪২ কোটি টাকা, যা এবার কমে দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৫৪ কোটি টাকা। অর্থ বিভাগের হালনাগাদ বাজেট বাস্তবায়ন প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আর্থিক খাতে নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রভাব ব্যাংক খাত পেরিয়ে পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে। এমন প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতির ক্ষত সারাতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি সরকারি ব্যয়ে লাগাম টানার ঘোষণা দেয়। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা সামনে রেখে সম্প্রতি পরিচালন ব্যয়ে নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করে প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে নতুন সরকার। বাস্তবে পরিচালন বাজেটের আওতায় ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পরিচালন ব্যয় বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো দেশি ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান চাপ। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও সার খাতে বিপুল ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারকে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন ও বিশেষ প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের ফলে বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকারের অনুৎপাদনশীল ব্যয় আরও বাড়ছে।

এদিকে, দেশি-বিদেশি উৎস থেকে নেওয়া ঋণের সুদ পরিশোধেও সরকারের ব্যয় বেড়েছে। অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৯৬ হাজার ২৩১ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেট মিলিয়ে সরকারের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। পরিচালন ব্যয় বাড়ার প্রভাবে এ সময়ে মোট বাজেট বাস্তবায়ন হারও বেড়ে ৫২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।

পরিচালন ব্যয়ের চেয়ে কম রাজস্ব আয়
পরিচালন ব্যয়ের চাপ বাড়তে থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের চেয়ে পরিচালন ব্যয় বেশি হচ্ছে। অর্থাৎ শুধু উন্নয়ন ব্যয় নয়, বেতন-ভাতা, সুদ ও ভর্তুকির মতো পরিচালন ব্যয়ের একটি অংশও সরকারকে ঋণ নিয়ে মেটাতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য মোটেও ইতিবাচক নয়।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে পরিচালন ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে সরকারের মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার ২৬২ কোটি টাকা। অর্থাৎ উন্নয়ন ব্যয়ের ৫৭ হাজার কোটি টাকার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়েরও প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা সরকারকে ঋণ নিয়ে মেটাতে হয়েছে। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের তুলনায় পরিচালন ব্যয় প্রায় সাড়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বেশি ছিল।

এ প্রসঙ্গে সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ সমকালকে বলেন, সাধারণত রাজস্ব আয় দিয়েই পরিচালন ব্যয় মেটানো হয় এবং সেখান থেকে কিছু অর্থ উন্নয়ন ব্যয়েও ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বর্তমানে রাজস্ব আয় দিয়ে পরিচালন ব্যয়ই ঠিকমতো মেটানো যাচ্ছে না, যা উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, সরকারের উচিত পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাজস্ব আয় বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।

এদিকে, মোট ব্যয়ের তুলনায় রাজস্ব আয় কম হওয়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা।

ঈদ-পরবর্তী সাত দিন পশুর চামড়া ঢাকায় আনা যাবে না

রাজধানীর বাইরে থেকে ঈদ-পরবর্তী সাত দিন পর্যন্ত কাঁচা চামড়াবাহী কোনো যানবাহন ঢাকায় প্রবেশ করতে পারবে না। গতকাল রোববার বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। এতে যথাযথভাবে কাঁচা চামড়ায় লবণ দেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিসিকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোরবানির পশুর চামড়া দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে চামড়ার গুণগত মান বজায় থাকে এবং দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

এতে চামড়া সংরক্ষণের বিষয়ে বলা হয়, পশুর চামড়া ছাড়ানোর পর দ্রুত রক্ত-মাংস পরিষ্কার করতে হবে। প্রতি গরুর চামড়ায় আট থেকে ১০ কেজি এবং ছাগল ও ভেড়ার চামড়ায় তিন থেকে চার কেজি লবণ দিতে হবে। চামড়া ভাঁজ করে শুকনো ও ছায়াযুক্ত স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে। তাতে দীর্ঘ সময় চামড়া ভালো থাকবে।

কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কাঁচা চামড়াবাহী কোনো যানবাহন নির্ধারিত সময়ের (সাত দিন) আগে ঢাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই কারও কথায় চামড়া বোঝাই ট্রাক নিয়ে ঢাকায় প্রবেশের চেষ্টা করবেন না। এতে চামড়াসহ ট্রাক জব্দ করা হতে পারে।

শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান সমকালকে বলেন, গত বছর ২০ কোটি টাকার লবণ ফ্রি দেওয়া হয়েছে, যাতে চামড়া নষ্ট না হয়। এবার ১৮ কোটি টাকার লবণ ফ্রি দেওয়া হবে। কোন কোন মিলারের কাছ থেকে লবণ কিনতে হবে, সেটিও সরবরাহকারীদের বলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কীভবে কাঁচা চামড়ায় লবণ দিতে হবে, কীভাবে গরু থেকে চামড়া আলাদা করে তা সংরক্ষণ করতে হবে– এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য দুই কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তীব্র গরম আর যুদ্ধ-উদ্বেগের আবহে শুরু হজের আনুষ্ঠানিকতা

পবিত্র হজ পালন আজ সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লাখের বেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনার পরিস্থিতির আবহেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা সৌদি আরবে জড়ো হয়েছেন।

হজের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দিনে মক্কায় উপস্থিত বহু হজযাত্রীরা তাঁবুর নগরী হিসেবে পরিচিত মিনায় সমবেত হন। এর আগে, তীব্র দাবদাহের মধ্যে তারা মসজিদুল হারামে অবস্থিত পবিত্র কাবা শরিফ প্রদক্ষিণ করেন।

আগামী মঙ্গলবার হজযাত্রীরা আরাফাতের ময়দানে গিয়ে সমবেত হবেন। সেখানে তাঁরা নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও বিশেষ মোনাজাত করবেন।

এদিকে গরমের কারণে ধর্মীয় বিভিন্ন আচার সম্পন্ন করার সময় অনেক হজযাত্রী ছায়ার জন্য ছাতা ব্যবহার করছেন। কেউ কেউ সঙ্গে পোর্টেবল বা হাত-পাখা রাখছেন। শরীর সতেজ ও হাইড্রেটেড রাখতে স্বেচ্ছাসেবীরা পানির বোতল বিতরণ করছেন এবং বড় ফ্যান বা পাখার সাহায্যে চারদিকে হালকা পানির কুয়াশা ছিটানো হচ্ছে।

গরমের পাশাপাশি এবার সৌদি আরবসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্যে এক ভিন্ন আবহ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের অবসানে একটি প্রাথমিক চুক্তির কথা বলা হলেও কিছু বিষয়ে মতবিরোধের কারণে তা সম্পন্ন হতে দেরি হওয়ার শঙ্কা করা হচ্ছে।

এছাড়া, জ্বালানি সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখেও বিভিন্ন দেশ হজযাত্রীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ হজ মৌসুম শুরুর আগে থেকেই সার্বিক বিষয়ে জরুরি বা বিকল্প পরিকল্পনা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে। একইসঙ্গে দেশটির হজযাত্রীদের ওপর যাতে অতিরিক্ত খরচ চাপানো না হয় তা নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা জারি করে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনই চুক্তি হচ্ছে না: ইরান

যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে তেহরান সতর্ক করে বলেছে, কোনো চুক্তি এখনই হচ্ছে না।

সোমবার সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘আলোচনাধীন বিষয়গুলোর একটি বড় অংশের ক্ষেত্রে আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছি। এ কথা সত্য। কিন্তু চুক্তিতে স্বাক্ষর করা সময়ের ব্যাপার মাত্র- এমনটা বলা ঠিক হবে না।’

বাঘাই আরও বলেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। বেশ কিছু বিষয়ে একটি সাধারণ সমঝোতাও তৈরি হয়েছে। তবে চুক্তি এখনই হচ্ছে না।

বাংলাদেশ সময় রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, খুব শিগগিরই ইরানের সঙ্গে একটি প্রাথমিক চুক্তি ঘোষণা করা হবে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়টিও আছে। একইদিন ভারতে অবস্থানরত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, বিশ্ববাসী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সুখবর পাবে। তবে রাতে ট্রাম্প জানান, তিনি চুক্তির বিষয়ে তড়িঘড়ি করতে বারণ করেছেন।

চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প ঘোষণা দেওয়ার আগে ইসমাইল বাঘাই বলেছিলেন, ইরানের উদ্দেশ্য প্রথমে একটি সমঝোতা স্মারক বা এক ধরনের রূপরেখা চুক্তি তৈরি করা। এর পরবর্তী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

দুই পক্ষ পৃথকভাবে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে কথা বললেও মূল বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে কে কতটুকু ছাড় দিতে পারে তা স্পষ্ট নয়। এর মধ্যে আছে- পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, জব্দকৃত সম্পদ ও লেবানন প্রসঙ্গ।

পারমাণবিক কর্মসূচি
ইসমাইল বাঘাই জানান, পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি প্রাথমিক রূপরেখার অংশ না। বরং পরবর্তী পর্যায়ে এটি পৃথক আলোচনার বিষয় হিসেবে থাকবে। তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তির একটি অন্যতম প্রধান বিষয় হলো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম। যেটির মজুত ত্যাগ করার বিষয়ে তেহরানের একটি দৃশ্যমান প্রতিশ্রুতি আছে।

ইরানের ফার্স ও তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান ইউরেনিয়ামের মজুত স্থানান্তর, সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া কিংবা পারমাণবিক বোমা তৈরি না করার বিষয়ে কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। উভয় সংস্থাই উল্লেখ করেছে, সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

হরমুজ কীভাবে খুলবে?
সমঝোতার একটি জটিল ও অমীমাংসিত বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা। ইরান জোর দিয়ে বলছে, তেলবাহী জাহাজ চলার সময় তাদের সশস্ত্র বাহিনীর অনুমতি নিতে হবে। ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তিটি চূড়ান্ত হলেও কৌশলগত এই জলপথের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবস্থাপনা বজায় থাকবে।

তাসনিম নিউজ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, হরমুজ প্রণালির সার্বিক পরিস্থিতি কোনোভাবেই যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না। ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের কথা উল্লেখ করে তারা আরও লিখেছে, রূপরেখা অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করতে হবে।

জব্দ সম্পদ ও লেবানন
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে থাকা সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে। তাসনিম নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেকোনো প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানোর পূর্বশর্ত হতে হবে এই আটকে থাকা সম্পদের অন্তত আংশিক ব্যবহারের সুবিধা দেওয়া। একেবারে প্রথম ধাপে যদি তাদের অবরুদ্ধ সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ ছেড়ে দেওয়া না হয়, তবে কোনো চুক্তি হবে না।

সূত্রের বরাত দিয়ে ইরানের আধা-সরকারি এই সংস্থাটি লিখেছে, আটকে থাকা বাকি তহবিল ধারাবাহিকভাবে বা নিয়মিত ছাড় দেওয়ার বিষয়টিও চুক্তির আগে নিশ্চিত করতে চায় তেহরান। আরেক সংস্থা ফার্স লিখেছে, সম্ভাব্য সমঝোতার আওতায় আলোচনা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল, গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।

এদিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল লেবাননে ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে প্রতিদিন বিমান হামলা চালাচ্ছে। তাসনিম জানিয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তির আগে একটি সমঝোতা স্মারক ঘোষণা করা হবে। সেখানে লেবাননসহ সমস্ত ফ্রন্টে যুদ্ধ অবসানের বিষয়টি জোর দিয়ে উল্লেখ করা থাকবে।

টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনা ১৫ নিহতের মধ্যে ৯ জনের বাড়ি নওগাঁয়

টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৯ জনের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মান্দা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম।

তিনি বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি নিহতদের বাড়ি মান্দা থানার বিভিন্ন গ্রামে। আমাদের কাছে যে তথ্যগুলো আসছে আমরা তা সংগ্রহ করছি। নিহতদের নাম পরিচয় পেশা এখনও জানা যায়নি। তাদের নাম পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।

এর আগে সোমবার ভোরে যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের সরাতৈল এলাকায় রডবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে অন্তত ১৫ জন নিহত হন।

যমুনা সেতু পূর্ব থানার (টাঙ্গাইল) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফুয়াদ রোহানী জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা উত্তরবঙ্গগামী একটি ট্রাক ভোর ৫টার দিকে যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের সরাতৈল এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে ট্রাকটি সড়কে উল্টে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক এস এম হুমায়ুন কারনায়েক বলেন, সড়কে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। তাদের মধ্যে চারজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাদিকুর রহমান বলেন, হাসপাতালে ১৫ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। এছাড়া মুমূর্ষু অবস্থায় আরও ৪ জনকে আনা হয়। তারা বর্তমানে ভর্তি রয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ঈদযাত্রা সড়কে চাপ আছে, যানজট নেই

কর্মদিবস থেকে ঈদযাত্রায় যানবাহনের চাপ বাড়লেও গতকাল রোববার রাত পর্যন্ত সড়ক-মহাসড়কে বড় ধরনের যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। পদ্মা এবং যমুনা সেতুতে যান চলাচল দ্বিগুণ হওয়ায়, ধীরগতি তৈরি হলেও অচলাবস্থা তৈরি হয়নি।

সকালে তিনটি ট্রেন রাজধানী থেকে বিলম্বে যাত্রা করলেও, রাত পর্যন্ত শিডিউল ঠিক ছিল। আজ সোমবার অধিকাংশ কলকারাখানায় ছুটি হবে; তাই সন্ধ্যার পর যাত্রীর ঢলে যানজটে ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে।

গত বছরও পবিত্র ঈদুল আজহায় ব্যাপক ভোগান্তি হয়েছিল আগের দুই দিনে। এবারও সোম ও মঙ্গলবার যানজটের শঙ্কা রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার ঈদ উদযাপিত হবে। গাজীপুরের অধিকাংশ কলকারখানা আজ সোমবার ও কাল মঙ্গলবার ছুটি হবে।

উত্তরবঙ্গের প্রবেশপথ গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ত্রিমোড়।  প্রতি ঈদেই এখানে দীর্ঘ যানজট হয়। গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত পাওয়া খবর পর্যন্ত গাড়ির চাপ বেড়েছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের এই অংশে যানবাহন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। তবে বিকেলের পর থেকে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের ভোগড়া থেকে টঙ্গীর চেরাগ আলী পর্যন্ত যানবাহনের ব্যাপক চাপ ছিল গতকাল রাত ১০টার দিকে। থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছিল। চালক ও যাত্রীরা জানান, বৃষ্টির কারণে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারছিল না।

ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের অংশেও বিকেলের পর যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। পরিবহন কাউন্টারগুলোতে ভিড় করছেন ঘরমুখী মানুষ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও মেঘনা টোল প্লাজায় ধীরগতিতে টোল আদায়ের ফলে  যানবাহনের চাপ আরও বেড়েছে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ছয় লেন উন্নীতকরণের কাজ চলছে। গতকালের বৃষ্টিতে নির্মাণকাজের মাটি ও বালুতে কাদা হয়ে রূপগঞ্জের বরপা ও ভূলতা এলাকায় ভোগান্তি হয়। মহাসড়কের খানাখন্দের গাড়ি গতি কমে দুর্ভোগ হচ্ছে।

মন্ত্রী বললেন যাত্রীরা সন্তুষ্ট 

ট্রেনের যাত্রীরা সন্তুষ্ট বলে দাবি করে সড়ক, রেল এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই। পুরোনো রেললাইন ও লোকোমোটিভে  (ইঞ্জিন) সর্বোচ্চ সতর্কতায় ঈদযাত্রায় ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে।

গতকাল ঢাকার কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, সাধারণ সময়ে ঢাকা থেকে আন্তঃনগর ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ৩২ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হয়। ঈদে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ টিকিটসহ ৪০ হাজার যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু লক্ষাধিক যাত্রীর ট্রেন ভ্রমণের চাহিদা থাকে।

কমলাপুরে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি কোন ট্রেনে উঠব, তা আগে থেকে নির্ধারিত ছিল না। পরিদর্শনের সময় দুটি ট্রেনে উঠে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছি। যাত্রীরা তাদের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মের পরিবেশ ভালো মনে হয়েছে। সিটিং ক্যাপাসিটির মধ্যেই যাত্রা হচ্ছে।’

সকালে কয়েকটি ট্রেন বিলম্বে যাত্রার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তিনটি ট্রেন কিছুটা দেরিতে চলেছে। বুড়িমারী এক্সপ্রেস ঢাকায় আসার পথে রেললাইনে শুকাতে দেওয়া খড়ে এর চাকা স্লিপ করায় বিকল হয়। এটি তাই ঢাকাতে দেরিতে এসেছে। ফলে  কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ঢাকা থেকে ছেড়ে যেতে বেশ কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

বিকেলে কালিয়াকৈর উপজেলার খাড়াজোড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও গণসচেতনতা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা দায়িত্বে বসে আছি, আমাদের তখনই ঈদ মনে হয়, যখন শুনি ঘরমুখো মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরেছে। সড়ক ফাঁকা হয়েছে।’