Home Blog Page 100

জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিল অতীতে কেমন খেলেছে?

২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের লড়াই শেষের পথে। ইতোমধ্যেই নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করেছে অনেক দল। এর মধ্যে কেউ কেউ প্রতিপক্ষের অপেক্ষায়, কেউ ইতোমধ্যেই জেনে গেছে প্রতিপক্ষের নামও। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ এশিয়ান পরাশক্তি জাপান।

টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় ব্রাজিল নকআউটে ‘এফ’ গ্রুপের রানার্সআপ বা দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলের মুখোমুখি হবে। সুইডেনের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করা জাপান ‘এফ’ গ্রুপের দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে নকআউটে পা রেখেছে। আগামী ২৯ জুন শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে জাপান ও ব্রাজিল।

এদিন হিউস্টনে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ম্যাচটি শুরু হবে। দুই দলের মধ্যে অনুমিতভাবেই শক্তিমত্তা ও ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে আছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিল আছে ৬ নম্বরে, আর জাপান ১৮ নম্বরে।

বাংলাদেশেরঅর্থনীতি

দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানেও ব্যবধান আছে। দুই দল একে অপরের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ১০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলেছে। এর মধ্যে ৭টি ম্যাচেই জয় পেয়েছে সেলেসাওরা। দুটি ম্যাচ হয়েছে ড্র। বাকি একটি ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেছে ব্লু সামুরাইরা। আর সেই একমাত্র জয়টি এসেছে দুই দলের সর্বশেষ মুখোমুখি লড়াইয়ে। এটাই হয়তো জাপানকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগাবে।

২০২৫ সালের অক্টোবরে ওই প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে চমকে দিয়ে ৩-২ ব্যবধানে জিতেছিল জাপান। এবারও ব্রাজিলকে জাপানের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা দিতে হতে পারে। কারণ, ওই দলের বেশির ভাগ ফুটবলারই জাপানের বিশ্বকাপ দলেও আছেন।

মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করে ব্রাজিল। তবে পরের দুই ম্যাচে হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে গ্রুপ সেরা হয় তারা।

অন্যদিকে জাপানের বিশ্বকাপ মিশনও শুরু হয়েছিল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২ গোলের ড্র দিয়ে। তবে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়ায় হাজিমে মোরিয়াসুর শিষ্যরা। তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে হারায় তারা। শেষ ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে গ্রুপপর্ব শেষ করেছে জাপান।

স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ৫৪৮২ টাকা

দেশের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। এতে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা।

স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণে এই দাম বাড়ানো হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১০টা থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে  ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৩ হাজার ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। রুপার অলংকারের ভ্যাট বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এদিকে রুপার দামেও পরিবর্তন এসেছে। পরিবর্তিত দামে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৬৬৫ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৪৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৭ টাকা।

লন্ডভন্ড ভেনেজুয়েলায় আবার ভূমিকম্প

দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে লন্ডভন্ড ভেনেজুয়েলায় নতুন করে আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বুধবার সন্ধ্যায় ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর শুক্রবার দেশটির উত্তর উপকূলে ৪.৯ মাত্রার নতুন ভূমিকম্প অনুভূত হয়। মৃদু এই ভূমিকম্পটির প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য এখনও জানা যায়নি।

ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইএমএসসি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে জানিয়েছে, সর্বশেষ ভূমিকম্পটি উত্তর ভেনেজুয়েলার ম্যারাকে শহর থেকে ৬১ কিলোমিটার (৩৬ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে আঘাত হেনেছে।

দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটি বুধবারের দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি। স্কাই নিউজ অস্ট্রেলিয়া ও আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরপর আঘাত হানা এই ভয়াবহ দুর্যোগের কারণেই মূলত উত্তর ভেনেজুয়েলাজুড়ে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

বুধবারের জোড়া ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯২০ জন মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রাজধানী কারাকাসের বেশ কিছু অংশ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।

ভেনিজুয়েলার লা গুয়াইরা রাজ্যের কারাবালেদায় ধসে পড়া একটি ভবনে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন দেশটির সিভিল প্রটেকশন সদস্য, দমকল কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা (ছবি-এএফপি)

ভেনিজুয়েলার লা গুয়াইরা রাজ্যের কারাবালেদায় ধসে পড়া একটি ভবনে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন দেশটির সিভিল প্রটেকশন সদস্য, দমকল কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা (ছবি-এএফপি)

আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভুমিকম্পে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস অনুমান করছে, এই বিপর্যয়ে হতাহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শত শত মানুষ এখনও ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকায় এই আশঙ্কা আরও তীব্র হচ্ছে।

ভেনেজুয়েলা সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে অন্তত ৩ হাজার ৩৬০ জন আহত হয়েছেন। ১৭২ জনেরও বেশি মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। এ ছাড়া নিখোঁজের সংখ্যা ইতিমধ্যে ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

শুক্রবার ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে সবচেয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের কিছু এলাকায় লোকজনের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হবে। এরই মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা ত্রাণ সামগ্রী সংগ্রহ এবং জীবিতদের খোঁজে নিজেরা দল গঠন করছেন। এমনকি কেউ কেউ তাদের নিজস্ব যানবাহনগুলোকে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স হিসেবেও ব্যবহার করছেন।

ভেনেজুয়েলা সরকার ইতিমধ্যেই ‘এক্স’ এর মতো সামাজিকে যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, যা ২০২৪ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর থেকে ব্লক করে রাখা হয়েছিল। আলজাজিরা ও ফার্স্টপোস্ট এর তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকাজ ও জরুরি যোগাযোগের সুবিধার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

২৫ বছর বয়সী জেনিফার পালাসিওস, যার ছয় বছরের ছেলে এবং আরও পাঁচজন আত্মীয় এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। তিনি আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘স্থানীয় মানুষ বা এই কমিউনিটির উদ্যোগেই কেবল মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আমাদের ভারী স্ল্যাবগুলো সরানোর জন্য এখন ক্রেন দরকার। এখনও অনেক মানুষ ভেতরে আটকে আছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আজ শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত আইআরজিসির এক টেলিগ্রাম বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বার্তায় আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, ‘যদি আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে আমাদের প্রতিক্রিয়া আরও ব্যাপক ও কঠোর হবে।’

এর আগে মার্কিন সেনাবাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে তারা ইরানের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ওই জাহাজে হামলার জন্য তেহরান দায়ী।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর অঞ্চলটিতে উত্তেজনা কমার আশা তৈরি হয়েছিল। তবে হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে হামলা এবং এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ সেই আশাকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে হয়। ফলে এ অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে বৈশ্বিক জ্বালানিবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এভার লাভলি’-তে হামলার ঘটনাকে ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ‘বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করেন।

ওই সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছিল। এর মাধ্যমে মূলত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত এবং তেহরানের পাল্টা হামলা স্থগিত করার ভিত্তি তৈরি হয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতা স্মারকটি কোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি ছিল না; বরং পরবর্তী আলোচনার পথ সুগম করার একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।

বাজেটের বড় দুর্বলতা উচ্চ রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা: ড. মোস্তাফিজুর

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে অনেক ভালো দিক রয়েছে। তবে রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে চলতি অর্থবছরের প্রকৃত অর্জনের তুলনায় তা ৪০ শতাংশের মতো বেশি। এই বাজেটের একটি বড় দুর্বলতা উচ্চ রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা। বৃহস্পতিবার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে বাজেট নিয়ে আয়োজিত আলোচনায় মূল প্রবন্ধে তিনি এ কথা বলেন।

রাজধানীর আফতাবনগরে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম নওশের আলী লেকচার গ্যালারিতে ‘জাতীয় বাজেট বিষয়ক আলোচনা সভা’ শীর্ষক আলোচনায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. একে এনামুল হক। আলোচনার শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষার্থী বাজেট ভাবনার ওপর সংক্ষিপ্ত তিনটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা; আগের অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় যা ১৮ শতাংশ বেশি। ৯ শতাংশের মতো মূল্যস্ফীতি এবং ৫ শতাংশের মতো জিডিপি প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় এ হারে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়তো বাস্তবসম্মত। তবে চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে যে আয় হয়েছে সেটা হিসেব করলে প্রকৃত অর্জনের তুলনায় ৪০ শতাংশের মতো বেশি আয় করতে হবে। এটা এই বাজেটের একটি বড় দূর্বলতা।

তিনি বলেন, বাজেট বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সরকারকে বেশি ঋণ নিতে হবে। আর এক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ উৎসে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গেলে বেসরকারি খাত বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে অভ্যন্তরীণ উৎসে ঋণের বিকল্প গড়ে তুলতে হবে।

বিশ্বের অনেক দেশে ব্যাংক থেকে মেয়াদি ঋণ নেওয়া হয় না উল্লেখ করে তিনি বন্ড ও পুঁজিবাজার থেকে ঋণে জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বিদেশি ঋণ পরিশোধে সরকারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে সুদসহ বিদেশি দায় পরিশোধে সরকারের যে ব্যয় হয়েছে তাতে পুরো অর্থবছরে সাড়ে ৪ বিলিয়ন মতো খরচ হবে। ফলে বাজেট বাস্তবায়নে দক্ষতার ওপর জোর দিতে হবে।

অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর জানিয়ে সামান্থা বললেন, ফের দর্শকদের কাছে ফিরব

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সুখবর দিলেন ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু। মা হতে চলেছেন তিনি। বেশ কয়েক মাস ধরে তাঁর গর্ভধারণ নিয়ে নানা গুঞ্জন চললেও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি অভিনেত্রী। এবার নিজেই সেই খবর নিশ্চিত করলেন।

সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম’ ছবির সাফল্য উদযাপন অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে সামান্থা জানান, জীবনের এক নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে চলেছেন তিনি। অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেন, হাতে থাকা কাজগুলো শেষ করার পর কিছুদিনের জন্য অভিনয় থেকে বিরতি নেবেন। কারণ, তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাচ্ছেন।

সামান্থার কথায়, ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম ছবির পর আমাকে কিছুদিনের জন্য বিরতি নিতে হবে। আমার বর্তমান অবস্থার কারণেই এই সিদ্ধান্ত। আমি মাতৃত্বকালীন ছুটি নিচ্ছি। এটি বিদায় নয়। বিরতির পর নতুন কাজ নিয়ে আবারও দর্শকদের কাছে ফিরব।’

রাজ নিদিমোরু ও সামান্থা রুথ প্রভু

রাজ নিদিমোরু ও সামান্থা রুথ প্রভু

অভিনেত্রীর এই ঘোষণার পর মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। ভক্ত, সহশিল্পী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে অভিনন্দন জানাতে শুরু করেন। অনেকেই মনে করছেন, ব্যক্তিগত জীবনের এই নতুন অধ্যায় সামান্থার জীবনে আরও আনন্দ ও পরিপূর্ণতা নিয়ে আসবে। গত কয়েক মাস ধরেই সামান্থাকে ঘিরে গর্ভধারণের গুঞ্জন ছিল তুঙ্গে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও জনসমক্ষে তাঁর উপস্থিতির কিছু ছবি এবং ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

সেসব দেখে অনেকেই দাবি করেছিলেন, অভিনেত্রীর বেবি বাম্প দৃশ্যমান। যদিও তখন বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। পরে পরিচালক বিভি নন্দিনী রেড্ডিও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, সামান্থা খুব শিগগিরই জীবনের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। সেই মন্তব্যের পর থেকেই জল্পনা আরও জোরালো হয়। অবশেষে নিজের মুখেই সেই সুখবর জানালেন সামান্থা। ফলে এতদিনের গুঞ্জন সত্যি প্রমাণিত হলো। এটি হবে সামান্থা ও তাঁর স্বামী রাজ নিদিমোরুর প্রথম সন্তান।

ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি ক্যারিয়ারেও বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন সামান্থা। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাতেও মনোযোগ দিয়েছেন তিনি। ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম’ ছবিটি দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পর তাঁর এই সুখবর যেন অনুরাগীদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

রাজ নিদিমোরু ও সামান্থা রুথ প্রভু

রাজ নিদিমোরু ও সামান্থা রুথ প্রভু

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে বিয়ে করেন সামান্থা রুথ প্রভু ও নির্মাতা রাজ নিদিমোরু। নতুন সংসার শুরু করার কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের পরিবারে নতুন সদস্য আগমনের খবর সামনে এলো। এর আগে অভিনেতা নাগা চৈতন্যের সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন সামান্থা।

২০১৭ সালে বিয়ে করলেও ২০২১ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। রাজ নিদিমোরুরও এটি দ্বিতীয় বিয়ে। অতীতের অধ্যায় পেছনে ফেলে দুজনেই নতুন জীবন শুরু করেন এবং এবার সেই জীবনে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন এক অধ্যায়। ক্যারিয়ারের নানা উত্থান-পতন, ব্যক্তিগত জীবনের চ্যালেঞ্জ এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত লড়াইয়ের মধ্য দিয়েও বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন সামান্থা। তাই তাঁর জীবনের এই সুখবর ভক্তদের কাছেও বিশেষ আনন্দের।

বছরজুড়ে মাঠে থাকে কাদাপানি নিজেদের মাঠে খেলতে পারে না জাতীয় পর্যায়ে রানার্সআপ দল

বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের অভাব। দুই শিফটে তিন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দুটি কক্ষে বসিয়ে পাঠদান করতে হয়। ছোট মাঠে বছরজুড়ে থাকে কাদাপানি। প্রতিদিন অন্য মাঠে গিয়ে অনুশীলন করতে হয় খুদে ফুটবলারদের। এভাবেই জাতীয় পর্যায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে তারা। বলছিলাম নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কথা।

জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে নান্দাইল পৌর শহরের সাত নম্বর ওয়ার্ডে ৪০ শতাংশ জমির ওপর গড়ে ওঠে আচারগাঁও উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মাঠের পূর্বপাশে পশ্চিমমুখী করে শুরুতে নির্মিত ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হলে ২০১৪ সালে উত্তর পাশে দক্ষিণমুখী করে তিন কক্ষের আরেকটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। তিন কক্ষের দুটি শ্রেণিকক্ষ হিসেবে এবং অন্যটি অফিসকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ২০৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য ছয় শিক্ষক রয়েছেন। দুই শিফটে দুটি কক্ষে তিন শ্রেণির পাঠদান করতে হচ্ছে। তাই একটি কক্ষে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসাতে হয়। এতে অনেকাংশে স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।

গত সোমবার বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, চারপাশ বাসাবাড়িতে ঘেরা বিদ্যালয়ের মাঠটি কিছুটা নিচু। আশপাশের বৃষ্টির পানি মাঠে জমা হয়ে সংকীর্ণ নালা দিয়ে নেমে যায়। ফলে শিক্ষার্থীরা কখনোই বিদ্যালয়ের মাঠটি ব্যবহার করতে পারে না। তাই বিকেল হলেই বিদ্যালয়ের বালিকা ফুটবল দলের সদস্য পরশমনি, পৌষি, রওনক, সুমাইয়া, জান্নাতুল, পূর্ণিমা, মাবিয়া, ঝুমাসহ অন্যরা কোচ দেলোয়ার হোসেন উজ্জলকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে ভালো মাঠের খোঁজে। কোনোদিন পৌর শহরের নান্দাইল পাইলট বালিকা বিদ্যালয়, কোনোদিন চন্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে গিয়ে অনুশীলন করে। এভাবেই ফুটবল দলটি ইউনিয়ন, উপজেলা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে জাতীয় পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০ জুন ঢাকায় বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্যায়ের খেলা হয়। খেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওইদিন বিকেল ৪টায় বালক ও বালিকা মিলে চারটি দলের খেলা হয়। নান্দাইলের আচারগাঁও উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বালিকা ফুটবল দলের সঙ্গে খেলায় অংশ নেয় পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোড়গাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বালিকা দল। খেলায় আচারগাঁও বিদ্যালয় ৪-২ গোলে হেরে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। রানার্সআপ দলের ‘স্টপার ব্যাক’ পরশমনি টুর্নামেন্টে ম্যান অব দা ম্যাচ এবং সর্বোচ্চ গোলদাতার গৌরব অর্জন করে গোল্ডেন বুট ও ৩০ হাজার টাকা পুরস্কার পেয়েছে। এ ছাড়া দল পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে ট্রফি মেডেল এবং দুই লাখ টাকা। শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

পরশমনি আক্তার জানায়, খেলায় চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে আরও ভালো লাগত। তবে দুঃখের কথা হচ্ছে তাদের বিদ্যালয়ের ছোট মাঠটি সব সময় কাদাপানিতে একাকার হয়ে থাকায় সেখানে খেলাধুলা বা অনুশীলন করা যায় না। তাই মাঠটি সংস্কার করা জরুরি।
দলের আরেক সদস্য পূর্ণিমা বলে, বিদ্যালয়ের দুটি কক্ষে তিনটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস করা খুবই কষ্টকর হচ্ছে। তাই বিদ্যালয়ে একটি ভবন নির্মাণ জরুরি।
প্রধান শিক্ষক সজিম উদ্দিন ভূঁইয়ার ভাষ্য, দলের সাফল্যে তারা খুশি। আগামীতে আরও ভালো করার জন্য এখন থেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, কর্দমাক্ত মাঠে মাটি ভরাট, সীমানা প্রাচীর এবং নতুন একটি ভবনের জন্য নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষ বরাবর অনেক আবেদন করেছেন, কিন্তু কাজ হচ্ছে না।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুননেছা বেগম জানান, ওই বিদ্যালয়ে একটি নতুন ভবন নির্মাণ এবং মাঠে মাটি ভরাটের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।
গত বুধবার যোগাযোগ করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত বলেন, আগামীতে মাঠে মাটি ভরাটের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে ভবন নির্মাণের বিষয় নিয়ে এ মুহূর্তে কিছু বলতে পারছেন না বলে জানান তিনি।

বাদাম চাষে বদলে গেছে হাজারো জীবন

পাবনার বেড়া উপজেলার দক্ষিণ চরপেঁচাকোলা গ্রামের আশকার প্রামাণিক ছয়বার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন। হারিয়েছেন বসতভিটা, জমিজমা। এক সময় নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন। এখন যমুনার বুকে জেগে ওঠা চরে ১০ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এক সময় যে যমুনা কেড়ে নিয়েছিল সবকিছু; আজ সেই যমুনাই ফিরিয়ে দিচ্ছে স্বপ্ন।
আশকার প্রামাণিক বলেন, ‘নদীভাঙনে সব হারিয়ে ফেলেছিলাম। এখন বাদাম চাষই আমার পরিবারের প্রধান ভরসা। ফলন ভালো হলে সংসারও ভালো চলে।’

যে যমুনা একদিন কেড়ে নিয়েছিল আশকার প্রামাণিকদের সবকিছু, সেই যমুনার বুকেই আজ জন্ম নিচ্ছে নতুন স্বপ্ন। ভাঙনের কান্না পেরিয়ে চরজুড়ে এখন বাদামের সুবাস, আর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। বেড়ার যমুনা চরাঞ্চলের অসংখ্য ভাঙনদুর্গত পরিবার এখন বাদাম চাষে নতুন আশার আলো দেখছেন। যমুনার চরে উৎপাদিত বাদাম এবার প্রায় ৫৫ কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি করেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চরাঞ্চলের ১১ হাজার ৭০০ বিঘা জমিতে বাদামের চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৯৩ হাজার ৬০০ মণ। বর্তমান বাজারে যার দাম প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। চলতি মৌসুমে প্রতি মণ বাদাম বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকায়; যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত বছর একই সময়ে প্রতি মণ বাদামের দাম ছিল ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা।

নাকালিয়া বাজারের আড়তদার আব্দুল বাতেন প্রামাণিক বলেন, ‘আমার জীবনে এত দামে বাদাম বিক্রি হতে দেখিনি। ফলনও ভালো, দামও ভালো। কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।’ চরনাকালিয়ার কৃষক আব্দুল হাকিম বলেন, ‘এত দামে বাদাম বিক্রি হবে ভাবিনি। এবার বাদাম আমাদের ঘরে আনন্দ নিয়ে এসেছে।’
এক সময় যেসব বালুময় জমি অনাবাদি মনে করা হতো, এখন সেগুলোই বাদাম চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। কম খরচ, কম পরিচর্যা এবং ভালো দামের কারণে বাদাম এখন চরাঞ্চলের অন্যতম লাভজনক ফসল।

বাদামকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় অর্থনৈতিক চক্র। জমি থেকে বাদাম উত্তোলন, শুকানো, বস্তাবন্দি করা, পরিবহন, আড়তদারি, খোসা ছাড়ানো ও প্রক্রিয়াজাতকরণ–সব মিলিয়ে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
নাকালিয়া বাজারের খোসা ছাড়ানো কারখানায় কাজ করেন বিলকিস বেগম ও চম্পা খাতুন। নদীভাঙনে নিঃস্ব এই দুই নারী বলেন, ‘চরের বাদাম আমাদের জীবিকা দিয়েছে। এই কাজ না থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যেত।’
নাকালিয়া বাজার বণিক সমিতির সহসভাপতি আব্দুল হক বলেন, ‘যমুনার চর এখন শুধু ফসলের ক্ষেত নয়, এটি হাজারো মানুষের জীবিকার ভিত্তি। বাদামকে ঘিরে এখানে বড় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে উঠেছে।’
বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত কবীর বলেন, ‘বেড়ার চরাঞ্চলের মাটি বাদাম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার বাদামের মানও ভালো। বাদাম এখন উপজেলার অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে।’

নকআউটে ব্রাজিলকে পেল জাপান

ডালাসে ‘এফ’ গ্রুপের শেষ রাউন্ডের ম্যাচে সুইডেনের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে এশিয়ান পরাশক্তি জাপান। এই ড্রয়ে ৩ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ব্লু সামুরাইরা। শেষ বত্রিশের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আগামী ২৯ জুন হিউস্টনে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে জাপান।

ডালাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের দেখা পায়নি। ফলে গোলশূন্য সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় তারা।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র বদলায় দ্রুত। ৫৬ মিনিটে দাইজেন মায়েদার গোলে লিড নেয় জাপান। অবশ্য জাপানের সেই লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি সুইডিশরা। গোল হজমের ঠিক ৬ মিনিট পর ৬২ মিনিটে অ্যান্থনি এলাঙ্গার চোখধাঁধানো গোলে সমতায় ফেরে সুইডেন। ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে দুদল।

এই ড্রয়ে সুইডেনেরও শেষ বত্রিশ নিশ্চিত হয়ে গেছে। ৩ ম্যাচে জাপানের ড্র ২টি। জয় ১টি। পয়েন্ট ৫। অন্যদিকে তৃতীয় দল হিসেবে সুইডেন গেল বত্রিশে। ৩ ম্যাচে ১টি করে জয়, হার ও ড্র আছে তাদের।

তিউনিসিয়াকে হারিয়ে গ্রুপসেরা নেদারল্যান্ডস, নকআউটে প্রতিপক্ষ মরক্কো

কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে শুক্রবার তিউনিসিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে নেদারল্যান্ডস। একই সময়ে অন্য ম্যাচে জাপান ও সুইডেন ১-১ গোলে ড্র করায় ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান মজবুত করল ডাচরা। শেষ বত্রিশের হাইভোল্টেজ ম্যাচে রোনাল্ড কোম্যানের দল মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ‘সি’ গ্রুপের রানার্সআপ মরক্কোর।

ম্যাচের শুরু থেকেই তিউনিসিয়াকে চেপে ধরে ডাচরা। খেলার ৩য় মিনিটেই তিউনিসিয়ার এলিয়েস স্কিরির আত্মঘাতী গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। এটি ১৯৭৪ সালের ফাইনালের পর বিশ্বকাপে ডাচদের ইতিহাসে দ্রুততম গোল। এর ঠিক চার মিনিট পর ৭ম মিনিটে অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইকের পাস থেকে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন স্ট্রাইকার ব্রায়ান ব্রবি। এটি চলতি টুর্নামেন্টে তার তৃতীয় গোল। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় নেদারল্যান্ডস।

বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে তিউনিসিয়া। ৫৪তম মিনিটে হ্যানিবাল মেজব্রির কর্নার থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন হাজেম মাস্তুরি। তবে তিউনিসিয়ার সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি তিনবারের রানার্সআপরা। ৬২তম মিনিটে তিজানি রেইন্ডার্সের কর্নার কিক থেকে হেডে গোল করে নেদারল্যান্ডসের ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন ডিফেন্ডার জান-পল ফন হেকে।