Home Blog Page 101

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প ‘এখন আমাদের কিছুই নেই’

‘এখন আমাদের কাছে কিছুই নেই। এমনকি ওখানে ফিরে যাওয়ার মতো শক্তি ও সাহসও নেই। একবার কল্পনা করুন।’ ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় শহর কাটিয়া লা মারেতে এক ভবনের ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন ৪৯ বছর বছর বয়সী ল্যারি রোজাস। ওই ধ্বংসস্তূপে তাঁর পরিবারের সদস্যরা চাপা পড়েছেন।

জোড়া ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলা থেকে ধীরে ধীরে খবর বাইরে আসতে শুরু করেছে। দুর্যোগ থেকে বেঁচে ফেরা লোকজন এখনও রয়েছেন আতঙ্কের মধ্যে। অনেকে আবার নিজে প্রাণে বাঁচলেও পড়েছেন তীব্র অসহায় পরিস্থিতির মুখে। এ রকমই এক নারীকে ভূমিকম্পের পর দেখা যায় এক ১২ তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে।

তাঁর কাছে জানা যায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে তাঁর মেয়ে রয়েছে। তিনি সন্তানকে উদ্ধারের ও খবর পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে অসহায় কণ্ঠে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ভেতরে মানুষ বেঁচে আছে, কিন্তু তাদের বাঁচাতে কেউ আসছে না।

দেশটির বহু স্থানেই ভূমিকম্পের পর বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই। এ রকম পরিস্থিতির মধ্যেই স্বজনদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বহু ব্যক্তি। পাশাপাশি দেশটিতে অনেক জায়গায় ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও বিকল হয়ে পড়েছে। ফলে একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছেন না মানুষ।

ভূমিকম্পের পর কারাকাসে রাস্তায় রাস্তায় ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। গত বুধবার যখন ভূমিকম্প শুরু হয়, তখন কারাকাসের বাসিন্দা ভেরোনিকা ভেবেছিলেন, তিনি আর বাঁচবেন না। এদিন রাষ্ট্রীয় ছুটির দিন থাকায় বহু মানুষই ছিলেন বাড়িতে। কারাকাসের আরেক বাসিন্দা মারিয়া আলেহান্দ্রা জানান, তিনি যখন বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তখনই দেয়ালে ফাটল ধরতে শুরু করে। কোনোরকমে দরজা খোলার পর তিনি দেখেন চারদিকে ধুলা; কিছুই দেখা যাচ্ছে না। আলেহান্দ্রা বলেন, ‘আমরা যখন নিচতলায় গেলাম, তখন মনে হচ্ছিল ভৌতিক সিনেমার মতো দৃশ্য দেখছি। ধ্বংসস্তূপের ওপর দিয়ে ভবন থেকে বের হয়ে আসতে হয়েছে। আমরা শুধু আর একটি পরিবারকে বের হতে দেখেছি।’

পূর্ব কারাকাসের কোরো মার্টিনেজ (৫৬) বলেন, ‘আমি কখনও এ রকম কিছু দেখিনি।’ শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কারণে ভূমিকম্পে তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলো থেকে খবর সেভাবে বাইরে আসতে শুরু করেনি।

মাইকেল জ্যাকসন: রাজনীতির বাইরে থেকেও এক রাজনৈতিক কণ্ঠ

২৫ জুন। পৃথিবীর কোটি মানুষের কাছে দিনটি শুধু একজন শিল্পীর মৃত্যুদিন নয়। এটি এমন এক কণ্ঠস্বরকে স্মরণ করার দিন, যিনি বিনোদনের মঞ্চকে মানবতা, প্রতিবাদ ও বিশ্ববিবেকের মঞ্চে পরিণত করেছিলেন। ২০০৯ সালের এই দিনে পৃথিবী হারিয়েছিল মাইকেল জ্যাকসনকে। কিন্তু তার কণ্ঠ, বার্তা ও প্রশ্ন আজও প্রতিধ্বনিত হয় যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডে, ক্ষুধার্ত শিশুর চোখে, বন উজাড়ের বেদনায় এবং বৈষম্যে আক্রান্ত পৃথিবীর নানা প্রান্তে।

মাইকেল জ্যাকসনকে সাধারণত ‘কিং অব পপ’ হিসেবে স্মরণ করা হয়। কিন্তু তার শিল্পীসত্তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় প্রায়ই আড়ালে থেকে যায়। তিনি ছিলেন মানবতার পক্ষে এক বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক কণ্ঠস্বর। রাজনৈতিক নেতা না হয়েও তিনি রাজনীতি, যুদ্ধ, বর্ণবাদ, দারিদ্র্য, পরিবেশ ধ্বংস এবং সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে এমনভাবে কথা বলেছেন, যা বহু রাষ্ট্রনেতার ভাষণের চেয়েও গভীরভাবে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছেছে।

তার মৃত্যুর প্রায় দুই দশক পেরিয়ে গেছে। কিন্তু বিস্ময়করভাবে তার কিছু গান যেন আজকের পৃথিবীর জন্যই লেখা। গাজায় বোমা পড়ে, সুদানে মানুষ পালায়, ইউক্রেনে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়, সমুদ্রের পানি বাড়ে, বনভূমি উধাও হয়, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ মানুষকে ঘৃণা করতে শেখে। এমন এক সময়ে মাইকেল জ্যাকসনের গান শুনলে মনে হয়, তিনি যেন দূর ভবিষ্যতের জন্যই সতর্কবার্তা রেখে গিয়েছিলেন।

কারণ মাইকেল জ্যাকসন কেবল পপসংগীতের রাজা ছিলেন না। তিনি ছিলেন পৃথিবীর পক্ষে গাওয়া এক নিঃসঙ্গ কণ্ঠ।

বিশ্বসংস্কৃতির ইতিহাসে খুব কম মানুষই মাইকেল জ্যাকসনের মতো জনপ্রিয়তা পেয়েছেন শৈশব থেকে মৃত্যুর পর অব্দি। ১৯৮২ সালে প্রকাশিত তার ‘থ্রিলার’ আজও ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত অ্যালবাম। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশে তার শ্রোতা ছিল। যখন পৃথিবী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও প্রযুক্তির দ্রুত গতির অনেক পেছনেই ছিলো। তার নাচ, পোশাক, মিউজিক ভিডিও, কনসার্টের কোরিওগ্রাফি – সবই ছিল সাংস্কৃতিক বিপ্লবের অংশ।

কিন্তু এই বিপুল সাফল্যের মাঝেও তিনি বারবার মানুষ ও প্রকৃতির দুর্ভোগের দিকে ফিরে গেছেন। যে সময়ে অধিকাংশ পপ তারকা প্রেম, বিনোদন কিংবা ব্যক্তিগত অনুভূতির গান গাইছিলেন, সে সময়ে মাইকেল লিখছিলেন ক্ষুধা, যুদ্ধ, বৈষম্য, পরিবেশ ধ্বংস এবং মানবিক সংকট নিয়ে। সম্ভবত এখানেই তিনি অন্যদের থেকে আলাদা।

তিনি জনপ্রিয়তার সুবিধাভোগী ছিলেন, কিন্তু বিবেকের দায় থেকে মুক্ত ছিলেন না মৃত্যুর আগ অব্দি। ১৯৮৪ সালে ইথিওপিয়াসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। টেলিভিশনের পর্দায় কঙ্কালসার শিশুদের ছবি দেখে বিশ্ব বিবেক নড়ে ওঠে।

এই প্রেক্ষাপটে মাইকেল জ্যাকসন ও লিওনেল রিচি ১৯৮৫ সালে লিখেছিলেন ‘উই আর দ্যা ওয়ার্ল্ড’ গানটি। এটি ছিল কেবল একটি গান নয়। এটি ছিল একটি নৈতিক ঘোষণা। সেখানে বলা হয়েছিল-আমরা একই পৃথিবীর মানুষ, তাই অন্যের দুর্ভোগ আমাদেরও দায়। গানটি মুক্তির পর বিশ্বব্যাপী বিপুল আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং এর মাধ্যমে দুর্ভিক্ষপীড়িতদের জন্য ৬ কোটি ডলারেরও বেশি তহবিল সংগৃহীত হয়েছিল। আজকের বিশ্বে যখন শরণার্থী, জলবায়ু উদ্বাস্তু এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণে পৌঁছেছে, তখন সেই গান নতুন অর্থে ফিরে আসে। রাষ্ট্রের সীমানা যেখানে মানুষকে ভাগ করে, মাইকেলের গান সেখানে মানুষকে একত্রিত করে।

মাইকেল জ্যাকসন নিজেকে কখনও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেননি। কিন্তু তার শিল্পে এমন এক রাজনৈতিক চেতনা ছিল, যা ক্ষমতার ভাষায় নয়, বিবেকের ভাষায় কথা বলে।১৯৮৭ সালের ‘ম্যান ইন দ্যা মিরর’ তার সবচেয়ে শক্তিশালী উদাহরণ। গানটির মূল কথা হলো- পৃথিবী বদলাতে চাইলে প্রথমে নিজেকে বদলাও। শুনতে এটি ব্যক্তিগত নৈতিকতার কথা মনে হয়। কিন্তু গভীরে গেলে বোঝা যায়, এটি সামাজিক পরিবর্তনেরও দর্শন।

বর্তমান পৃথিবীতে আমরা প্রায়ই রাষ্ট্র, সরকার, প্রতিষ্ঠান কিংবা অন্য মানুষকে দায়ী করি। মাইকেল প্রশ্ন তুলেছিলেন গানের মাধ্যমে – ‘আমাদের নিজেদের ভূমিকা কী?’ একজন শিল্পীর মুখে এই প্রশ্নই তাকে সময়ের চেয়ে এগিয়ে রাখে।

১৯৯৫ সালে প্রকাশিত ‘দে ডোন্ট কেয়ার এবাউট আস’ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সাহসী গান ও মিউজিক ভিডিও হিসেবে বিবেচিত। এটি অনেক বেশি বিতর্কিত ছিল এই  কারণে যে,  এতে কু ক্লাক্স ক্ল্যান, লস অ্যাঞ্জেলেসের দাঙ্গা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রকৃত ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছিল। গানটি প্রকাশের পর সমালোচিত হলেও পরবর্তীতে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনে এটি প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে নতুন মাত্রা লাভ করে।

কিন্তু গানটি প্রকাশের আগে যখন সংবাদমাধ্যমে এর লিরিক নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়, তখন মাইকেল জ্যাকসন ১৯৯৫ সালের ১৫ জুন দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এ একটি বিবৃতি পাঠান। সেখানে তিনি তার অবস্থান পরিষ্কার করে জানান যে, এই গানটি মূলত পক্ষপাতিত্ব, ঘৃণা ও সামাজিক অবিচারের ব্যথার কথা বলে। তিনি নিজেকে সব অত্যাচারিত ও অভিযুক্ত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।

তার এই বক্তব্যটিই অবিনশ্বর। কারণ তিনি কোনো দল বা মতাদর্শের পক্ষে কথা বলেননি। তিনি কথা বলেছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে। বর্তমান পৃথিবীতে জলবায়ু ও মানব সভ্যতা যখন টিকে থাকার প্রচেষ্টায় হিমশিম খাচ্ছে, তখন নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে মাইকেল জ্যাকসন লিখলেন ‘আর্থ সং’।

এই গান শুনলে মনে হয়, পৃথিবী নিজেই যেন মানুষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছে। মানুষ বনভূমি ধ্বংস করছে, প্রাণী হত্যা করছে, যুদ্ধের আগুনে প্রকৃতি পুড়ে যাচ্ছে। সর্বোপরি মানুষ উন্নয়নের নামে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ বন্ধক রাখছে।

গানের কথাগুলো আজ ২০২৬ সালে আরও ভয়ংকরভাবে সত্য হয়ে প্রকাশ পাচ্ছে। বাংলাদেশের উপকূল থেকে শুরু করে প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপাঞ্চল পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত যে বাস্তবতা তৈরি করেছে, তার পূর্বাভাস যেন অনেক আগেই শুনতে পেয়েছিলেন মাইকেল জ্যাকসন।

এক টাকার দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারলে ইস্তফা দেব: সংসদে হাসনাত

এক টাকার দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারলে সংসদ সদস্য (এমপি) পদ ছাড়ার চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ। বৃহস্পতিবার সংসদে ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দিতে ফ্লোর নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম এই ছাত্রনেতা সরকারি দলকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, ‘এখন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আপনাদের নিয়ন্ত্রণে। ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশ, মিলিটারি সবাই আপনাদের নিয়ন্ত্রণে। আমি অনুরোধ করব, আপনাদের মতো দায়িত্বশীল জায়গা থেকে অভিযোগের জন্য অভিযোগ না দিয়ে, তদন্ত করে যদি এক টাকার দুর্নীতি বা অসদুপায়ের কিছু প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে আমি এই সংসদ থেকে ইস্তফা দেব।’

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে ময়মনসিংহ-১০ আসনের বিএনপিদলীয় এমপি আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘যারা জুলাই চেতনা বিক্রি করেন, তাদের অনেকেই আগে রিকশায় চড়তেন, এখন প্রাডোতে চড়েন।’ মাগরিবের বিরতির আগে হাসনাত আবদুল্লাহ এর জবাব দিয়ে পদত্যাগের চ্যালেঞ্জ দেন।

এর আগে বাজেট আলোচনায় কুমিল্লা-৪ আসনের এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছিলেন, ‘তিনি সরকারের মন্ত্রীদের সমালোচনা করায়, বাজেট বরাদ্দ কমিয়ে দিয়ে তার নির্বাচনী এলাকার জনগণকে যেন বঞ্চিত করা না হয়।’

চট্টগ্রাম-১০ আসনের বিএনপির এমপি সাঈদ আল নোমান এই বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি হাসনাতের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাকে তো টাকা দেওয়া হবে না, টাকা দেওয়া হবে এলাকার মানুষের জন্য।’ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে হাসনাতের নির্বাচনী এলাকায় বিশেষ বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে বলেও ইঙ্গিত করেন বিএনপির এই এমপি।

কৈফিয়তে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যেহেতু আমার নাম ধরে বলা হয়েছে, আমি আমার বক্তব্যে কোথাও বলিনি আমাকে যেন বরাদ্দবঞ্চিত করা হয়। আমি এটি বলেছি—আমার বক্তব্যের কারণে আমার এলাকার মানুষকে যেন বঞ্চিত করা না হয়।

তারেক রহমান-শি জিনপিং বৈঠক শুক্রবার, যা গুরুত্ব পাবে

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শুক্রবার বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দুই নেতার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে আটটায়।

বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।

গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমান প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর করেছেন মালয়েশিয়ায়। সেখানে থেকে চীনে গেছেন। মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের উদ্দেশ্য বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান এবং ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠা করা।

লক্ষ্যের মধ্যে আরও আছে- চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রসার, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদার করা। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিংয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। এটিও গ্রেট হলে অনুষ্ঠিত হয়। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীরা বিভিন্ন বিষয়ে ১৩টি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি পোস্টে বলা হয়েছে, এসব সমঝোতা স্মারক দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার সকালে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী লি গুয়িং। সেখানে দুই দেশ তিস্তা মহাপরিকল্পনা, বিভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলাসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছে।

মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং ‘পার্টি-টু-পার্টি’ বৈঠক করেছেন। সেখানে বিএনপির সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

শুধুমাত্র রাজাকারের উত্তরসূরিরা চৈতালির বিপক্ষে থাকবে

০

।।শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।।

চৈতালির পক্ষে যদি দাঁড়াতে না চান, অন্তত: বিরোধিতা করবেন না, তিনি অসাংবিধানিক কিছু বলেননি! চৈতালি সবার মনের কথাটি বলছেন। চৈতালি বলেছেন, ‘আপনারা যদি বেশি বাড়াবাড়ি করেন, আমরা তাহলে বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের থেকে সাহায্য চেয়ে আমরা বাংলাদেশের একটি প্রদেশ করবো শুধুমাত্র সনাতনীদের জন্য। আমরা কিন্তু সেটা চাই না। কিন্তু আপনারা যা করছেন , তাতে একসময় এরকমই হবে।সনাতনীদের জন্য আলাদা একটি প্রদেশ হয়ে যাবে’।

এই প্রদেশ দাবিটি কি নুতন? একদা জাসদ এটি দাবি করেছিলো, এরশাদ বাংলাদেশকে ৮টি প্রদেশে ভাগ করতে চেয়েছিলেন। এমনকি জুলাই-২৪ মৌলবাদী উত্থানের নায়করা ৪টি প্রদেশের কথা বলেছেন। এখনকার বিভাগকে ‘প্রদেশ’ ধরা যেতে পারে। আপনাদের অত্যাচারে হিন্দুদের জীবন ওষ্ঠাগত, তাঁরা দুইটি বিভাগে একত্রে থাকতে চাইলে বা থাকার দাবি জানালে কি খুব অন্যায় হবে? রাষ্ট্র যদি উগ্রবাদকে নিয়ন্ত্রণ না করে, বা সমর্থন যোগায় তাহলে পৃথক প্রদেশ দাবি কি খুব অযৌক্তিক?

এ মুহূর্তে বাংলাদেশে ভগবান শ্রীরামের অবমাননা নিয়ে হিন্দুরা সারাদেশে আন্দোলন করছে। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রামের মুর্ক্তি নির্মাণ বন্ধে তৌহিদী জনতার দাবি মেনে সরকার ঐমুর্ক্তি ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। এর প্রতিবাদে হিন্দু সম্প্রদায় মাঠে নেমেছে। খবর হচ্ছে ২১শে জুন ২০২৬ পলাশবাড়ীতে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্ত মন্দিরে হামলা চালিয়ে নির্মাণাধীন কালীমন্দিরের ঢালাই ভেঙ্গে ফেলেছে। হাইকোর্টে মৌলবাদী উকিলরা চৈতালির ওপর হামলা করেছে।

চৈতালি কি বাংলদেশ বিরোধী কিছু বলেছেন? না, তিনি বাংলাদেশ বিরোধী কিছুই বলেছেন। তিনি বলেছেন: ‘হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা বাঁধবেন না। দাঙ্গা বাঁধালে আপনারাও পার পাবেন না। আপনারা দুইটা মারবেন, আমরা একটা মারবো। কিন্তু আমরাও মারবো’। কি চমৎকার সাহসী উচ্চারণ, এবং এটাই কি হওয়া উচিত না? এতকাল হিন্দুরা তো শুধু মার খেয়েছে, এখন যদি তাঁরা আত্মরক্ষায় উঠে দাঁড়ায়, তাতে ক্ষতি কি? নারীর সন্মান, জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় দাঁড়ানো কি উচিত না?

মার খেতে খেতে হিন্দুর পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, স্বাধীন বাংলাদেশে হিন্দু শুধু মার খেয়েছে। একটি বিড়ালকে ঘরের সবগুলো দরজা-জানালা বন্ধ করে মারতে চাইলে বিড়ালটি আত্মরক্ষায় পাল্টা আক্রমন করতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশের হিন্দু জেনে গেছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, ভারত কেউ তাদের জন্যে কিচ্ছু করেনি, করবে না, তাই তারা ‘চাচা আপন বাঁচা’ থিওরি ধরেছে। কেউ চাইলেও হিন্দুদের খেদিয়ে দেয়া যাবেনা। সুতরাং, ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান’ একমাত্র সমাধান।

সরকার বিনা কারণে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আটকিয়ে রেখেছে, এতে হিন্দুরা রাগান্বিত। চিন্ময় কৃষ্ণ দাস লক্ষ লক্ষ চৈতালি, হরিদাস সৃষ্টি করে গেছেন, কতজনকে ঠেকাবেন? এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশ হিন্দু বা সংখ্যালঘু জেন-জি আন্দোলন দেখবে। ভয় নেই, এঁরা বাসে আগুন দেবেনা, পুলিশ হত্যা করবে না, বা গণভবন লুট করতে যাবেনা। তাঁরা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে ধর্মান্ধ-মৌলবাদের ভীত কাঁপিয়ে দেবে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাস হিন্দুদের বাঁচতে শিখিয়ে গেছে, এদের মারে সাধ্য কার?

ধর্মান্ধ-মৌলবাদীরা রামের ছবিতে ‘জুতা’ মেরেছে। প্রতিটি হিন্দুর প্রাণে এতে আঘাত লেগেছে। সরকার কিচ্ছু করেনি। শুধু চৈতালি এতে রাগেনি, রেগেছে বাংলাদেশের দুইকোটি হিন্দু। রেগেছে বিশ্বের আরো ১৩০ কোটি হিন্দু। এই রাগের বহি:প্রকাশ কিভাবে ঘটবে আমি জানিনা, শুধু জানি, রামের অবমাননা হিন্দুরা মেনে নেবে না। বাংলাদেশে রামের মুর্ক্তি হবে, প্রয়োজনে ৬৪ জেলায় হবে, রাম বাংলার, রাম বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে বিদ্যমান, তাঁকে ঠেকায় সাধ্য কার?

চৈতালির পুরো বক্তব্য আমি শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘মসজিদ থাকার পরও আপনি যখন রাস্তায় নামাজ পড়েন, তখন কি আমরা কখনো বলেছি যে এই রাস্তায় নামাজ পড়া যাবে না? এই রাস্তাটা তো আমাদেরও। কিন্তু আমরা মানবিকতা দেখাই। আপনাদের মধ্যে কোন মানবিকতা নেই। আমার মন্দিরে, আমার বাড়িতে আমি কীভাবে আমার রাম দেবতাকে স্থাপন করবো, কত উঁচু করবো, এর কৈফিয়ত নিশ্চয়ই আমি আপনাকে দেব না। আপনি কোথাকার ‘হরিদাস পাল’ যে আপনাকে এই কৈফিয়ত দিতে হবে’?

ব্রাভো, চৈতালি চক্রবর্তী। এমন সত্য কথা বলার জন্যে ধন্যবাদ। এসব তো উদার মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের বলার কথা, তাঁরা বলেনা, কবি এখানে চুপ। তবে সাবধানে থাকবেন, ওঁরা গুপ্ত, অন্ধকারে ছুরি হাতে হয় উন্মুক্ত? কেউ কেউ আপনাকে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছে, তাঁদের বলি, ‘যেদেশে মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীর পশ্চাতে ডাক্তারের সেলাই দিতে হয়, যে মাদ্রাসায় ৪২জন ছাত্রীর সবার সাথে অধ্যক্ষ ঘুমান, সেদেশে আপনাদের তো লজ্জায় মুখ ঢাকা উচিত, চৈতালি নন, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলুন।

গ্রেফতার তো হওয়া উচিত যাঁরা রামের ছবিতে জুতা মেরেছে? সেটি হবেনা, কারণ রাষ্ট্রযন্ত্র সাম্প্রদায়িক। এদিকে লতিফা নামে এনসিপি’র এক কর্মী বলেছেন, ‘আমরা বাংলাদেশে হিন্দুদের পূজা করতে দেবো না, প্রয়োজনে তাদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেবো’। এই নেত্রী কি গ্রেফতার হবেন? যারা পুলিশ হত্যা করেছে, ক্যান্টনমেন্ট উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে, রাষ্ট্রপতিকে কুকুরের সাথে তুলনা করেছে, দেশকে বিক্রী করে দিয়েছে তারা কি গ্রেফতার হয়েছে? চৈতালি তো শুধুমাত্র একটি দাবির পক্ষে কথা বলেছেন!

সুস্মিতা সুমি এবং আরো কিছু তরুণ ছেলেমেয়ে অনেক সাহসী কথাবার্তা বলেছেন, এদের সবাইকে ধন্যবাদ। কতিপয় হিন্দু বলতে চাইছেন চৈতালি আওয়ামী লীগ নেত্রী। তাতে কি? চৈতালি কোন দল করেন সেটি বিষয় নয়, বাংলাদেশে মানুষ এখন শেখ হাসিনা’র পক্ষে কথা বলছে, এটি অপরাধ নয়? চৈতালি বা যেকেউ যেকোন দল করতে পারেন, কথা হচ্ছে চৈতালি স্বজাতি ও সত্যের পক্ষে কথা বলেছে। আপনি যখন এরচেয়েও সজোরে কথা বলতে পারবেন, তখন চৈতালির সমালোচনা করবেন।

দেখুন, গয়েশ্বর রায়, নিতাই রায় চৌধুরী বা হিন্দুট্রাস্টের বিজনবাবু’র মুখে কিন্তু কথা নেই? আওয়ামী লীগ আমলেও কিন্তু একই ব্যবস্থা ছিলো, সেক্ষেত্রে চৈতালি ব্যতিক্রম, নিয়ম ভাঙ্গুক। বিএনপি’র কোন নেত্রী এমন কথা বললে আরো খুশি হতাম। কথা হচ্ছে, আপনি যদি চৈতালির পক্ষে দাঁড়াতে সাহস না পান, চুপ থাকুন, তার বিরুদ্ধে মাঠ গরম করবেন না? কারণ শুধুমাত্র জামাত-এনসিপি-রাজাকার-পাকিস্তানীরাই চৈতালির বিপক্ষে যাবেন। শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ চিতালিকে সাহস জোগাবেন।

বিশ্ব ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলাকে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত: ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর দেশটিকে সহায়তার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণের ওপর আঘাত হানা দুটি বড় ভূমিকম্প ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করেছে এবং এতে বহু মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দিতে প্রস্তুত, আগ্রহী এবং সক্ষম। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, আমরা আমাদের নতুন বন্ধুদের পাশে থাকব।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে অস্বাভাবিক শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। রাজধানী কারাকাসের কাছে প্রথমে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে কারাকাস থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এ ভূমিকম্পের তীব্র কম্পন প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়াতেও অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলা, আরুবা ও বোনেয়ারের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি গত ১২৫ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনেজুয়ায় রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিংবা প্রাণহানির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে পরিস্থিতি মূল্যায়নের কাজ চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার এখনও নির্দিষ্ট কোনো সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা না করলেও ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, ওয়াশিংটন সম্ভাব্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

যে ৭ কারণে চিনাবাদাম খাবেন

পার্কে বসলে কিংবা খোলা কোনো জায়গায় বেড়াতে গেলে অনেকেই বসে বসে চিনাবাদাম খেতে পছন্দ করেন। যদিও বাড়িতে সবার খাওয়া হয় না। কিন্তু অনেকের হয়তো জানা নেই অনেক খাবারের চেয়ে চিনাবাদামের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা বেশি। এটা শুধু স্বাদেই ভালো তা নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও দারুণ উপকারী।

চিনাবাদাম পুষ্টির এক সমৃদ্ধ উৎস। এতে রয়েছে ফাইবার, বি ভিটামিন, ভিটামিন ই এবং আয়রন, জিঙ্ক, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ পদার্থ। এছাড়াও এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

রোজ অল্প পরিমাণে চিনাবাম খেলে যেসব উপকারিতা মেলে-

হৃৎপিণ্ডের জন্য উপকারী
গবেষণায় দেখা গেছে, হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য দামি বাদামের মতোই চিনাবাদাম  উপকারী। এটি মনোস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, সেইসাথে ফাইবার এবং প্ল্যান্ট স্টেরলের একটি ভালো উৎস। এই স্বাস্থ্যকর উপাদানগুলো অস্বাস্থ্যকর এলডিএল কোলেস্টেরল এবং রক্তচাপের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এসব উপাদান রক্ত ​​জমাট বাঁধাও প্রতিরোধ করে, যা হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের কারণ হতে পারে। এছাড়াও চিনাবাদাম শরীরের প্রদাহ কমায়, যা হৃদরোগের সাথে সম্পর্কিত।

ত্বকের যত্ন নেয়

ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য চিনাবাদাম খুবই উপকারী। এটি ত্বককে গভীর থেকে আর্দ্রতা জোগায়, কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়। সেই সঙ্গে ব্রণ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

মস্তিষ্কের জন্য উপকারী
চিনাবাদামে থাকা নিয়াসিন ও ফোলেট মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়তা করে। নিয়াসিন স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখতেও ভূমিকা রাখে।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়

বাদাম একটি লো-গ্লাইসেমিক খাবার, যার অর্থ হলো এটি খেলে আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায় না। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারীদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বাদাম খেলে এই রোগের ঝুঁকি কমতে পারে।

অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে বাঁচায়
চিনাবাদামে পলিফেনল ও ভিটামিনই-এর মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এগুলো কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহের হাত থেকে রক্ষা করে।

পিত্তথলির স্বাস্থ্য

নিয়মিত বাদাম খেলে পিত্তথলি সুরক্ষিত থাকে।  গবেষণায় দেখা গেছে, যে নারীরা নিয়মিত বাদাম খেতেন,তাদের পিত্তথলির অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়ার ঝুঁকি তাদের চেয়ে কম ছিল যারা বাদাম খেতেন না। গবেষণায় আরও দেখা গেছে , যেসব পুরুষ প্রায়শই বাদাম খান, তাদের পিত্তপাথরের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় কম।

স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস 

চিনাবাদাম পুষ্টিতে ভরপুর একটি খাবার। এতে বেশ স্বাস্থ্যকরও । নিয়মিত এই বাদাম খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। সূত্র: এশিয়ান নেট, ওয়েব এমডি

ইস্তানবুল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে যা জানালেন রকস্টারের মিথিলা

ঘুরতে সবারই ভালো লাগে। সেই ভ্রমণে যদি প্রিয় কোনো মানুষ থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। ঈদের ছুটি উপলক্ষে আমার প্রিয় বন্ধু সামিরা খান মাহিকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছি দেশের বাইরে। আমাদের দুজনের পছন্দের দেশ তুরস্ক। অনেক দিন ধরেই সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলাম। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। গত ১৮ জুন দেশটির রাজধানী ইস্তানবুলে এসেছি। ইতিহাস, সংস্কৃতি আর অপার সৌন্দর্যে ঘেরা এই শহর যেন এক জীবন্ত গল্পের বই, যার প্রতিটি পাতা নতুন বিস্ময়ে ভরা। শহরের অলিগলি, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা, বসফরাসের নীল জলরাশি আর মানুষের আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে বারবার। মনে হয়েছে, প্রতিটি মুহূর্ত যেন এক টুকরো জাদু, যা সহজে ভোলার নয়।

এ ছাড়া ইস্তানবুলের স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়াও ছিল আমাদের সফরের অন্যতম আকর্ষণ। ঐতিহ্যবাহী তুর্কি খাবার, ব্যস্ত রাস্তার প্রাণচাঞ্চল্য আর সন্ধ্যার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ভ্রমণকে আরও রঙিন করে তুলেছে। ভ্রমণের প্রতিটি দিন ছিল নতুন অভিজ্ঞতায় ভরা। কখনও ইতিহাসের স্পর্শ, কখনও প্রকৃতির সৌন্দর্য, আবার কখনও বন্ধুত্বের উষ্ণতায় কাটানো সময়– সব মিলিয়ে এই সফর আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। এই ভ্রমণকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে মাহি।

২০১৩ সাল থেকে জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে, প্রতিটি হাসি, অশ্রু আর গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমরা একে অপরের পাশে থেকেছি। একসময়ের বন্ধুত্ব আজ বোনের মতো এক গভীর সম্পর্কে রূপ নিয়েছে। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও বিশ্বাস, আস্থা, ভালোবাসা আর অসংখ্য স্মৃতির বন্ধনে আমরা একসূত্রে গাঁথা।

ইস্তানবুলের পথে পথে হাঁটতে হাঁটতে আমাদের সেই দীর্ঘ পথচলার কথা বারবার মনে পড়েছে। কত স্মৃতি, কত গল্প, কত স্বপ্ন আর সংগ্রামের সাক্ষী আমরা দুজন। জীবনের ব্যস্ততা আমাদের কখনও কখনও ভিন্ন পথে নিয়ে গেলেও আমাদের বন্ধনের শক্তি কখনও কমেনি; বরং সময়ের সঙ্গে তা আরও দৃঢ় হয়েছে। জীবন আমাদের যেখানেই নিয়ে যাক না কেন, কিছু সম্পর্ক কখনও বদলে যায় না।

ইস্তানবুলের এই দিনগুলো তাই শুধু একটি ভ্রমণের স্মৃতি নয়; বরং বন্ধুত্ব, ভালোবাসা এবং জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলোকে নতুন করে উদযাপন করার এক অনন্য উপলক্ষ। কোনো জায়গায় ভ্রমণে গেলে সেখানকার কিছু স্থিরচিত্র সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরি। এবার এর ব্যত্যয় ঘটেনি। পোস্টে অনেকেই ইতিবাচক প্রতিক্রয়া জানিয়েছেন। এই সফরে আমরা শুধু একটি শহর দেখিনি, নতুন করে উপলব্ধি করেছি আমাদের বন্ধুত্বের সৌন্দর্যও। একসঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। সামনে আরও অনেক পথচলা, আরও অনেক গল্প আর নতুন নতুন স্মৃতি আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।

হাওরপাড়ের বিদ্যালয় বর্ষায় কমে উপস্থিতি, দুই পোশাক নিয়ে যেতে হয় স্কুলে

বর্ষা মৌসুম এলেই সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হাওরপাড়ের অর্ধশতাধিক গ্রামের হাজারো শিশুর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়। যোগাযোগের দুরবস্থার কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। ফলে কেউ শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়ছে, কেউ আবার গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। এতে প্রতিবছরই প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার বাড়ছে।

উপজেলায় সাতটি ইউনিয়নে মোট ২৪৯টি গ্রাম রয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে মাত্র ১৩৪টি গ্রামে। বাকি ১১৫টি গ্রামে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। সদর, বাদাঘাট, বালিজুরী ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নে সড়ক যোগাযোগ তুলনামূলক ভালো হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পাশের গ্রামে গিয়ে পড়াশোনার সুযোগ পায়। তবে শ্রীপুর দক্ষিণ, উত্তর শ্রীপুরের কিছু অংশ এবং দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন হাওরবেষ্টিত হওয়ায় বর্ষাকালে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষার ছয় মাস বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের শিশুদের বড় একটি অংশ স্কুলমুখী থাকে না। পরে হেমন্ত মৌসুমে তারা কৃষিকাজ বা পারিবারিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। একসময় অনেকেই আর বিদ্যালয়ে ফিরে আসে না।

সম্প্রতি উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের মন্দিয়াতা, নতুনহাটি, মুজরাই, পানিয়াখালীসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে যাওয়ার বয়সী শিশুরা দলবেঁধে খেলাধুলা করছে। একই চিত্র দেখা গেছে বেতাগড়া, জামালপুর, তেলিগাঁও পশ্চিমপাড়া, কৃষ্ণতলা, গোপালপুর, রাজধরপুর, উজ্জ্বলপুর, জগদীশপুর, সাহসপুর, নিশ্চিন্তপুর, লতিবপুর, গোবিন্দপুর ও টুকেরগাঁওসহ অর্ধশতাধিক গ্রামে।

দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের রাজধরপুর গ্রামের অভিভাবক হাদিসনূর বলেন, নিজ গ্রামে স্কুল নেই, আবার অন্য গ্রামে যাওয়ারও কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই অনেক পরিবার শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে পারে না।

শাহগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুবাশ্বির আলম বলেন, বর্ষাকালে যোগাযোগ সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। যারা আসে, তাদের দুই সেট পোশাক নিয়ে আসতে হয়। গ্রামের প্রায় ২০০ মিটার রাস্তা বর্ষার শুরুতেই পানির নিচে তলিয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে স্কুলে এসে ভেজা পোশাক বদলাতে হয়।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী পলি সরকার জানায়, স্কুলে যাওয়ার পথে সব সময় হাঁটুর ওপরে পানি থাকে। তাই বাড়ি থেকে অতিরিক্ত পোশাক নিয়ে আসতে হয়।

হাওরাঞ্চলে কর্মরত উন্নয়ন সংস্থা সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স সার্ভিস (সিএনআরএস)-এর তাহিরপুর উপজেলা সমন্বয়কারী ইয়াহিয়া সাজ্জাদ বলেন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে নৌকার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে জনতা উচ্চ বিদ্যালয় ও মোয়াজ্জেমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য ইঞ্জিনচালিত নৌকা দেওয়া হয়েছিল, যা শিক্ষার্থীদের অনেক উপকার করেছে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, বিদ্যালয়ের স্লিপ তহবিলের অর্থ ব্যবহার করে নৌকা তৈরি করা সম্ভব। এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন প্রধান শিক্ষককে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি গ্রামে একটি করে বিদ্যালয় স্থাপন করা গেলে হাওরাঞ্চলের এ সমস্যা অনেকটাই দূর হবে। প্রধানমন্ত্রী সারাদেশের প্রতিটি গ্রামে একটি করে বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের তালিকা চাওয়া হয়েছে।

নেইমারকে পেয়ে ভিনিসিয়াস বললেন, ‘আমাদের আইডল ফিরে এসেছে’

নেইমারের চোটে সম্প্রতি ব্রাজিলের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। সেই ভরসার প্রতিদানও দিয়েছেন মাঠের পারফরম্যান্সে। বিশ্বকাপের প্রথম তিন ম্যাচে তার কাছ থেকে ব্রাজিল পেয়েছে ৪টি গোল, একটি অ্যাসিস্ট। সবশেষ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নেইমারের ফেরার ম্যাচেও জোড়া গোল করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। তবে ভিনির কাছে নেইমারই সবচেয়ে বড় তারকা।

ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত ভিনিসিয়াস বলেন, ‘এটি আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। আমাদের আইডল ফিরে এসেছে। ও এমন একজন মানুষ যে এখানে আসার জন্য সবসময় কঠোর লড়াই করেছে এবং সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে। ইনজুরি কাটিয়ে ও আবার মাঠে ফিরেছে।’

ব্রাজিলের কাছে ভক্তদের প্রত্যাশা অনেক। সেই প্রত্যাশা পূরণে নেইমার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন ভিনি। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি ও নিজের পারফরম্যান্স আরও উন্নত করতে থাকবে এবং পুরো টুর্নামেন্টে আমাদের সাহায্য করবে। দিনশেষে সেটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

বৃহস্পতিবার সকালে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হয় ব্রাজিল। মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচ দিয়েই চোট কাটিয়ে দীর্ঘ ৩২ মাস পর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফেরেন নেইমার। ৭৬ মিনিটে ম্যাথিউস কুনিয়ার বদলি হিসেবে নেইমারকে মাঠে নামান ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

নেইমারের প্রত্যাবর্তনে স্বস্তি ফিরেছে ব্রাজিল শিবিরে। দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে ফিরে পেয়ে কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে সতীর্থ- সবাই দারুণ খুশি। তবে সবচেয়ে বেশি খুশি সম্ভবত ভিনিসিয়াস। কারণ, নেইমার ফিরে আসায় আক্রমণভাবে আরও শক্তি খুঁজে পাবেন তিনি।

ব্রাজিলের জার্সিতে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ডটি নেইমারের। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা জাতীয় দলের জার্সিতে ১৩০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল করেছেন ৭৯টি। এর মধ্যে দেশের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ৮টি গোল করেন তিনি।