Home Blog Page 101

মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি আইআরজিসির, অপেক্ষায় ট্রাম্প

ইরানের তেলবাহী কোনো ট্যাঙ্কারে হামলা হলে এর প্রতিক্রিয়া দেখানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এক বার্তায় তারা বলেছে, তেল ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ফের লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে।

ওমান উপসাগরে ইরানের দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন হামলার একদিন পর শনিবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ইরানি তেলের ট্যাঙ্কার বা বাণিজ্যিক জাহাজে যেকোনো ধরনের আক্রমণের ফল হবে ভয়াবহ। এর জবাবে এই অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনা এবং শত্রুপক্ষের জাহাজগুলোতে জোরালো হামলা চালানো হবে।

আইআরজিসি যখন এমন হুমকি দিচ্ছে, তখন যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবের জবাব পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার তিনি জানিয়েছিলেন, শান্তি চুক্তির বিষয়ে ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রস্তাবের জবাব পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। তখন উল্লেখ করেছিলেন, সম্ভবত স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতেই জবাব পাবেন।

তেহরান পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি উল্টো মার্কিন নেতৃত্বের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

বার্তা সংস্থা আইএসএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক ফোনালাপে আরাঘচি বলেন, পারস্য উপসাগরে মার্কিন বাহিনীর উত্তেজনা বাড়ানো এবং বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো কূটনৈতিক সদিচ্ছাকে সন্দেহের মুখে ফেলেছে। তারা আদৌ কূটনীতির পথে হাঁটতে আগ্রহী কি না, তা নিয়ে তেহরানে সন্দেহ বাড়ছে।

গত শুক্রবার একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানের পতাকাবাহী দুটি ট্যাঙ্কারে হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, জাহাজগুলো নৌ-অবরোধ অমান্য করার চেষ্টা করছিল। অন্যদিকে, ইরানের এক সামরিক কর্মকর্তা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাদের নৌবাহিনীও পাল্টা হামলা চালিয়ে জবাব দিয়েছে। এ ঘটনার আগের রাতেও (বৃহস্পতিবার) হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম এলসিআই-এর সাংবাদিক মার্গো হাদ্দাদ শনিবার জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে তাঁকে বলেছেন, ইরান খুব শিগগিরই প্রস্তাবের জবাব দেবে বলে তিনি আশা করছেন। তেহরানের পক্ষ থেকে সবশেষ গত শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, মার্কিন প্রস্তাবটি তারা পর্যবেক্ষণ করছেন।

ফসলডুবির পর ঋণের চক্রে হাওরের কৃষক

কিশোরগঞ্জ সদর থেকে নিকলী হাওরের দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার। সদর থেকে এক-দেড় ঘণ্টায় নিকলী বেড়িবাঁধে পৌঁছে গেলাম। বেড়িবাঁধ পেরিয়ে নৌকায় উঠতেই চারপাশে দিগন্তজোড়া জলরাশি। মাঝেমধ্যে মাথা তুলে থাকা গাছ, আর কোথাও কোথাও ডুবে থাকা ফসলের ক্ষতচিহ্ন। এই জলরাশির নিচেই চাপা পড়ে আছে হাজারো কৃষকের এক মৌসুমের ঘামে অর্জিত সম্পদ।

হাওরপারে দেখা হয় হাজেরা খাতুনের সঙ্গে। চুপচাপ বসে ছিলেন তাঁর ডুবে যাওয়া জমির পাশে। কথা বলতে বলতে চোখ ভিজে ওঠে। প্রায় ১০ বিঘা জমিতে পাকা ধান ছিল তাঁর। ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন। ইচ্ছে ছিল, ধান ঘরে তুলে ঋণ শোধ করবেন। সন্তানদের নিয়ে কোরবানির ঈদ ভালোভাবে উদযাপন করবেন। কিন্তু সব স্বপ্ন ভেসে গেছে পানিতে।

ধান তলিয়ে যাওয়ার শোক সামলে নিয়ে হতাশাভরা কণ্ঠে হাজেরা খাতুন বলেন, ‘বন্যায় আমাদের গ্রামের সবার ধান গেছে। কারও দুই আনা ধানও টেকেনি। নিজেদের খাওয়ার ধান নাই; গবাদি পশুর খাবার খড়ও নাই। আর যদি দুই সপ্তাহ পরও বন্যার পানি ঢুকত, তাহলে খাওয়ার মতো কিছু ধান অন্তত ঘরে তুলতে পারতাম।’ এ আফসোস হাজেরা খাতুনের নয়; কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের অধিকাংশ কৃষকের। সবারই প্রায় হাজেরা খাতুনের মতো অবস্থা।

দেখা গেছে, কোথাও পাকা ধান পানির নিচে, কোথাও কাটা ধান শুকাতে না পেরে নষ্ট হচ্ছে। ফসল হারিয়ে সবাই ভেঙে পড়েছেন। দিন যত যাচ্ছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ততই বাড়ছে। আর ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

হাওরের কৃষি এমনই– এক মৌসুমের ধানের ওপর নির্ভর করেই চলতে হয় পুরো বছর। বোরো ধান ওঠা মানেই ঘরে চাল, ঋণ শোধ, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা– সবকিছুর জোগান। সেই ধানই যদি হাতছাড়া হয়, তাহলে কৃষকের জীবনে শুরু হয় এক দীর্ঘ অনিশ্চয়তা।

নিকলীর মোহরকোনা গ্রামের কৃষক রণজিৎ চন্দ্র দাস বলেন, ‘কিছু ধান ঘরে তুলেছিলাম। এখন সেগুলো পচে গন্ধ করছে। মাঠের ধান তো গেলই, ঘরের ধানও বাঁচল না।’
হাওরের কৃষকের জীবন বোঝাতে গিয়ে স্থানীয় পরিবেশকর্মী আবদুর রহমান বলেন, হাওরে ঋণ ব্যবস্থা একটু ভিন্ন। এখানে খুব কম কৃষকই নিজের পুঁজিতে চাষ করতে পারেন। মৌসুম শুরুর আগে তাদের দরকার হয় নগদ টাকা। এই টাকার উৎস দুই ধরনের হয়ে থাকে– ব্যাংক বা এনজিও আর স্থানীয় মহাজন বা দাদনদার। প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ব্যাংকের ঋণ পাওয়া কঠিন। কাগজপত্র, জামানত জোগাড় করা সহজ নয়। ফলে তারা ভরসা করেন মহাজনের ওপর। ফসল উঠলে নির্দিষ্ট দরে ধান দিয়ে ঋণ শোধ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে বাজারদরের চেয়ে কম দামে। এবার সেই ব্যবস্থাটাই উল্টো ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিকলীর শাহপুর গ্রামের কৃষক মাহফুজ মিয়া ২০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে সব। ঋণ নিয়েছিলেন স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে। কীভাবে শোধ করবেন এত টাকা, সেই চিন্তায় ঘুম হয় না তাঁর।

মুছা মিয়া নামে আরেকজন বলেন, ‘সবাই ঋণ নিয়ে ধান চাষ করেন। ব্র্যাক, আশা, গ্রামীণ ব্যাংক– এমন প্রতিষ্ঠান ছাড়াও অনেকে সমিতি বা মহাজনের কাছ থেকেও ঋণ নেন। ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বেশির ভাগ কৃষক জমি, গরু বিক্রি করে ঋণ শোধ করবেন। তারপর সামনের বছর আবার ঋণ করে চাষ করবেন। এভাবে ঋণের চক্র চলতেই থাকবে।’
কোমরপানিতে দাঁড়িয়ে কোনোমতে কিছু ধান নৌকায় তুলছিলেন আবু তাহের। দৈনিক এক হাজার ২০০ টাকায় দিনমজুর নিয়েছেন তিনি। অথচ ভেজা ধান ৬০০ টাকা মণ। ক্ষতি জেনেও মায়ায় পড়ে কিছু ধান তোলার চেষ্টা করছিলেন। জানালেন, ধান চাষের জন্য তিনি ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। আবু তাহের বললেন, ‘এখন ঘরে যে ধান আছে, তা দিয়ে পরিবারের খাবারই জুটবে না। ওদিকে পাওনাদার (মহাজন) টাকা শোধের জন্য জমি বিক্রি করার চাপ দিচ্ছে। জমি বিক্রি করা ছাড়া আমার আর কোনো পথ খোলা নেই।’

মিঠামইন উপজেলার খাসাপুর গ্রামের কৃষক রতন মিয়া বলেন, বন্যায় পুরো হাওরে ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু সব সহায়তা যাচ্ছে সুনামগঞ্জে। কিশোরগঞ্জে এখনও সহায়তা শুরু হয়নি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবমতে, কিশোরগঞ্জে ১৩ হাজার ৪৭৯ হেক্টর ধানক্ষেত  তলিয়ে গেছে। এতে ৫২ হাজার ৫০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাদিকুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের জন্য জরুরি সহায়তা কার্যক্রম শুরু হবে এবং তা পরবর্তী তিন মাস পর্যন্ত চলবে।

২০২৭ সালে বোরো মৌসুমে আগাম বন্যায় কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকার ফসল বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর ২০২২ সালেও ফসলডুবির ঘটনা ঘটে। পরের দুই বছর ফলন ভালো হলেও ধানের ন্যায্যমূল্য পাননি কৃষক। তারা এলাকার মহাজন, বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে একের পর এক ঋণ নিয়েছেন। সেই ঋণের জাল থেকে বের হতে পারেননি হাওরবেষ্টিত উপজেলা ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম, নিকলী ও করিমগঞ্জের কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য থেকে জানা গেছে, তিন বছর আগে ২০১৬-১৭ মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নষ্ট হয় ৫৫ হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমির প্রায় তিন লাখ টন ধান। ক্ষতিগ্রস্ত হন এক লাখের বেশি কৃষক। এর পরের দুই মৌসুমে উৎপাদন ভালো হলেও কৃষক বলছেন, তারা ধানের ন্যায্যমূল্য পাননি। ফলে আগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেননি। এই অবস্থায় মহাজনদের থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ করতে অনেকে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন। সেই ঋণ শোধ করতে ঋণ নিয়েছেন ব্যাংক থেকে। এভাবে ঋণের চক্রে পড়েছেন তারা।

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, এই বিপর্যয় পুরোপুরি প্রাকৃতিক নয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা। হাওরে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, পানি নিষ্কাশনের পথ পলি জমে বন্ধ হয়ে যাওয়া, অকেজো স্লুইসগেটের কারণে পানি নামার স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে স্বল্প সময়ের বৃষ্টিও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সময়মতো ধান কাটতে না পারার সমস্যা। ডিজেল সংকট, শ্রমিকের অভাব, যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা– সব মিলিয়ে কৃষকেরা প্রস্তুত থাকলেও ফসল তুলতে পারেননি। অনেক জায়গায় জমিতে পানি থাকায় হারভেস্টার ব্যবহার করা যায়নি। অন্য বছর দূরদূরান্ত থেকে শ্রমিক এলেও এবার সেই প্রবাহ কম ছিল।

তিনি বলেন, এই ক্ষতি এখানেই শেষ নয়। কৃষকের হাতে এখন কোনো পুঁজি নেই। ফলে পরের মৌসুমে চাষ করাই অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, একটি বিশেষ কার্ড সিস্টেমের মাধ্যমে তিন মাস কৃষককে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।

সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক মনে করেন, শুধু খাদ্য সহায়তা দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো ফসলহানির পর কৃষকেরা কীভাবে কৃষিঋণের চাপ সামলাবেন। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ঋণ পুনঃতপশিলীকরণ, কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ এবং সুদ মওকুফের মতো সহায়তামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্টের (ফ্রিপ) পরিচালক ড. তৌফিকুর রহমান বলেন,‌ হাওরাঞ্চলে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ফ্রিপ প্রকল্প কাজ করছে। প্রকল্পটি সাতটি হাওর জেলার ৬৫টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। ফসলের নিবিড় ও বহুমুখী চাষ, উন্নত সেচ ব্যবস্থা এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় হাওর এলাকায় ক্লাইমেট স্মার্ট প্রযুক্তি সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় স্বল্প জীবনকালীন উচ্চফলনশীল ধানের জাত, উচ্চমূল্যের ফসল চাষ, পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অনাবাদি জমিকে চাষের আওতায় আনতে সোলার সেচ ব্যবস্থা ও বারিড পাইপ সেচ প্রযুক্তি স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান ড. তৌফিকুর। পাশাপাশি কৃষিতে শ্রমিক সংকট কমানো, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং সময়মতো বপন, রোপণ ও ফসল কাটার সুবিধার্থে প্রকল্প এলাকার কৃষক গ্রুপগুলোর মধ্যে ৭০ শতাংশ ভর্তুকিতে কৃষিযন্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

ড. তৌফিকুর রহমান বলেন, এসব উদ্যোগের ফলে ফ্রিপ প্রকল্প হাওরাঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় একটি টেকসই ভূমিকা রাখছে।

সৌদি আরব পৌঁছেছেন ৫০ হাজার ৪৯২ বাংলাদেশি হজযাত্রী

এখন পর্যন্ত ১২৯টি ফ্লাইটে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। রোববার সকালে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ সম্পর্কিত সর্বশেষ বুলেটিন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দিবাগত রাত তিনটা পর্যন্ত সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৫০ হাজার ৪৯২ জন হজযাত্রী। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৫৯টি ফ্লাইটে ২৩ হাজার ৫৯১ জন সৌদি আরবে গেছেন।

সৌদি এয়ারলাইনসের ৪৮টি ফ্লাইটে ১৮ হাজার ৪২ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৮৫৯ জন হজযাত্রী সেখানে পৌঁছেছেন। সব মিলিয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৭১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪৬ হাজার ৪২১ জন হজযাত্রী এখন সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।

চলতি বছর হজ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে আরও দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ১২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মারা গেলেন। তাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ২ জন নারী। মারা যাওয়া হজযাত্রীদের মধ্যে ১০ জন মক্কায় এবং ২ জন মদিনায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বলে বুলেটিনে জানানো হয়েছে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে চলতি বছরের পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীদের প্রথম ফ্লাইট জেদ্দার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ে। হজ পালন শেষে আগামী ৩০ মে থেকে হজযাত্রীদের নিয়ে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হজযাত্রীদের যাতায়াত ও অবস্থান নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি বজায় রাখা হচ্ছে।

১০ মামলায় আইভীর জামিন আপিলে বহাল মুক্তিতে বাধা নেই বললেন আইনজীবী

নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র ডা সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ১০ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আজ রোববার এই আদেশ দেন।

এর ফলে কারা মুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী। আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।

গত বছরের ৯ মে শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত চুনকা কুটির থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তাকে হাইকোর্ট ৫ মামলায় জামিন দেন। এরপর আপিল বিভাগে তা স্থগিত হয়ে যায়।

১৮ নভেম্বর তাকে আরও ৫ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৬ ফেব্রুয়ারি তাকে জামিন দেন।

পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সেগুলো হলো- ফতুল্লা থানায় করা বাস চালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা ও পারভেজ হত্যা মামলা।

হামলা ও সরকারি কাজো বাধা দেওয়ার দেওয়ার অভিযোগে অপর মামলাটি হয়েছে সদর মডেল থানায়।

এরপর জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করেন। গত ৫ মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া জামিনাদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে শুনানির জন্য নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান। এর মধ্যে আরও দুই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এসব মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান।

রাতে মুখে নারকেল তেল লাগালে কী হয়

চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নারকেল তেলের তুলনা নেই। এতে চুলের বৃদ্ধি ভালো হয়, মাথার তালুতে নানা ধরনের সংক্রমণের আশঙ্কা কমে। নারকেল তেল কিন্তু ত্বকের জন্যও ভালো। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এই তেল। নারকেল তেল ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের আশঙ্কাও কমায়। কিন্তু মুখের ত্বকের সঙ্গে সারা গায়ের ত্বকের পার্থক্য আছে। কারণ মুখের ত্বক অনেক বেশি সংবেদনশীল। চাইলেই সব ধরণের পণ্য ব্যবহার করা ঠিক নয়। সারা শরীরের তাই সেখানেও কি মাখা উচিত এই তেল? আর সারা রাত মুখে নারকেল তেল মাখিয়ে রাখলেই বা কি হয়?

‘হিন্দুস্তান টাইমসে’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা ব্রণের সমস্যায় ভুগছেন তারা রাতে মুখে নারকেল তেল লাগাতে পারেন । সকালে উঠে দেখতে পারেন, সব ব্রণ ফেটে পরিষ্কার হয়ে গেছে। তবে যাদের ত্বক খুব পাতলা, তাদের আবার ব্রণ বেড়েও যেতে পারে। এ কারণে আগেভাগে ত্বকের ধরন বুঝে নেওয়া ভালো।
সারা দিন যাদের বাড়ির বাইরে কাটাতে হয়, তাদের মুখের ত্বকে নানা রকম দূষিত পদার্থ জমা হয়। সারা রাত নারকেল তেল মাখিয়ে রাখলে সেই আবর্জনা ত্বকের ফাঁক থেকে বেরিয়ে আসে।
যারা ব্লাকহেডসের সমস্যায় ভুগছেন তারা রাতে মুখে নারকেল তেল লাগাতে পারেন। ধীরে ধীরে এ সমস্যা কমে যাবে।

মুখের ত্বকে লালচে দাগ, চুলকানি হলে সারা রাত নারকেল তেল মাখিয়ে রাখতে পারেন। তাহলে এ সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।
সারা রাত নারকেল তেল মুখে মাখিয়ে রাখলে ত্বক প্রচণ্ড নরম হয়ে যেতে পারে। সেই সাথে ত্বকের শুষ্কতার পরিমাণও কমে যায়।
অনেকের নারকেল তেল ব্যবহারে ত্বকে অ্যালার্জির দেখা দেয়। তবে বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই এই তেল খুব কাজের। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এই তেল।
রাতে অনেকেই ক্রিম মেখে ঘুমোতে যান। তার বদলে খুব সহজেই নারকেল তেল মাখতে পারেন। তাতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে। তবে মুখে মাখার জন্য একেবারে খাঁটি নারকেল তেল মাখার চেষ্টা করতে হবে। তার মধ্যে সুগন্ধী, অন্য তেল বা রাসায়নিক মেশানো থাকলে, সেটি মুখের ত্বকের কাজে লাগবে না। উল্টে ক্ষতি করে দেবে।

রাতে মুখে নারকেল তেল ব্যবহারের পদ্ধতি
প্রথমে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন।

অল্প পরিমাণে নারকেল তেল নিয়ে আলতোভাবে বৃত্তাকার গতিতে মুখে ম্যাসাজ করুন। তেলটি সারারাত মুখে লাগিয়ে রাখুন। সকালে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

উজ্জ্বল ত্বকের জন্য নারকেল তেল সেরা প্রতিকার। এর সবচেয়ে ভালো দিক হলো এটি ক্ষতিকর নয়, প্রাকৃতিক, সাশ্রয়ী এবং সব ধরনের ত্বকের জন্য নিরাপদ।

বন্ধুত্ব থেকে প্রেম, সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে যাচ্ছেন হুমা-রচিত

বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন বলিউড অভিনেত্রী হুমা কুরেশি। এমন খবরে ইতোমধ্যেই সরগরম বিনোদন দুনিয়া। দীর্ঘদিনের প্রেমিক রচিত সিংয়ের সঙ্গে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন এই অভিনেত্রী। কয়েক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রে বাগদানের পর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে সাত পাকে বাঁধা পড়ার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত তারা।

ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ‘চলতি বছরের অক্টোবরের শেষ কিংবা নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়েই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছেন হুমা ও রচিত। তবে চমকপ্রদ বিষয় হলো। ঝাঁ-চকচকে তারকাবহুল আয়োজনের পরিবর্তে বরং ঘনিষ্ঠ পরিমণ্ডলে, সাদামাটা ও রুচিশীল আয়োজনেই বিয়েটি সারতে চান এই অভিনেত্রী।

কিন্তু বলিউডের তারকাদের বিয়ে মানেই যেন এক বিশাল আয়োজন। ডেস্টিনেশন ওয়েডিং, আড়ম্বরপূর্ণ সাজসজ্জা, বিলাসবহুল মেন্যু আর হাই-প্রোফাইল অতিথিদের ভিড়। সেই প্রেক্ষাপটে হুমার এই সাধারণ পরিকল্পনা ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কোথায় হবে বিয়ে? কারা থাকবেন অতিথি তালিকায়? কী ধরনের সাজে ধরা দেবেন কনে? এসব প্রশ্ন এখনই ঘুরপাক খাচ্ছে ভক্তদের মনে।

হুমা কুরেশি নিজেও এ প্রসঙ্গে ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, ‘জীবনের এই বিশেষ মুহূর্তটা আমি খুব ব্যক্তিগতভাবে উপভোগ করতে চাই। খুব বেশি কোলাহল নয়; বরং কাছের মানুষদের নিয়েই সুন্দর একটা দিন কাটাতে চাই।’

রচিত সিং বলিউডের পরিচিত মুখ না হলেও ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে তিনি একজন অভিনয় প্রশিক্ষক। তাঁর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন আলিয়া ভাট, রণবীর সিং এবং ভিকি কৌশলের মতো তারকারা। ফলে ব্যক্তিগত জীবনের বাইরে পেশাগত ক্ষেত্রেও তিনি প্রতিষ্ঠিত এবং পরিচিত।

হুমা ও রচিতের সম্পর্ক নিয়ে প্রথম গুঞ্জন শুরু হয় ‘থাম্মা’ সিনেমার একটি স্ক্রিনিং ঘিরে। এরপর সোনাক্ষী সিনহার বিয়ের অনুষ্ঠানে রং মিলিয়ে গোলাপি পোশাকে একসঙ্গে হাজির হয়ে আলোচনায় আসেন তারা। শুধু তাই নয়, রচিতের জন্মদিনের আয়োজনসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে তাদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় সম্পর্কের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। আর এখন সেই সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে যাচ্ছেন তারা।

হুমাকে সর্বশেষ দেখা গেছে রোমান্টিক কমেডি ছবি ‘সিঙ্গেল সালমা’-তে। বর্তমানে তিনি তাঁর বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এতে ‘এলিজাবেথ’ চরিত্রে তাঁকে দেখা যাবে। কন্নড় সুপারস্টার যশের বহুল প্রতীক্ষিত প্যান-ইন্ডিয়ান সিনেমা মুক্তি বার বার পেছাচ্ছে। এবার তৃতীয়বারের মতো পরিবর্তন করা হলো এর মুক্তির তারিখ।

আগামী ৪ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা থাকলেও বিশ্বব্যাপী বড় পরিসরের ডিস্ট্রিবিউশন এবং কৌশলগত পার্টনারশিপ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নির্মাতারা। শিগগির নতুন মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে প্রযোজনা সংস্থা। একসঙ্গে কন্নড় ও ইংরেজি ভাষায় শুট করা সিনেমাটি মুক্তি পাবে ছয়টি ভাষায়। এই সিনেমায় হুমা ছাড়াও অভিনয় করছেন যশ, নয়নতারা এবং কিয়ারা আদভানির মতো তারকারা।

বাংলাদেশের রাজনীতি এখনও পরিচ্ছন্ন হয়নি

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতি এখনও পরিচ্ছন্ন হয়নি। মানুষ বারবার পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছে, জীবন দিয়েছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। আমাদের নেতা বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। এই কথার মধ্যে অনেক গভীরতা আছে। কেউ ভারতের পক্ষে, কেউ পাকিস্তানের পক্ষে, কেউ আমেরিকার পক্ষে, কিন্তু আমরা বাংলাদেশের পক্ষে।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার পতিসরে রবীন্দ্র জন্মোৎসবে এসব কথা বলেন তিনি। গতকাল শুক্রবার কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত কাচারিবাড়ি প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে নওগাঁ, নাটোরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আমাদের অনেক সহযোদ্ধা প্রাণ দিয়েছেন। জুলাইয়ের আন্দোলনে আমাদের তরুণেরা যে সংগ্রাম করেছে, আমরা সেটিকে ‘জুলাই যুদ্ধ’ বলি। মানুষ এখন নতুন প্রত্যাশা নিয়ে সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। যারা দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গিয়েছিল, তারা অর্থনীতি লুট করেছে, ব্যাংক ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে, প্রশাসনকে দুর্বল করেছে। সেই অবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেই আমরা আজকের অবস্থানে এসেছি।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নওগাঁ-৬ আসনের এমপি রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁ-৫ আসনের এমপি জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁ-১ আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-৩ আসনের এমপি ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনের এমপি ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-১ আসনের এমপি এনামুল হক, সাবেক রাষ্ট্রদূত এম মুশফিকুল ফজল (আনসারী), রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান, নওগাঁ জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেন, রবীন্দ্রনাথ এখানে যখন আসতেন, তখন কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে ব্যথিত হতেন। তিনি শুধু কবি ছিলেন না, সমাজ সংস্কারক ও ছিলেন। কৃষকদের সহায়তায় তিনি ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন, আধুনিক কৃষি পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কৃষিকে আধুনিক করার জন্য তিনি নতুন চিন্তা ও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছিলেন। এটি ছিল তাঁর সাহিত্যচর্চার বাইরেও মানুষের জন্য গভীর দায়বদ্ধতার প্রকাশ। রবীন্দ্রচর্চাকে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘অনেকেই রবীন্দ্রনাথকে সাম্প্রদায়িকভাবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেন। আমি মনে করি, এটি জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা ও অনুভবের অভাব। রবীন্দ্রনাথ বিশ্ব মানবতার কবি। তাঁর সাহিত্য মানুষের জীবনকে সুন্দর ও আলোকিত করার শিক্ষা দেয়। আমার কাছে তিনি একজন দার্শনিক।’

দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী আছে, যারা সবসময় সমাজকে অস্থির রাখতে চায়। ছোটখাটো ইস্যুকে বড় করে গোলযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা চাই না দেশে আর কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি হোক।’
আলোচনা সভা শেষে ঢাকা ও স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত পতিসরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনভর ভিড় করেন হাজারো দর্শনার্থী ও রবীন্দ্রপ্রেমী মানুষ।

জাতীয় কাউন্সিলের আগে কমিটি পুনর্গঠনের চিন্তা

ঢাকা মহানগরে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার চেষ্টা করছে বিএনপি। এ জন্য ঢেলে সাজানো হবে ঢাকা মহানগর বিএনপির উত্তর ও দক্ষিণ। মেয়াদ শেষ না হলেও দুটি কমিটি পুনর্গঠন করা হতে পারে। পাশাপাশি জাতীয় কাউন্সিলের আগে পুরো সাংগঠনিক কাঠামো ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করেছে ক্ষমতাসীন দলটি।

বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কয়েকজন নেতা সমকালকে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর সরকার গঠন করেছে বিএনপি। এখন আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে দলটির ৮২ সাংগঠনিক ইউনিট কমিটি থেকে শুরু করে এর সব অঙ্গসংগঠনকে ঢেলে সাজানো হবে। এর অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিট ঢাকা মহানগর উত্তর ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির কমিটিকেও পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ওই নেতারা জানান, এবারের প্রতিটি কমিটি গঠনে যেমন ত্যাগী, যোগ্য নেতাদের সামনে রাখা হবে, তেমনি অভিজ্ঞদেরও মূল্যায়ন করা হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান সমকালকে বলেন, বিএনপি এবং এর সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ঢেলে সাজানোর কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে। সাংগঠনিক গতিশীলতা ফেরাতে শিগগিরই বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন করা হবে।

বিএনপির আরও কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, প্রায় এক দশক পর জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি জোরদার করছে দলটি। চলতি বছরের সুবিধাজনক সময়ে তা করা হবে। এর আগে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, মহানগর ও জেলা পর্যায়ের কমিটিগুলো পুনর্গঠনের মাধ্যমে সংগঠনকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের ৭ জুলাই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই সময়ে ঢাকা মহানগর উত্তরে আহ্বায়ক করা হয় জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নিরবকে, সদস্য সচিব করা হয় আমিনুল হককে। দক্ষিণের আহ্বায়ক কমিটিতে রফিকুল আলম মজনুকে আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিব করা হয় তানভীর আহমেদ রবিনকে। পরে সাইফুল আলম নিরবকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ায় ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর আমিনুল হককে আহ্বায়ক এবং মোস্তফা জামানকে সদস্য সচিব করে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়।

দক্ষিণে আলোচনায় আছেন যারা
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু ফেনী-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এখন তাঁকে নিজ এলাকায় বেশি সময় দিতে হচ্ছে। এ কারণে তিনি ঢাকা মহানগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিটের তৎপরতায় তেমন সময় দিতে পারবেন না বলে মনে করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

মহানগর দক্ষিণ বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, বর্তমান কমিটির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে কারা-নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন রবিন। এদিকে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের আন্দোলনে যখন দল ও সংগঠনের বেশির ভাগ নেতা কারাবন্দি কিংবা আত্মগোপনে চলে যান, তখন ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন লিটন মাহমুদ। ওই সময়ে আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার জন্যও দলের চেয়ারম্যানের সুনজরে রয়েছেন বলে জানা গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে রবিন-লিটন কমিটির ওপরেই ভরসা করা হতে পারে।

এ ছাড়াও আলোচনায় আছেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক এনামুল হক এনামসহ বেশ কয়েকজন।

কদমতলী থানা বিএনপির আহ্বায়ক আবু নাসের ফকির সমকালকে বলেন, দলের দুর্দিনে তানভীর আহমেদ রবিন ও তাঁর পুরো পরিবার নেতাকর্মীদের জন্য ঢাল হয়ে ছিলেন। প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে রবিন নিজে মাঠে ছিলেন। এ জন্য তাঁকে অনেক ত্যাগ আর নির্যাতনের শিকারও হতে হয়। এখন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে শক্তিশালী মহানগর কমিটি গঠন অত্যন্ত জরুরি। ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন না করলে নির্বাচনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

নিউমার্কেট থানা বিএনপির নেতা আব্দুল হাই বলেন, ১৭ বছর ধরে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, এমন নেতাদের মূল্যায়ন করে মহানগর কমিটি গঠন করতে হবে। অন্যথায় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও হতাশা দেখা দিতে পারে।

উত্তরে আলোচনায় আছেন যারা
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বর্তমানে টেকনোক্র্যাট কোটায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে পরাজিত হন তিনি। তবে জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এই অধিনায়ককে সরকারের মন্ত্রিসভায় ডেকে নিয়েছে দল।

সাফ গেমস বিজয়ী ফুটবলার আমিনুল হক ২০২১ সাল থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ওই বছরের ২ আগস্ট গঠিত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৪৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে তিনি প্রথম সদস্য সচিবের দায়িত্ব পান। ওই সময় আহ্বায়ক ছিলেন ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমান। পরে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সাইফুল আলম নিরব আহ্বায়ক হলে তিনি আবার সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ৪ নভেম্বর ঘোষিত আংশিক আহ্বায়ক কমিটিতে আমিনুল হককে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়।

মহানগর উত্তর বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, আমিনুল হক গুরুত্বপূর্ণ এই সাংগঠনিক ইউনিটের দায়িত্বে আসার পর থেকে সংগঠন অধিক শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি নেতাকর্মীরাও সক্রিয় হন।

শুধু মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীই নন, বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও বলছেন, ঢাকা মহানগর কমিটি অনেকবার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু বর্তমান কমিটি সেরা নেতৃত্ব দিয়েছে। তাদের নেতৃত্বে যেমন জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সুফল এসেছে, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন। কারণ তারা জানেন, কারা আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। ফলে মহানগর কমিটিতে তাদের নেতৃত্বে থাকা উচিত।

এ ছাড়াও মহানগর উত্তর বিএনপির আলোচনায় আছেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান, মহানগর বিএনপির নেতা এসএম জাহাঙ্গীর, এবিএম আব্দুর রাজ্জাক, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টনসহ অনেকে।

কলেজ শিক্ষার্থীর তৈরি স্মার্ট কারে চড়লেন প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণ ওয়াকিমুল ইসলাম উদ্ভাবিত স্মার্ট কার-এ চড়ে তাকে উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ওয়াকিমুল ইসলাম। এ সময় তার বানানো ছোট বাহনটি প্রধানমন্ত্রীকে দেখান। পরে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে স্মার্ট কারটি চালিয়ে দেখান ওয়াকিমুল। ব্যাটারিচালিত বিশেষ এই যানের নাম দেওয়া হয়েছে এ টু আই স্মার্ট কার।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই বাহন তৈরি করায় ১৭ বছরের ওই তরুণের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি কম খরচে আরও আধুনিক ও সহজে ব্যবহারযোগ্য স্মার্ট কার তৈরির পরামর্শও দেন। পাশপাশি এই ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

সাক্ষাতকালে তারেক রহমানকে স্মার্ট কার তৈরির পুরো গল্পটি শোনান ওয়াকিমুল ইসলাম। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এই তরুণ জানান, এক সময় তিনি সারাদিন বাসায় বসে থাকতেন, বাইরে বের হতে পারতেন না। কীভাবে বাইরে একা চলাফেরা করা যায়, সেই চিন্তা থেকে কারটি বানানো শুরু করেন।

ওয়াকিমুল ইসলাম যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়েন। বিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থীর বাবা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

ওয়াকিমুল জানান, সহযোগিতা পেলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও উন্নতমানের স্মার্ট কার বানানো সম্ভব। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়াও প্রবীণরাও সেটি ব্যবহার করতে পারবেন।

ওয়াকিমুলের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেস) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাত্তার দুলাল। তিনি জানান, গাড়িটি বৈদ্যুতিক চার্জে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গতি ৪৫ কিলোমিটার।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

গাজীপুর একই পরিবারের তিন শিশুসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা, গৃহকর্তা উধাও

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের তিন শিশুসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় কাপাসিয়ার সদর ইউনিয়নের রাউতকোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়।

হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন। তিনি জানান, পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে কাপাসিয়া থানা পুলিশের কয়েকটি দল কাজ শুরু করেছে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন (৩০), মেয়ে মীম (১৫) মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং ফোরকান মিয়ার শ্যালক রসুল মিয়া (২২)। এ ঘটনার মূলহোতা হিসেবে সন্দেহভাজন ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।

পরিবারটি রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ফোরকানের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায়।

ওই বাড়িতে সকালে তিন শিশুর মরদেহ বসতঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। রসুল মিয়ার মরদেহ খাটের ওপর এবং শারমিনের মরদেহ জানালার সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা অবস্থায় দেখা যায়।

কাপাসিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) যুবাইর হোসেন জানান, প্রায় এক বছর ধরে প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়া রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান মিয়া এ ঘটনা ঘটেয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।