Home Blog Page 103

আবার নীতি শিথিলতা ব্যাংক খাতে, অপব্যবহারের শঙ্কা

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কৃত্রিমভাবে আর্থিক চিত্র ভালো দেখানোর কৌশল থেকে বেরিয়ে ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র সামনে আনা হয়। ফলে খেলাপি ঋণ এক লাফে অনেক বেড়ে যায়। ঋণ আদায়ে কঠোরতার পথ বেছে নেওয়া হয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন নীতি শিথিলতার পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এর উদ্দেশ্য হিসেবে খেলাপি ঋণ কমানো এবং ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙ্গা করার কথা বলা হচ্ছে।
তবে এ ধরনের শিথিল নীতির অপব্যবহার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ ও খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা বলছেন, আগে এ ধরনের শিথিলতার কারণে ব্যাংক খাতের অবস্থা দুর্বল হয়েছে।

ব্যাংকাররা জানান, করোনার সময় এক লাখ কোটি টাকার বেশি প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন হয়। ওই সময়ে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের একটি অংশ নানা উপায়ে কম সুদের ঋণ নিয়ে ফেরত দেননি। সম্প্রতি একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের দাবির মুখে কৌশলে ব্যাংক খাতের একক গ্রাহকের ঋণসীমা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে। বন্ধ কলকারখানা চালুসহ অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে নতুন করে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কম সুদের ঋণ পেতে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগানোর অনেক ঘটনা রয়েছে অতীতে। এ কারণে এসব বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ ব্যাংকাররা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের দুজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করা সরকারের অন্যতম কাজ। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ভারসাম্য রক্ষা করার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। কিন্তু ব্যবসায়ীদের দাবির কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিজ্ঞতা ভালো নয়।

কর্মকর্তারা জানান, আওয়ামী লীগের প্রথম মেয়াদে ব্যাংক খাতের নিয়মকানুন আন্তর্জাতিক মানের ছিল। ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের খুশি করতে বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃতপশিল শুরু হয়। সেখান থেকে আর কঠোরতায় ফিরতে পারেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০১৮ সালে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে হোটেলে বসে বাংলাদেশ ব্যাংকে নগদ জমা সংরক্ষণ (সিআরআর) কমানোর সিদ্ধান্ত

এবং সুদহার নয়-ছয় নির্ধারণ করা হয়।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, বন্ধ কারখানা সচল করতে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার উদ্দেশ্য হয়তো ভালো। তবে কতটুকু স্বচ্ছতার সঙ্গে এই ঋণ দেওয়া যাবে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। শুধু ঋণ দিলেই হবে না; গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ, বাজার চাহিদার বিষয় দেখতে হবে।
মাহবুবুর রহমান বলেন, ব্যাংকগুলোর উচ্চ খেলাপি ঋণের মূলে রয়েছে বড় গ্রহীতারা। এখন এলএনজি আমদানিসহ কিছু ক্ষেত্রে সুবিধা দিতে ঋণসীমা হয়তো বাড়ানো হয়েছে। তার মানে এই নয়, ব্যাংকগুলো বড় ঋণ বাড়িয়ে ফেলবে। বিশেষ ছাড়ে ঋণ পুনঃতপশিলের মেয়াদ বারবার বাড়লেও ইচ্ছাকৃত খেলাপিকে সুবিধা দেওয়া ঠিক হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে উচ্চ ঝুঁকির দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বেড়ে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকায় ঠেকেছে, যা মোট ঋণের ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। গত বছর প্রথমবারের মতো ব্যাংক খাতের নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকায়। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মূলধন ঘাটতি ঋণাত্মক, ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমেছে। অনেক ব্যাংক আমানত ফেরত দিতে পারছে না। বিশেষজ্ঞরা প্রায়ই বলছেন, দুর্বল ব্যাংক খাতকে পুনরুদ্ধার করা অর্থনীতির জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর অবস্থানেই রয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের বন্ধ কারখানা চালুর সুযোগ দিতে বিভিন্ন নীতি-সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আগের মতো কেউ যেন অনিয়ম-জালিয়াতি করতে না পারে, সে জন্য তদারকি জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।

১ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ
খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিক বাড়তে থাকায় নামমাত্র ডাউন পেমেন্ট দিয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতপশিলের সুযোগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। আগের সব রেকর্ড ভেঙে গত বছর এক লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল হয়েছে। পুনঃতপশিলের মেয়াদ গত বছর শেষ হয়ে যায়। তবে গত ৭ মে অপর এক নির্দেশনার মাধ্যমে বিশেষ পুনঃতপশিলের মেয়াদ আরেক দফা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে আগামী জুন পর্যন্ত দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য পুনঃতপশিল করা যাবে। এর মধ্যে ১ শতাংশ দিতে হবে পুনঃতপশিলের সময়। বাকি অর্থ ছয় মাস পর দিলে চলবে।
বেসরকারি একটি ব্যাংকের ঋণ আদায় বিভাগের প্রধান সমকালকে বলেন, মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ পুনঃতপশিল সুবিধার কারণে ঋণ আটকে যাচ্ছে। কারণ, এ সময়ের জন্য অন্তত এক টাকাও পরিশোধ করতে হচ্ছে না। এতে অর্থপ্রবাহ কমে অর্থনৈতিক গতি ধীর হচ্ছে।

একক গ্রাহকের ঋণসীমায় বড় ছাড়
একটি ব্যাংক একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ কত শতাংশ ঋণ দিতে পারবে, ব্যাংক কোম্পানি আইনে তা সুনির্দিষ্ট করা আছে। সম্প্রতি এ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। ঋণসীমা হিসাবের ক্ষেত্রে এলসি বা গ্যারান্টিসহ বিভিন্ন নন-ফান্ডেড ১০০ টাকা দায়ের রূপান্তর হার ধরা হতো ৫০ টাকা। এখন ধরা হবে ২৫ টাকা। এভাবে একটি ব্যাংক তার মূলধনের ২৫ শতাংশের পুরোটাই ফান্ডেড তথা সরাসরি ঋণ দিতে পারবে। এতদিন যা সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, একজন আমদানিকারকের সুপারিশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই শিথিলতা দিয়েছে। ব্যাংক খাতের বর্তমান দুরবস্থার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রথমে এর বিপক্ষে মত দেন। এরপর এ সিদ্ধান্ত জারির আগে আর্থিক সূচকে ভালো অবস্থানে থাকা কয়েকটি ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে একক গ্রাহকের ঋণসীমা না বাড়ানোর পক্ষে সব ব্যাংক মত দেয়। তবে গত ১৪ মে ঋণসীমায় ছাড় দিয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

দণ্ড সুদ কমিয়ে এক-তৃতীয়াংশ
ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ঋণের সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদহারের সীমা নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। আর আমানতে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদ দেওয়া যাবে বলে মৌখিকভাবে বলে দেওয়া হয়। পরে যা সুদহারে ‘নয়-ছয়’ হিসেবে পরিচিতি পায়। তবে আইএমএফের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার পর বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ২০২৪ সালের মে মাসে ঋণের সুদহার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করা হয়। এ-সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো ঋণ বা কিস্তি সম্পূর্ণ বা আংশিক মেয়াদোত্তীর্ণ হলে যে সময়ের জন্য মেয়াদোত্তীর্ণ হবে; ওই সময়ের জন্য চলমান বা তলবি ঋণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ঋণস্থিতির ওপর এবং মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণ কিস্তির ওপর সর্বোচ্চ দেড় শতাংশ দণ্ড সুদ আরোপ করতে পারবে ব্যাংক। ঋণ পরিশোধের ওপর চাপ তৈরির জন্য এই দণ্ড সুদের বিধান করা হয়েছিল।
ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ মে এক নির্দেশনার মাধ্যমে এই নিয়মে শিথিলতা আনা হয়েছে। এখন দণ্ড সুদ তিন ভাগের এক ভাগ কমিয়ে মাত্র দশমিক ৫০ শতাংশে নামানো হয়েছে।

প্রণোদনা প্যাকেজ
গ্যাস-বিদ্যুতের সংযোগ না পাওয়া, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমাসহ বিভিন্ন কারণে এখন ঋণ চাহিদা তলানিতে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে নেমেছে। এ অবস্থায় বন্ধ কারখানা সচল, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও চলতি মূলধন ঋণ সুবিধা দিতে নতুন করে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২৩ মে ঘোষিত নতুন তহবিল থেকে ব্যবসায়ীরা ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। করোনার সময়কার মতোই এ ক্ষেত্রে সরকারের সুদ ভর্তুকির আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে কম সুদের এ ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বেসরকারি একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমকালকে বলেন, করোনার সময়ে ব্যাংকগুলোকে চাপ দিয়ে তহবিল বিতরণে বাধ্য করা হয়। তখন বারবার বৈঠক করে এক ধরনের চাপ তৈরি করা হতো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই চাপাচাপির সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা কম সুদের ঋণ নিয়ে অপব্যবহার করেছেন। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার হয়েছে করোনা-পরবর্তী সময়ে। যে কারণে তখন ৮৪ টাকার ডলার এক লাফে ১২০ টাকায় ঠেকেছিল। ২০২১ সালের আগস্টের ৪৮ বিলিয়নের ওপরে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়নে নেমেছিল।

জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক বলেন, প্রণোদনা সরকার বিভিন্ন কারণে দিতে পারে। তবে বন্ধ কারখানা সচলের জন্য প্রণোদনা কাজ করবে কিনা, তা দেখার বিষয়। কেননা যে কারখানা বন্ধ হয়েছে, তার বাজার আছে কিনা, তাও বিবেচ্য। আবার কারখানা হয়তো ভেতরের অদক্ষতা বা ব্যবস্থাপনার ঘাটতি কিংবা গ্যাস-বিদ্যুৎ না পাওয়ার কারণে বন্ধ হয়েছে। ফলে ঋণ দিলেই ঘুরে দাঁড়ানোর নিশ্চয়তা নেই।

ড. এম এ রাজ্জাক বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়; বিশ্বের কোনো দেশেই শুধু প্রণোদনা শিল্প খাতকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেনি। কেননা, শিল্পের জন্য প্রণোদনার চেয়ে বেশি দরকার পুনর্গঠন, নীতি-পদ্ধতি, অবকাঠামো ইত্যাদি। করোনার সময় ইউরোপ ও আমেরিকায় ভোক্তা পর্যায়ে প্রণোদনা দেওয়া হয়। তারা জানত, প্রণোদনার ফলে একটা মূল্যস্ফীতি তৈরি হবে। পরবর্তী সময়ে সুদহার অনেক বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করেছে তারা।

এম এ রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। যে কারণে সরকার হয়তো এখন অস্থায়ী ভিত্তিতে কিছু নীতি গ্রহণ করছে। সরকারের হয়তো এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ কোনো কৌশল থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এসব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে দেখা যায়নি। সমস্যা সমাধান করতে হলে সুস্পষ্ট রূপরেখা থাকতে হবে।

 

সাপাহার সীমান্তে ৯ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা

নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ৯ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতায় তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বুধবার ভোর ৪টা ১০ মিনিটে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধীন আদাতলা বিওপির সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত পিলার ২৪৪/এমপি দিয়ে ভারতের ২৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের এলেনপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ৯ ব্যক্তিকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে।

খবর পেয়ে আদাতলা বিওপির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিদের সীমান্তের শূন্য লাইনের ভেতরে দেখতে পায়। পরে তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।

নওগাঁ-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পরপরই বিজিবি সদস্যরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্য লাইনের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

এ ঘটনায় সেখানে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সীমান্তে পুশইনের অভিযোগের বিষয়ে কূটনৈতিক ও সীমান্তরক্ষী পর্যায়ে যোগাযোগ চলছে।

ইরানে হামলা চালানো থেকে ট্রাম্পকে বিরত রাখার প্রস্তাব সিনেটে পাস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-সংক্রান্ত সামরিক ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের লক্ষ্যে দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে একটি বিল পাস হয়েছে। বিলটিতে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান চালানোর আগে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে অথবা চলমান সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সিনেটে বিলটি ৫০-৪৮ ভোটে পাস হয়। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে প্রতিনিধি পরিষদে এটি ২১৫-২০৮ ভোটে অনুমোদিত হয়েছিল। পরে চূড়ান্ত বিবেচনার জন্য বিলটি সিনেটে পাঠানো হয়। সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও দলটির চার সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে বিলটির পক্ষে ভোট দেন। তারা হলেন লুইজিয়ানার বিল ক্যাসিদি, আলাস্কার লিসা মুরকোওস্কি, মেইনের সুসান কলিন্স এবং কেন্টাকির র্যান্ড পল। অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর মিচ ম্যাককনেল ও ডেভ ম্যাককরমিক ভোটদানে বিরত ছিলেন।

ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে শুধু পেনসিলভেনিয়ার সিনেটর জন ফেটারম্যান বিলটির বিপক্ষে ভোট দেন। তবে সিনেটে বিলটি পাস হলেও এর মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ পুরোপুরি ঠেকানো যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিলটিতে ভেটো দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ভেটো অকার্যকর করতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

ভোটাভুটির পর সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নেতা চাক শুমার বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত করতে এটি ছিল সিনেটে তাদের দশম প্রচেষ্টা। অবশেষে ‘যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত’ প্রস্তাবটি পাস হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কথা বলে এলেও তার নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ, অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। বর্তমানে যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্টরা। সেই সমঝোতার ভিত্তিতে সুইজারল্যান্ডে দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলছে। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

জনশক্তি রপ্তানি শিগগির খুলছে না মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বিদ্যমান সমঝোতার মেয়াদ শেষ এ বছরে

বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার চালু করতে চলমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় এ প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে। দ্রুত সংশোধন করা না হলে নতুন করে সমঝোতা স্মারক সই করতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ হতে পারে।
অবশ্য দুই দেশই মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সাশ্রয়ী করতে একমত হয়েছে। এতে কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমে আসবে। তবে এসব প্রক্রিয়া শেষ করে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে সময় লাগবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত রোববার মালয়েশিয়া সফরে যান। পরদিন সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) গঠনের কথা বলা হয়। ওয়ার্কিং গ্রুপ বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) পর্যালোচনা করবে এবং বর্তমান বাস্তবতা ও দুই দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রণয়নের ভিত্তি তৈরি করবে। তবে দ্রুত শ্রমবাজার খুলতে বাংলাদেশ চায় সমঝোতা স্মারকের সংশোধন।
জনশক্তি রপ্তানিকারকরা সমকালকে বলেন, নতুন করে সমঝোতা স্মারক সই করার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ। চলমান সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে দুই বছর ধরে আলোচনা করতে হয়েছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে পাঁচ বছরের জন্য তা স্বাক্ষরিত হয়।

যদিও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গতকাল মঙ্গলবার সংসদে জানিয়েছেন, সরকার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে কাজ করছে। আশা করা যায়, দ্রুত দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে।

প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর সমকালকে বলেন, ‘মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।’

গত সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে তারেক রহমান বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানান। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা এবং যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে। আমরা একমত হয়েছি, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সাশ্রয়ী হতে হবে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং কর্মীদের খরচ হ্রাস পায়।’

বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে প্রতারণা, প্রতিশ্রুত চাকরি ও বেতন না দেওয়া এবং অমানবিক পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করায় মালয়েশিয়া বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনার মুখে রয়েছে। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশি কর্মীদের শোষণ, তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ বা শুধু কোম্পানির লাভের জন্য তাদের ব্যবহার করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া ন্যায্য ও মানবিক করা এবং শ্রমিক ও তাদের পরিবারের স্বার্থ রক্ষায় জোর দিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ থাকে বেশি
জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক সংশোধন করে দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা সম্ভব। নতুন সমঝোতা স্মারক সই করতে সময় লাগবে। সে ক্ষেত্রে শিগগিরই কর্মী পাঠানো যাবে না।

বায়রার সাবেক মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান গুরুত্ব দিচ্ছেন শ্রমবাজার যেন টেকসই হয়। তিনি বলেন, নব্বইয়ের দশক থেকেই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য যতদিন খোলা থাকে; বন্ধ থাকে এর চেয়ে বেশি। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো ২০০৯ সালে বন্ধ হয়। এরপর ২০১৫ সালে সমঝোতা স্মারক সই হলে ২০১৬ সালে কর্মী পাঠানো শুরু হয়। ২০১৮ সালে কর্মী পাঠানো আবার বন্ধ হয়ে যায়। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে আবার সমঝোতা স্মারক হয়। ২০২২ সালের আগস্টে কর্মী পাঠানো শুরু হয়ে ২০২৪ সালের মে মাসে আবার বন্ধ হয়। কর্মী পাঠানো এখনও বন্ধ আছে। তিনি বলেন, সর্বশেষ সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর মাসে শেষ হবে। তাই এমন একটি পদ্ধতি নির্ধারণ করা হোক, যখন অন্যান্য দেশ থেকে মালয়েশিয়া কর্মী নেবে, তখন বাংলাদেশ থেকেও নিয়োগ দেবে।
জনশক্তি ব্যবসায়ীরা জানান, ১৪টি দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করে মালয়েশিয়া। বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ থাকলেও বাকি ১৩ দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ চালু থাকে। শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কখনও খোলা, কখনও বন্ধ থাকে। এর কারণ দুদেশের জনশক্তি রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী ও আমলাদের সিন্ডিকেট।

২০২১ সালে স্বাক্ষরিত সমঝোতার স্মারকের বর্ধিতাংশের ৫, ৬ ও ৭ ধারা অনুযায়ী, বাংলাদেশ সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়ায় পাঠাবে। মালয়েশিয়া সরকার সেখান থেকে ঠিক করবে কোন কোন এজেন্সি কর্মী পাঠাতে পারবে।

২০২২ সালে বাংলাদেশ দেড় হাজার রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা দিয়েছিল। মালয়েশিয়ার তৎকালীন সরকার ২৫ এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর কাজ দিয়েছিল। কীসের ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করা হয়েছিল, তা কখনও ব্যাখ্যা করেনি তারা। এই ২৫ প্রতিষ্ঠানকে তখন ‘সিন্ডিকেট’ বলা শুরু হয়। ২০১৫ সালেও সিন্ডিকেট নামে পরিচিতি পাওয়া ১০ এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর কাজ দেওয়া হয়। তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টির এমপি, মন্ত্রী, নেতারা ছিলেন অধিকাংশ এজেন্সির মালিক।

এবার কী হবে
শ্রমবাজার খোলার আলোচনা করতে আগামী মাসে মালয়েশিয়ার মানব সম্পদমন্ত্রী আর. রামানান ঢাকা সফরে আসতে পারেন। তিনি সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে শোষণ, বৈষম্য ও আর্থিক লেনদেনমুক্ত রাখতে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের যৌথ অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সুশাসন, শ্রমিক কল্যাণ এবং নৈতিক নিয়োগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন, যা উভয় দেশের জন্যই উপকারী হবে।

ঢাকার জনশক্তি রপ্তানিকারকদের দাবি, কর্মী নিয়োগের সিন্ডিকেটের ‘গোড়া’ মালয়েশিয়া। সে দেশের সরকারের প্রভাবশালী অংশ এর নিয়ন্ত্রক। বাংলাদেশে থাকা প্রভাবশালীরা তাদের সহযোগী। তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফরে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও সর্বোচ্চ পর্যায়ে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে কথা বলেছেন। শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে এদের অনেকের প্রভাব থাকে।
বিভিন্ন সূত্র সমকালকে জানায়, মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগে কাজ করে ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এফডব্লিউসিএমএস) নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বেস্টিনেট। এর মালিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয় নাগরিক আমিনুল ইসলাম নুর। তিনি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ আছে। বাংলাদেশ অংশে এর নেতৃত্বে ছিলেন ২৫ এজেন্সির ‘সমন্বয় করা’ ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের মালিক রুহুল আমিন স্বপন।

২০২২ সালের আগস্টে নিয়োগের সময় প্রত্যেক কর্মীর ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। কিন্তু মালয় শ্রমিক ইউনিয়নের গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যেক কর্মীর কাছ থেকে ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আদায় করা হয়। হাজারো কর্মী এত টাকা খরচ করে মালয়েশিয়া গিয়েও প্রতিশ্রুত চাকরি পাননি। অনেককে ভুয়া চাকরির চাহিদাপত্র দিয়ে নেওয়া হয়।

সমকালে ওই সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সেবার সিন্ডিকেটে থাকা এজেন্সিগুলোকে কর্মীপ্রতি দেড় লাখ টাকা দিতে হয়েছিল বেস্টিনেটকে। প্রত্যেক কর্মীর চাহিদাপত্রের জন্য মালয়েশিয়ায় থাকা মধ্যস্বত্বভোগীকে দিতে হয় ছয় হাজার রিঙ্গিত, যা ওই সময়ের বিনিময় মূল্যে দেড় লাখ টাকা। এ ছাড়া ঢাকায় সিন্ডিকেটে প্রবেশের চাঁদা ছিল কর্মীপ্রতি এক লাখ সাত হাজার টাকা।
নিয়োগকারীদের দেওয়া চাহিদাপত্র এফডব্লিউসিএমএসে ‘অটো রোটেশন’-এর মাধ্যমে বণ্টন করা হয়েছিল। এমপি-মন্ত্রীদের প্রতিষ্ঠান অটো রোটেশনে পাওয়া চাহিদাপত্র ‘বিক্রি’ করে কোটি টাকা কামিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ ওঠে।

এসব অনিয়ম বন্ধ করতে বিদ্যমান এমওইউ সংশোধন করে এজেন্সি বাছাই ও অটো রোটেশনের শর্ত বাতিল করলে সিন্ডিকেট সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করেন জনশক্তি ব্যবসায়ীরা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হল উদ্বোধনের আগেই ফাটল, ঠিকাদার ‘বালিশকাণ্ডের’ ভবনে ফাটলের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন ১০ তলাবিশিষ্ট বিজয়-৭১ হল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আগেই বিভিন্ন দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। এই ভবনটির নির্মাণকাজ করছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আলোচিত ‘বালিশকাণ্ডের’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স অ্যান্ড কোম্পানি। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভবনে ফাটল বিষয়ে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি।

এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই হলেরই মিলনায়তনের ছাদ ঢালাই শেষে ধসে পড়েছিল। এতে ১২ শ্রমিক আহত হয়েছিলেন। তখন উঠে আসে নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও নির্মাণকাজের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি।

এ ছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বহুতল চারটি ভবনের নির্মাণকাজ তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর শেষ হওয়ার কথা চলতি মাসে। অথচ কাজ শেষ হয়েছে ৭০ থেকে ৯৫ শতাংশ। বর্তমানে প্রকল্পগুলোর মেয়াদ আরও এক দফা বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে।

প্রকল্পগুলোর নির্মাণ শর্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ না হলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে অসম্পাদিত কাজের মূল্যমানের ওপর দশমিক শূন্য ৫ থেকে দশমিক ১০ শতাংশ জরিমানা গুনতে হবে। এই হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৩ কোটি টাকার জরিমানা আদায় না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল ছাড় দেওয়া হয়েছে। এ অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের প্রতিবেদনেও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রথমে ৩৬৩ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতায় অপরাজিতা (সাবেক প্রস্তাবিত শেখ হাসিনা) হল, বিজয় ৭১ (সাবেক প্রস্তাবিত এ এইচ এম কামারুজ্জামান) হল, ১০ তলা শিক্ষক কোয়ার্টার, ২০ তলা একাডেমিক ভবন, ড্রেন নির্মাণ, শেখ রাসেল মডেল স্কুলসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। পরে একনেক ২০১৯ সালে সংশোধিত আকারে ৫১০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। নির্মাণাধীন এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় তিন দফায় সময় বাড়িয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

আলোচিত মজিদ সন্স 
প্রকল্পের আওতায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ তলা বিজয় ৭১ হলের নির্মাণকাজ পায় রূপপুরে ‘বালিশকাণ্ডে’ তুমুল আলোচিত মজিদ সন্স অ্যান্ড কোম্পানি। তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর হলটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৯৫ শতাংশ। গত ডিসেম্বরে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাজটি সম্পন্ন করে হস্তান্তর করার কথা ছিল।

তবে হলটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের আগেই বিভিন্ন দেয়াল, পিলারের ওপরের পলেস্তারাতে ফাটল দেখা গেছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। উদ্বোধনের আগেই ঝুঁকিতে থাকা শের-ই বাংলা ফজলুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের একটি ব্লকে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়।

হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য সাহিব বিল্লাহ বলেন, নিরাপত্তার জন্য আমাদের নতুন হলে আনা হয়েছে। অথচ উদ্বোধনের আগেই এই ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। এর আগে এই হলের মিলনায়তন ধসে পড়েছিল। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

রাবি শাখা ছাত্রপক্ষের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা বলেন, আমরা নিরাপত্তার জন্য এসেছিলাম। কিন্তু এখানে আরও বেশি অনিরাপদ মনে হচ্ছে।

হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মারুফ হাসান জেমস বলেন, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করা দরকার। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ভবনটির বিশেষজ্ঞ তদন্তের দাবি জানাই।

এ বিষয়ে মজিদ সন্সের নির্বাহী পরিচালক জারগিছুর রহমান বলেন, ভবনে ফাটলের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট আসার আগে এ বিষয়ে আমাদের কথা বলা ঠিক হবে না। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

এক-তৃতীয়াংশ কাজ বাকি তিন ভবনে 
মজিদ সন্স ২০ তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজও পায়। বর্তমানে ওই ভবনের ১৭ তলার ছাদের ঢালাই শেষ হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন তলার দেয়াল নির্মাণসহ একাধিক কাজ চলমান। নির্মাণাধীন অপরাজিতা হলের অষ্টম তলার ছাদের ঢালাই শেষ হয়েছে। এর বাইরে কয়েকটি তলার দেয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পটির ম্যানেজার জাকির হোসেন সমকালকে বলেন, আমাদের এখানে ৭০ শতাংশের মতো কাজ হয়েছে। আমাদের আরও এক দফা মেয়াদ বাড়াতে হবে। অন্যদিকে ১০ তলা শিক্ষক কোয়ার্টারের সপ্তম তলার ছাদ ঢালাই শেষ হয়েছে।

যা বলছেন কর্তৃপক্ষ ও ছাত্রনেতারা
এ বিষয়ে রাবি শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, আমরা অতীতে দেখেছি উন্নয়নের নামে বিপুল দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে। ঠিকাদারদের জবাবদিহির অন্যতম মাধ্যম জরিমানা আদায়। সেটি না করেই বিল দিয়ে সাবেক ‘নকীব প্রশাসন’ আগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফি বলেন, মেয়াদ বাড়ানো হয়, কিন্তু প্রকল্প শেষ হয় না। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, এই বিষয়গুলো খুব হতাশাজনক। বারবার মেয়াদ পেছালে মূলত টেন্ডার সিন্ডিকেটের স্বার্থ রক্ষা হয় আর শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয়। যাদের কাজ দেওয়া হয়েছে, তাদের কড়া জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার প্রধান কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক ওবায়দুর রহমান বলেন, আমাদের প্রকল্পগুলোর বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে যে কাজ রয়েছে, তা চলমান মেয়াদে শেষ করা সম্ভব হবে না। ফলে আমাদের মেয়াদ বাড়াতে হবে। আমরা চেষ্টা করব বাস্তবসম্মতভাবে মেয়াদ বৃদ্ধি করে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে।

বিজয়-৭১ হলে ফাটলের বিষয়ে তিনি বলেন, ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক কোনো ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। বিম ও দেয়ালের সংযোগস্থল কিংবা ভিন্ন অংশে করা প্লাস্টারের কারণে এ ধরনের ফাটল দেখা দিতে পারে।

প্রকল্পের বিল পরিশোধে অডিট আপত্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রকল্পের মেয়াদকালে মালপত্রের দাম বাড়লে এবং যৌক্তিক কারণে মেয়াদ বাড়ানো হলে জরিমানার বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ থাকে। এখানে নিয়মবহির্ভূত কোনো কিছু ঘটেনি।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, এই প্রকল্পগুলো গ্রহণ করার পর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, করোনা ভাইরাসসহ নানা বাধা এসেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই প্রকল্পের চলমান মেয়াদ শেষ হবে। আমরা চেষ্টা করব আগামী মেয়াদের মধ্যে প্রকল্পগুলো শেষ করতে।

‘অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মেসির প্রথম গোলটি বাতিল হওয়া উচিত ছিল’

লিওনেল মেসি মাঠে নামেন, গোল করেন, রেকর্ড গড়েন। কিন্তু সঙ্গে জড়িয়ে যায় বিতর্ক। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করার পরেও মেসির সঙ্গী হয়েছে সম্ভাব্য লাল কার্ড বিতর্ক। এবার আলোচনায় অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের করা প্রথম গোলটি।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড় গোল করে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছেন মেসি। আর্জেন্টাইন অধিনায়কের নামের পাশে শোভা পাচ্ছে ১৮টি গোল। ৩৯ বছরের এই ফুটবল জাদুকরের বাম পায়ের জাদুতে বুঁদ হয়ে আছে পুরো বিশ্ব। যেদিনই তিনি মাঠে নামেন সেদিনই রেকর্ড বইয়ের কিছু পাতা ওলটপালট করে আসেন।

এতকিছুর পরেও বিতর্ক মেসির পিছু ছাড়ছে না। বিতর্ক আর সমালোচনা যেন আর্জেন্টাইন অধিনায়কের ছায়াসঙ্গী। ‘জে’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের ৩৮ ও ৯৫তম মিনিটে গোল করেন মেসি। এর মধ্যে প্রথম গোলটি আসে বাম প্রান্ত থেকে ফাকুন্দো মেদিনার বাড়ানো বলে। সেই গোল নিয়েই মূলত বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

গোলটি বিল্ডআপ করার সময় অস্ট্রিয়ার সাভের শ্লাগারকে ট্যাকল করেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার। বলের লড়াইয়ের বাইরে থাকা অবস্থায় শ্লাগার মাটিতে পড়ে গেলেও রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। অস্ট্রিয়ার খেলোয়াড়দের প্রতিবাদও আমলে নেননি তিনি।

ম্যাচ শেষে রেফারির এ সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন অস্ট্রিয়া কোচ রালফ রাংনিক। তার দাবি, ঘটনাটি ভিএআরের নজর এড়ায়নি। তিনি বলেন, ‘আমার মতে, ওটা পরিষ্কার ফাউল ছিল। কিন্তু রেফারিকে ফাউল হয়েছে বলার মতো যথেষ্ট সাহস ভিএআরের ছিল না।’

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি গোলরক্ষক পিটার স্মাইকেলও গোলটি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। ফক্স স্পোর্টসে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, মেসির প্রথম গোলটি বাতিল হওয়া উচিত ছিল। ম্যাক আলিস্টার লাথি মেরে একজন খেলোয়াড়কে ফেলে দিয়েছিল। ওটা ফ্রি-কিক হওয়া উচিত ছিল।’

শুধু রেফারির সিদ্ধান্ত নয়। ভিএআরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্মাইকেল। তিনি বলেন, ‘এটি রেফারির স্পষ্ট ভুল ছিল। বিষয়টি নিয়ে আমি কিছুটা হতাশ।’

বিটিএস তারকার বাড়িতে ১৩৩ বার কলিংবেল বাজিয়ে কারাগারে ব্রাজিলীয় নারী

বিশ্বখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসের তারকা জাংকুকের বাড়িতে দীর্ঘদিন অনুসরণ ও হয়রানির দায়ে এক ব্রাজিলীয় নারীকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে ওই দণ্ড দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বহিষ্কারেরও মুখোমুখি হতে হতে পারে।

সিউলের একটি জেলা আদালত জানিয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ওই নারী জাংকুকের বাড়িতে বারবার যাতায়াত শুরু করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি গায়কের বাসভবনে অন্তত ২২ বার গিয়েছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ৭ ডিসেম্বর প্রথমবার জাংকুকের বাড়িতে গিয়ে তিনি বাড়ির আশপাশে ঘোরাঘুরি করেন, দেয়ালের ওপারে বিভিন্ন জিনিস ছুড়ে দেন এবং দরজার ফাঁক দিয়ে চিঠি ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কয়েকদিন পর তিনি আবার সেখানে যান এবং একটানা ১৩৩ বার কলিংবেল চাপেন। আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনা তার ‘চরম মাত্রার আসক্তি ও আবেগপ্রবণ আচরণের’ প্রমাণ।

১৩ ডিসেম্বর এক খাদ্য সরবরাহকর্মীকে অনুসরণ করে পাশের ফটক দিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন সতর্কবার্তা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে ওই এলাকায় না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সেই নির্দেশ অমান্য করেন। এরপরও তিনি বারবার জাংকুকের বাসভবনে যেতে থাকেন। পরিস্থিতির অবনতি হলে পুলিশ জরুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যাতে তিনি বাড়িটির ১০০ মিটারের মধ্যে যেতে না পারেন। তবুও তিনি তা মানেননি।

অবশেষে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা করে এবং বিষয়টি প্রসিকিউটরদের কাছে পাঠায়। আদালতে ওই নারী দাবি করেন, তিনি এসব কাজ করেছেন ‘ভালোবাসা থেকে’। তিনি জাংকুকের জন্য চিঠি ও ছবি রেখে যাওয়ারও চেষ্টা করেছিলেন। রায়ে বিচারক বলেন, দণ্ড নির্ধারণের ক্ষেত্রে কয়েকটি লঘুকারক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ পুনরায় করার ঝুঁকি খুব বেশি নয় বলে আদালত মনে করেছে। তবে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে সফল না হলে ওই নারীকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত বছরের জুন মাসেও ৩০ বছর বয়সী এক চীনা নারীকে জাংকুকের বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সামরিক সেবা শেষ করে দেশে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি ওই চেষ্টা করেছিলেন।

সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জামায়াতের দুঃখ প্রকাশ

রাজধানীর ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে এই ঘটনায় দায়ী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন। তিনি বলেছেন, রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার যে অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, আমরা তার জন্য আন্তরিকভাবে গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জামায়াত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ এবং যেকোনো গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সমাজ বিনির্মাণে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়া বা কোনো ধরনের সহিংসতা কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়।

এহসানুল মাহবুব আরও বলেন, ধানমন্ডি জোনের বিক্ষোভ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ার পর সেখানে উপস্থিত কিছু অতিউৎসাহী ব্যক্তি বা অনাকাঙ্ক্ষিত বহিরাগতদের উসকানিতে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী বা কোনো উগ্র আচরণকে জামায়াতে ইসলামী কখনোই প্রশ্রয় দেয় না। এই ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত এবং কীভাবে এই ভুল বোঝাবুঝির সূত্রপাত হলো, তা খতিয়ে দেখতে দলের পক্ষ থেকে একটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা করা হবে। কোনো স্তরের কর্মীর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই ক্রান্তিলগ্নে গণমাধ্যম এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতা বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরি। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হওয়া দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশিরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জামায়াত আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। আবারও এই অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

সাইপ্রাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হত্যা, লাশ লুকিয়ে চাওয়া হয় মুক্তিপণ

সাইপ্রাসে এক বাংলাদেশি যুবককে অপহরণের পর হত্যা করে তার লাশ জঙ্গলে পাতা দিয়ে ঢেকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত শাহরিয়ার আহমেদ ইমন (২২) নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের লোচনপুর গ্রামের গ্রিসপ্রবাসী নাসির মিয়ার ছেলে।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে সাইপ্রাস পুলিশ গত রোববার শাহীন বাবু (২২) নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় একটি জঙ্গল থেকে ইমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের বরাতে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে স্টুডেন্ট ভিসায় সাইপ্রাসে যান ইমন। বিদেশে যাওয়ার আগেই তিনি সেখানকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ভর্তি হন। সাইপ্রাসের লারনাকার ওরোক্লিনি এলাকায় বসবাস করতেন তিনি। তার পরিবারের সদস্যরা মাসিক খরচ বাবদ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পাঠাতেন। পরিবারের ওপর চাপ কমাতে তিনি কাজের সন্ধান করছিলেন এবং এক পর্যায়ে একটি কাজও পান।

গত ১১ জুন বিকেলে মায়ের সঙ্গে ইমনের সর্বশেষ কথা হয়। তিনি মাকে জানান, কাজের ব্যবস্থা হয়েছে এবং সেদিন রাত থেকেই ডিউটি শুরু করবেন। বিষয়টি তিনি তার প্রবাসী বাবা ও রুমমেট রায়হান মিয়াকেও জানান। রায়হান তাকে কাজের স্থানে পৌঁছে লোকেশন পাঠাতে বলেছিলেন, যাতে প্রয়োজনে সহজে যোগাযোগ করা যায়। স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে কাজের স্থানে পৌঁছে হোয়াটসঅ্যাপে রায়হানের কাছে নিজের অবস্থানের লোকেশন পাঠান ইমন। কিছুক্ষণ পর রায়হান ‘ওকে’ লিখে জবাব দিলেও সেই বার্তাটি আর দেখেননি ইমন।

এর কিছুক্ষণ পর রাত ১০টার দিকে ইমনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকেই তার বাবা নাসির মিয়ার কাছে একটি বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে লেখা ছিল, ‘আপনার ছেলেকে কিডন্যাপ করেছি। ছেলেকে ফিরে পেতে চাইলে ৩৫ হাজার ইউরো দিতে হবে। যদি দেন ছেলেকে ফিরে পাবেন, না দিলে তার চোখ ও কিডনি খুলে বিক্রি করে দেব।’ বার্তাটি পেয়ে নাসির মিয়া পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। তবে প্রথমে তারা ধারণা করেছিলেন, ইমনের হোয়াটসঅ্যাপ আইডি হয়তো হ্যাকড হয়েছে।

পরদিন ১২ জুন সকালে কাজ শেষে আর বাসায় ফেরেননি ইমন। এরপর রুমমেট রায়হান স্থানীয় থানায় গিয়ে নিখোঁজের অভিযোগ করেন। পরে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ইমনের পাঠানো লোকেশনেও খোঁজ করা হয়, কিন্তু তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এদিকে ইমনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ২৪ ঘণ্টাই সচল ছিল এবং প্রতিদিনই পরিবারের কাছে মুক্তিপণের টাকা দাবি করছিল অপহরণকারীরা।

নিহতের ভাই নয়ন আহমেদ জানান, ইমনের কোনো খোঁজ না পেয়ে এক পর্যায়ে পরিবার মুক্তিপণের টাকা দিতে রাজি হয়। দর-কষাকষির মাধ্যমে বাংলাদেশি টাকায় পাঁচ লাখ টাকায় সমঝোতা হয় অপহরণকারীদের সঙ্গে।

তিনি বলেন, রোববার দুপুরে চুক্তি অনুযায়ী টাকা পাঠাতে ব্যাংকে যাই। সেখানে গিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়ার পর টাকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিই। এজন্য অপহরণকারীদের কাছে থাকা ভাইয়ের মোবাইল ফোন দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে চাই। কিন্তু অপহরণকারীদের কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হলে টাকা না দিয়ে বাড়ি ফিরে আসি।

নয়ন আরও জানান, একপর্যায়ে ইমনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর অফলাইনে চলে যায়। পরে ওই রাতেই তারা জানতে পারেন, সাইপ্রাস পুলিশ শাহীন বাবু নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি জঙ্গল থেকে পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় ইমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া শাহীন বাবুর বাড়ি বাংলাদেশের কোন এলাকায়, সে বিষয়ে সাইপ্রাস পুলিশ এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, সাইপ্রাসে এক শিক্ষার্থী অপহরণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় এক বাংলাদেশিকে সেখানকার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে শুনেছি। তবে বিষয়টি সাইপ্রাসের দূতাবাস থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, নিহত তরুণের পরিবারের পক্ষ থেকেও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। তারা সহযোগিতা চাইলে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

রংপুরের তারাগঞ্জে ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে মুজাহিদ ইসলাম (১৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে মুজাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে তারাগঞ্জ থানার ওসি রুহুল আমিন জানান, গ্রেপ্তার যুবক মুজাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তার দেওয়া বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুতই বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।

তবে ধর্ষণের পরেই শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

নিহত শিশুটি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। গত শুক্রবার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি ও মাইকিং করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন শনিবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে একটি পাটখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এই ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা গত রোববার তারাগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শিশুটিকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা।