Home Blog Page 104

বিয়ে নিয়ে বিতর্ক, কাগজপত্র নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন ববি

ব্যবসায়ী মির্জা আবুল বাশারের সঙ্গে নাম জড়িয়ে ‘কথিত স্ত্রী’ বা ‘স্ত্রী’ উল্লেখ করে ঢালিউড অভিনেত্রী ইয়ামিন হক ববিকে নিয়ে খবর ছড়িয়েছে। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ববি। অভিনেত্রীর দাবি, মির্জা আবুল বাশারের সঙ্গে তাকে জড়িয়ে ছড়ানো খবরটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

গতকাল এফডিসিতে শিল্পী সমিতির নির্বাচনের মনোয়নপত্র জমা দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিতর্কিত বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন ববি।

বিয়ের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে ববি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ওই ব্যক্তি (আবুল বাশার) আমার স্বামী নন। কেউ যদি তার বিয়ের কোনো বৈধ কাগজপত্র বা বিটিএল গ্রুপের সাথে ব্র্যান্ড প্রমোশন ছাড়া অন্য কোনো লিগ্যাল সম্পৃক্ততা দেখাতে পারে, তবে তিনি যা চাইবেন তাই করতে প্রস্তুত আছেন।’

বিটিএল গ্রুপের কার্যালয়ের চেয়ারে বসা একটি ছবি প্রসঙ্গে নায়িকা বলেন, ‘একজন শিল্পী হিসেবে বিভিন্ন অফিসে গেলে সম্মান করে তাকে চেয়ারে বসতে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে উপহার দেওয়া হয়। সেসব ছবিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’

505316028 1301987907949386 8111450161644580907 n 1782207908

বিয়ে নিয়ে মিথ্যা সংবাদ পরিবারের ভোগান্তি ও মানসিক চাপ বাড়িয়েছে বলেও জানান ববি। তিনি বলেন, আমার পরিবারের অধিকাংশ সদস্য দেশের বাইরে থাকেন। এই অদ্ভুত সংবাদগুলো দেখে তারা বিভ্রান্ত ও বিচলিত হয়ে পড়েছেন। এই গুজবের কারণে তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।’

তার মতে, ‘ময়না’ সিনেমায় ওই ব্যক্তি আংশিক প্রযোজক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। মূলত ববি নামটি যোগ করলে সংবাদটি দ্রুত ভাইরাল হবে—এমন চিন্তা থেকেই এই প্রপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন নায়িকা।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে মির্জা আবুল বাশার মামুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, তাকে ববির বাসা থেকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু প্রতিবেদনে ববিকে তার ‘কথিত স্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ চুক্তি হতে পারে ডিসেম্বরে

সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, বৈদেশিক খাতের চাপ মোকাবিলা এবং বাজেট সহায়তা জোরদারের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ পেতে পারে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ডিসেম্বরে নতুন ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।

তবে আইএমএফের সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচি থেকে সরে এসে সম্পূর্ণ নতুন চুক্তিতে যাওয়ার এই উদ্যোগকে সরকারের জন্য বড় ধরনের আস্থার পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, আগের কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার শর্তগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ায় নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে সরকার দ্রুত কিছু বাস্তব ও দৃশ্যমান সংস্কার কার্যক্রম শুরু করলে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনায় তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা সম্ভব হবে।

এদিকে নতুন ঋণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল আগামী ১২ থেকে ১৭ জুলাই ঢাকা সফর করবে। আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। সফরকালে তারা সরকারের সংস্কার এজেন্ডা, নীতিগত অগ্রাধিকার, সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচির কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ২০২২ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শুরু হওয়া আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। কারণ কর্মসূচির বেশ কয়েকটি শর্ত সরকারের অর্থনৈতিক নীতি ও নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করা হচ্ছে। এ কারণে বিদ্যমান কর্মসূচির পরিবর্তে নতুন করে তিন বছর মেয়াদি একটি ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অর্থ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, আগামী মাসে আইএমএফ মিশনের সফরের সময় সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হবে। অক্টোবরে আরেকটি পর্যালোচনা মিশন আসতে পারে। পরে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় আলোচনার পর আইএমএফের নির্বাহী বোর্ড অনুমোদন দিলে ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন ঋণ কর্মসূচি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণত আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচি অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়ায় ছয় থেকে ৯ মাস সময় লাগে। তবে বাংলাদেশ দ্রুত এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণের কাজ চলছে। তিন বছর মেয়াদি কর্মসূচির আওতায় কোন কোন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে, তার একটি অগ্রাধিকার তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে। আগের কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত অনেক সংস্কার পদক্ষেপ বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাস্তবায়ন করা কঠিন। নতুন কর্মসূচিতে আইএমএফ এসব সংস্কার পুরোপুরি বাদ দিতে রাজি নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়া বা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে। রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, এনবিআর ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং বিনিময় হার ব্যবস্থাকে আরও নমনীয় করার মতো বিষয়গুলো নতুন কর্মসূচিতেও গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাবে।

বাংলাদেশ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। পরে কর্মসূচির আকার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে প্রায় ৩৬০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ ছাড় হয়েছে। তবে রাজস্ব আহরণ, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক খাত সংস্কারে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ায় পঞ্চম ও ষষ্ঠ কিস্তির প্রায় ১৩০ কোটি ডলার ছাড় স্থগিত হয়ে যায়।
সরকার ও আইএমএফের মধ্যে মতপার্থক্যের প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে অভিন্ন ১৫ শতাংশ ভ্যাট হার চালু, টার্নওভার কর চালু, কর অব্যাহতি কমানো, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও সারের ভর্তুকি কমানো, ব্যাংক খাত সংস্কার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড পুনর্গঠন।

জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক সমকালকে বলেন, আইএমএফের একটি কর্মসূচি মাঝপথে বন্ধ করে নতুন কর্মসূচিতে যাওয়া সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, আগের ঋণ কর্মসূচির শর্তগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে কিছুটা বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি
রয়েছে। আইএমএফ স্বাভাবিকভাবেই জানতে চাইবে, আগের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন না করে নতুন চুক্তিতে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তাঁর মতে, আগের অভিজ্ঞতার কারণে নতুন ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত খুব একটা সহজ হবে না। তবে সরকারের
জন্য সুযোগও রয়েছে। আলোচনা শুরুর আগেই যদি কিছু দৃশ্যমান সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে আইএমএফের সঙ্গে দর কষাকষিতে সুবিধা পাওয়া সম্ভব হবে এবং শর্তের কঠোরতাও কিছুটা কমানো যেতে পারে।

৪ সংসদ সদস্য আদিবাসীদের আয়কর অব্যাহতি বহাল চান

পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর আরোপিত নতুন আয়কর প্রত্যাহারের দাবিতে অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছেন ওই অঞ্চলের চার সংসদ সদস্য। গত ১০ জুন জাতীয় সংসদে পেশকৃত অর্থবিলে আদিবাসীদের বেতন ও আর্থিক সম্পদ থেকে অর্জিত আয়ের ওপর কর আরোপের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা বাতিলের অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। চিঠিতে স্বাক্ষরকারী সংসদ সদস্যরা হলেন খাগড়াছড়ি আসনের আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের দীপেন দেওয়ান, বান্দরবান আসনের সাচিং প্রু এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাধবী মার্মা।

অর্থমন্ত্রীর কাছে লেখা চিঠিতে তারা জানিয়েছেন, আদিবাসীদের বর্তমান আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় তাদের পূর্বের মতো পূর্ণাঙ্গ আয়কর অব্যাহতির সুবিধা বহাল রাখা প্রয়োজন। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় বসবাসরত আদিবাসীদের সিংহভাগ আয়ের উৎস জুম চাষ ও কৃষি। কাপ্তাই বাঁধের ফলে আদিবাসীদের অধিকাংশ ধানী জমি তলিয়ে যাওয়ায় তারা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ছাড়া পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ অঞ্চলের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছেন। এখনও প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষের প্রধান উৎস ঝরনা বা কুয়ার পানি এবং ৫০ শতাংশ মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা নেই।

চিঠিতে বলা হয়, ১৯৪৮ সালের আয়কর অধ্যাদেশ এবং পরবর্তীকালে ২০২৩ সালের আয়কর আইনের ষষ্ঠ তপশিলে আদিবাসীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে করমুক্ত রাখা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত অর্থবিলে ‘বেতন হতে আয় ও আর্থিক সম্পদ হতে আয় ব্যতীত’ শব্দগুলো যুক্ত করার ফলে এখন থেকে আদিবাসীদের বেতন ও জমানো টাকার ওপর কর দিতে হবে, যা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। আদিবাসীদের ওপর এই করের বোঝা চাপিয়ে দিলে তাদের জীবনমানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
চিঠিতে সংসদ সদস্যদের প্রধান দুটি দাবি হলো, ২০২৩ সালের আয়কর আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী বাতিল করে আদিবাসীদের বেতন ও আর্থিক সম্পদের ওপর কর অব্যাহতি বহাল রাখা এবং ব্যক্তিগত আয়ের পাশাপাশি আদিবাসীদের মালিকানাধীন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান (যেমন, ফার্ম, কোম্পানি, সমিতি ইত্যাদি) যেসব কাজ পার্বত্য জেলায় পরিচালিত হয়, সেগুলোকে করমুক্ত ঘোষণা করা।

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ কর্মসূচি

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে দৈনিক সকালের রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশিরসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমন্ডি জোন। কর্মসূচিতে জামায়াত নেতা মুস্তাফিজুর রহমান, মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, আনিসুজ্জামান ও জাহিনুর রহমানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

মিছিল শেষে ব্রিফিংয়ে এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ ঘিরে সাংবাদিক ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন নেতাকর্মী সাংবাদিকদের ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বলে মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদ করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

এতে মাহফুজুর রহমান শিশির গুরুতর আহত হন। তার মুখ দিয়ে রক্ত ঝরতে দেখা যায়। এ ছাড়া মারধরে আহত হন কালবেলার সংবাদকর্মী আব্দুর রহমান ইশান ও যমুনা টিভির রিপোর্টার রাব্বী সিদ্দিকীসহ কয়েকজন। পরে ঘটনাস্থলে থাকা অন্য সাংবাদিকরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের মিডিয়া বিভাগের পরিচালক আশরাফ ইমন সমকালকে বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক।

তাঁর দাবি, মিছিল শেষে দ্রুত কর্মসূচি শেষ করার জন্য কয়েকজন সাংবাদিক চাপ দিচ্ছিলেন। তখন বোঝা যাচ্ছিল না কে সাংবাদিক আর কে নয়। তারপর বাকবিতণ্ডা থেকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এজন্য জামায়াত দুঃখ প্রকাশ করছে। সেই সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, সেখানে বাকবিতণ্ডা হয় এবং তখনই সেটা নিষ্পত্তি হয়ে যায় বলে শুনেছি। কেউ আহত হয়ে থাকলে দুঃখজনক। আমি এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি।

বিশ্লেষণ তেলের দামের ভবিষ্যত এখন চীনের হাতে, কীভাবে

হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্থায়ীভাবে চালুর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যখন আলোচনায় ব্যস্ত, তখন জ্বালানি বাজারের পরবর্তী পরিস্থিতি সম্ভবত তৃতীয় কোনো দেশের ওপর নির্ভর করছে। সেই দেশ হলো- চীন।

দেশটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল ব্যবহারকারী। ইরান যুদ্ধের কারণে প্রতিদিন ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বেইজিং জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

এর মধ্যে আছে- আমদানি কমিয়ে দেওয়া, বিশাল মজুতের ওপর নির্ভর করা এবং পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়ানো। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশীয় বাজারে তেলের উচ্চমূল্যের প্রভাব পুরোপুরি দূর করতে না পারলেও তা অনেকটাই সামাল দিতে পেরেছে। যেটির প্রভাব বিশ্ববাজারেও বেশ ভালোভাবেই অনুভূত হয়েছে।

তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের পর কিছু বিশ্লেষক পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, চলতি বছরে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। তবে বাজারে মোট অনুমিত ঘাটতি ১০০ কোটি ব্যারেল ছাড়িয়ে যাওয়ার পরও অপরিশোধিত তেলের দাম তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে আছে। অনেক বিশ্লেষক এর প্রধান কারণ হিসেবে চীনের ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করছেন।

জ্বালানি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এম্বার’-এর প্রধান দান ওয়াল্টার বলছেন, এশিয়ার বাকি দেশগুলোর ওপর এই ধাক্কা সামাল দিতে চীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এর মাধ্যমে তারা পরোক্ষভাবে বিশ্ব অর্থনীতিকেও বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে।

বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। সামনের দিনগুলোতে হয়তো এই প্রণালি স্বাভাবিক বাণিজ্যের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এমন আশার খবরে সোমবার ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ব্যারেল প্রতি ৭৮ ডলারের নিচে নেমে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতের ওপর চীনের প্রভাব বাড়ছে। ফলে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বেইজিংয়ের ভবিষ্যত নীতি ও তেলের ব্যবহারও বাজারে মূল্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

চীনের ‘অদৃশ্য হাত’
চলতি মাসের শুরুতে ফরাসি বহুজাতিক ব্যাংক ‘সোসিয়েত জেনেরাল’-এর বিশ্লেষকরা একটি গবেষণা নোট প্রকাশ করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৩ সালের আরব নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ মাত্র ৭ শতাংশ কমেছিল। কিন্তু দাম বেড়েছিল ১৩৪ শতাংশ। ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহে ক্ষতির পরিমাণ ১৪ শতাংশ। তারপরও দাম সেই তুলনায় আকাশচুম্বী হয়নি।

রপ্তানির জন্য রাখা গাড়ি। সম্প্রতি চীনের একটি বন্দরে। ছবি: এএফপি

রপ্তানির জন্য রাখা গাড়ি। সম্প্রতি চীনের একটি বন্দরে। ছবি: এএফপি

বিশ্লেষকরা এই বৈপরীত্যের জন্য মূলত চীনের ভূমিকাকে দেখছেন। এই ভূমিকাকে তারা অভিহিত করেছেন ‘বাজারের ভারসাম্য রক্ষাকারী এক অদৃশ্য হাত’ হিসেবে। এর কারণ হলো, প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি কমিয়ে আনার ক্ষমতা আছে চীনের। যা জাপানের মোট অপরিশোধিত তেলের চাহিদার প্রায় সমান।

বেশ কিছু কারণে চীন তাদের তেলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রিস্টাড এনার্জি’র তেল বাজার বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জানিভ শাহ জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে থেকেই চীন তাদের ‘ব্যাক-আপ’ বা জরুরি অপরিশোধিত তেলের মজুত গড়ে তুলছিল। আর এতে বড় ভূমিকা রেখেছে রাশিয়া ও ইরানের সস্তা তেল।

বর্তমানে চীনের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত রিজার্ভে ১০০ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল আছে। যা তারা গত মে মাস থেকে ব্যবহার করতে শুরু করেছে। এছাড়া, অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে চীনা সরকার ডিজেল ও পেট্রলের মতো পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য রপ্তানি সীমিত করেছে। ফলে দেশটির শোধনাগারগুলো বিশ্ববাজার থেকে নতুন করে অপরিশোধিত তেল কেনার আগ্রহ হারিয়েছে।

এদিকে, বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) ব্যাপক প্রসার চীনের জীবাশ্ম জ্বালানির প্রয়োজনীয়তাকেও কমিয়ে দিয়েছে। দেশটিতে বর্তমানে বিক্রি হওয়া প্রতি দুটি নতুন যাত্রীবাহী গাড়ির মধ্যে প্রায় একটি ‘নিও এনার্জি ভেহিকেল’ বা বৈদ্যুতিক গাড়ি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) হিসাব অনুযায়ী, গত বছর বৈদ্যুতিক গাড়িগুলো প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেলের ব্যবহার কমিয়েছে।

চীনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত বিশেষজ্ঞ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান ল্যান্টাও গ্রুপের প্রধান ডেভিড ফিশম্যান বলছেন, তেলের চড়া দামের কারণে গ্রাহক ও শোধনাগারগুলোর চাহিদা হয়তো আগামীতেও কম থাকবে। তবে অপরিশোধিত তেলের মজুত চিরকাল ধরে রাখা সম্ভব নয়। যদি দাম কিছুটা কমে যায়, তবে চীন হয়তো আবারও সবার আগে মজুত বাড়ানো শুরু করবে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছরও বিশ্বজুড়ে তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। তবে সাম্প্রতিক এই অস্থিরতা নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি আগ্রহকেও বাড়িয়ে দিয়েছে। চীন গত মার্চ মাসে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি পণ্য রপ্তানিতে রেকর্ড গড়েছে। এই ধারা চলতে থাকলে দীর্ঘমেয়াদে অপরিশোধিত তেলের ব্যবহার কমে যেতে পারে। যা স্বাভাবিকভাবে দামেও প্রভাব ফেলবে।

শেষ বত্রিশে কার মুখোমুখি স্কালোনির আর্জেন্টিনা?

আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের টিকিট কেটেছে আর্জেন্টিনা। অপেক্ষা ছিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। তা শেষ হতে বেশি সময় লাগল না। জর্ডানের বিপক্ষে আলজেরিয়ার জয়ের সুবাদে এক ম্যাচ হাতে রেখেই গ্রুপসেরা হয়ে গেল বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

টানা দুই জয়ে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘জে’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আগামী রোববার জর্ডানের কাছে হেরে গেলেও হেড-টু-হেড এবং পয়েন্টের সমীকরণে তাদের অবস্থানের কোনো নড়চড় হবে না। এদিকে, দুই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে সেরা বত্রিশে খেলার আশা টিকিয়ে রেখেছে আলজেরিয়া। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট হলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে দুইয়ে আছে অস্ট্রিয়া। অন্যদিকে, টানা দুই হারে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে আসা জর্ডানের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে।

ফিফা বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, ‘জে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনা শেষ বত্রিশের নকআউট লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের। বর্তমান সমীকরণ অনুযায়ী, এই মুহূর্তে সেই রানার্সআপের জায়গাটিতে অবস্থান করছে লাতিন আমেরিকার আরেক পরাশক্তি উরুগুয়ে।

তবে এখনই উরুগুয়েকে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হিসেবে চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না। ‘এইচ’ গ্রুপের শেষ রাউন্ডের নাটকীয়তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়ে। অন্যদিকে গ্রুপের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে লড়বে আরেক নবাগত দল কেপ ভার্দে।

এই দুই ম্যাচের ফলের ওপর ভিত্তি করে লিওনেল মেসি-লিওনেল স্কালোনিদের প্রতিপক্ষ হিসেবে স্পেন, কেপ ভার্দে কিংবা সৌদি আরবের নামও চলে আসতে পারে।

রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তিন লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে, যা একই সময়ের মধ্যে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে এ সময়ে রাজস্ব আদায়ে ১০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হলেও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে ৮১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা।

গতকাল রোববার এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত অর্থবছরের একই সময়ে তিন লাখ ২৭ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল। সে তুলনায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে অতিরিক্ত ৩২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ সময়ে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে সংস্থাটির সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ তিন হাজার কোটি টাকা। প্রথম ১১ মাসে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার লাখ ৪২ হাজার ৮৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে তিন লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। ফলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার দাঁড়িয়েছে ৮১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

খাতভিত্তিক হিসাবে প্রথম ১১ মাসে কাস্টমস অনুবিভাগে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। ভ্যাট অনুবিভাগে প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং আয়কর অনুবিভাগে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

এদিকে জুনের প্রথম ২০ দিনে ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। ফলে ২০ জুন পর্যন্ত মোট আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের পুরো বছরের মোট আদায় তিন লাখ ৭০ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

এনবিআর আশা করছে, জুন মাসের শেষ ১০ দিনে আরও প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হবে। সে ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায় চার লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ হবে।

গুঁড়া দুধের শুল্কে সামঞ্জস্য আনার সুপারিশ প্রস্তাবিত বাজেটে ফিল্ড মিল্ক পাউডারের শুল্ক বেড়েছে, বেবি ফর্মুলার কমেছে

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে ফিল্ড মিল্ক পাউডারের (এফএমপি) ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক এবং ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই হার সমজাতীয় অন্যান্য গুঁড়া দুধের শুল্ক হারের চেয়ে অনেক বেশি। অন্যদিকে প্রস্তাবিত বাজেটে বেবি ফর্মুলার ওপর আমদানি শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সারাদেশে প্রায় ৮৮ শতাংশ পরিবার ফিল্ড মিল্ক পাউডার ব্যবহার করলেও, আমদানি শুল্ক ও অন্যান্য কর মিলিয়ে এর ওপর মোট করভার দাঁড়িয়েছে ৬৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। বাংলাদেশে সব ধরনের গুঁড়া দুধের ক্যাটেগরির মধ্যে এ ধরনের মিল্ক পাউডারের ওপরই করের হার সবচেয়ে বেশি। ফিল্ড মিল্ক পাউডারের আমদানি শুল্ক অন্যান্য গুঁড়া দুধের মতো হলে কর কাঠামোতে সামঞ্জস্য আসবে এবং বাজারে একটি সমতাভিত্তিক প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে।

ফিল্ড মিল্ক পাউডার কোনো বিলাসদ্রব্য বা কনফেকশনারি পণ্য নয়। বরং, এটি বাড়ন্ত শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের দৈনন্দিন প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় অনুপুষ্টি উপাদানের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে একটি অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। চলতি বছরের এপ্রিলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধি দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্যাটেগরির গুঁড়া দুধের শুল্ক কাঠামোর সমন্বয়ের বিষয়ে দুইপক্ষ একমত হয়।

বাংলাদেশে ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্সের (ইউরোচ্যাম) চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপদ ও সাশ্রয়ী দুগ্ধপণ্য সরবরাহের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফিল্ড মিল্ক পাউডারের শুল্ক কাঠামোয় সমন্বয় আনা গেলে অনিয়মভিত্তিক প্রতিযোগিতা কমবে, সরকারের রাজস্ব আহরণ আরও জোরদার হবে এবং দেশের দুগ্ধশিল্পের উন্নয়নে ইউরোপীয় বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, সব ধরনের দুগ্ধপণ্যের জন্য কাছাকাছি করহার নির্ধারণের সরকারি উদ্যোগ ইতিবাচক। ফলে দুধ আরও সাশ্রয়ী পুষ্টির উৎস হিসেবে মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) স্বাস্থ্যবিষয়ক লক্ষ্য অর্জনেও সহায়ক হবে।

শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো দেশে ফিল্ড মিল্ক পাউডার ও হোল মিল্ক পাউডার একই ধরনের শুল্ক কাঠামোর আওতায় রয়েছে। খাত-সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বাংলাদেশের শুল্ক কাঠামোয় সামঞ্জস্য আনা হলে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আবারও লেবানন যুদ্ধে সিরিয়াকে জড়ানোর ইঙ্গিত, কী বলছেন শারা

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বন্ধে একদিকে সুইজারল্যান্ডে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, অন্যদিকে লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। এমন সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বলেছেন, ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহকে সামলানোর দায়িত্ব তিনি সিরিয়াকে দেবেন।

ট্রাম্প হিজবুল্লাহর তীব্র সমালোচনা করলেও, রোববার তিনি বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ও হিজবুল্লাহকে দ্রুত পরাজিত করতে না পারার জন্য ইসরায়েলকে দোষারোপ করেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘হিজবুল্লাহকে দমন করতে না পারায় আমি ইসরায়েলের ওপর হতাশ। তারা ভবন ধ্বংস না করে কিছুই করতে পারে না।’

এরপর হিজবুল্লাহবিরোধী লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বিষয়টি সিরিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়ার খুব কাছাকাছি অবস্থানে আছি।’ এর আগে ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলন চলার সময়ও ট্রাম্প সিরিয়াকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর দ্বিতীয় দফায় মন্তব্যের পর এক সাক্ষাৎকারে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা।

২০২৪ সালের শেষ দিকে ইরান ও হিজবুল্লাহর মিত্র হিসেবে পরিচিত বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার দায়িত্ব নেন শারা। বর্তমানে দেশ পুনর্গঠন ও শাসনের আন্তর্জাতিক বৈধতা অর্জনের চেষ্টা করছেন। আরব অঞ্চলভিত্তিক গণমাধ্যম আল মাশহাদকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শারা হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

শারা বলেছেন, লেবাননের সংকট অত্যন্ত গুরুতর এবং রাজনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সিরিয়া এটি সমাধানের জন্য ভিন্ন ধরনের একটি পদ্ধতি অবলম্বনের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তার আগে যুদ্ধ বন্ধ করাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আহমেদ শারা বলেন, লেবানন সংকটের সমাধান যুদ্ধ বা শহরগুলোতে বোমাবর্ষণের মাধ্যমে আসবে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাধান খোঁজার ক্ষেত্রে সিরিয়ার ভূমিকার কথা বলেছেন। কিন্তু অনেকে বিষয়টি এমনভাবে তুলে ধরছেন যেন, সিরিয়া আগামীকালই লেবাননে প্রবেশ করবে।

সমাধানের উপায় সম্পর্কে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা লেবানন ও সিরিয়ার মধ্যে সামরিক নয়, অর্থনৈতিক যোগাযোগের পথ খুঁজছি। বর্তমানে সেখানে যা ঘটছে তা থামাতে সৃজনশীল সমাধান প্রয়োজন। পুরোনো ও গতানুগতিক পদ্ধতিতে কাজ হবে না। লেবাননে সহায়তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং এমন একটি সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি যাতে সবাই আস্থা রাখতে পারে।’

প্রেম-গোপন বাগদানের গুঞ্জন অতীত, ২২ বছর পর ফিরছে পুরনো জুটি

দীর্ঘ ২২ বছর পর আবারও বড় পর্দায় একসঙ্গে দেখা যাবে বলিউডের জনপ্রিয় জুটি অক্ষয় কুমার ও রাভিনা ট্যান্ডনকে। আসন্ন চলচ্চিত্র ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ এ তাদের পুনর্মিলনকে দর্শকদের জন্য ‘ফ্যান সার্ভিস’ বলে আখ্যা দিয়েছেন পরিচালক আহমেদ খান।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আহমেদ খান বলেন, অক্ষয় ও রাভিনাকে আবার একসঙ্গে পর্দায় দেখতে চেয়েছিলেন দর্শকরা। সেই ইচ্ছা পূরণ করতেই তাদের কাস্ট করা হয়েছে। তার ভাষায়, ‘দর্শক যখন তাদের আবার একসঙ্গে দেখতে চান, তখন সেই চাহিদা পূরণ করা যেতেই পারে। এটাও এক ধরনের ফ্যান সার্ভিস।’

১৯৯০-এর দশকে বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অনস্ক্রিন জুটি ছিলেন অক্ষয় ও রাভিনা। বিশেষ করে ‘মোহরা’ সিনেমায় তাদের রসায়ন দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সর্বশেষ ২০০৪ সালে ‘পুলিশ ফোর্স: এন ইনসাইড স্টোরিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তারা।

অক্ষয় কুমার, রাভিনা ট্যান্ডন

অক্ষয় কুমার, রাভিনা ট্যান্ডন

অতীতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও এই জুটি বহুবার আলোচনায় এসেছে। সে সময় তাদের প্রেম ও গোপন বাগদানের গুঞ্জনও শোনা গিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে দুজনই আলাদা পথে হাঁটেন। বর্তমানে অক্ষয় কুমার  টুইঙ্কেল খান্নাকে, আর ব্যবসায়ী অনিল থাডানিকে বিয়ে করেন রাভিনা ট্যান্ডন।

আহমেদ খান জানান, রাভিনাকে ছবির প্রস্তাব দেওয়ার সময় অক্ষয়ের উপস্থিতি নিয়ে তার কোনো দ্বিধা ছিল না। বরং তিনি বলেছিলেন, ‘তাতে কী? আমরা সবাই পেশাদার শিল্পী, পরিণত মানুষ এবং বন্ধু। সেটে দারুণ সময় কাটবে।’

পরিচালকের দাবি, সিনেমার একটি নাচের দৃশ্যে অক্ষয় ও রাভিনা একসঙ্গে পারফর্ম করার সময় পুরো ইউনিট করতালি দিয়ে তাদের স্বাগত জানায়। ওই সময় সুনীল শেঠি মজা করে মন্তব্য করেন, ‘মোহরার জুটি এসে গেছে!’

অক্ষয় কুমার, রাভিনা ট্যান্ডন ও সুনীল শেঠি। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

অক্ষয় কুমার, রাভিনা ট্যান্ডন ও সুনীল শেঠি। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

শুটিংয়ের সময় পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণও করেছেন অক্ষয় ও রাভিনা। নিজেদের সন্তানদের নিয়ে গল্প করেছেন, পুরোনো কাজের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেছেন এবং বন্ধুদের মতোই আড্ডা দিয়েছেন বলে জানান আহমেদ খান।

এর আগে রাভিনা ট্যান্ডন সামাজিক মাধ্যমে ‘মোহরা’ সিনেমার সেটের পুরোনো ছবি এবং নতুন সিনেমার শুটিংয়ের কিছু মুহূর্ত শেয়ার করে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ টিমকে শুভকামনা জানিয়েছিলেন।

সবকিছু ঠিক থাকলে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ আগামী ২৬ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।