Home Blog Page 104

লোকসানে ৫৪টি কোম্পানি, মুনাফা কমেছে ৫৭টির

রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি যুদ্ধসহ নানা বৈশ্বিক কারণে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি কয়েক বছর ধরে চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে। তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে উৎপাদন ও সেবা-সংশ্লিষ্ট খাতের কোম্পানির লাভ-ক্ষতির খতিয়ানে।

চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম ৯ মাসে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত উৎপাদন ও সেবা-সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর অন্তত তিন-চতুর্থাংশ বা ৭৫ শতাংশ হয় লোকসান করেছে, নয়তো মুনাফা কমেছে, অথবা বন্ধ ও রুগ্‌ণ অবস্থায় পড়ে আছে বলে আর্থিক হিসাব প্রকাশই বন্ধ রেখেছে।

প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদন ও সেবা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের তালিকাভুক্ত দেশীয় কোম্পানি ২৩১টি। এসব কোম্পানির আর্থিক হিসাব বছর জুলাই মাসের শুরু হয়ে শেষ হয় জুনে। গত ৩১ মার্চ সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিক শেষে এ ধরনের কোম্পানিগুলোর প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ১১৩ কোম্পানি কম-বেশি মুনাফা করার বিপরীতে ৫৪টি লোকসান করেছে বলে জানিয়েছে। তবে মুনাফায় থাকা ১১৩ কোম্পানির মধ্যে ৫৭টির মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে।

এর বাইরে ৬৪ কোম্পানি আর্থিক প্রতিবেদনই প্রকাশ করেনি। আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করা কোম্পানিগুলোর অধিকাংশ গত অন্তত এক বছর থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করছে না। এর বড় কারণ কোম্পানিগুলোর ব্যবসা কার্যক্রম হয় পুরোপুরি বন্ধ বা অত্যন্ত রুগ্‌ণ অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। এসব কোম্পানির বেশির ভাগই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হয়েছিল।

আর্থিক প্রতিবেদন এবং কোম্পানিগুলোর প্রদান করা তথ্যানুযায়ী, চলতি হিসাব বছরে লোকসান করার পেছনে প্রধানত বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি, ডলার সংকট, ঋণের উচ্চ সুদহার এবং কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির মতো কারণগুলো উৎপাদনমুখী কোম্পানির ব্যাখ্যায় লোকসানের মূল নেপথ্য কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

বেশ কিছু কোম্পানি জানিয়েছে, ডলার সংকটের কারণে তারা সময়মতো কাঁচামাল আমদানির জন্য এলসি খুলতে পারেনি। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাজার থেকে বেশি দামে কাঁচামাল কিনতে হয়েছে। দেশবন্ধু পলিমার জানিয়েছে, কাঁচামালের অভাবের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকটে পর্যাপ্ত উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেনি।

মেঘনা সিমেন্ট কোম্পানিও জানিয়েছে, কাঁচামাল আমদানিতে বাধার কারণে কোম্পানিটি তার পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারেনি এবং আয়ের জন্য প্রধানত কনভার্সন ইনকামের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বাড়ার ফলে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ।

হেইডেলবার্গ সিমেন্ট জানিয়েছে, কাঁচামালের দাম বাড়লেও বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারায় মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালস এর ব্যাখ্যায় বলেছে, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং গ্যাস-বিদ্যুৎসহ উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া লোকসানের বড় কারণ। ব্যাংক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় কোম্পানিগুলোর আর্থিক ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে, যা নিট মুনাফাকে নেতিবাচক করে তুলেছে। এমন ব্যাখ্যা দিয়েছে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন এবং বসুন্ধরা পেপার মিলসও।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিক্রি কমেছে বলে জানিয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশ। মুন্নু সিরামিকস জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ঈদ ও নির্বাচনের ছুটির কারণে কর্মদিবস কমে যাওয়ায় তাদের রাজস্ব ও মুনাফা কমেছে। এদিকে কারখানা বন্ধ থাকা কয়েকটি কোম্পানি আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে মিথুন নিটিং বলেছে, কারখানা বন্ধ থাকায় কোম্পানিটির কোনো আয় হয়নি।

ভালো করেছে কিছু কোম্পানি

সার্বিক এমন নেতিবাচক চিত্রের বিপরীতে কিছু কোম্পানি ভালো মুনাফা করারও তথ্য দিয়েছে। প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিসাব বছরের প্রথম ৯ মাসে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে অন্তত ৩০ কোম্পানির ইপিএস অর্জিত হয়েছে পাঁচ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪৪ টাকা।

বারাকা পাওয়ার কোম্পানিটির ৯ মাসের ইপিএস ২৯ পয়সা থেকে বেড়ে ৮৭ পয়সা হয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই মুনাফা বেড়েছে। সহযোগী কোম্পানি তালিকাভুক্ত বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার কোম্পানিটির ইপিএস ৭৪ পয়সা থেকে বেড়ে দুই টাকা ৮৬ পয়সা হয়েছে। কারণ হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়জনিত লোকসান কমা এবং গত বছরের তুলনায় আর্থিক ব্যয় কমে যাওয়াকে উল্লেখ করেছে।

জ্বালানি খাতের কোম্পানি সিভিও পেট্রোকেমিক্যালের ইপিএস দুই টাকা ৩৫ পয়সা থেকে বেড়ে পাঁচ টাকা ০৮ পয়সা হয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, বিক্রি বৃদ্ধি এবং কাঁচামালের দাম কমে যাওয়ায় তাদের মুনাফা বেড়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিদ্যুৎ সঞ্চালনকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি গত বছরের লোকসান কাটিয়ে ৯ মাসে বড় মুনাফা করেছে। তাদের ৯ মাসের ইপিএস ৩৪ পয়সা থেকে ছয় টাকা ২৪ পয়সায় উন্নীত হয়েছে।

প্রকৌশল খাতের আনোয়ার গ্যালভানাইজিং লোকসান কাটিয়ে ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি চার টাকা ইপিএস দেখিয়েছে। তারা জানিয়েছে, তাদের ‘নন-অপারেটিং’ আয় অনেক বেশি হওয়ায় মুনাফায় এই পরিবর্তন এসেছে।

কোম্পানিগুলোর নিট মুনাফার অঙ্কের দিকে তাকালে দেখা যায়, স্কয়ার ফার্মা সর্বোচ্চ দুই হাজার কোটি টাকার বেশি মুনাফা করেছে। স্টিল খাতের বিএসআরএম লিমিটেড এবং বিএসআরএম স্টিল যথাক্রমে ৪৬৪ কোটি ও ৪৩২ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। বিদ্যুৎ খাতের পাওয়ার গ্রিড ৫৭০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে।

আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে ব্যর্থ যারা

নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও অনেক কোম্পানি তাদের তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারেনি। এই তালিকায় রয়েছে জিপিএইচ ইস্পাতের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া টেক্সটাইল খাতের আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, ফ্যামিলি টেক্স, জেনারেশন নেক্সট এবং ওষুধ খাতের বেক্সিমকো ফার্মা, কেয়া কসমেটিকস ও মারিকো বাংলাদেশ তাদের আর্থিক তথ্য এখনও প্রকাশ করেনি।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি শৃঙ্খলা ফেরাতে কমিটিতে নতুন মুখ চায় শীর্ষ নেতৃত্ব

৯ মাস ধরে নেতৃত্বশূন্য চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি। রাউজানে বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারীদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের জের ধরে গত বছরের ২৯ জুলাই এই সাংগঠনিক জেলায় বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য উপজেলা ও পৌরসভায়ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নির্বাচনের আগে দল পুনর্গঠনের ঝুঁকি নেয়নি বিএনপি। এখন দলে শৃঙ্খলা ফেরাতে সেই কার্যক্রম শুরু করছেন দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। এ জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ পদপ্রত্যাশীরা। তবে মূল নেতৃত্বের জন্য ‘ক্লিন ইমেজের’ নতুন মুখ চাচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

উত্তর চট্টগ্রামের সাতটি উপজেলা এবং ৯টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বিএনপির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক জেলা। দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা চাচ্ছেন চলমান সংঘাত থামিয়ে বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা যোগ্য ও ত্যাগীদের যেন নেতৃত্বের ভার দেওয়া।

বিএনপির সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর গোলাম আকবর খোন্দকারকে আহ্বায়ক করে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির ৪৪ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে কমিটির ৯ সদস্যকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। কিন্তু কোন্দলের কারণে সাংগঠনিক জেলাতে দল গোছানো যায়নি। জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, সন্দ্বীপ, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া ও হাটহাজারী উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা যায়নি।

২০২৫ সালের শুরুর দিকে রাউজান উপজেলা কমিটি ঘোষণা করা হলেও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বর্তমানে স্থানীয় সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী সেই কমিটি মেনে নেননি। এখানে তাঁর নেতৃত্বে আলাদা একটি গ্রুপে রয়েছে। মূলত সেই গ্রুপের সঙ্গে দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার গ্রুপের সংঘাত-সংঘর্ষে অস্থির রাউজান। গত ২১ মাসে ২৩টি খুনের ঘটনা ঘটে রাউজানে, যার বেশির ভাগই রাজনৈতিক। সর্বশেষ গত ২৭ এপ্রিল রাউজানের কদলপুর এলাকায় নাছির উদ্দীন নামে এক বিএনপিকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। শুধু রাউজানই নয়, অন্য উপজেলাগুলোতেও কমবেশি সংঘর্ষ-সংঘাত ঘটছে।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, দলের একটি পক্ষের নানামুখী বাধার পরও স্বচ্ছতার সঙ্গে দলীয় কার্যক্রম চালিয়েছি। কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দিইনি, আপসও করিনি। সাংগঠনিক জেলার আওতাধীন সব কটি উপজেলা ও পৌরসভায় দল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার কাজ শুরু হলেও তা শেষ করা যায়নি।

এদিকে নির্বাচনের পর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কমিটি গঠন নিয়ে দলটির হাইকমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন দলটির পদপ্রত্যাশী নেতারা। কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে আলোচনায় আছেন এক ডজনেরও বেশি বিএনপি
নেতা। তাদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, বিলুপ্ত উত্তর জেলা
বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ হালিম, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, নূরুল আমিন, অধ্যাপক ইউনুছ চৌধুরী, নূর মোহাম্মদ,
সরোয়ার আলমগীর, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপি নেতা কতুব উদ্দিন বাহারসহ
আরও কয়েকজন।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন জানিয়েছেন, বিএনপির চট্টগ্রাম উত্তর জেলা দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক জেলা। কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর ৯ মাসের বেশি হলেও নতুন কমিটি করা হয়নি। আমরা চাই, দলের যোগ্য, ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের মূল্যায়ন করে দল পুনর্গঠন করা হোক। তাহলে দলে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও রাউজান উপজেলা বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, জেলা বিএনপি পুনর্গঠনের বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতা ও পদপ্রত্যাশীরা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আমরা আশা করছি, এখানে সহসাই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।
তবে চট্টগ্রামের দায়িত্বে থাকা দলের কেন্দ্রীয় এক নেতা সমকালকে বলেন, নেতাকর্মীদের বিরোধের কারণে রাউজানসহ উত্তর চট্টগ্রামে বিভিন্ন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে।
বিষয়টি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে ভাবিয়ে তুলেছে। তাই দলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারে এমন যোগ্য ও পরীক্ষিত মুখ খোঁজা হচ্ছে। সহসা এই সাংগঠনিক জেলায় দল গোছানোর কাজ শুরু হবে।

কোন ধরনের পাত্রে মধু সংরক্ষণ ভালো

মধুর স্বাস্থ্যগুণের কথা কমবেশি সবারই জানা। অনেকেই ওজন কমাতে বা খাবারে মিষ্টতা বাড়াতে মধু বেছে নিচ্ছেন। এটি এমন একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা বছরের পর বছর ভালো থাকে।  কিন্তু ভুল পাত্রে মধু রাখলে এর স্বাদ ও গুণগত মান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কী ধরনের পাত্রে মধু সংরক্ষণ করা ভালো তা জানানো হয়েছে ‘এই সময়ে’র এক প্রতিবেদনে।

কাচের জার

মধু রাখার জন্য সবচেয়ে ভালো হচ্ছে কাচের জার। মধুর সাথে কাচের জারের কোনও রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে না। এ কারণে মধুর প্রাকৃতিক স্বাদ, গন্ধ এবং গুণাগুণ দীর্ঘ সময় অটুট থাকে। তবে মধু রাখার কাচের জারটি যেন এয়ার টাইট হয় সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখুন। তা না হলে মধুর আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

প্লাস্টিকের পাত্র 
মধু কখনওই প্লাস্টিকের পাত্রে রাখা উচিত নয়। কারণ এ ধরনের পাত্রে থাকা রাসায়নিক উপাদান মধুতে মিশে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই মধু স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

ধাতব পাত্র
মধু সামান্য অ্যাসিডিক প্রকৃতির। লোহা, তামা বা অ্যালুমিনিয়ামের মতো ধাতব পাত্রে মধু রাখা ঠিক নয়। এর সঙ্গে মধুর বিক্রিয়া ঘটে স্বাদ বদলে যায়। এর পাশাপাশি এতে থাকা ক্ষতিকর ধাতব কণা মধুর সঙ্গে মিশে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে স্টেইনলেস স্টিলে মধু রাখতে পারেন।

মাটির পাত্র
আগেকার দিনে অনেকেই মাটির পাত্রে মধু রাখতেন। এই পাত্রে মধু রাখা নিরাপদ। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন পাত্রটি এয়ার টাইট হয়। বাতাসের সংস্পর্শে এলে মধু নষ্ট হয়ে যেতে পারে। মধুর ঘনত্বও কমে যেতে পারে।

মধু সংরক্ষণের নিয়ম
ঘরের তাপমাত্রাতেই মধু বছরের পর বছর ভালো থাকে। ফ্রিজে রাখার দরকার পড়ে না। কিন্তু সূর্যালোক সংস্পর্শে এলে বা আর্দ্রতার কাছাকাছি থাকলে মধুর গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ কারণে শুকনো ও সূর্যালোক থেকে দূরে ঘরের এমন জায়গায় মধুর জার রাখা উচিত।

কারিনাকে বিকালে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চেন্নাই নেওয়া হচ্ছে

কয়েক দিন আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থিতি ছিল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের। কনটেন্ট তৈরি, অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার ব্যস্ততার মধ্যেই চলছিল তাঁর সময়। তবে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বর্তমানে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন এই তরুণী।

গুরুতর লিভার জটিলতায় আক্রান্ত কারিনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ সোমবার বিকেলে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হচ্ছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন তাঁর বাবা, জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ।

মেয়ের চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তা ও আর্থিক চাপে ভেঙে পড়া কায়সার হামিদ বলেন, “মাত্রই ভিসা হাতে পেলাম। বিকেলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ওকে নিতে আসবে। এখানে হাসপাতালের অনেক বিল, আবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জন্যও বড় অঙ্কের টাকা লাগছে। আম্মার আর আমার কিছু ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙছি, একটা জমির বায়নাও করছি। আজকের মধ্যেই সব শেষ করতে হবে।”

একজন অসহায় বাবার কণ্ঠে তখন স্পষ্ট হয়ে উঠছিল উদ্বেগ আর দুশ্চিন্তা। মেয়ের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ওকে নিরাপদে সেখানে পৌঁছানো। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে পারলে হয়তো একটা আশার জায়গা থাকবে। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।”

কারিনার শারীরিক অবস্থার এখনো তেমন উন্নতি হয়নি বলেও জানান তিনি। তবে চিকিৎসকেরা আপাতত তাঁর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। কায়সার হামিদ বলেন, “অবস্থা অপরিবর্তিত। তবে প্রেশারটা নিয়ন্ত্রণে আছে।”

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরেই কারিনার শারীরিক অবস্থা খারাপ যাচ্ছিল। প্রথমে সাধারণ অসুস্থতা মনে হলেও পরে শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে তিনি হেপাটাইটিস এ-তে আক্রান্ত হন। আগে থেকেই তাঁর ফ্যাটি লিভারের সমস্যা ছিল। পরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে গত শুক্রবার লিভার ফেইলিউর হলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

এই সংকটের মধ্যেই বড় হয়ে উঠেছে চিকিৎসার ব্যয়। এর আগে কায়সার হামিদের এক ভাই দীর্ঘদিন ব্রেন ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়েছেন। সেই সময়ও পরিবারের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছিল। এখন মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাঁদের।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পাওয়া কারিনা সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখাতেও নিয়মিত ছিলেন। তাঁর কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইনটান্টশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্টের কারণে তরুণ দর্শকদের কাছেও আলাদা জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তিনি।

পুলিশের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখবেন

পুলিশের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দুঃশাসনের সঙ্গে আমরা আপস করতে চাই না। অনেক সময় আমরা দেখেছি, আপনাদের একটি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাবশালী পরিচয়—এ রকম বিষয় আপনাদের ফেস করতে হয়। আমি পরিষ্কারভাবে আজকের অনুষ্ঠানে বলতে চাই, দুর্নীতি-সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নয়, যে বা যারা অপরাধে লিপ্ত হবে তাকে আপনারা অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করবেন।’

পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণে তিনি এই নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি বা দল কিন্তু আপনাদের দল নয়। বরং আপনারা আইনের রক্ষক—এ জিনিসটা কিন্তু আপনাদের মনে রাখতে হবে। আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হবে আইনগত ও মানবিক।’

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কঠোরভাবে বজায় রাখতে পুলিশের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে ‘বর্তমান সরকার অবশ্যই জনগণের গণতান্ত্রিক-রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত রাখতে চায়। কেউ যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি (বিনষ্ট) কিংবা কোনো রকম নাশকতামূলক কার্যক্রমে লিপ্ত হতে না পারে, এটিও কিন্তু আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে। একটা সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, আমরা পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়ে এসেছি। ঠিক একইভাবে কিন্তু জনপ্রশাসন কিংবা পুলিশ প্রশাসনের কোনো পদ কিন্তু কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়।’

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিপদে পড়লে যেকোনো পেশার মানুষ আপনাদের কাছে যায়। অর্থাৎ লোকাল থানায় যায়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সেখানে দায়িত্বশীল যে পুলিশ সদস্যরা থাকেন, তারা যদি আন্তরিকভাবে চান তাহলে আইনি ও কৌশলী ভূমিকা নিয়ে অনেক ঘটনার শুরুতেই নিষ্পত্তি করা যায়।’ পুলিশের আস্থা ও নির্ভরতা সৃষ্টি হলে মব ভায়োলেন্স সুন্দরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে মানুষ নানা রকম অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক বৈষম্য স্বাভাবিকভাবেই এর অন্যতম একটি কারণ। মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো যদি পূরণ হয়, সে ক্ষেত্রে অনেক সমস্যাই এড়ানো সম্ভব। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে নাগরিকদের সামাজিক-অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে আনতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে।

সাগরে লঘুচাপ, টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা

দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও সারাদেশে বৃষ্টি হতে পারে। এই বৃষ্টি টানা কয়েকদিন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আজ সোমবার বেলা ১১টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘ তৈরি হতে পারে। এই বজ্রমেঘ তৈরি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী ১৩ মে (বুধবার) সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় (১৬ মে শনিবার) রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে (৪৪-৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৮ মিলিমিটার) বৃষ্টি হতে পারে। এর কারণে সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর শ্রীলঙ্কা উপকূলের অদূরে দক্ষিণ পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানান, বজ্রমেঘের কারণে গতকাল রোববার থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এই বৃষ্টির মাত্রা আরও বাড়বে। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে রংপুর বিভাগে বৃষ্টি বাড়তে থাকবে। এর ময়মনসিংহ, সিলেট এমনকি ঢাকা বিভাগেও বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা সমকালকে বলেন, চলতি সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে সারা দেশেই কম বেশি বৃষ্টি হবে। তবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে দেশের উত্তর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। এটি কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এটি সম্পর্কে আরও ২৪ ঘণ্টা পর স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। এরপরই বোঝা যাবে লঘুচাপটি শক্তিশালী হবে কিনা, কিংবা শক্তিশালী হলে উপকূলের কোথায় আঘাত হানবে।

নোয়াখালী পুরাতন প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা, কেন্দ্র সচিব ও হল সুপারকে অব্যাহতি

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে চলমান মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব ও হল সুপারসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে সোনাইমুড়ী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে হিন্দু ধর্মশিক্ষা বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। ওই কেন্দ্রে মোট ১৫ জন সনাতন ধর্মাবলম্বী পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। পরীক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বরত শিক্ষকদের জানালেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর অভিভাবকদের নজরে আসে বিষয়টি, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, কেন্দ্র সচিব ও হল সুপারসহ দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলার কারণেই এই ভুল হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অভিযুক্ত হল সুপার ও কেন্দ্র সচিব মাওলানা সফি উল্যাহ বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছিল এবং পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তা সংশোধন করা হয়। তিনি আরও দাবি করেন, পরীক্ষার্থীদের তথ্য কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার জানান, ভুলভাবে গত বছরের প্রশ্নপত্র চলতি বছরের পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং কেন্দ্র সচিব, হল সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন কেন্দ্র সচিব ও হল সুপার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক রুনা নাসরিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্তের পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সীমান্তে কাঁটাতার, চাকরির বয়স বৃদ্ধিসহ কী কী সিদ্ধান্ত নিলেন শুভেন্দু মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক

শনিবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আজ সোমবার প্রথমবার সচিবালয় নবান্নে অফিস করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট ১৪ তলায় মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দুর সঙ্গেই মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু ও নিশীথ প্রমাণিক। অবশ্য তাঁদের দপ্তর এখনও বণ্টন হয়নি। এই বৈঠকে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেন শুভেন্দু। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পসহ প্রধানমন্ত্রী জনআরোগ্য যোজনা, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা ৩.০ এবং অন্যান্য সেন্ট্রাল স্পনসরড স্কিমে রাজ্য সরকারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত এসেছে বৈঠকে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরির বয়স পাঁচ বছর বাড়ানো হয়েছে।

সকাল থেকে একের পর দলীয় কর্মসূচি সেরে সল্টলেকের দলীয় কার্যালয় থেকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌঁছেন নবান্নতে। সেখানেই তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পক্ষ থেকে ‘গার্ড অফ অনার’ দেওয়া হয়। তারপরই রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাসহ একাধিক ইস্যুতে বৈঠক করেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে ছিলেন বেশ কয়েকটি দপ্তরের সচিব ও কর্মকর্তা।

শান্তি নিশ্চিত সরকারের অগ্রাধিকার
এরই মধ্যে বৈঠকের ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি লিখেছেন, ‘আজ রাজ্যের প্রশাসনিক ভবন নবান্নে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার উদ্দেশ্যে মুখ্যসচিব শ্রী দুষ্মন্ত নারিয়ালা, স্বরাষ্ট্র সচিব শ্রীমতী সঙ্ঘামিত্রা ঘোষ, রাজ্যের ডিজিপি শ্রী সিদ্ধিনাথ গুপ্ত এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার শ্রী অজয় নন্দের সঙ্গে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করলাম। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা, সুশাসন ও সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জনমুখী প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। রাজ্যের জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করাই প্রাথমিকভাবে সরকারের অগ্রাধিকার।’

সোমবার নবান্নে এরপর আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বেলা ১২টায় শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে ১টা নাগাদ বৈঠক শুরু করেন ২৩ জেলার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে। এরপর বিকেল ৪টায় নবান্নে বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। যদিও তার আগে শুভেন্দু অংশ নেন সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার বিষয়ে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান শুভেন্দু।

বিজেপির নিহত ৩২১ কর্মীর পাশে সরকার
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিজেপির অকালে ঝরে যাওয়া ৩২১ জনকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছি, সমবেদনা জানিয়েছি। তাদের পরিবারের প্রতি এই সরকার দায়বদ্ধ। হত্যার বিচার চান তাঁরা। তা আমরা দেব।

শুভেন্দু বলেন, ‘আমরা প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছি। মন্ত্রিসভায় আমার পাঁচজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতীর্থ উপস্থিত ছিলেন। ডবল ইঞ্জিন সরকার দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করবে। প্রথমত, দীর্ঘদিন পর ভয়মুক্ত ও অবাধ নির্বাচন দেখলো দেশের মানুষ। এই নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ভোটকর্মী, গণনাকর্মী, রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল ও সমস্ত প্রার্থীদের আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। যাদের আত্মবলিদানের মধ্য দিয়ে এই সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই ৩২১ জনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

সীমান্ত সুরক্ষায় ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের হাতে জমি হস্তান্তর
শুভেন্দু বলেন, ‘রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গেছে। সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আজ থেকেই জমি ট্রান্সফার করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভূমি ও রাজস্ব দপ্তরের সচিব ও মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিএসএফ যতটা জমি চেয়েছে ততটা জমি দেওয়া হবে। আগের সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর জন্য ভূমি দপ্তরকে কাজ করতে দেয়নি। আমরা ভূমি দপ্তরকে আজ থেকেই রেডি থাকা জমি হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া করতে বলেছি। আগের সরকারের মতো আলাপ করা প্রশ্নোত্তরে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বা তার ক্যাবিনেট যাবে না।’

এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। প্রথম দিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিএসএফকে আমরা জমি হস্তান্তরে অনুমোদন দিলাম। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের হাতে প্রয়োজনীয় জমি তুলে দেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় সরকারের নানা প্রকল্পে যুক্ত হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকার
কেন্দ্রীয় বিভিন্ন প্রকল্প যেগুলোতে এতদিন রাজ্য সরকার যুক্ত হয় নেই সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন প্রথম ক্যাবিনেটের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে আমরা যুক্ত হব। আমরা আয়ুষ্মান ভারতে যুক্ত হলাম। এই বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব মুখ্যমন্ত্রী দপ্তরের উপদেষ্টা ও মুখ্য সচিবের সঙ্গে অতি দ্রুত সম্পন্ন করবেন। প্রধানমন্ত্রী জনআরোগ্য যোজনা, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা ৩.০ এবং অন্যান্য সেন্ট্রাল স্পনসরড স্কিমে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। উজলা যোজনার ৮ লাখ ৬৫ হাজার পিটিশন যেটা আগের সরকার কেন্দ্রকে পাঠায়নি, আমরা সেটা পাঠাবার সিদ্ধান্ত নিলাম। সংবিধানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আগের সিআরপিসি আইপিসি চলছিল। আমরা আজকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, তার সঙ্গেও আমরা যুক্ত হলাম।’

বাড়ানো হলো সরকারি চাকরির বয়স
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, সরকারি চাকরি পাওয়ার বয়স পাঁচ বছর বৃদ্ধি করল রাজ্যের বিজেপি সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, ২০১৫ সালের পর রাজ্যে সরকারি চাকরিতে কোনো নিয়োগ হয়নি। তাই প্রচুর শিক্ষিত যুবক-যুবতীর বয়স চলে গেছে। সে কথা মাথায় রেখে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধি করা হলো। ১৬ জুন ২০২৫, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জনগণনার জন্য মিনিস্টার হোম অ্যাফেয়ার্স থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই ফাইল ফেলে রেখেছিল। এরা শুধু পশ্চিমবাংলার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেনি দেশের সঙ্গে দেশের সংবিধানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এদের মূল লক্ষ্যই ছিল এই জনগণনা আটকে দিয়ে মহিলাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা। এই মুহূর্ত থেকে জনগণনার কাজ আজ থেকেই শুরু করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।’

‘আমিত্ব’ নয়, ‘আমরা’ নীতিতে চলব
শুভেন্দুর দাবি, আমাদের কিছু পেপার ওয়ার্কের প্রয়োজন আছে। আমাদের সংকল্পপত্রে যে ঘোষণাগুলো করেছিলাম সেই বিষয়ে আরও কিছু সিদ্ধান্ত আমরা পরের মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেব। এই সরকার ‘আমিত্বে’ বিশ্বাস করে না, ‘আমরা’ নীতিতে চলবে। বেঁচে থাকা চার-পাঁচ পার্সেন্ট সমালোচক, তারাও যাতে কোনো সমালোচনা করতে না পারে, আমরা তেমনভাবেই কাজ করব। আমাদের উপর ভরসা রাখুন, আমরা ঠিক পথেই চলব। আগের সিএমকে তো প্রশ্ন করতে পারতেন না।

রাশফোর্ডের জাদুকরি ফ্রি-কিকে রিয়ালকে হারিয়ে বার্সার লা লিগা জয়

ইংলিশ তারকা রাশফোর্ডের দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে লা লিগার শিরোপা নিশ্চিত করেছে বার্সেলোনা। মৌসুম শেষ হওয়ার তিন ম্যাচ বাকি থাকতেই নিজেদের ২৯তম লিগ শিরোপা জিতে নিয়েছে কাতালান ক্লাবটি।

ন্যু ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত এল ক্লাসিকোয় শুরু থেকেই দাপট দেখায় বার্সেলোনা। ম্যাচের শুরুতেই দারুণ এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রাশফোর্ড। এরপর ফেরান তোরেস ব্যবধান দ্বিগুণ করেন চমৎকার এক ফিনিশে।

গোল করার পর দুই খেলোয়াড়ই কোচ ফ্লিকের কাছে ছুটে যান। সপ্তাহান্তে ফ্লিকের বাবার মৃত্যু হওয়ায় তাকে উৎসর্গ করেই উদ্‌যাপন করেন তারা।

টানা দ্বিতীয়বারের মতো লা লিগা জিতল বার্সেলোনা। স্প্যানিশ শীর্ষ লিগে এখনো সর্বোচ্চ ৩৬ শিরোপা নিয়ে এগিয়ে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে এবারের শিরোপা জয়ে রিয়ালের সঙ্গে ব্যবধান কিছুটা কমাল বার্সা।

লা লিগায় টানা ১১ ম্যাচ জয়ের ধারায় থাকা বার্সেলোনা এখন রিয়ালের চেয়ে ১৪ পয়েন্টে এগিয়ে। ফলে বাকি ম্যাচগুলোতে আর তাদের ধরা সম্ভব নয়। ঘরের মাঠে এ মৌসুমে এটি বার্সেলোনার টানা ১৮তম জয়।

রূপপুরের দায় শোধের সব বিকল্প ব্যর্থ

দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন উৎপাদন শুরুর অপেক্ষায়। প্রকল্পটিতে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে রাশিয়া। কিন্তু প্রকল্পের কাজ শেষের দিকে এলেও রাশিয়াকে কীভাবে অর্থ পরিশোধ করা হবে, সেই সমস্যার সমাধান হয়নি। দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা আলোর মুখে দেখেনি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মূল ঋণের বাইরে প্রাথমিক কাজের জন্য ৫০ কোটি ডলার ঋণ নিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে এই ঋণ পরিশোধ শুরু করার কথা। কিন্তু রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে তা পরিশোধ করা যাচ্ছে না। এর বাইরে রাশিয়া থেকে অন্য কিছু কেনাকাটার দায়ও মেটানো যাচ্ছে না। মূল ঋণ পরিশোধ শুরু হবে ২০২৮ সালে। ওই ঋণ পরিশোধের কিস্তি হবে বড় অঙ্কের। এ কারণে সমস্যাটির সমাধান আরও জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে তারা আশা করছেন, ঋণ পরিশোধ শুরু করা না গেলেও রূপপুর প্রকল্পে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার কোনো ব্যাংক পেমেন্ট নিতে পারছে না। তাদের দায় পরিশোধের জন্য বিভিন্ন বিকল্প উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমাধানে আসা যায়নি। ফলে সোনালী ব্যাংকে আলাদা অ্যাকাউন্ট খুলে রাশিয়ার পাওনা রাখা হচ্ছে।

সময়মতো অর্থ না পেলে জরিমানা আরোপের কথা বলেছিল রাশিয়া– এ বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, রাশিয়ার ঋণ পরিশোধ না করতে পারার সমস্যাটি বাংলাদেশের দিক থেকে নয়। তারাই অর্থ নিতে পারছে না। ফলে জরিমানা দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না। রাশিয়াকে এমন অবস্থান জানানো হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ। প্রকল্প শুরুর সময় প্রতি ডলার ৮০ টাকা ধরে মোট ব্যয় ধরা হয় এক লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯১ হাজার কোটি টাকা বা ১১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার হলো রাশিয়ার এক্সিম ব্যাংকের ঋণ। তবে পরে ডলারের দর সমন্বয়সহ অন্যান্য খরচ বেড়ে প্রকল্পের আকার দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৯ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, রাশিয়ার বিভিন্ন দায় পরিশোধের জন্য সোনালী ব্যাংকে তিনটি ‘এসক্রো’ হিসাব খোলা হয়েছে। ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত এসব হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি ডলার জমা হয়েছে। এর মধ্যে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণের জন্য জমা হয়েছে প্রায় ৩৫ কোটি ডলার। রাশিয়া থেকে অন্যান্য কেনাকাটার দায় পরিশোধ বাবদ অন্য দুটি হিসাবে জমা করা হয়েছে বাকি অর্থ।

জমা থেকে প্রকল্পের স্থানীয় ঠিকাদার বিল, সরবরাহকারী দায় পরিশোধসহ বিভিন্ন খাতে একটি অংশ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে পরিশোধযোগ্য দায় রয়েছে ১০২ কোটি ডলারের সামান্য বেশি।

ব্যাংকাররা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থাকলে অন্য দেশগুলো তার সঙ্গে লেনদেন করে না। এমনকি চীনের কোনো ব্যাংকও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়ার শঙ্কায় পরিশোধ নিষ্পত্তি করে না। এর প্রধান কারণ, অর্থনৈতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যাংকগুলোর মধ্যে নিরাপদ অর্থ লেনদেনের বার্তা পাঠানোর একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন (সুইফট)। এটি বিশ্বের সর্বাধিক দেশ ও ব্যাংকের ব্যবহৃত নেটওয়ার্ক। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিবছর কয়েক ট্রিলিয়ন অর্থ লেনদেন হয়। কিন্তু ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর সুইফট থেকে রাশিয়াকে বাদ দেয় পশ্চিমা দেশগুলো। এ কারণেও রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেন করা কঠিন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা সমকালকে জানান, সোনালী ব্যাংকের এসক্রো হিসাবে থাকা অর্থ নির্ধারিত সুদে বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত রাশিয়া তাতে রাজি হয়নি। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বন্ধ হলে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এটি হলে দেশটির পরিশোধ নিষ্পত্তি করা যাবে। এর বাইরে কোনো বিকল্প বাংলাদেশের কাছে নেই।

মূল ঋণ পরিশোধের সময় ঘনিয়ে আসছে

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। এই প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক কাজের জন্য নেওয়া ঋণের অর্থ পরিশোধ নিয়েই জটিলতা কাটেনি। মূল ঋণ পরিশোধের সময় যত এগিয়ে আসছে, উদ্বেগ তত বাড়ছে।

রূপপুর প্রকল্পের মূল ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৭ সালের মার্চ থেকে। অন্তর্বর্তী সরকার ঋণ পরিশোধ শুরুর সময় দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের মার্চে নির্ধারণের জন্য রাশিয়ার কাছে আবেদন করে। রাশিয়া ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কিস্তি পরিশোধ শুরুর সময় নির্ধারণ করেছে। আবার প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ গত বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুনে নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, রাশিয়ার ঋণ পরিশোধের সব প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেই তাদের দায় পরিশোধ করা হবে। যখনই সুযোগ হবে, তারা অর্থ নিতে পারবে।

আগের যত উদ্যোগ

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ২০২২ সালে রাশিয়া চিঠি দিয়ে বাংলাদেশকে তাদের সব ধরনের পরিশোধ স্থগিত রাখতে অনুরোধ করেছিল। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পরের বছর পাওনা নিতে রাশিয়া আগ্রহ দেখায়।

সরাসরি অর্থ নিতে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০২৪ সালের এপ্রিলে রূপপুরসহ বিভিন্ন পাওনা পিপলস ব্যাংক অব চায়নার মাধ্যমে পরিশোধের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে একটি প্রটোকল চুক্তি সই করে বাংলাদেশ। তবে সুইফট চ্যানেলে অর্থ দিলে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত আর তা কার্যকর করা যায়নি।

চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হিসাব খোলার বিষয়ে গত বছরের ৫ থেকে ১০ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সে দেশে যায়। সেখানে অ্যাকাউন্ট খোলার পাশাপাশি সুইফটের বিকল্প হিসেবে চীনের আন্তর্জাতিক লেনদেনের বার্তা প্রেরণের মাধ্যম দ্য ক্রসবর্ডার ইন্টারব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেমে (সিআইপিএস) যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বেশির ভাগই যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোতে। আবার মোট রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশের বেশি আসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ থেকে। এ কারণে শেষ পর্যন্ত ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে পাওনা নেওয়ার জন্য রাশিয়ার ‘এটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট’-এর নামে এলসি স্থাপনকারী সোনালী ব্যাংকে কয়েকটি ফরেন কারেন্সি (এফসি) অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে অর্থ স্থানান্তরের প্রস্তাব দেয় রাশিয়া। প্রথমে সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে একই ব্যাংকের এফসি হিসাবে স্থানান্তর করে রাশিয়ায় নেওয়ার প্রস্তাব ছিল। তবে সোনালী ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার সব ক্লিয়ারিং অ্যাকাউন্টই যুক্তরাষ্ট্র কিংবা দেশটির মিত্র দেশের সঙ্গে। যে কারণে এই উপায়ে পরিশোধ সম্ভব হয়নি।

রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বেশ পুরোনো, বিশেষ করে দেশটি থেকে বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম কেনা হতো। অনেক আগে থেকেই রাশিয়ার কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেও তখন দায় পরিশোধের রাস্তা খোলা ছিল। তবে ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রয়েছে– এমন সব ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।