Home Blog Page 104

ছিলেন বন্ধুর বিয়ের অনুষ্ঠানে, সেখান থেকেই ডাক পেলেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে

মাংসপেশির চোটে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল থেকে ছিটকে গেছেন ওয়েসলি, এটা পুরোনো খবর। এএস রোমাতে খেলা ২২ বছর বয়সী ডিফেন্ডারের বদলি হিসেবে এরই মধ্যে মিডফিল্ডার এদেরসন সিলভার নাম চূড়ান্ত করেছেন কার্লো আনচেলত্তি।

এদেরসনের বিশ্বকাপ দলে ঢুকে যাওয়া অনেকের কাছেই বিস্ময়কর ছিল। এমনকি আগামৗ মৌসুমে ম্যান ইউনাইটেডে যোগ দিতে যাওয়া ২৬ বছর বয়সী এ মিডফিল্ডার নিজেও হয়তো এটা আশা করেননি! বন্ধুর বিয়ের অনুষ্ঠানে থাকতেই অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়ার খবর পান তিনি!

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গে-র প্রতিবেদন অনুসারে, শুরুতে আনচেলত্তির ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলে সুযোগ না পেয়ে জন্মস্থান ব্রাজিলের মাতো গ্রোসো দো সুল অঙ্গরাজ্যের কাম্পো গ্রান্দেতে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন এদেরসন। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে তিনি এক বন্ধুর বিয়ের অনুষ্ঠানেও অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় নিজের পাসপোর্টও সঙ্গে নিয়ে যাননি এদেরসন। হয়তো বিশ্বকাপ দলে খেলার সুযোগ পাওয়ার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন!

কিন্তু গতকাল রোববার সকালে হঠাৎ ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন থেকে তাঁর কাছে ফোন আসে। এদেরসনকে জানানো হয়, তিনি বিশ্বকাপ দলে যুক্ত হয়েছেন। খবরটি এদেরসনের জন্য এদিকে যেমন আনন্দের ছিল, তেমনি কিছুটা বিপাকেও পড়েন তিনি। কারণ তাঁর পাসপোর্ট যে রিও ডি জেনেইরোতে!

পরে এক বন্ধুকে অনুরোধ করেন, তাঁর পাসপোর্টটি সাও পাওলোতে পৌঁছে দিতে। সেখান থেকেই নিউ জার্সির বিমানে উঠে ব্রাজিল দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা এদেরসনের। স্থানীয় সময় সোমবার সকালে ব্রাজিলের দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে বিকেলে অনুশীলনে অংশ নেবেন তিনি।

উল্লেখ্য, আগামী রোববার ভোরে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল।

রৌমারী সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, কঠোর অবস্থানে বিজিবি ও এলাকাবাসী

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে বিএসএফ কয়েকশ ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। রোববার রাত ১২টার দিকে উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের বকবান্ধা সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমানার ১০৬৮-৬৯ নম্বর মেইন পিলারের মধ্যবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, বিএসএফ প্রায় ৩০০ ভারতীয় নাগরিককে গাড়িতে করে সীমান্তে এনে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবির পাশাপাশি বকবান্ধা, ঝাউবাড়ি, খেওয়ারচর ও আলগার চর এলাকার লোকজন প্রতিরোধে এগিয়ে আসেন। পরে পুশইনের চেষ্টা থেকে সরে যায় বিএসএফ।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএসএফ সদস্যরা ভারতের সুদুরটিলা ক্যাম্প এলাকা থেকে কয়েকটি গাড়িতে করে লোকজনকে সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে নিয়ে আসে। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্ত এলাকায় জড়ো হলে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়।

রৌমারীর বড়াইবাড়ি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘রোববার রাত ১২টার দিকে বেশ কিছু ভারতীয় নাগরিকদের বকবান্ধা সীমান্তে এনে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভাতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এতে টের পেয়ে আমরা ও এলাকাবাসীসহ প্রতিহত করার জন্য অবস্থান করি। তা দেখে পুশইন চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে পিছু হটে বিএসএফ।

বিনিয়োগ প্রসারে ব্রিটিশ-চীনা প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ইএটিএল ইনোভেশন হাবের নৈশভোজ

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৌশলগত বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সফররত ব্রিটিশ ও চীনা ব্যবসায়ী এবং বিনিয়োগকারী প্রতিনিধি দলের সম্মানে নৈশভোজ ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে ইএটিএল ইনোভেশন হাব লিমিটেড। সম্প্রতি রাজধানীর দ্য ওয়েস্টিন ঢাকার বলরুমে এ আয়োজন করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. মুবিন খান।

বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়নভিত্তিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সরকারের নীতিনির্ধারক, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী নেতা এবং বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতারা।

আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন কাউন্সিলর আব্দুল জব্বার এমবিই, ডেপুটি লিডার, ওল্ডহাম কাউন্সিল এবং চেয়ারম্যান, গ্রেটার ম্যানচেস্টার বাংলাদেশ পার্টনারশিপ বোর্ড। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন অ্যান্ড্রু ম্যাককালি, ক্রিস বল্ডউইন, হাউ চুনলিন এবং কিউ রান।

আলোচনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন ও প্রযুক্তি খাতে সম্ভাব্য বিনিয়োগ এবং সহযোগিতার বিভিন্ন দিক উঠে আসে। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা গ্রিন এনার্জি, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ব্যবসা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, যুক্তরাজ্য ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে সরকারি ও বেসরকারি খাতের কার্যকর অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এম. এ. মুবিন খান বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রবৃদ্ধিকে আরও শক্তিশালী করবে।

গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে অবস্থিত ইএটিএল ইনোভেশন হাব হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডেটা অ্যানালিটিক্স, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর) ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) প্রযুক্তিতে কাজ করছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতেও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

আয়োজকরা মনে করেন, এ আয়োজন বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

দ্বিতীয় বিয়ের গুঞ্জনের মাঝে সামনে এলো জেনিফারের প্রথম বিচ্ছেদ অধ্যায়

হিন্দি টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জেনিফার উইঙ্গেটকে ঘিরে ফের শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সম্প্রতি তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রাক্তন স্বামী করণ সিং গ্রোভারের সঙ্গে বিচ্ছেদের অধ্যায়।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সিঙ্গাপুরভিত্তিক ব্যবসায়ী উইলিয়াম ইশমেলের সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন জেনিফার। যদিও এ বিষয়ে অভিনেত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে এই জল্পনার মধ্যেই ভাইরাল হয়েছে বিচ্ছেদ পরবর্তী সময় নিয়ে তার এক পুরনো সাক্ষাৎকার।

২০২২ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেনিফার জানিয়েছিলেন, করণের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি মানসিকভাবে ভীষণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তার ভাষায়, তখন তিনি এতটাই দিশেহারা ছিলেন যে নিজেকে কীভাবে সামলাবেন বা অন্যদের কী বলবেন, সেটাই বুঝতে পারছিলেন না।

অভিনেত্রী বলেন, ‘বন্ধুরা আমাকে বাইরে বের করার চেষ্টা করলেও কারও সঙ্গে দেখা করতে বা কোথাও যেতে চাইতাম না। এমনকি বাইরে গেলে মানুষের সহানুভূতিপূর্ণ দৃষ্টিও আমার কাছে অস্বস্তিকর মনে হতো।’

147 1780919632

জেনিফার জানান, অনেকেই তাঁর মঙ্গল চাইলেও বারবার করুণার চোখে তাকানো তাঁকে বিরক্ত করত। তিনি চেয়েছিলেন স্বাভাবিকভাবে জীবনকে এগিয়ে নিতে।

তবে বিচ্ছেদের জন্য তিনি কখনোই একতরফাভাবে করণকে দায়ী করেননি। তাঁর মতে, সম্পর্কের ভাঙনের পেছনে দুজনেরই কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। তখন হয়তো তাঁরা জীবনের এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত ছিলেন না। তাই পুরো ঘটনাকে তিনি ‘ভুল সময়ের এক দুর্ভাগ্যজনক পরিণতি’ হিসেবে দেখেন।

জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘দিল মিল গেয়ে’-এর সেটে পরিচয় থেকে প্রেম, পরে ২০১২ সালে বিয়ে করেন জেনিফার ও করণ। কিন্তু সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০১৪ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়।

পরবর্তীতে ২০১৬ সালে করণ বিয়ে করেন অভিনেত্রী বিপাশা বসুকে। বর্তমানে তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

অন্যদিকে জেনিফার নিজের অভিনয়জীবনে সফলভাবেই এগিয়ে চলেছেন। নতুন সম্পর্ক ও সম্ভাব্য বিয়ের গুঞ্জন নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না এলেও, তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে।

এসএসসির ফল ২০ জুলাই: শিক্ষামন্ত্রী

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সাটিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আজ সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় পর্যায়ের স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম, প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব তথ্য জানান।

ফল প্রকাশ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এসএসসির রেজাল্ট ২০ জুলাই আউট করবে, সেই নির্দেশনা আমরা দিয়েছি।’

ফল প্রকাশের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। তবে সতর্ক করে তারা বলেছে, তেল আবিব লেবাননে আগ্রাসন শুরু করলে আরও কঠোরভাবে আঘাত হানা হবে।

ইরানি আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স এমন তথ্য জানিয়েছে। ইরানের এই ঘোষণার কিছু সময় আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবিলম্বে হামলা বন্ধ ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান।

রোববার রাতে দুই দেশের মধ্যে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে গত এপ্রিলে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি হুমকির মুখে পড়েছিল। সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেন, ইরান ও ইসরায়েল এখন ‘অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দিকে এগোচ্ছে।’ কারও বোকামি বাধা হয়ে না দাঁড়ালে শান্তি প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত আলোচনা এগিয়ে চলছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী বলেছে, সবশেষ অভিযান থেকে জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী ও তাদের সমর্থকদের অবশ্যই শিক্ষা নিতে হবে। যদি আগ্রাসন ও শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে তাহলে আগের চেয়ে আরও অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে ইসরায়েলে অভিযান চালানোর জন্য ইরান ও ইয়েমেনকে ধন্যবাদ দিয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, জায়নবাদী শক্তি ও তাদের লাগামহীন আগ্রাসনই অঞ্চলিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়ার কারণ।

ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। এর আগে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সামরিক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছিলেন, তাঁর দেশ ইরানে বেশ কয়েকদিন ধরে অভিযান চালানোর মতো প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

বাজেট ২০২৬-২৭ স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের জন্য টার্নওভার কর কমছে

দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের টার্নওভার কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৫০ শতাংশ করার পরিকল্পনা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ খাত থেকে সঠিকভাবে আয়কর আদায়ের লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সংস্থাটি।

এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে প্রায় ৫০ হাজার স্বর্ণ ব্যবসায়ী আছে। যাদের মধ্যে বাজুসের সদস্য প্রায় ৪০ হাজার। কিন্তু বেশির ভাগ স্বর্ণ ব্যবসায়ী তাদের আয়কর ফাইলে আয়ের সঠিক হিসাব দেখান না। কেউ কেউ কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য আয়কর ফাইলে নিজের আসল পেশাও উল্লেখ করেন না। কর কমলে বাজুসের সদস্যরা সঠিকভাবে আয়কর ফাইলে স্বর্ণ বিক্রি থেকে আয় সঠিকভাবে দেখাবেন এবং কর দিতে আগ্রহী হতে পারেন।

টার্নওভার কর কমানোর জন্য জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিল। এই কর কমাতে চলতি বছর প্রাক-বাজেট আলোচনায় দাবি তোলার পর এনবিআরকে চিঠিও দিয়েছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এ বিষয়ে এনবিআরের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, এই উদ্যোগের ফলে হয়তো দ্রুতই বিশাল পরিমাণ রাজস্ব আয় আসবে না। তবে ব্যবসায়ীরা করজালের আওতায় আসবেন।

বাজুসের সভাপতি এনামুল হক খান সমকালকে বলেন, ‘এটা ভালো উদ্যোগ। তবে আমাদের অন্যতম দাবি ছিল ভ্যাট কমানো। কারণ ক্রেতারা যথাযথভাবে ভ্যাট দেয় না।’ উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ভোক্তা পর্যায়ে পাঁচ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। কেউ ১০ ভরি স্বর্ণ কিনলে বর্তমান দাম অনুযায়ী তাঁকে ভ্যাট দিতে হবে এক লাখ ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু ভারতে ভ্যাট মাত্র তিন শতাংশ। এর মধ্যে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য সেখানে ভ্যাট মওকুফ। ফলে যারা বেশি পরিমাণে স্বর্ণ কেনেন তারা ভ্যাটবাবদ বাড়তি অর্থ খরচ না করে ভারত থেকে স্বর্ণ নিয়ে আসেন। এতে দেশের টাকা বিদেশে চলে যায়।’

এদিকে স্বর্ণ বিক্রিতে গেইন ট্যাক্স আরোপের চিন্তা করছে এনবিআর। করদাতাদের অনেকেই তাদের আয়কর ফাইলে সক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি স্বর্ণ দেখান। যদিও অনেকে ক্রয় করে, উত্তরাধিকার সূত্রে বা উপহার হিসেবে স্বর্ণ পান। এনবিআর বলছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্বর্ণ বিক্রি থেকে সরকার কোনো কর পায় না। যদিও স্বর্ণ বিক্রি করে করদাতারা নিয়মিত হারে কর দিয়ে তার মূলধন বাড়াতে পারেন। আসন্ন বাজেটে করদাতাদের স্বর্ণ বিক্রি কর ফাইলে সঠিকভাবে দেখাতে ১৫ শতাংশ গেইন ট্যাক্স চালু করা হতে পারে।

জেলায় জেলায় ভুয়া কমিটি, সতর্ক করল বিএনপির মিডিয়া সেল

দেশের বিভিন্ন জেলায় ভুয়া কমিটি গঠন ও প্রচারের অভিযোগে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিএনপির মিডিয়া সেল। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিডিয়া সেলের নামে পরিচালিত বিভিন্ন ভুয়া পেজ, গ্রুপ ও কমিউনিটি সম্পর্কে নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আজ সোমবার সকালে বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, সম্প্রতি কিছু জেলায় বিএনপি মিডিয়া সেলের নামে ভুয়া কমিটি ঘোষণা ও প্রচারের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির মিডিয়া সেলের নামে বিভিন্ন ভুয়া পেজ, গ্রুপ, কমিউনিটি সক্রিয় রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএনপি মিডিয়া সেলের কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া সারাদেশে জেলা বা মহানগর পর্যায়ে এ নামে কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের মিডিয়া সেলের অনুমোদিত কমিটি দাবি করছে, তাদের সঙ্গে বিএনপি মিডিয়া সেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

একই সঙ্গে অননুমোদিত ও ভুয়া কমিটি প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হবে বলে সতর্ক করা হচ্ছে। এ ছাড়া সাধারণ নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য ও তালিকা থেকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

একসঙ্গে ছড়াচ্ছে হাম ও ডেঙ্গু, বাড়ছে জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ

দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলা হামের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না এলেও মৃত্যুর হার কিছুটা কমেছে। এর মধ্যেই বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ডেঙ্গুর বিস্তার নতুন করে তৈরি করেছে উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম ও ডেঙ্গুর ফলে জনস্বাস্থ্যে একসঙ্গে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। সংখ্যাটি এখনও উদ্বেগজনক। অন্যদিকে ডেঙ্গুতেও প্রতিদিন ৫০ জনের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে দুই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও দেখা যাচ্ছে। ফলে সংক্রামক এই দুই রোগের চাপ সামাল দিতে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে বাড়তি সতর্কতার মধ্যে থাকতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে দুই রোগের চাপ আরও বেড়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় সংকট তৈরি হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ঈদের ছুটিতে দুই দিনের স্বস্তির পর গতকাল আবারও হামের উপসর্গযুক্ত রোগী ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গতকাল রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২০-তে। তাদের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫২৯ জন এবং হামে ৯১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৮৮ হাজার ৬৯৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ৬৬ জনের। এতে মোট নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৬৮৬-তে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৮ হাজার ২৬৩ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৬০ হাজার ৮৪ জন।

টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি

হাম-রুবেলা নির্মূল জাতীয় যাচাই কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, কভিড-১৯ মহামারির সময়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি প্রতিদিন বৈঠক করে করোনার তথ্য বিশ্লেষণ করত এবং জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হতো। তবে সরকার এখনও হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাবকে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা না করায় সে ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়ছে

এদিকে হাম পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৫৭ জেলায় ইতোমধ্যে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১০৭ জন। চলতি বছর এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে তিন হাজার ৭১১ জন এবং মারা গেছে ছয়জন। মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারিতে আক্রান্ত ছিল এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪ ও জুনের প্রথম সপ্তাহে আক্রান্ত হয়েছে ৫১৪ জন।

ডেঙ্গু আক্রান্তদের প্রায় ৭৬ শতাংশই ঢাকার বাইরের বাসিন্দা। সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া যাচ্ছে বরিশাল, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ভোলা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও কক্সবাজারে। পরিসংখ্যান বলছে, শুধু চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর– এই পাঁচ জেলাতেই ঢাকার বাইরের মোট রোগীর প্রায় ৪১ শতাংশ শনাক্ত হয়েছে।

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার শঙ্কা

ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ডেঙ্গু মোকাবিলার চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি একদম আপনাদের কসম কেটে বলছি, আমি খুব নার্ভাস হয়ে গেছি। খুব দুর্বল হয়ে গেছি। আমি কীভাবে এটা ফাইট করব? প্রস্তুতি নিচ্ছি, কিন্তু চিকিৎসায় মৃত্যুর বিষয়ে আমার কোনো হাত নেই।’

গতকাল বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) আয়োজিত ‘ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার আয়োজনে ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সহযোগিতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু এখন আর সাধারণ কোনো রোগ নয়; এটি পুরো জাতির জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এ সংকট মোকাবিলা শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা হাসপাতালের দায়িত্ব নয়, বরং দেশের প্রত্যেক নাগরিককে এতে সম্পৃক্ত হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসকদের ওপর চাপ দিতে পারি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে বলতে পারি। কিন্তু শতভাগ মশা বা লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব কি না, তা নিশ্চিত করতে পারি না। মশা ২০০ মিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। যে কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে ঘরে ঢুকে যেতে পারে। তাই এটি অত্যন্ত কঠিন একটি লড়াই।

ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে সমন্বিত যুদ্ধ আখ্যা দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি নালা-নর্দমা, ডোবা, জলাবদ্ধ এলাকা ও কচুরিপানায় ভরা স্থান পরিষ্কার না করলে এই যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। একক কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির পক্ষে এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়; প্রয়োজন সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ। চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপরই বেশি গুরুত্ব দেন তিনি।

পূর্বপ্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর

একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় এবার ‘রিঅ্যাকটিভ’ নয়, বরং পূর্বপ্রস্তুতিমূলক কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থাৎ পরিস্থিতি বড় আকার ধারণের আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।

বর্তমানে ডেঙ্গুর উপসর্গেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক রোগী ডায়রিয়া ও বমি নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। এতে দ্রুত পানিশূন্যতা তৈরি হয়ে শকের ঝুঁকি বাড়ছে।

যুদ্ধ ছড়াল লোহিত সাগরে, আরেক প্রণালি বন্ধ ঘোষণা

একদিন আগেই যুদ্ধ সম্প্রসারণের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই। সোমবার ইরান ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলায় সে চিত্র দেখা যাচ্ছে। ইসরায়েলের ওপর হামলায় ইরানের সঙ্গে যোগ দিয়েছে ইয়েমেন। হামলা ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে লোহিত সাগর ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে।

গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধে এই দুটি অঞ্চল বাইরে ছিল। হরমুজ প্রণালির মতোই লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মাঝে অবস্থিত জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালি। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণকারী ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সোমবার ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিয়েছে।

লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইয়েমেনের এই গোষ্ঠী। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পুনরায় বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হুতির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা লোহিত সাগরে ইসরায়েলি সামুদ্রিক নৌযান চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ ও সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করছি।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ফিলিস্তিন, গাজা, ইরান, লেবানন ও ইরাকে ‘জিহাদ ও প্রতিরোধ অক্ষের’ সাধারণ মানুষের ওপর যে অন্যায় অবরোধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেটির মুখে তারা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।

ইসরায়েলের গণমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল (টিওআই) জানিয়েছে, হুতিরা এরইমধ্যে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে। তবে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট জায়গার নাম উল্লেখ করা হয়নি। আলজাজিরা তাদের প্রতিবেদনে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে জাফা অঞ্চলের কথা উল্লেখ করেছে।

টিওআই আরও জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি বসতির বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলছে, সোমবার সকালে ইরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েল লক্ষ্য করে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে। পশ্চিম তীরে যে আঘাতের ঘটনাটি ঘটেছে, তা মূলত প্রতিহত করা একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

ইরানি গণমাধ্যম মেহর নিউজের তথ্য অনুযায়ী, নতুন হামলা শুরু হলে গত শনিবারই যুদ্ধ পারস্য উপসাগরের বাইরে টেনে নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন মহসেন রেজাই। তিনি বলেছিলেন, সম্ভাব্য সামরিক অভিযানগুলো হরমুজ প্রণালি থেকে ভারত মহাসাগর, বাব এল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।