Home Blog Page 103

গোছা গোছা চুল উঠছে? ঘরেই বানান বিশেষ হেয়ার মাস্ক

চুল পড়া সমস্যায় কমবেশি সবাই ভোগেন। তবে কারও কারও মাথায় চিরুনি দিলেই গোছা গোছা চুল উঠে এসে। চুল পড়ার আসল কারণ হল চুলের গোড়ার দুর্বলতা। এজন্য চুলে গোড়া শক্ত করা জরুরি। সেক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন দুইটি উপকরণ- কারিপাতা আর টক দই। এই দুই উপাদানের মিশ্রণে চুল ঝরা কমাতে পারে।

কীভাবে বানাবেন হেয়ার মাস্ক?
বাজার থেকে এক মুঠো তাজা কারিপাতা এনে প্রথমে ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপর পাটা বা বেলন্ডারে পাতাগুলি পিষে মসৃণ পেস্ট বানান। এবার সেই বাটা পাতার সঙ্গে  দুই চামচ ঘন টক দই মিশিয়ে দিন। চামচ দিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিলেই বিশেষ এই হেযার মাস্কটি তৈরি হবে।

চুলে ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
গোসলের আগে একটু সময় নিয়ে এই মিশ্রণটি মাথার ত্বকে আলতো হাতে লাগিয়ে নিন। চুলের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত যেন সমানভাবে এই মিশ্রণ পৌঁছায় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। এভাবে তিরিশ থেকে চল্লিশ মিনিট রেখে দিন। দই আর কারিপাতার পুষ্টিগুণ চুলে বসে যাওয়ার জন্য এই সময়টুকু দেওয়া জরুরি। তারপর কোনও মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন।

সপ্তাহে ক’দিন ব্যবহার করবেন
সপ্তাহে মাত্র দু’দিন নিয়ম করে এই হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করুন। কারিপাতা চুলের অকালপক্বতা রোধ করে, আর টক দই খুশকি দূর করে। এই দুই উপাদানের মিশ্রণে মাথার ত্বক যেমন সুস্থ থাকে, তেমনি চুলের গোড়া হয় শক্ত। চুলের রুক্ষতা দূর হয়ে চুল হয নরম, মসৃণ।

ভূমিকম্পে ফিলিপাইনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ৩২ থেকে বেড়ে ৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম জিএমএ নিউজ।

সিভিল ডিফেন্স দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে মোট ৪৫৬ জন আহত হয়েছেন। আরও চারজন নিখোঁজ আছেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মিন্দানাও দ্বীপে স্কুল, হাসপাতাল ও আবাসিক ভবনসহ প্রায় ১ হাজার ৯০০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ভবন প্রকৃতির এই তাণ্ডবে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

মিন্দানাও দ্বীপের জেনারেল সান্তোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে সান্তোস শহরে।

এবার নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়া বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

ইরান ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে ফোনালাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ওই সময় নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়া বন্ধের হুমকি দেন ট্রাম্প।

দুই নেতার মধ্যে ওই ফোনালাপ হয় সোমবার। যা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস। ফোনালাপের বিষয়ে ট্রাম্প নিজে অ্যাক্সিওসকে বলেছেন,  ‘তিনি (নেতানিয়াহু) যদি আবার ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ান তাহলে একাকী লড়াই করতে হবে।’ কথাটি তিনি নেতানিয়াহুকেও জানিয়ে দিয়েছেন।

লেবাননে ইসরায়েলের বারবার বিমান হামলার প্রতিবাদে সম্প্রতি শান্তি আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা দেয় ইরান। এরপর নেতানিয়াহুর সঙ্গে একাধিকবার ফোনালাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একটি আলাপে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি ‘উন্মাদ’ বলে অ্যাখ্যা দেন।

সোমবারের ফোনালাপের বিষয়ে ট্রাম্প বিবিসির উত্তর আমেরিকা বিষয়ক সম্পাদক সারাহ স্মিথকেও সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সারাহ জানিয়েছেন, ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে কাণ্ডজ্ঞান ব্যবহারের তাগিদ দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে একটি শক্তিশালী চুক্তি স্বাক্ষরের একেবারে কাছাকাছি থাকার কথাও উল্লেখ করেছেন।

একটি শান্তি চুক্তির জন্য ইরানের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সংঘাতের অবসান ঘটানো। গত মার্চ মাসের শুরুতে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েল বিমান হামলা শুরু করার পর থেকে লেবাননে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ মানুষ নিহত হয়েছেন।

গোপালগঞ্জে ৬৫০ পিস ইয়াবা ও বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার ২

গোপালগঞ্জে ৬৫০ পিস ইয়াবা ও বিদেশি মদসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার মান্দারতলা ইসলামাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মানিক মিয়া মোল্লারহাট উপজেলার শের আলী মোল্লার ছেলে এবং সজিব খান মান্দারতলা এলাকার গোলাম মোস্তফা খানের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মান্দারতলা ইসলামাবাদ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাদক কারবারি হাফিজুর রহমান বাধনের বাসা থেকে তার সহযোগী মানিক মিয়া ও সজিব খানকে ইয়াবা ও বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হাসানুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার দুজন মাদক কারবারি হাফিজুর রহমান বাধনের সহযোগী। তারা বাধনের কাছ থেকে কম দামে ইয়াবা ও মদ কিনে বেশি দামে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতেন।

তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাদক কারবারি হাফিজুর রহমান বাধনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক নিহত

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার রেজু আমতলী সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. আব্দুল খালেক (৩৫) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার রেজু আমতলী সীমান্তের ৩৯ নম্বর পিলার সংলগ্ন একটি কলাবাগানে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল খালেক উখিয়ার ১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-ব্লকের বাসিন্দা মো. আনুর ছেলে। তিনি দিনমজুর হিসেবে কাজ করতে সীমান্ত এলাকায় গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

কক্সবাজারে দায়িত্বপ্রাপ্ত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, রেজু আমতলী বর্ডার অবজারভেশন পোস্টের (বিওপি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ৩৯ নম্বর সীমান্ত পিলার থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শাহ আলমের কলাবাগানে কাজ করতে যান আব্দুল খালেক। এ সময় মাটির নিচে পুঁতে রাখা একটি স্থলমাইন বিস্ফোরিত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় জনসাধারণের চলাচলে সতর্কতা জোরদার করেছে বিজিবি। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে স্থলমাইনের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো স্থলমাইনের কারণে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দাদের সীমান্ত এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত জনসচেতনতামূলক সভা ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং স্থলমাইনজনিত দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয়দের মাঝে সতর্কতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সীমান্তে বিজিবির নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

সিরাজুল আলম খানের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক, স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস ও বিএলএফের প্রতিষ্ঠাতা সিরাজুল আলম খানের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার। ২০২৩ সালের ৯ জুন তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর পরিবার, সিরাজুল আলম খান স্মৃতি পরিষদসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মরণসভাসহ নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

১৯৪১ সালের ৬ জানুয়ারি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আলীপুর গ্রামে জন্ম সিরাজুল আলম খানের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে মাস্টার্সে পড়াকালীন ‘কনভোকেশন মুভমেন্ট’-এ অংশ নেওয়ায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি ১৯৬৩ সালে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬২ সালে ছাত্রলীগের ভেতরে যে গোপন রাজনৈতিক সংগঠন ‘নিউক্লিয়াস’ (স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ) গড়ে ওঠে, তিনিই ছিলেন এর মূল উদ্যোক্তা।

১৯৬২ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ছাত্র আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার আন্দোলন, ১১ দফা আন্দোলন পরিকল্পনা ও কৌশল প্রণয়ন, সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় এবং মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পড়ে নিউক্লিয়াসের রাজনৈতিক উইং বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স বা মুজিব বাহিনী (বিএলএফ) ও সামরিক ইউনিট ‘জয় বাংলা বাহিনী’ গড়ে তোলা হয়।

মুক্তিযুদ্ধ শেষে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বিপ্লবী জাতীয় সরকার গঠন প্রশ্নে সিরাজুল আলম খানের মতভেদ হয়। ফলে তাঁর সিদ্ধান্ত ও তৎপরতায় গঠিত হয় স্বাধীন দেশের প্রথম বিরোধী রাজনৈতিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। আর্থসামাজিক বিশ্লেষণে তাঁর তাত্ত্বিক উদ্ভাবন তাঁকে দেশ-বিদেশে ‘রাজনৈতিক তাত্ত্বিক’ হিসেবে পরিচিত করে তোলে।

বাজেটের অর্থায়নই বড় চ্যালেঞ্জ

নতুন নির্বাচিত সরকার আগামী বৃহস্পতিবার জাতীয় বাজেট দিতে যাচ্ছে। প্রথম বাজেটেই বিএনপি সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকে ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে। এ কারণে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বড় বাজেট ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। তবে অর্থের সংস্থানকে বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে খোদ অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব এক পর্যালোচনায় আরও কিছু চ্যালেঞ্জের উল্লেখ করা হয়েছে।

আগের বছরের চেয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাত হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সেই হিসাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি হতে যাচ্ছে। এর আগে সাধারণত বাজেটের আকার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বাড়ানো হতো। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজনৈতিক সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার দ্রুত বাস্তবায়নের চাপ থেকেই বাজেটের আকার বড় হচ্ছে।

অর্থ বিভাগের অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, আগামী অর্থবছরে একসঙ্গে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ভর্তুকির ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দেওয়া, উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ সঞ্চালন নিশ্চিত করা, ঋণ ধারণ সক্ষমতা বজায় রাখা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ালেও প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছে অর্থ বিভাগ।

অর্থ বিভাগ মনে করছে, কৃচ্ছ্রসাধন নীতি থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার চাপও বাজেট ব্যবস্থাপনাকে জটিল করে তুলবে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সারের ভর্তুকি খরচ মেটানোর পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সমকালকে বলেন, রাজস্ব আয় বাড়াতে নতুন বাজেটে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার ওপর অগ্রিম আয়কর বসানোর চিন্তা করেছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বিত্তশালী ব্যক্তিদের ওপরও সম্পদ কর আরোপের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল সংস্থাটি; কিন্তু সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে সবুজ সংকেত না পাওয়ায় আপাতত এসব কর আরোপের চিন্তা থেকে পিছু হটেছে এনবিআর। এ পরিস্থিতিতে সরকারের উচ্চ বাজেট ব্যয়ের অর্থসংস্থান নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ সমকালকে বলেন, দেশের রাজস্ব আদায়ের বর্তমান সক্ষমতা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থপ্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নতুন বাজেটে যে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে, তা উচ্চাভিলাষী। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় সম্ভব না হলে অর্থায়নের চাপ আরও বাড়বে এবং পুরো বাজেটের বাস্তবায়নযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের নীতিনির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাজেটের আকার নয়, বরং এর বাস্তবায়ন সক্ষমতা। পরিকল্পিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর রাজস্ব আহরণ নিশ্চিত না করা হলে বড় বাজেট কেবল অর্থনৈতিক চাপই বাড়াবে। সাবেক এই অর্থ সচিব আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করায় দেশে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে এ ধরনের মুদ্রানীতির সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় না হলে সরকারি নীতি কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগও কার্যকর হবে না।

রাজস্ব আয় কতটুকু বাড়াতে চায় সরকার 
২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যয়ের অর্থ জোগাতে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা পাঁচ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকা। প্রকৃত সংগ্রহ কোনোভাবেই পাঁচ লাখ কোটি টাকা ছাড়াবে না বলে ধারণা করছেন অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে চার লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল তিন লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকা।

নতুন অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য ছয় লাখ চার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে, যা তাদের আগের সর্বোচ্চ আদায়ের তুলনায় প্রায় দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এনবিআরের প্রকৃত আদায় ছিল তিন লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর সংস্থাটিকে লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয় চার লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে প্রথম ৯ মাসে সংস্থাটির ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা, যা যে কোনো সময়ের তুলনায় রেকর্ড। গত অর্থবছরের পুরো সময়ে এনবিআরের ঘাটতি ছিল ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা, যা তখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ছিল।

নতুন অর্থবছরে এনবিআরবহির্ভূত উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করতে চায় সরকার। চলতি অর্থবছরে যার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৬৫ হাজার কোটি টাকা। প্রথম ৯ মাসে এ উৎস থেকে রাজস্ব এসেছে প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যা ছিল ৪৮ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এসেছিল ৪৭ হাজার কোটি টাকা।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বনাম সক্ষমতা 
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা অর্থমন্ত্রীকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো এমনভাবে বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছিলেন, যাতে একসঙ্গে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি না হয়। কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্ব আগামী বাজেটেই অধিক সংখ্যক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চাওয়ায় অর্থের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী অর্থবছরে এ কর্মসূচির আওতায় ৪১ লাখ মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবার মাসে পাবে দুই হাজার ৫০০ টাকা। এতে আগামী অর্থবছরে ব্যয় হবে ১২ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা।

একইভাবে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও শুরু হয়েছে, যেখানে প্রথম ধাপে ২০ হাজার কৃষককে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

আগামী অর্থবছর থেকে প্রথমবারের মতো আটটি নতুন সামাজিক কর্মসূচি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে এক লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে, যা চলতি অর্থবছরের এক লাখ ১৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা ও আগের অর্থবছরের এক লাখ ৩৬ হাজার ২৬ কোটি টাকার তুলনায় বেশি।

আগামী অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে এক লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের ৯৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা থেকে অনেক বেশি। বর্তমানে যে পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া আছে, তা বাস্তবায়নেই অনেক ধীরগতি রয়েছে। শিক্ষা খাতের বাজেটের আওতায় পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা, যার বিপরীতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য খাতে আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৬৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের ৩৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রায় দ্বিগুণ। এত ব্যয়ের সক্ষমতা তৈরি করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

অর্থ বিভাগের তৈরি করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজেটের মাধ্যমে সরকারের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণের প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করা হবে। বাজেট প্রণয়নের নীতিগত কাঠামোতে পাঁচটি মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে– রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অর্থনীতির পুনর্গঠন এবং ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সহমর্মিতার বিকাশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে ইসলামী ব্যাংক

চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে অস্থিরতার কারণে ইসলামী ব্যাংকে গত কয়েকদিনে স্বাভাবিকের তুলনায় টাকা উত্তোলন বেড়েছে। এতে করে তারল্য সংকটে পড়েছে ব্যাংকটি। সংকট মেটাতে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার চেয়েছে ব্যাংকটি।

ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ঈদের পর গত রোববার পর্যন্ত ৫ কর্মদিবসে ইসলামী ব্যাংকে জমার চেয়ে ব্যাংক থেকে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বেশি উত্তোলন হয়েছে। এটি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। গ্রাহকদের একটি অংশ অস্থিরতার কারণে টাকা তুলছেন বলে ধারণা করছেন ব্যাংকটির কর্মকর্তারা।

ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ২০২২ সাল থেকে ইসলামী ব্যাংকের নানা সংকট সামনে আসে। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটিতে সুশাসন ফিরিয়ে আনার দিকে জোর দেয়।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান নিয়োগ করায় ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে আন্দোলনে নেমেছে একটি পক্ষ। গত ১ জুন থেকে এই আন্দোলন শুরু হয়। গ্রাহক ফোরাম খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবি করছে।

গ্রাহক ফোরামের অভিযোগ, খুরশীদ আলম বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকাকালীন সময়ে দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করতে হয়।

সূত্র জানায়, গ্রাহকদের জমানো টাকা উত্তোলন বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে আবার বাংলাদেশ ব্যাংকে বিধিবদ্ধ নগদ জমা বা সিআরআর রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে ব্যাংকটি। যে কারণে বিশেষ ধার চেয়ে আবেদন করেছে।

ইসলামী ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত তাদের হিসাবে এখনও টাকা রয়েছে। তবে সিআরআরে ঘাটতি এবং আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তিনি জানান, চলতি হিসাবে তাদের ৭ হাজার ১৫ কোটি টাকার বেশি ছিল। তবে এখন কমে ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নেমেছে।

২০১৭ সাল থেকে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল এস আলম গ্রুপের হাতে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যাংকটির পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। সম্প্রতি আগের চেয়ারম্যান ও এমডি পদত্যাগে বাধ্য হন।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। এ বিষয়ে সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এর আগে তিনি ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড-এর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হওয়ার পর বোর্ডের চেয়ারম্যানের রুটিন দায়িত্বও পালন করছিলেন তিনি। মঙ্গলবার তাকে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয়।

অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান ১৬তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি তিনি ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে যোগদান করেন।

দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখায় তিনি শিক্ষা অঙ্গনে প্রশংসা অর্জন করেন।

ছোটবেলা থেকেই আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক: নাজনীন নীহা

নাজনীন নীহা। অভিনেত্রী ও মডেল। গেল ঈদে প্রচার হওয়া তাঁর অভিনীত নাটক ‘মায়া পাখি’ দর্শক প্রশংসিত হয়েছে। এ নাটক ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে সমকালের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘মায়া পাখি’ নাটকটি নিয়ে দর্শকদের দারুণ সাড়া মিলেছে। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?

সত্যি বলতে, আমি খুবই আনন্দিত এবং কৃতজ্ঞ। শুটিংয়ের সময় থেকেই মনে হয়েছিল নাটকটি দর্শকের ভালো লাগবে। গল্প, জাকারিয়া সৌখিনের নির্মাণ, নিজের অভিনয়– সবকিছু মিলিয়ে এটি একটি বিশেষ কাজ ছিল। মুক্তির পর দর্শকদের যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা আমার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অনেকেই বলেছেন টিভিতে নাটকটি শেষ হওয়ার পরও এর আবেগ তাদের মনে রয়ে গেছে। একজন শিল্পীর জন্য এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে! বর্তমানে ইউটিউবে নাটকটি দর্শক দেখছেন। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে বেশ ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি।

নাটকে মায়া চরিত্রটি আপনার জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?

অনেকটাই। আগে আমি এমন ধরনের চরিত্রে কাজ করিনি। একজন কর্মজীবী নারী, স্ত্রী এবং একই সঙ্গে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী একজন মানুষের মানসিক টানাপোড়েন তুলে ধরা সহজ ছিল না। শুরুতে ভয় ছিল, দর্শক আমাকে এই চরিত্রে গ্রহণ করবেন কিনা। তবে এখন মনে হচ্ছে, সেই পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।

34455555 1780989418

সম্প্রতি অপূর্বের সঙ্গে ‘একটাই প্রার্থনা’ ও ‘অচেনা আমি’ নাটকেও কাজ করেছেন। তাঁর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

তারকা অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করা সব সময়ই আনন্দের। তিনি শুধু একজন ভালো অভিনেতাই নন, একজন অসাধারণ সহশিল্পীও। শুটিংয়ের সময় নতুন অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাই। ‘অচেনা আমি’ নাটকের গল্প যখন তিনি আমাকে শুনিয়েছিলেন, আমি সত্যিই অবাক হয়েছিলাম। অভিনয়ের পাশাপাশি গল্প লেখার ক্ষেত্রেও তাঁর দক্ষতা আমাকে মুগ্ধ করেছে।
দর্শকদের অনেকেই বলছেন, অপূর্ব-নীহা জুটি এখন আলাদা জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আপনি কী মনে করেন?

এটা অবশ্যই আনন্দের বিষয়। একজন অভিনেত্রীর জন্য দর্শকের ভালোবাসা সবচেয়ে বড় অর্জন। আমরা চেষ্টা করি গল্পের প্রতি সৎ থাকতে। যদি দর্শক আমাদের জুটিকে পছন্দ করে থাকেন, তাহলে সেটি আমাদের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা। সামনে আমাদের জুটি থেকে আরও কিছু ভালো কাজ উপহার পাবেন দর্শক।

668602014 1266758188907594 4128552120504589095 n 1780989459

সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব কি পাচ্ছেন?

হ্যাঁ, কয়েকটি প্রস্তাব পেয়েছি। অনেক গল্পও শুনিয়েছেন। তবে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। আমি মনে করি, নিজেকে আরও প্রস্তুত করা দরকার। আমার ক্যারিয়ার খুব বেশি দিনের নয়। ছোট পর্দায় এখনও অনেক কিছু শেখার আছে। যখন মনে হবে আমি পুরোপুরি প্রস্তুত, তখন বড় পর্দা নিয়ে ভাবব।

তাহলে কি শিগগিরই আপনাকে সিনেমায় দেখা যাবে না?

ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন। ভালো গল্প, ভালো চরিত্র এবং সঠিক সময়– এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে মিললে অবশ্যই বিবেচনা করব। তবে তাড়াহুড়ো করে কিছু করতে চাই না।

নাটকে আপনার অভিনয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি কী বলে মনে করেন?

আমি সব সময় চরিত্রটাকে বোঝার চেষ্টা করি। শুধু সংলাপ মুখস্থ করলেই অভিনয় হয় না। চরিত্রটি কী ভাবছে, কী অনুভব করছে, কেন এমন আচরণ করছে– এসব নিয়ে কাজ করি। এই বিষয়টাই হয়তো আমাকে সাহায্য করে।

667357070 1266111575638922 8352648472417248426 n 1780989492

নিজের অভিনয় কি নিয়মিত দেখেন?

অবশ্যই। আমি নিজের কাজ বিশ্লেষণ করি। কোথায় ভুল হয়েছে, কোথায় আরও ভালো করা যেত তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করি। একজন শিল্পীর শেখার তো শেষ নেই।

ব্যস্ততার বাইরে সময় কীভাবে কাটান?

পরিবারকে সময় দিতে খুব ভালো লাগে। সুযোগ পেলেই দেশ ও দেশের বাইরে ঘুরতে বের হই। প্রকৃতি আমার খুব প্রিয়। বিশেষ করে সবুজ পরিবেশ আর পাহাড় আমাকে ভীষণ টানে। তবে সমুদ্রও উপভোগ করি।

আপনার ভ্রমণপ্রীতি নিয়ে ভক্তদের অনেক আগ্রহ আছে। নতুন কোনো জায়গা দেখার ইচ্ছা আছে?

অনেক জায়গাই দেখতে চাই। পৃথিবীতে এত সুন্দর সুন্দর স্থান আছে! সুযোগ পেলে ইউরোপের কয়েকটি দেশ এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু জায়গা ঘুরতে চাই।

ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে। আপনার প্রিয় দল কোনটি?

ছোটবেলা থেকেই আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। খেলা খুব গভীরভাবে বিশ্লেষণ করি না, কিন্তু মেসির খেলা দেখতে ভালো লাগে। এ কারণেই আর্জেন্টিনার প্রতি আলাদা টান তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনা শুরু হয়েছে। ছাদে ছাদে উড়ছে পতাকা। প্রিয় দলের খেলা দেখার জন্য অপেক্ষা করছি।

ভক্তদের উদ্দেশে কিছু বলবেন?

দর্শকদের ভালোবাসা ছাড়া আমরা কিছুই নই। তারা যেভাবে আমার কাজগুলো গ্রহণ করছেন, তাতে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। সামনে আরও ভালো কাজ উপহার দেওয়ার চেষ্টা করব। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, আর বাংলা নাটকের পাশে থাকবেন।