Home Blog Page 104

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন মনিরার প্রার্থিতা বাতিল জীবা ও মাধবীর বহাল ৪৯ বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করে রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে মনিরার প্রার্থিতা বাতিলই থাকল। তবে ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন মনিরা শারমিন।

গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের আপিল শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় ইসি। শুনানিতে বিএনপি জোটের প্রার্থী জীবা আমিনা খান ও মাধবী মারমার মনোনয়নের বৈধতার বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দেওয়া হয়। ফলে এ দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ থাকছে।
এদিকে আপিল শুনানি শেষে গতকাল ৪৯ জনকে বৈধ ঘোষণা করে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে ইসি। অন্যদিকে, নির্ধারিত সময়ের পর মনোনয়ন দাখিল করা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন গ্রহণের জন্য ইসিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে আপিল শুনানিতে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, মনিরা শারমিনের আপিল আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে। তাঁর মনোনয়ন বাতিল থাকল। আরেক নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, মনিরার প্রার্থিতা রাখার কোনো সুযোগ দেখছে না ইসি।
এর আগে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার বাছাইকালে মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রোববার ইসিতে আপিল করেন তিনি।

মনিরা ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। গত ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেন। এর আগে একই বছরের মার্চে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনোনীত হন তিনি। তবে চাকরি ছাড়ার মাত্র সাড়ে চার মাস অতিবাহিত হওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী হন মনিরা।
শুনানিতে অংশ নেওয়ার পর মনিরা শারমিন সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি চাকরি হিসেবে আমি যে পর্যায়ে কাজ করেছি, সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো ক্ষমতা ছিল না। কাজেই আমি মনে করি না, এটি মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার মতো।

জীবা ও মারমার মনোনয়ন বৈধ 
শুনানিতে বিএনপি জোটের প্রার্থী জীবা আমিনা খানের মনোনয়ন বৈধতার বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দেয় ইসি। তাঁর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব ও সম্পদ গোপনের অভিযোগ তুলে আপিল করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, জীবার বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদন যথাযথ হয়নি। আপিলকারী প্রার্থী না হওয়ায় ওই আবেদন খারিজ করা হয়। ফলে তাঁর প্রার্থিতা বহাল থাকবে।

আপিলকারী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার হারুনর রশীদ বলেন, জীবা ২১ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দেন। ওই সময় পর্যন্ত তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বহাল ছিল। বিষয়টি জানানো হলেও কমিশন আপিল খারিজ করে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন।
বিএনপি জোটের আরেক প্রার্থী মাধবী মারমার মনোনয়নপত্রের বৈধতার বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক চন্দ্রা চাকমা। শুনানিতে আপিলটি খারিজ হয়। ফলে মাধবী মারমার মনোনয়নও বৈধ থাকল।

চন্দ্রা চাকমা বলেন, শুনানিতে বলা হয়েছে, আপিল আবেদনকারীকে সংক্ষুব্ধ প্রার্থী হতে হবে, ব্যক্তি নন। এটা আইনে আছে বলে আমাকে বলা হয়েছে। এই কারণে আমার করা আপিলটি গ্রহণ হয়নি। এখন আমরা হাইকোর্টে যাব।

বৈধ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ইসির
গতকাল ৪৯ বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে ইসি। তালিকায় বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২ এবং স্বতন্ত্র জোটের এক প্রার্থী আছেন।
বিএনপির বৈধ প্রার্থীরা হলেন সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।
জামায়াত জোটের বৈধ প্রার্থীরা হলেন নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন নাহার মুন্নি, মারদিয়া মমতাজ, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা সিদ্দিকা, সাজেদা সামাদ, সামসুন নাহার, মাহমুদা আলম মিতু, তাসমিয়া প্রধান, মাহবুবা হাকিম ও রোকেয়া বেগম। এছাড়া স্বতন্ত্র জোটের বৈধ প্রার্থী হচ্ছেন সুলতানা জেসমিন জুঁই।

আলজাজিরার বিশ্লেষণ বৈশ্বিক সংঘাতে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নড়বড়ে আজ নিউইয়র্কে এনপিটির পর্যালোচনা সম্মেলন শুরু

ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে বিরত রাখতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এটি তাদের প্রধান দাবিগুলোর একটি। দাবিটি না মানায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে তারা। এতে একটি বড় অন্যায্য যুদ্ধের সূচনা হয়। অথচ ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির শক্ত কোনো প্রমাণ মেলেনি। এরপরও যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ায় পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। কিছু দেশ উল্টো পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে। ফলে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম এখন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। গতকাল সোমবার আলজাজিরার এক বিশ্লেষণে এসব কথা উঠে এসেছে।

পরিস্থিতি যখন এই পর্যায়ে, তখন আজ মঙ্গলবার নিউইয়র্কে শুরু হচ্ছে এনপিটির ১১তম পর্যালোচনা সম্মেলন। এতে অংশ নেবে ইরানসহ ১৯১টি দেশ। ইরানে অন্যায্য হামলার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। এবারের সম্মেলনে চুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মহৎ অঙ্গীকারটি পরীক্ষার সম্মুখীন বলে মনে করা হচ্ছে।

১৯৭০ সালে এনপিটি চুক্তি কার্যকর হয়। এর মাধ্যমে অধিকাংশ দেশ বর্তমান বৈশ্বিক পারমাণবিক ব্যবস্থা মেনে নিয়েছে। চুক্তির অধীনে থাকা পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন দেশগুলো (ইরানসহ) কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন না করতে সম্মত হয়। অন্যদিকে স্বীকৃত পাঁচটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন ও রাশিয়া অস্ত্রের বিস্তার রোধ করতে এবং মজুত নিরস্ত্রীকরণে সচেষ্ট থাকতে সম্মত হয়েছে।

এনপিটির সব সদস্য দেশ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএএইএ) তত্ত্বাবধানে থাকা সুরক্ষা ব্যবস্থার অধীনে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি অর্জনের অধিকার রাখে। প্রতি পাঁচ বছর পরপর দেশগুলো চুক্তি মানা হচ্ছে কিনা, তা পর্যালোচনা করার জন্য মিলিত হয়। সম্মেলন চলবে আগামী ২২ মে পর্যন্ত।

ইরানের বিষয়টি এবারের সম্মেলনের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। তা হলো পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন রাষ্ট্রগুলোকে কোনো সুরক্ষা দেয় এনপিটি? আইএইএ ইরানের কোনো সুসংগঠিত পারমাণবিক কর্মসূচির প্রমাণ খুঁজে পায়নি, যা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিতও করেছে। তবে আইএইএ ইরানের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাতেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ক্ষিপ্ত হয়ে ইরানের ওপর হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু করে। এই জবরদস্তিমূলক পন্থা এনপিটির জন্য ক্ষতিকর।

নিউইয়র্কের পর্যালোচনা সম্মেলনে এখন এই অন্ধকারময় বিষয়টিই ঝুলে আছে। সম্মেলনে জমা দেওয়া ইরানের কার্যপত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করা হয়েছে। তেহরান চুক্তির চতুর্থ অনুচ্ছেদ এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির অধিকারের কথা উল্লেখ করেছে। দেশটি যুক্তি দেখিয়েছে, সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা এই চুক্তির মূল যুক্তিকেই লঙ্ঘন করে। ইরান এনপিটি গ্রহণ না করা ইসরায়েলের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

এদিকে এনপিটি সম্মেলনের স্থান যুক্তরাষ্ট্রে হওয়াটা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যদি যুদ্ধ না হতো, তবে মতপার্থক্য নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পূরক আলোচনার ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক একটি সুবিধাজনক স্থান হতে পারত। এরপরও বিশেষজ্ঞরা ইরানকে নিয়ে ইতিবাচক চিন্তা করার পক্ষে।

আগামী চার সপ্তাহ এনপিটির সদস্য দেশগুলোর অনেক কাজ করার সুযোগ আছে। সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনার ওপর হামলা অগ্রহণযোগ্য, এই দাবি নিশ্চিত করতে আওয়াজ তুলতে পারে। তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বিতর্কটিকে চুক্তির প্রকৃত শর্তাবলির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে মনে করিয়ে দিতে পারে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামিয়ে আনা এনপিটির কোনো আবশ্যিক শর্ত নয়। দেশগুলো ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্বচ্ছতা ও এনপিটির সদস্যপদ না থাকার কারণে সৃষ্ট আঞ্চলিক ভারসাম্যহীনতার বিষয়টিও উত্থাপন করতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর উচিত, যুদ্ধের মাধ্যমে এনপিটির মৌলিক অঙ্গীকারকে নতুন করে লেখা হতে না দেওয়ার বিষয়টি দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করা।

গত ২১ এপ্রিল ৩ হাজার ৭০৬ কােটি টাকায় নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ কমাচ্ছে সরকার

ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া ঋণ সমন্বয় করছে সরকার। উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে ঋণ কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। গত ৯ এপ্রিল ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ বেড়ে এক লাখ ১২ হাজার ৭৬১ কোটি টাকায় উঠেছিল। সেখান থেকে ১২ দিন পর ২১ এপ্রিল ১৫ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা কমে এখন ৯৭ হাজার ২৮২ কোটি টাকায় নেমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ কমে হয়েছে ৩ হাজার ৭০৬ কােটি টাকা।

জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে স্কেল বাস্তবায়নের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বাজার থেকে ঋণ নিয়ে সরকারি অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছিল। এ জন্য নিয়মিত নিলামের বাইরে গত ১ ও ৮ এপ্রিল বিশেষ নিলাম ডেকে বাজার থেকে বাড়তি ১০ হাজার কোটি টাকা তোলা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ ‘টাকা ছাপিয়ে’ নেওয়া হয়েছে কিনা–তা নিয়ে সম্প্রতি আলোচিত হচ্ছে। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, স্বাভাবিকভাবে যা নেওয়া যায়, তার মধ্যেই ঋণ নিচ্ছে সরকার। টাকা ছাপিয়ে নিচ্ছে না।

পুরো অর্থবছরের জন্য সরকারের ব্যাংক থেকে এক লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আড়াই মাসের বেশি বাকি থাকতেই ৮ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা বেশি নেয় সরকার। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ব্যয় সংকোচন নীতি ঘোষণা করেছে। এতে করে পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিক থেকে চাপ আপাতত কমেছে। ফলে এখন আবার ঋণ সমন্বয় করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের ২১ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকারের ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা। গত ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ব্যাংক খাতের এক লাখ ১২ হাজার ৭৬১ কোটি টাকার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ছিল ২৩ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা।  ৩০ মার্চ এক লাখ ৬ হাজার ৫১ কোটি টাকার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া হয় ৩২ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগের দিন গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ছিল ৭ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা। ওই সময় ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণ ছিল ৬৮ হাজার ২৩০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ট্রেজারি বিল-বন্ড ইস্যু এবং সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয় সরকার। বিল-বন্ড ইস্যু ছাড়াও জরুরি প্রয়োজনে উপায় উপকরণ আগাম এবং ওভারড্রাফটের মাধ্যমে সরকার ২৪ হাজার কোটি টাকা সরাসরি ঋণ নিতে পারে। গত মার্চ শেষে উপায় উপকরণ আগামের সীমার পুরো ১২ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়। ওভারড্রাফট খাতে সরকারের ঋণ ৩১ হাজার ৬৮ কোটি টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। গত ২১ এপ্রিল কমে ২ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকায় নেমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকার যেভাবেই ঋণ নিক তা ছাপানো টাকা হিসেবে বিবেচিত হয়। মূল্যস্ফীতিতে যার প্রভাব পড়ে।

বৃষ্টি হলেই সড়কে হাঁটুসমান পানি, দুর্ভোগে পৌরবাসী

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার কাঁঠালতলী মোড় থেকে পল্লীবিদ্যুৎ স্টেশন পর্যন্ত সড়কে সামান্য বৃষ্টি হলেই জমে যাচ্ছে হাঁটুসমান পানি। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনের মুখ বন্ধ থাকায় পানি নিষ্কাশন না হওয়ার কারণে এ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী ও পথচারীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

জানা গেছে, তিন বছর আগে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ওই সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ করে। পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনটির পশ্চিম প্রান্তের মুখ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ব্যক্তিমালিকানা জায়গায় পানি নিষ্কাশন করতে না দেওয়ায় সেখানে জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও এ ব্যাপারে মাথাব্যথা নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
মহিলা ডিগ্রি কলেজ মহল্লার বাসিন্দা ফরহাদ মিয়া বলেন, পল্লীবিদ্যুৎ স্টেশনসংলগ্ন সড়কে সবসময় পানি জমে থাকে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সেখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ড্রেনের মুখ বন্ধ থাকায় সবসময় ওই স্থানে পানি থেকেই যায়। বিষয়টি বহুবার পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যে কারণে পথচারীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
সুন্দরগঞ্জ কেজি স্কুলের শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তাদের স্কুলের সামনেই দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা। প্রায় তিন বছর ধরে প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা কষ্ট করে স্কুলে যাওয়া-আসা করছে। বৃষ্টিতে জমে থাকা পানির কারণে শিক্ষার্থীদের পোশাক এবং জুতা ভিজে যায়। সে জন্য বর্ষাকালে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসা বন্ধ করে দেয়।

ব্যাটারিচালিত অটোচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে পৌরসভার কাঁঠালতলী মোড় পর্যন্ত সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। দ্রুতগতিতে গাড়ি চালালে পানি ছিটকে পথচারীর জামাকাপড় নষ্ট হয়। এ নিয়ে পথচারীদের সঙ্গে প্রায়ই যানবাহন চালকদের বাগ্‌বিতণ্ডা লেগে যায়। দ্রুত জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।
সুন্দরগঞ্জ  মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো.  নাজির হোসেন বলেন, বৃষ্টি বাদলের সময় কলেজের শিক্ষার্থীদের কষ্ট করে কলেজে আসতে হচ্ছে। বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে চরম ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরো বলেন বিষয়টি পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানো হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বেলকা মসজিদ পাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ সেলিম মিয়া বলেন, তাঁকে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রতিদিন ওই সড়ক দিয়ে স্কুলে যাওয়া আসা করতে হয়।  বৃষ্টি বাদলের দিনে ওই স্থানে মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন পানিতে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়। সেই সঙ্গে সড়কের আশপাশ পথচারীদের গায়ে পানি ছিটকে পড়ে। এতে করে অনেকের জামা কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। জরুরী ভিত্তিতে সেখানকার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. খোকন রানা বলেন, সেখানে ড্রেন নির্মাণের সময় পৌর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তখন বিষয়টির সমাধান করেনি পৌর কর্তৃপক্ষ। পরে ওই অবস্থায় ড্রেন নির্মাণ সম্পন্ন করে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ ইউএনও ও পৌর প্রশাসক ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, পৌরসভায় ড্রেনের কাজ চলমান রয়েছে। সে কারণে অনেক ড্রেনের মুখ বন্ধ রয়েছে। সমস্যার বিষয়টি জানার পর পৌর সহকারী প্রকৌশলীকে পানি নিষ্কাশনের জন্য আপাতত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

টঙ্গীতে বাবা ও ছোট ভাইকে হত্যা, বড় ছেলের স্বীকারোক্তি

গাজীপুতে টঙ্গীতে নিজ ঘর থেকে ছেলের ও রেললাইনের পাশ থেকে বাবার মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। খালাতো বোনকে কেন্দ্র করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন নিহত সোহেল রানার বড় ছেলে সাইফুর রহমান সোহান (২৮)।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর সোহানকে আদালতের নির্দেশে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সোহেল রানার বড় বোন শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা দায়ের করেন।
গাজীপুরের মহানগর হাকিম জুবায়ের রশিদের আদালতে সোহান গতকাল ১৬৪ ধারা অনুযায়ী দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ-দক্ষিণ) মহিউদ্দিন আহমেদ।

তিনি জানান, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনার পারস্পরিকতা, সোহানের আচরণ ইত্যাদি পর্যালোচনা করে ঘটনার পর পরই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালতে দেওয়া সোহানের জবানবন্দি অনুযায়ী, তাঁর সঙ্গে তার এক খালাতো বোনের বিয়ে ঠিক হয়েছিল। তবে ১০ বছরের বড় হওয়া সত্ত্বেও ওই তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন ছোট ভাই সাকিবুর রহমান। বিষয়টি জানাজানি হলে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। গত শনিবার রাতে এই নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।
গত রোববার ভোরে সোহান তাঁর ছোট ভাই সাকিবের মুখ চেপে ধরে এবং হাত-পা বেঁধে ধারালো ব্লেড দিয়ে হাত ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করেন। ঘটনাটি বাবা সোহেল রানা দেখে ফেলেন। আতঙ্কিত সোহান তখন বিষয়টি ধামাচাপা দিতে একজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে বনমালা রেললাইনে নিয়ে যান।

সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে রাতের অন্ধকারে দুজন ব্যক্তি একজনকে ধরে রেললাইনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। রেললাইনের ওপর তাঁকে ফেলে রেখে দ্রুত সরে যায় তারা। কিছু সময় পর ট্রেনে কাটা পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ নিহত সোহেল রানার বড় ছেলে সাইফুর রহমান সোহানকে আটক করেছিল। ঘটনার পর তাঁর আচরণ ছিল রহস্যজনক। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে যাননি, বরং স্বজনদের ফোন করে হত্যার খবর জানাতে থাকে। কিন্তু তাঁর ফোন কলের সময়, বক্তব্য এবং বাস্তব ঘটনার মধ্যে অসংগতি পাওয়া যায়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ-দক্ষিণ) মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, প্রেমের কারণে প্রতিশোধ নিতে বড় ভাই একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বিদেশে কর্মী পাঠানো ৪২ শতাংশ কমেছে

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর গত দুই মাসে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মী পাঠানো বিপুল সংখ্যায় কমেছে। গত বছরের ১ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত এক লাখ ৪৩ হাজার ৩৫১ কর্মী বিদেশ গিয়েছিলেন। আর চলতি বছরের একই সময়ে গেছেন ৮২ হাজার ৫৬১ জন। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬০ হাজার ৭৯০ জন বা ৪২ দশমিক ৪০ শতাংশ কম।

২০২৪ সালের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিলের তুলনায় ওই সময় প্রায় দ্বিগুণ কর্মী বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। ২০২৪ সালের মার্চ এবং এপ্রিল মাসে ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪ জন কর্মী বিদেশ গিয়েছিলেন।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, জর্ডান নয়; বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার সিঙ্গাপুরেও কর্মী পাঠানো কমেছে। মালয়েশিয়া, ওমান, বাহরাইনের শ্রমবাজার আগের বছরগুলোর মতো বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশিদের জন্য। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অগ্রগতি নেই জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শ্রমবাজারে। কর্মী পাঠানোয় সমঝোতা স্মারক সই হলেও অস্ট্রেলিয়া, গ্রিসের মতো দেশগুলোর শ্রমবাজার খোলেনি।

এ ছাড়া রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া, পোল্যান্ডের মতো ইউরোপের শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে। এসব দেশের ভিসা পেতে ভারতের নয়াদিল্লিতে দূতাবাসে যেতে হয় বাংলাদেশিদের। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতের ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে ওঠায় দিল্লি যেতে পারছেন না কর্মীরা। আবার ইউরোপের এই দেশগুলোতে গিয়ে কর্মস্থল ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় কর্মী নিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে নিয়োগকারীরা।
ইউরোপের দেশে প্রবেশের পথ হয়ে ওঠায় কিরগিজস্তানের শ্রমবাজারও বাংলাদেশিদের জন্য প্রায় বন্ধের পথে। বৈধ চাকরি দেখিয়ে রাশিয়ায় পাঠিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে ঠেলে দেওয়ায় দেশটির শ্রমবাজারও সংকুচিত হয়েছে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য।

সরকারের ভাষ্য, বন্ধ শ্রমবাজারগুলো খুলতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা, যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি হলে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মী পাঠাতে যোগাযোগ এবং কর্মীদের কাজের ও ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে একযোগে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর সুফল মিলবে।

সৌদিনির্ভর বৈদেশিক কর্মসংস্থান
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে ১১ লাখ ৩২ হাজার ৩৩৭ কর্মী বিদেশে চাকরির ছাড়পত্র নেন। তাদের মধ্যে ৭ লাখ ৫৫ হাজার ২০৯ জনের গন্তব্য ছিল সৌদি আরব। তা ছিল মোট চাকরির ৬৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ কাতারে গত বছর এক লাখ সাত হাজার ৬০৩ জন কর্মী গিয়েছেন। কুয়েতে গিয়েছেন ৪২ হাজার ৭৩৮ জন। আরব আমিরাতে ১৩ হাজার ৭৫৪ জন গিয়েছিলেন। জর্ডান যেতে ১২ হাজার ৩২৯ জন কর্মী ছাড়পত্র নেন। সব মিলিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের (জিসিসি) দেশগুলোতে কর্মী গিয়েছেন ৮ লাখ ৮৮ হাজার ৮৯৫, অর্থাৎ বাংলাদেশি কর্মীর ৭৮ শতাংশের কর্মসংস্থান হয়েছে এসব দেশে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর আগ্রাসন শুরু করে। প্রতিরোধে ইরান সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এর প্রভাবে দেশগুলোতে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান কমেছে।

গত বছরের ১ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত সৌদি আরব গিয়েছিলেন এক লাখ দুই হাজার ১০৪ জন কর্মী। চলতি বছরে একই সময়ে গিয়েছেন ৪৪ হাজার ৮৭৬ জন। কর্মসংস্থান কমেছে ৫৭ হাজার ২২৮ বা ৫৬ শতাংশ।

গত বছরের ১ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত কাতার গিয়েছিলেন ১৪ হাজার ৫৩২ জন। এ বছর গিয়েছেন চার হাজার ৭২৪ জন। কর্মসংস্থান কমেছে ৬৯ শতাংশ। কুয়েত গিয়েছিলেন তিন হাজার ৫৫৮ জন। এ বছর গিয়েছেন দুই হাজার ৬১৩ জন। কর্মসংস্থান কমেছে ২৭ শতাংশ।

তবে যুদ্ধের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ জর্ডান এবং আরব আমিরাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও সংখ্যার বিবেচনায় তা সামান্যই। গত বছরের ১ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত জর্ডান গিয়েছিলেন এক হাজার ৬২৩ জন। চলতি বছরে একই সময়ে গিয়েছেন এক হাজার ৯৯৯ জন। আরব আমিরাত গিয়েছিলেন ৫৪০ জন। এবার গিয়েছেন এক হাজার ৯৬৭ জন।

পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধের আগে গত বছরের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি এবং চলতি বছরের একই সময়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের প্রায় সমান ছিল। ২০২৫ সালের প্রথম দুই মাসে বৈদেশিক সংস্থান ছিল এক লাখ ৬০ হাজার ২৯১ জনের। চলতি বছরে গেছেন এক লাখ ৬০ হাজার ৭২৬ জন। তবে কমেছে সামগ্রিক অভিবাসন। গত বছরের প্রথম চার মাসে বিদেশে চাকরি নিয়ে দেশ ছাড়েন তিন লাখ তিন হাজার ৬৪২ জন। এই সংখ্যা চলতি বছরের প্রথম চার মাসে দুই লাখ ৪৩ হাজার ২৮৭ জন।

যুদ্ধ নেই এমন দেশেও বাড়েনি
২০২৪ সালের মে মাসে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধের পর সিঙ্গাপুরই মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে সবচেয়ে বড় ভরসা। গত বছরে ৭০ হাজার ৮৩৫ বাংলাদেশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে এই সংখ্যা ২২ হাজার ১২৬। অর্থাৎ এই শ্রমবাজার আমাদের জন্য প্রসারিত হয়নি।

উচ্চ বেতন এবং ভালো কর্মপরিবেশের জন্য খ্যাতি রয়েছে জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার। এই দুই দেশেও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অগ্রগতি হচ্ছে না। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে জাপানে চাকরি নিয়ে গিয়েছেন ৫৯০ জন। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল এক হাজার ৫৬৪। ২০২৪ সালে ছিল এক হাজার ৫৮।

দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০২৪ সালে চাকরি নিয়ে যান দুই হাজার ৮২৬ জন বাংলাদেশি। ২০২৫ সালে কর্মসংস্থান হয় দুই হাজার ৪৩৬। চলতি বছর প্রথম চার মাসে এই সংখ্যা ৪৮৪। নিম্ন জন্মহারের কারণে জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় জনসংখ্যা কমছে। কর্মী ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশ অনেক বছর ধরেই সুযোগ নেওয়ার কথা বলছে। জাপানে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। তবে পরিসংখ্যান বলছে, অগ্রগতি নেই।

একই অবস্থা ইতালি, পর্তুগালের মতো উন্নত দেশের শ্রমবাজারের ক্ষেত্রে। গত বছরের প্রথম চার মাসে বৈধপথে ইতালিতে যান এক হাজার ২২২ জন। চলতি বছরে এই সংখ্যা তিন হাজার ২৬১ জন। অবৈধ পথে ইতালিতে যাওয়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে চাপ দিচ্ছে দেশটি। গত বছরের প্রথম চার মাসে পর্তুগাল গিয়েছিলেন দুই হাজার ৮৪ জন। চলতি বছর গেছেন দুই হাজার ৬৯ জন।

বন্ধ শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা
চলতি মাসের শুরুতে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন মালয়েশিয়া সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। রিক্রুটিং এজেন্সি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় দুই বছর কর্মী যাওয়া বন্ধ রয়েছে। গত ৯ এপ্রিল যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশ জানিয়েছে, শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবে। এতে বলা হয়, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতের চাহিদা অনুযায়ী শ্রমবাজার খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে দুই দেশ একমত। একই সঙ্গে একটি সুষ্ঠু, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় পৌনে পাঁচ লাখ কর্মী পাঠায় বাংলাদেশ। সে দেশের সরকার সেবার যে ১০০ বাংলাদেশি এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর কাজ দেয়, তারা সিন্ডিকেট হিসেবে পরিচিতি পায়। সরকার কর্মীপ্রতি ব্যয় নির্ধারণ করেছিল ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। তবে গড়ে নেওয়া হয় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। সিন্ডিকেটের কারণে শেষ পর্যন্ত সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও ১৮ হাজার কর্মী মালয়েশিয়া যেতে পারেননি।

জনশক্তি ব্যবসায়ী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মালিকদের সংগঠন বায়রা আগেরবার যোগ্যতার ভিত্তিতে এজেন্সি বাছাইয়ের নামে সিন্ডিকেট করেছিল। এবারও কি একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে. নাকি সবার জন্য বাজার উন্মুক্ত থাকবে, তার ওপর শ্রমবাজার খোলার সুফল নির্ভর করবে। সিন্ডিকেট হলে কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

বাজার হারাচ্ছে বাংলাদেশ
গতবছর আরব আমিরাত সফরে গিয়ে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, জাল নথি, ভুয়া অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা সনদে বিদেশ যাওয়ায় বাংলাদেশিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিদেশ গিয়ে মাথা হেট হয়।

এই অনিয়মের কারণে ইউরোপের দেশ রোমানিয়া, পোল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রায় বন্ধের পথে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৪০ হাজার কর্মী রোমানিয়া গিয়েছিলেন। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে এই সংখ্যা ৫৪১।

অভিবাসী উন্নয়ন কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক শাকিরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, কর্মীরা রোমানিয়া গিয়ে চাকরিতে যোগ দেন না। পালিয়ে ইতালি ও জার্মানি চলে যান। এতে নিয়োগকারীরা আর বাংলাদেশি কর্মী নিতে আগ্রহী নন। রাশিয়ার শ্রমবাজার বেশ ভালো ছিল। গত বছর প্রায় পাঁচ হাজার কর্মী গিয়েছিলেন। এবার সংখ্যাটি কমছে। কারণ অনেকে লোভে পড়ে যুদ্ধে যান। সাধারণ চাকরিতে মাসিক বেতন হয়তো ৫০ হাজার টাকা। যুদ্ধে গেলে তা আড়াই লাখ টাকা।

সরকার ও ব্যবসায়ীরা কী বলছে
বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, শুধু যুদ্ধ নয় কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার আরও কিছু কারণ রয়েছে। যেমন সৌদি আরবে যেতে এখন ‘তাকামুল’ নামে পরীক্ষা দিতে হয়। এতে পাস করতে না পারলে ভিসা দেওয়া হয় না। আবার সৌদিতে গিয়ে চাকরি, কাজ, বেতন না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণেও অভিবাসন কমছে। ওমান, বাহরাইন, মালয়েশিয়ায় তো কয়েক বছর ধরে বন্ধ। সে

কারণে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে না।
ইউরোপের দেশগুলোয় কর্মসংস্থান না হওয়ার বিষয়ে এই ব্যবসায়ী বলেছেন, ভিসার জন্য ভারতে যাওয়ার ভিসা পাওয়াই কঠিন হয়ে গেছে। সরকার যদি ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ভিএফএসের ব্যবস্থা করতে পারে, তাহলে ঢাকা থেকে ভিসা পাওয়া যাবে। তখন ইউরোপে কর্মসংস্থান বাড়বে।

প্রবাসী কল্যাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন সমকালকে বলেছেন, যুদ্ধের কারণে যেসব দেশে কর্মসংস্থান কমেছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা ও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। দেশগুলো আশ্বস্ত করেছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে চাহিদা অনুযায়ী কর্মী নিয়োগ শুরু করবে। বাংলাদেশকে জোগান ঠিক রাখতে বলেছে।

ইউরোপের শ্রমবাজারের বিষয়ে মাহদী আমিন বলেছেন, ওইসব দেশের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে ভিসা সহজীকরণের বিষয়ে। জাপানে যাওয়ার জন্য ভাষা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকার কাজ করছে। নতুন শ্রমবাজার খোঁজা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়াসহ যেসব দেশের সঙ্গে অতীতে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, সেগুলোকে কার্যকরে ফলোআপ করা হচ্ছে। মালয়েশিয়া, ওমানের মতো পুরোনো বাজারগুলো খুলতে এরই মধ্যে চেষ্টা শুরু হয়েছে। মালয়েশিয়া থেকে ইতিবাচক সাড়া এসেছে।

রূপপুরে জ্বালানি লোডিং আজ পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু আগামী জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট যাবে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে

ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ। দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরু হবে আজ মঙ্গলবার। এর মধ্য দিয়েই পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মার তীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প চূড়ান্ত গন্তব্যে প্রবেশ করবে। বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করবে। খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, এ প্রকল্প শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়; প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের প্রতীক।

দুটি ইউনিট মিলে কেন্দ্রটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। এর প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং হবে। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও চলছে পুরোদমে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া নির্মাণকালীন প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ কাজ করছে প্রকল্প এলাকায়।

আগামী আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। একই বছরের জুনে দ্বিতীয় ইউনিটে ফুয়েল লোডিং বা জ্বালানি স্থাপনের কাজ শুরু হবে। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে রূপপুরের দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের কাজ শেষ হয়েছে গত বছরের মে মাসে। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সঞ্চালন লাইনের কাজ চলছে পুরোদমে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তা শেষ হবে বলে জানিয়েছে পিজিসিবি।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. শৌকত আকবর বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং একটি বড় মাইলফলক। এটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রথম ধাপ, যা নির্মাণ পর্যায় থেকে কার্যক্রম শুরুর দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, ফুয়েল লোড করা মানেই বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বরং এটি একটি সূক্ষ্ম ও দীর্ঘ কারিগরি প্রক্রিয়ার শুরু। জ্বালানি লোড করার পর রিঅ্যাক্টরের ভেতরে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত ও টেকসই চেইন রিঅ্যাকশন বা ‘ফিশন বিক্রিয়া’ শুরু করা হয়। একে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি। শুরুতে রিঅ্যাক্টরকে তার পূর্ণ ক্ষমতার মাত্র ১ থেকে ৩ শতাংশ স্তরে রেখে নিউক্লিয়ার ফিজিকসের প্যারামিটারগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

জ্বালানি লোডিং ও বিদ্যুৎ উৎপাদন
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এর রিঅ্যাক্টর। এখানেই ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোড করা হবে। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মূলত ‘নিউক্লিয়ার ফিশন’ বা নিউক্লিয়াস বিভাজন প্রক্রিয়ায় কাজ করবে। পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়ামের নিউক্লিয়াস বিভাজনের মাধ্যমে প্রচুর তাপশক্তি উৎপন্ন হয়। এ তাপশক্তি দিয়ে পানিকে উচ্চচাপে বাষ্পে পরিণত করে টারবাইন ঘোরানো হয়, যা থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় ও নিয়ন্ত্রিত চেইন রিঅ্যাকশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চলে।
রিঅ্যাক্টরের ডিজাইন (ভিভিআর-১২০০) অনুযায়ী, ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি রিঅ্যাক্টর কোরে স্থাপন করতে হবে, যার জন্য সময় লাগবে ৩০ দিন। এ প্রক্রিয়া অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে করতে হয়।

জ্বালানি লোডিং শেষে শুরু হবে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ। এ পর্যায়ে ডিজাইন অনুযায়ী নিউক্লিয়ার ফিশন রিঅ্যাকশন ঘটানো হয়। এ সময় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে, যার জন্য প্রায় ৩৪ দিন সময় প্রয়োজন হয়। পরীক্ষা শেষে রিঅ্যাক্টরের সক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে ৩%, ৫%, ১০%, ২০%, ৩০% এ উন্নীত করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে ৪০ দিন। রিঅ্যাক্টরের পাওয়ার ৩০ শতাংশে উন্নীত হলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। পরে ধাপে ধাপে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি চলবে নিরাপত্তাবিষয়ক নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সব মিলে জাতীয় গ্রিডে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগবে প্রায় ১০ মাস।

বিদ্যুৎ মিলবে কতদিন
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ৬০ বছর। এই সময়ে এখান থেকে পাওয়া যাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ। তবে প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সাপেক্ষে আরও ৩০ বছর পর্যন্ত কেন্দ্রটির আয়ু বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কেন্দ্রটিতে একবার জ্বালানি লোড করার পর তা দিয়ে চলবে টানা দেড় বছর। ফলে অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো তেল, গ্যাস কিংবা কয়লা কেনার ঝক্কি-ঝামেলা নেই। দেড় বছর পর এক-তৃতীয়াংশ করে জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে।

আর্থিক বিবেচনায় বাংলাদেশের একক প্রকল্প হিসেবে সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করছে রাশিয়া। প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পের ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ দিচ্ছে রাশিয়া, যেটা ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। শুরুতে প্রতি ইউনিটের খরচ ৬ টাকা ধরা হলেও অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে এখন দাম ১২ টাকা পড়বে।

প্লাস্টিক সার্জারি নিয়ে ট্রল, সত্যটা জানালেন কেয়া পায়েল

ছোট পর্দার অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। আট বছরের বেশি সময় ক্যারিয়ারে উপহার দিয়েছেন বহু দর্শকপ্রিয় নাটক। বিশেষ করে ‘এটা আমাদেরই গল্প’ ধারাবাহিক নাটকে মেহেরীন চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রসংশা কুড়িয়েছেন। এসবের মাঝে তার শারীরিক পরিবর্তন বা প্লাস্টিক সার্জারি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বেশ গুঞ্জন ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নেটিজেনদের দাবি- সৌন্দর্য বাড়াতে এই অভিনেত্রী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন।

সম্প্রতি মাছরাঙা টিভি এক একটি পটকাস্টে প্লাস্টিক সার্জারি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন কেয়া পায়েল। সেখানেই প্রথমবার নিজের সার্জারি গুঞ্জন ও ট্রল নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

পায়েল বলেন, ‘এই প্রথম আমি বিষয়টি নিয়ে কথা বলছি। তবে আমি বলব, প্রত্যেকটি মানুষ জন্মগতভাবেই সুন্দর। আমি ছোটবেলা থেকেই নিজের সৌন্দর্য নিয়ে প্রশংসা শুনে বড় হয়েছি। আমার কাছে প্রকৃতিক সৌন্দর্যটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কেয়া পায়েল। ছবি: ফেসবুক

কেয়া পায়েল। ছবি: ফেসবুক

কেয়া পায়েল জানান, নিজের একটি বিউটি স্যালুন থাকায় সৌন্দর্য নিয়ে আরও বেশি কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয় তার। সেই আগ্রহ থেকেই চেহারায় সামান্য পরিবর্তনের চিন্তা আসে তার।

এ বিষয়ে কেয়া পায়েল বলেন, ‘কখনো আমার মধ্যে এমন উদ্দেশ্য ছিল না যে বাড়তি কিছু করে আমার সৌন্দর্য বাড়াতে হবে। কারণ, আমি যেমন আছি তেমনই খুশি। তবে টুকটাক দুই একটা জিনিস একটু জাস্ট অ্যাড করেছি। আর তাতেই আমার ভক্তরা এমনভাবে ক্ষেপে গেল। তারা এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। তাদের এই অবস্থা দেখে আমি মনে মনে বললাম ভাই মাফ চাই, আর হবে না।’

বাইরের দেশের তারকারা এমন পরিবর্তন করলে সেটিকে গ্রুমিং বলা হয় অথচ দেশের শিল্পীদের ক্ষেত্রে ট্রল করা হয় কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে দেশের মানুষের মানসিকতা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী।

কেয়া পায়েল। ছবি: ফেসবুক

কেয়া পায়েল। ছবি: ফেসবুক

কেয়া পায়েলের কথায়, ‘আমাদের দেশের মানুষ একটু অতি আবেগী। একজন যদি বলা শুরু করলে অন্যরাও না জেনেই বলা শুরু করবে। তারা জানেই না কী হয়েছে। এমনকি আমার পাঁচ বছর আগের ছবি দেখেও এখন মন্তব্য করে। এই হুজুগে মানসিকতা আমাদের পুরো জাতির মধ্যেই রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘রাস্তায় কোনো ঘটনা ছাড়াই শুধু ভিড় দেখে মানুষ জড়ো হয়। সেখানে কী হচ্ছে তা না জেনেই মানুষ দাঁড়িয়ে যায়। এই মানসিকতা আসলে অনেক দিন ধরে প্র্যাকটিস হচ্ছে।’

বাংলাদেশকে ১৮৩ রানের লক্ষ্য দিল নিউজিল্যান্ড

ক্লার্ক ও ক্লেভারের হাফ সেঞ্চুরির সঙ্গে নিক কেলির দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৬ উইকেটে ১৮২ রানের পুঁজি পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। জিততে হলে ১৮৩ রান করতে হবে বাংলাদেশকে।

কেলিকে ফেরালেন শরিফুল

শরিফুলের স্লোয়ারে তানজিম হাসান সাকিবকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন কেলি। ২৭ বলে ৩৯ রান করে ফিরেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। ১৮.৩ ওভারে নিউজিল‍্যান্ডের রান ৬ উইকেটে ১৬৪। ক্রিজে জশ ক্লার্কসনের সঙ্গী স্মিথ।

 ২৭ বলে ৩৯ রান করেন কেলি

২৭ বলে ৩৯ রান করেন কেলি

আলোকস্বল্পতায় বন্ধ বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ

ম্যাচের ১৬.৩ ওভারের পর আলোকস্বল্পতায় বন্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ। খেলা বন্ধের আগে নিউজিল্যান্ড ৫ উইকেটে ১৫১ রান করেছে।

ফক্সক্রফটকে বোল্ড করলেন মেহেদী

শেখ মেহেদী ৩ রান করা ফক্সক্রফটকে বোল্ড করে ফিরিয়েছেন। ১৩০ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় কিউইরা। ১৫ ওভারে নিউজিল‍্যান্ডের রান ৫ উইকেটে ১৩০। ক্রিজে নিক কেলির সঙ্গী জশ ক্লার্কসন।

ছবি- এএফপি

ছবি- এএফপি

১১৭ রানে ৪ উইকেট নেই কিউইদের

নিউজিল্যান্ডের রানের গতিতে লাগাম টেনে ধরেছে বাংলাদেশ। এবার কিউই শিবিরে আঘাত হানলেন পেসার তানজিম হাসান সাকিব। তার বলে বড় শট খেলতে গিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন বেভন জ্যাকবস। মাত্র ১ রান করেই বিদায় নিতে হয় জ্যাকবসকে। এতে ১১৭ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে নিউজিল্যান্ড। ক্রিজে কেলির সঙ্গী হয়েছেন ফক্সক্রফট। ১৪ ওভারে নিউজিল‍্যান্ডের রান ৪ উইকেটে ১২৭।

ক্লার্ককেও ফেরালেন রিশাদ

৪৪ রানে জীবন পেয়ে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন ক্লার্ক। তবে তাকে বেশিদূর যেতে দেননি রিশাদ। তার বলে তাওহিদ হৃদয়ের ক্যাচ হয়ে ফিরেছেন কিউই এই ব্যাটার। এটি রিশাদের দ্বিতীয় শিকার।

ক্লেভারকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙলেন রিশাদ

দশম ওভারের প্রথম বলে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়েছিলেন ক্লার্ক। বল হাতে নিয়েও রাখতে পারেননি সাইফ। খানিক বাদেই ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন ক্লেভার। অন্যদিকে হাফ সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে আছেন ক্লার্কও। ওভারের চতুর্থ বলে হাফ সেঞ্চুরি করা ক্লেভারকে এলবিডব্লিউ করে আউট করেন রিশাদ। ১০ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১০০ রান। ৪৫ রানে অপরাজিত আছেন ক্লার্ক।

ছবি- এএফপি

ছবি- এএফপি

ক্লার্ক-ক্লেভারের জুটি ভোগাচ্ছে বাংলাদেশকে

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে স্বাগতিক বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালাচ্ছেন কাটেনে ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার। পাওয়ার প্লে-র সুবিধা কাজে লাগিয়ে এই জুটি কিউইদের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দিয়েছে।

শুরুতে ওপেনার রবিনসন রান আউট হয়ে ফিরলেও সেই চাপ মুহূর্তেই সামাল দেন ক্লার্ক ও ক্লেভার। মাত্র ২৮ বলে এই জুটি স্কোরবোর্ডে যোগ করে অবিচ্ছিন্ন ৫০ রান। পাওয়ার প্লের প্রতিটি ওভারেই বাউন্ডারি আদায় করে নিয়েছেন তারা। টাইগার বোলাররা কাউকেই তেমন কোনো পরীক্ষায় ফেলতে পারেননি।

৯ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৯০ রান। ক্লার্ক ৪৪ এবং ড্যান ক্লেভার ৪৩ রানে অপরাজিত থেকে ব্যাটিং করছেন। একটি উইকেটের দেখা পেতে মরিয়া হয়ে লড়ছেন বাংলাদেশের বোলাররা।

ছবি- এএফপি

ছবি- এএফপি

হৃদয়ের থ্রোয়ে রান আউট রবিনসন

চট্টগ্রামের আকাশ মেঘে ঢাকা থাকায় ভরদুপুরেও ফ্লাড লাইটের আলোয় চলছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড লড়াই। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই তাওহিদ হৃদয়ের দুর্দান্ত এক থ্রোয়ে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন ওপেনার টিম রবিনসন। ১ বল খেলে কোন রান না খেলেই ফিরলেন তিনি।

এর আগে শরিফুল ইসলামের করা প্রথম ওভার থেকে দুই চারসহ ১১ রান তুলেছিল নিউজিল্যান্ড। ৬ ওভার শেষে সফরকারীদের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৬১ রান। ক্রিজে ক্লার্কের সঙ্গী ড্যান ক্লেভার।

এই ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হলো তরুণ পেসার রিপন মণ্ডলের। এর আগে এশিয়ান গেমসে তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও মূল জাতীয় দলের হয়ে এটিই তার প্রথম ম্যাচ। তিন পেসার, দুই স্পিনার ও ছয় ব্যাটসম্যান নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে স্বাগতিকরা। প্রথমবার ডাক পাওয়া আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইনের অভিষেক হচ্ছে না আজ। এছাড়া একাদশের বাইরে রয়েছেন নুরুল হাসান সোহান, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ও নাসুম আহমেদ।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টসে জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন লিটন। ফলে আগে ফিল্ডিং করছে বাংলাদেশ। ম্যাচ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে বড় ধাক্কা খেয়েছে নিউজিল্যান্ড শিবির। নিয়মিত অধিনায়ক টম ল্যাথাম চোটের কারণে আজকের ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন। গতকাল নেটে ব্যাটিং অনুশীলনের সময় ডান পায়ের বুড়ো আঙুলে আঘাত পান তিনি। ল্যাথামের অনুপস্থিতিতে আজ নিউজিল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নিক কেলি। নিউজিল্যান্ডের ১৩তম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে আজ তার অভিষেক হলো। কিউইদের হয়ে এই ম্যাচে অভিষেক হচ্ছে নাথান স্মিথ ও ম্যাট ফিশারের।

দীর্ঘ ১২ বছর পর চট্টগ্রামের এই ভেন্যুতে টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমেছে নিউজিল্যান্ড। এই মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই তাদের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। চট্টগ্রামের এই ভেন্যুতে দিনের বেলা হওয়া আগের পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই জয়ের রেকর্ড রয়েছে টাইগারদের।

বাংলাদেশ একাদশ: লিটন দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, সাইফ হাসান, তাওহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব, শরিফুল ইসলাম ও রিপন মণ্ডল।

নিউজিল্যান্ড একাদশ: টিম রবিনসন, কেটিন ক্লার্ক, ড্যান ক্লেভার, নিক কেলি (অধিনায়ক), বিজে জ্যাকবস, ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, ইশ সোদি, ম্যাট ফিশার ও বেন লিস্টার।

পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে রাশিয়ায় আরাগচি, ফোন করতে বললেন ট্রাম্প

পাকিস্তানের ইসলামাবাদ থেকে রাশিয়ায় গেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সেখানে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর আলোচনা করার কথা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইলে, ইরানি নেতাদের ফোন করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন প্রতিনিধিদের পাকিস্তান সফর বাতিলের সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্প এখন ফোনে আলোচনা চালানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। স্থানীয় সময় রোববার ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘আলোচনা করতে চাইলে তারা আমাদের কাছে আসতে পারে। অথবা ফোন করতে পারে। আমাদের সঙ্গে নিরাপদে যোগাযোগের লাইন আছে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘বিষয়টা খুবই সহজ। তাদের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না। চুক্তিতে এটি না থাকলে বৈঠক করার কোনো কারণ নেই।’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি আলোচনায় এখনো পারমাণবিক কর্মসূচি অন্তরায় হয়ে আছে। ইরান দাবি করছে, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারকে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দিক।

এদিকে রাশিয়ায় পৌঁছে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছেন। সোমবার তিনি বলেন, মার্কিন পক্ষের অতিরিক্ত দাবির কারণে আগের দফার আলোচনা কিছুটা অগ্রগতি সত্ত্বেও লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।

আরাগচি গত শুক্রবার থেকে ঝটিকা সফরের মধ্যে আছেন। ওইদিন পাকিস্তানে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা পর তিনি ওমানে যান। সেখান থেকে আবার পাকিস্তানে ফেরেন। সোমবার রাশিয়ায় গেলেন। মস্কোতে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হতে পারে।

এদিকে দুটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শান্তি আলোচনা নিয়ে পর্দার আড়ালে প্রচেষ্টা চলছে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরান পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে লিখিত বার্তা পাঠিয়েছে। এতে পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন বিষয়ের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। তবে ফার্স জানিয়েছে, এই বার্তাগুলো আনুষ্ঠানিক আলোচনার অংশ নয়।

দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস রোববার জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ শেষ করতে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। প্রস্তাবের মূল বিষয় হলো- হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা। পারমাণবিক আলোচনা পরবর্তী পর্যায়ের জন্য রেখে দেওয়ার কথাও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-তেও অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনটি উদ্ধৃত করা হয়েছে।