Home Blog Page 111

হজ করতে সৌদি পৌঁছেছেন ৫৮ হাজার ৩৪৭ বাংলাদেশি

হজ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত ১৫০টি হজ ফ্লাইটে মোট ৫৮ হাজার ৩৪৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

শনিবার রাত ৩টায় প্রকাশিত হজ অফিসের এক বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বুলেটিনে বলা হয়েছে, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন। মোট ৬৬০টি এজেন্সি এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার মধ্যে ৩০টি প্রধান এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি রয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৭৫টি ফ্লাইটে ২৯ হাজার ৭০৪ জন; সৌদি এয়ারলাইন্সের ৫৩টি ফ্লাইটে ২০ হাজার ২৩৬ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৪৫৬ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে গেছেন। বাকী যাত্রীরা নির্ধারিত এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সৌদি আরবে পৌঁছাবেন।

গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মোট হজযাত্রীর মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করবেন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে, আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। হজ পালন শেষে আগামী ৩০ মে জেদ্দা থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। আগামী ৩০ জুন শেষ ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর মৃত্যুতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর শোক

দেশের শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

শনিবার দেওয়া এক শোকবার্তায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শুক্রবার রাতে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মিজানুর রহমান সিনহা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

দেশের ওষুধ শিল্পের বিকাশে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মিজানুর রহমান সিনহা। পাশাপাশি তিনি স্বাস্থ্য খাতেও অবদান রেখে গেছেন।

স্বামীকে হত্যার পর মরদেহের খণ্ডিত অংশ ফ্রিজে রাখার চেষ্টা, স্ত্রী আটক

শরীয়তপুরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। খণ্ডিত মরদেহের কিছু অংশ ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদার (৪২) ও তার স্ত্রী আসমা আক্তার (৩৫)। প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। এটি উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল তাদের।

অভিযুক্ত আসমা আক্তার দাবি করেন, স্বামী প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। মঙ্গলবার রাতে ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি রড দিয়ে আঘাত করলে স্বামী মাটিতে পড়ে যান। তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারিনি এত বড় ঘটনা হয়ে যাবে।’

পুলিশ বলছে, ঘটনার পর হত্যাকাণ্ড গোপন করতে মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়। হাড় ও মাংস আলাদা করে দেহাংশ একটি ড্রামে ভরে বাসার ভেতরে রাখা হয় প্রায় তিন দিন। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি অটোরিকশা ভাড়া করে মরদেহের কিছু অংশ বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, দেহের মাংসের অংশগুলো শরীয়তপুর শহরের পালং স্কুল এলাকার আগের একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করেন আসমা আক্তার। তবে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসমা আক্তার হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে একই দিন বিকেলে নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীর থেকেও নিহতের চারটি হাত-পা উদ্ধার করা হয়েছে।

পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখা হয়। পরে দেহাংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত নারীকে আটক করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ওসি।

ধর্ষণচেষ্টার বিচার দাবি জাবির প্রক্টরকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা, কার্যালয়ে তালা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বহিরাগত কর্তৃক এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে আগামীকাল রোববার থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছেন তারা।

তারা বলছেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থতা, তথ্য গোপন এবং বারবার আশ্বাস ভঙ্গ করে প্রশাসন চরম ব্যর্থতা ও অসততার পরিচয় দিয়েছে।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা এ ঘোষণা দেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে দুটি দরজার তালা ভেঙে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হওয়ায় এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থী ফারজানা তাবাসসুম বলেন, আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি ছিল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হলে প্রক্টরিয়াল টিমের পদত্যাগ করতে হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও অপরাধী গ্রেপ্তার হননি। উল্টো প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করেছে এবং নিজেদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন তারা। ১৩ মে উপাচার্যের সামনে উত্থাপিত দাবিগুলো তিনি উপস্থিত থেকে মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং স্বাক্ষরের মাধ্যমে তা স্বীকারও করেন। কিন্তু পরে প্রশাসন প্রকাশ্যে সেই অবস্থান অস্বীকার করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কার্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার যেফরুল হাসান চৌধুরী সজল বলেন, প্রক্টর অফিসে এখনও তালা ঝুলছে।

দুপুর ১টার দিকে প্রক্টর রাশিদুল আলম কার্যালয়ের সামনে এলেও ভেতরে প্রবেশ করেননি। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করবে এবং তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশা করেন।

এর আগে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলমের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টারজান চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপাচার্যের (ভিসি) বাসভবনের সামনে রাতভর অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।

জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন ছিল পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ: পঞ্চগড়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। শুক্রবার বিকেলে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সোনাচান্দি এলাকায় নদীর বাঁধ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে পরিকল্পনা করেছিলেন যে, আমাদের পদ্মা নদীর ওপর ব্যারাজ নির্মাণ করতে হবে। পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করলে আমরা দক্ষিণাঞ্চলের ২৪টি জেলা এবং ১৬৩টি উপজেলায় নদীর প্রবাহমানতা ধরে রাখতে পারব। আমাদের ৫৪টি নদী ভারতের সঙ্গে এবং ৩টি মিয়ানমারের সঙ্গে অভিন্ন। এরই মধ্যে পদ্মা নদীর ওপর ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আজাদ বলেন, দেশের অভিন্ন নদীর প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আমরা একনেকে পদ্মা ব্যারাজের প্রকল্প পাস করে যেমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি, ঠিক তদ্রূপ অল্প দিনের মধ্যে আমাদের যে ফারাক্কা বাঁধ আছে, সেই ফারাক্কা চুক্তিও আমরা বাস্তবায়ন করব।

আমাদের অভিন্ন নদীগুলো আছে, সেগুলোর প্রবাহমানতা ফিরিয়ে আনার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্য দিয়ে তারা এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। এই নদীমাতৃক বাংলাদেশকে যদি আগামী দিনে বাঁচাতে হয়, তাহলে এই নদী-খাল-জলাশয় খনন, পুনঃখনন এবং পুনরুদ্ধার করতে হবে। আমাদের সেই নদীগুলোর প্রবাহমানতা যদি আমরা ধরে রাখতে না পারি, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ মরুভূমি হয়ে যেতে পারে। এই এলাকায় পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। আনন্দের বিষয় হচ্ছে, আগে যারা নদী দখল করেছিল, আজ সব মানুষ ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় তারা এখন দখল ছেড়ে দিচ্ছে।

এসময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কৃষ্ণ কমল চন্দ্র রায়, পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশুতোষ রায়, বোদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান, বোদা উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, বেংহারি বনগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে করতোয়া নদীর ১১ দশমিক ৫০ মিটার বাঁধ নির্মাণ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

আওয়ামী লীগ সরকারের কারণে জনগণ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত: মির্জা ফখরুল

তৎকালীন আওয়ামী সরকারের কারণে এ দেশের জনগণ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার এক বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ১৬ মে ‘ফারাক্কা দিবস’ আমাদের জাতীয় আন্দোলনের এক ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যময় দিন। ৪৯ বছর আগে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ডাকে সারাদেশ থেকে লাখো জনতা ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত গঙ্গা নদীর পানি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ন্যায্যহিস্যা আদায়ের সংগ্রামে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক লংমার্চে অংশ নেয়। ভারত গঙ্গা নদীর ফারাক্কা পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণ করে অভিন্ন নদীর পানি একতরফা প্রত্যাহার শুরু করা হয়। এর ফলে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, ওই এলাকায় পানিসহ নানাবিধ প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। জীববৈচিত্র ও পরিবেশগত মানকে বিবেচনা না করে এবং প্রাকৃতিক ও মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাকে উপেক্ষা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের মতামতকে অগ্রাহ্য করে ভারতকে কয়েক দিনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দেয়। কিন্তু সেই বাঁধ অব্যাহতভাবে এখনও পর্যন্ত চালু থাকায় সেটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। তৎকালীন আওয়ামী সরকারের কারণে এ দেশের জনগণ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই বঞ্চনা ও দেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে জনদুর্দশার আশঙ্কায় মাওলানা ভাসানী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক মিছিল করে ভারত সরকারের কাছে প্রতিবাদ করেন এবং বিষয়টি বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরে আনেন। তখন থেকে ব্যাপক মানববিপর্যয় সৃষ্টিকারী ফারাক্কা বাঁধের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হতে থাকে।

তিনি বলেন, আজও ফারাক্কা দিবসের তাৎপর্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আন্তর্জাতিক আইন-কানুন ও কনভেনশনের তোয়াক্কা না করে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণে নদীর ধারাকে বাধাগ্রস্ত করে একতরফা নিজেদের অনুকুলে পানি প্রত্যাহার বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ নিষ্ফলা উষর ভূমি হয়ে উঠার আলামত ইতোমধ্যেই ফুটে উঠেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ন্যায্য পাওনা আদায়ের সংগ্রামে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে জনগণের ঐতিহাসিক মিছিল রাজশাহী থেকে ফারাক্কা অভিমুখে অকুতোভয় সাহসী পদক্ষেপে এগিয়ে গিয়েছিল। তাই প্রতি বছর ১৬ মে ‘ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস’যেকোনো অধিকার আদায়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে।

হজ করতে সৌদি পৌঁছেছেন ৫৭ হাজার ৫২৬ বাংলাদেশি

হজ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত ১৪৮টি হজ ফ্লাইটে মোট ৫৭ হাজার ৫২৬ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

শুক্রবার হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেনের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন। মোট ৬৬০টি এজেন্সি এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার মধ্যে ৩০টি প্রধান এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি রয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৭৩টি ফ্লাইটে ২৮ হাজার ৮৩৪ জন; সৌদি এয়ারলাইন্সের ৫৩টি ফ্লাইটে ২০ হাজার ২৩৬ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৪৫৬ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে গেছেন। বাকী যাত্রীরা নির্ধারিত এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সৌদি আরবে পৌঁছাবেন।

গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মোট হজযাত্রীর মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করবেন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে, আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। হজ পালন শেষে আগামী ৩০ মে জেদ্দা থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। আগামী ৩০ জুন শেষ ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

বিশ্লেষণ ট্রাম্প চীনে গেলেন, খেলেন, ঘুরলেন- কী নিয়ে ফিরলেন

চীনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের তিনদিনের সফরে কী কী হলো? আলোচিত সফরে তিনি বেইজিং পৌঁছান বুধবার সন্ধ্যায়। বৃহস্পতিবার বৈঠক করেন শি জিনপিংয়ের সঙ্গে। ঘুরতে যান ঐতিহাসিক ‘টেম্পল অব হেভেনে’। রাতে রাজকীয় ভোজে খান গরুর পাঁজরের মুচমুচে মাংস। ব্যাকগ্রাউন্ডে তখন বাজানো হয়েছিল ভিলেজ পিপল ব্যান্ডের তাঁর প্রিয় গান- ‘ওয়াইএমসিএ’।

বিশ্বের নজরকাড়া এই সফরে আতিথেয়তার ক্ষেত্রে যখন সবই হলো, তখন প্রশ্ন উঠছে- ‘ডিলমেকার’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট কী পেলেন? সে উত্তরে যাওয়ার আগে বলে রাখা প্রয়োজন- তিনদিন আগেও মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, সফরে গুরুত্ব পাবে- ইরান যুদ্ধ, তাইওয়ান প্রসঙ্গ, বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিরল খনিজ।

ট্রাম্প দাবি করেছেন চীনের সঙ্গে ‘অসাধারণ’ চুক্তি হয়েছে। তবে দুই দেশের প্রশাসন সুনির্দিষ্টভাবে কোনো চুক্তির কথা উল্লেখ করেনি বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। সফর থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন কে কী পেল তা বোঝার একটি উপায় হতে পারে দুই দেশের গণমাধ্যম। কারণ, সফরের শুরু থেকে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণাধীন গণমাধ্যমগুলো নিজ নিজ সরকারের অর্জন তুলে ধরছে। বিশ্লেষণের সুবিধার্থে সরকারি বয়ানবিরোধী গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের তথ্যও পর্যালোচনা করা হয়েছে।

মার্কিন গণমাধ্যম: ট্রাম্পের অর্জনে ইরান প্রসঙ্গ
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে ফক্স নিউজ পরিচিত কট্টর ট্রাম্পপন্থী হিসেবে। প্রেসিডেন্ট নিজেও একাধিকবার ফক্স নিউজের প্রশংসা করেছেন। বেইজিংয়ে অবস্থানের সময় সফরের অর্জন নিয়ে গণমাধ্যমটিকে তিনি সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন।

শুক্রবার ওই সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে ফক্স নিউজ লিখেছে, ইরানকে সামরিক সহযোগিতা না কারার ব্যাপারে ট্রাম্পকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। পাশাপাশি তারা সংঘাত বন্ধে সহায়তারও প্রস্তাব দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় চীনের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।

ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেছেন, ‘তিনি (শি) কোনো সামরিক সরঞ্জাম দেবেন (ইরানকে) না। এটি একটি বড় ঘোষণা। শি অত্যন্ত জোরালোভাবে এই ঘোষণা দিয়েছেন।’

তবে বিপরীত বয়ান পাওয়া গেছে ট্রাম্পের অন্যতম সমালোচক হিসেবে পরিচিত গণমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে। শি’র সঙ্গে ইরান নিয়ে আলোচনার বিষয়ে তারা লিখেছে, ‘ধারণা করা হয়েছিল- তেহরান যাতে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে নেয় তা নিশ্চিত করতে বেইজিংকে চাপ দেওয়া হবে। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত ছাড়াই ট্রাম্প বৈঠক শেষ করেন।’

ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার ব্যাপারে শি জিনপিং একমত হয়েছেন।’ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হোয়াইট হাউসও এমন দাবি করেছে। ওই পোস্টে বলা হয়েছে, চীন আমেরিকার কাছে থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে বার্তা সংস্থা এএফপি তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বৈঠক নিয়ে বেইজিং যে বিবৃতি দিয়েছে তাতে তেল কেনার বিষয়টি উল্লেখ নেই।

চীনা গণমাধ্যম যা দেখাচ্ছে
ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত ‘পিপলস ডেইলি’। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে শুক্রবার গণমাধ্যমটি লিখেছে, ‘দুই প্রেসিডেন্ট আগামী তিন বছর এবং পরবর্তী সময়ের জন্য একটি নতুন ভিশনে একমত হয়েছেন। যেটির লক্ষ্য দুই দেশের সম্পর্কের স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং বিশ্বে আরো বেশি শান্তি, সমৃদ্ধি ও প্রগতি নিয়ে আসা।’

গণমাধ্যমটি আরো লিখেছে, ‘দুই প্রেসিডেন্ট নিজ নিজ উদ্বেগের বিষয়গুলো যথাযথভাবে মোকাবিলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ বোঝাপড়ায় পৌঁছেছেন। তারা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুগুলোতে যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন।’

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি ট্রাম্পের সফর পর্যালোচনায় একজন বিশ্লেষকের মতামত প্রকাশ করেছে। চীনের রেনমিন ইউনিভার্সিটির ন্যাশনাল একাডেমি অব ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজির ভাইস ডিন দিয়াও দমিং বলেছেন, চীন-মার্কিন সম্পর্কের বিষয়ে বেইজিংয়ের নীতি সবসময়ই স্পষ্ট ও ধারাবাহিক। তাই বেইজিংয়ের সঙ্গে মিলে কাজ করার বিষয়টি এখন ওয়াশিংটনের ওপরই নির্ভর করছে।

সফরে ট্রাম্পের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বাণিজ্য চুক্তি করা। তাই তিনি প্রযুক্তিখাতের সাতজন, আর্থিক পরিষেবার ছয়, অ্যারোস্পেসের দুই এবং কৃষিখাত সংশ্লিষ্ট কোম্পানির একজন সিইওকে সঙ্গে নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে বেশি আলোচনায় ছিলেন এনভিডিয়ার সিইও জেনসন হুয়াং ও টেসলার ইলন মাস্ক। বেসরকারি মালিকানাধীন (আলিবাবা গ্রুপ) গণমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট লিখেছে, বৈঠকে এনভিডিয়ার তৈরি ‘এইচ-২০০’ চিপের কথা আলোচনায় উঠেছিল। কিন্তু চীন নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরির আগ্রহ দেখিয়েছে।

‘এইচ-২০০’ চিপগুলো মূলত জেনারেটিভ এআই, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল এবং উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিংয়ের জন্য বিশেষভাবে তৈরি। এগুলো বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম উন্নত ও বহুল আকাঙ্ক্ষিত সেমিকন্ডাক্টর। বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করছে তাইওয়ান। বিশ্বের ৯০ শতাংশেরও বেশি উন্নত সেমিকন্ডাক্টর সেখানে উৎপাদন হয়।

বার্তা সংস্থা: তাইওয়ান, এআই, বিরল খনিজ
এএফপি ও রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে পৃথকভাবে তাইওয়ান প্রসঙ্গ, এআই এবং বিরল খনিজের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছে। দুটি সংস্থাই বলেছে, এসব খাতে ট্রাম্পের সফরে উল্লেখযোগ্য অর্জন নেই।

সফরের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহের (১০ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ) বিষয়ে তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলাপ করবেন। তবে বৃহস্পতিবারের বৈঠকের শুরুতেই ট্রাম্পকে তাইওয়ান নিয়ে সতর্ক করেন চীনের নেতা। হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অঞ্চলটি ঘিরে ভুল পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত বাঁধবে।

শি’র ওই হুঁশিয়ারির বিপরীতে বৈঠকে ট্রাম্পের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল তা জানা যায়নি। এএফপি জানিয়েছে, শুক্রবার দেশে ফেরার পথে এয়ারফোর্স ওয়ানে (উড়োজাহাজ) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘শি’র সঙ্গে তাইওয়ান নিয়ে আলোচনা করেছি। কিন্তু কোনো প্রতিশ্রুতি দেইনি।’

রয়টার্স লিখেছে, সফরে ট্রাম্প যখন ‘বোয়িং জেট’ বিক্রির চুক্তির মতো তাৎক্ষণিক ব্যবসায়িক সাফল্যের অপেক্ষায় ছিলেন, তখন শি জিনপিং গুরুত্ব দিয়েছেন দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক পুনঃস্থাপন এবং স্থিতিশীল বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর। যা থেকে দুই নেতার ভিন্ন ভিন্ন অগ্রাধিকারের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

এছাড়া, বিরল খনিজ সরবরাহ সমস্যাটিরও কোনো আনুষ্ঠানিক সমাধান ছাড়াই ট্রাম্প ফিরে গেছেন। গত বছরের এপ্রিলে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের জবাবে চীন খনিজ রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এরপর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। সম্মেলনের দুই দিনের সংবাদ কাভারেজে চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম একবারের জন্যও এই খনিজ সংকট ইস্যুটি উল্লেখ করেনি।

আলোচিত এই সফরে কার কী অর্জন তা হয়তো সামনের দিনে আরো স্পষ্ট হবে। আপাতত গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন থেকে যা জানা যাচ্ছে সেটির পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্পের সেই প্রিয় গানের (ওয়াইএমসিএ) কয়েকটি লাইন দিয়েই লেখাটি শেষ করা যাক- ‘হে তরুণ, মন খারাপ করার কোনো দরকার নেই/ কারণ, তুমি এখন (পড়ুন-এসেছিলেন) এক নতুন শহরে।’

শাপলা চত্বরে হত্যা মামলা দীপু মনি, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে কারাগারে পাঠালেন ট্রাইব্যুনাল

তের বছর আগে মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি গোলাম মোর্তজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল ১ আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী আজ তাদেরকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। গত ৭ মে প্রসিকিউশন জানায়, ‘২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন দীপু মনি। ওই দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একদল উচ্ছৃঙ্খল মানুষকে নির্মূল করেছেন বলে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার করেন তিনি। এছাড়া শুরু থেকেই হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে উসকানিমূলক বক্তব্য হিসেবে একাত্তর টেলিভিশনে প্রচার করেন সাংবাদিক ফারজানা ও মোজাম্মেল বাবু। ওই সময় মোজাম্মেল বাবু একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন, ফারজানা রুপা ছিলেন টেলিভিশনটির সাবেক প্রধান প্রতিবেদক।’

ওই দিন শুনানি শেষে তাদের ১৪ মে হাজির করার জন্য নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। পাশাপাশি আগামী ৭ জুন প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

বর্তমানে এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন ছয়জন। তারা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর অভিযোগ করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

ভুল পদক্ষেপ চীন-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত বাঁধাবে, ট্রাম্পকে শির হুঁশিয়ারি তাইওয়ান প্রসঙ্গ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তাইওয়ান ইস্যুতে সতর্ক করেছেন চীনের নেতা শি জিনপিং। তিনি বলেছেন, তাইওয়ান প্রশ্নে কোনো ভুল পদক্ষেপ দুই দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে।

বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে শীর্ষ সম্মেলনের শুরুতেই ট্রাম্পকে এই কঠোর বার্তা দেন চীনের প্রেসিডেন্ট। বৈঠক শুরুর কিছুক্ষণ পর চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে শির বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। শি বলেছেন, চীন-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাইওয়ান প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

প্রায় দুই ঘণ্টা ১৫ মিনিট স্থায়ী হওয়া বৈঠকে শি আরো বলেন, যদি এই বিষয়টি ভুলভাবে মোকাবিলা করা হয়, তবে দুই দেশ একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হতে পারে বা সংঘাতেও জড়িয়ে যেতে পারে। এটি চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে।

বৈঠকে গ্রিক রাজনৈতিক তত্ত্বের অবতারণাও করেন শি। তিনি বলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি তথাকথিত ‘থুসিডাইডস ট্র্যাপ’ এড়িয়ে বড় শক্তিগুলোর সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে? সহযোগিতা উভয় পক্ষের জন্যই মঙ্গলজনক, অন্যদিকে সংঘাত উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।’

থুসিডাইডস ট্র্যাপ বলতে, উদীয়মান শক্তি যখন কোনো ক্ষমতাসীন শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে তখন যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হওয়াকে বোঝায়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং। ছবি: এএফপি

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং। ছবি: এএফপি

তাইওয়ানকে চীন নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। প্রেসিডেন্ট শি একাধিকবার প্রকাশ্যে দ্বীপটিকে চীনের ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। অপরদিকে সম্প্রতি তাইওয়ানের কাছে বড় অঙ্কের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যা নিয়ে এর আগে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বেইজিংয়ের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হয়েছে।

শির ‘রূঢ় ভাষা’র ব্যাখ্যা
বৃহস্পতিবারের বৈঠকে শি জিনপিংয়ের মন্তব্যের পর তাইপে (তাইওয়ানের রাজধানী) পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তারা চীনকে আঞ্চলিক শান্তির জন্য ঝুঁকি হিসেবে অভিহিত করেছে। জোর দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বারবার তাইওয়ানের প্রতি তাদের স্পষ্ট ও দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সোমবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে শি-র সঙ্গে কথা বলবেন। তাঁর এমন বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থানের বিপরীত। কারণ, ওয়াশিংটন বরাবরই তাইওয়ান নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা বা পরামর্শ করার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে আসছিল।

চীনা গণমাধ্যম ‘চায়না নেইকান’-এর সম্পাদক অ্যাডাম নি এএফপিকে বলেন, চীনের পররাষ্ট্রনীতিতে এ ধরনের ‘রূঢ় ভাষা’ খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। তবে শি জিনপিংয়ের মুখ থেকে এমন কথা শোনাটা ব্যতিক্রমী ঘটনা। বৈঠকের বক্তব্যের মাধ্যমে শি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তাইওয়ান ইস্যুটি দুই পরাশক্তির মধ্যে একটি ‘বারুদ ভর্তি ড্রাম’ হয়ে আছে।

ট্রাম্পের মুখে ‘বন্ধু’
চীন সফরে গিয়ে শির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। শি-কে একজন মহান নেতা ও বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, দুই দেশের সামনে এক চমৎকার ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। তবে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানোর রাজকীয় আড়ম্বরের আড়ালে শি জিনপিংয়ের সুর ছিল কিছুটা সংযত। তিনি বলেন, দুই দেশের আসলে প্রতিদ্বন্দ্বী নয় বরং অংশীদার হওয়া উচিত।

গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ ট্রাম্পকে স্বাগত জানান চীনা কর্মকর্তারা। ছবি: এএফপি

গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ ট্রাম্পকে স্বাগত জানান চীনা কর্মকর্তারা। ছবি: এএফপি

গত এক দশকের মধ্যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এটিই প্রথম বেইজিং সফর। যদিও ট্রাম্পকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে, তবে এর নেপথ্যে দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বাণিজ্য এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা রয়েই গেছে।

জাঁকজমকপূর্ণ ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ ট্রাম্পকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেন শি। এ সময় সামরিক ব্যান্ডের সুর, তোপধ্বনি এবং একদল স্কুলশিক্ষার্থীর উচ্ছ্বসিত ‘স্বাগতম’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। পুরো আয়োজনটি বেশ উপভোগ করতে দেখা যায় ট্রাম্পকে। তিনি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক আগের চেয়ে আরো উন্নত হতে যাচ্ছে।