Home Blog Page 112

শেষ হচ্ছে ধারাবাহিক ‘এটা আমাদের গল্প’

টেলিভিশন নাটকে পারিবারিক গল্পের প্রতি দর্শকের আগ্রহ নতুন করে বাড়ছে। সেই ধারায় আলোচিত একটি কাজ ছিল নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজের ধারাবাহিক ‘এটা আমাদের গল্প’, যা সম্প্রচারের শুরু থেকেই দর্শকদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলে। সম্পর্কের টানাপোড়েন, ভালোবাসা, ভুল বোঝাবুঝি আর একে অপরের প্রতি দায়বদ্ধতা– সব মিলিয়ে একটি বাস্তবসম্মত পারিবারিক চিত্র ফুটে উঠেছিল নাটকটিতে।

গত বছরের নভেম্বর মাসে প্রচার শুরু হওয়া এই সিরিজ অল্প সময়েই দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। চ্যানেল আইতে নিয়মিত প্রচারের পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও এটি সাড়া ফেলেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত পর্ব প্রচারিত হয়েছে, আর সম্প্রতি শেষ হয়েছে এর শুটিং কার্যক্রম। তবে মোট কত পর্বে নাটকটি শেষ হবে, সে বিষয়ে নির্মাতা এখনও কিছু জানাননি।

শেষ দিনের শুটিং সেট ছিল আবেগঘন। উপস্থিত ছিলেন নাটকের প্রায় সব প্রধান শিল্পী। তাদের অনেকেই জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাজ করার ফলে একটি পরিবারের মতো সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। শুটিং শেষ হলেও সেই বন্ধন সহজে ভাঙবে না।

অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ এই অভিজ্ঞতাকে স্মরণীয় বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘দীর্ঘ কয়েক মাসের এই যাত্রা তাঁকে ভীষণভাবে স্পর্শ করেছে। অন্যদিকে খায়রুল বাসার মনে করেন, দর্শকের সঙ্গে গল্পের সংযোগ তৈরি করতে পারাটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।’

মেহরীন চরিত্রে অভিনয় করে কেয়া পায়েল নতুন পরিচিতি পেয়েছেন বলে জানান। তাঁর মতে, কোনো চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠা একজন শিল্পীর জন্য বড় অর্জন। প্রথম ধারাবাহিকে অভিনয় করেই সুনেরাহ বিনতে কামালও পেয়েছেন ব্যাপক সাড়া; দর্শক তাঁকে চরিত্রের নামেই ডাকছেন।

নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজ বলেন, শুরুতে প্রত্যাশা থাকলেও এত বড় সাড়া পাবেন ভাবেননি। তাঁর মতে, এই কাজটি তাঁর আগের সব কাজের সাফল্যকে ছাড়িয়ে গেছে।

হাইকোর্টের রুল জারি গৃহকর্মীদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক কেন নয়

দেশে গৃহকর্মীদের নিবন্ধন কেন বাধ্যতামূলক করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সরকারের  সংশ্লিষ্টদের প্রতি  রুল জারি করেছেন হাই কোর্ট।

একইসঙ্গে বিদ্যমান ‘দ্য ডোমেস্টিক সার্ভেন্টস রেজিস্ট্রেশন অর্ডিন্যান্স ১৯৬১’ অনুযায়ী এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের ‘নিষ্ক্রিয়তাকে’ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে  বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী সমন্বয় গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রোববার এ রুল জারি করেন।  আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বিবাদী দেরকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে

‘জনস্বার্থে’ এই রিট মামলা দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদিজাতুল কোবরা।

তিনি বলেন, “আদালত কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেননি। বিবাদীদের রুলের জবাব পাওয়ার পর আদালতের কাছে পরবর্তী নির্দেশনার জন্য আবেদন করা হবে।”
আইন  সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে রিট মামলায় বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, দেশে গৃহকর্মীদের একটি বড় অংশ আনুষ্ঠানিক আইনি সুরক্ষা, চুক্তি, বা পরিচয়পত্র ছাড়াই কাজ করছে। ২০১৫ সালে সরকার ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি’ গ্রহণ করলেও এর কোনো কার্যকর নিবন্ধন, তদারকি বা প্রয়োগ ব্যবস্থা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

এছাড়া ১৯৬১ সালের ‘ডোমেস্টিক সার্ভেন্টস রেজিস্ট্রেশন অর্ডিন্যান্স’-এ গৃহকর্মীদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, রেজিস্ট্রেশন কার্ড ইস্যু এবং নিবন্ধন ছাড়া কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞার স্পষ্ট বিধান রয়েছে।
কিন্তু এ আইন নির্দিষ্ট কিছু এলাকার বাইরে দেশব্যাপী সম্প্রসারণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যার ফলে এটি কার্যত অকার্যকর হয়ে আছে।

সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একজন গৃহকর্মীর বিরুদ্ধে মা ও মেয়েকে (লায়লা আফরোজ এবং নাফিসা নাওয়াল বিনতে আজিজ) হত্যার অভিযোগ ওঠার ঘটনা তুলে ধরা হয় রিট আবেদনে।
একইসঙ্গে গৃহকর্মীদের অধিকার, আইনি সুরক্ষা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য জেলাভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

বিশ্ব লিভার দিবস উপলক্ষে বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত

লিভারের প্রাণঘাতী রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আজ রবিবার সকাল ৮টায় রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এক বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিশ্ব লিভার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সোসাইটি। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা লিভারের সুরক্ষা, রোগ নির্ণয় ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. সহিদুর রহমান। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক দেওয়ান সাইফুদ্দিন আহমেদ।

প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মিয়া মাসহুদ আহমদ, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক ডা. গোলাম সারওয়ার লিয়াকত হোসেন ভূঁইয়া এবং জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন।

সেমিনারে আলোচক হিসেবে বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন- ঢাকা মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আহমেদ সামি আল-হাসান, ঢাকা ডেন্টাল কলেজের ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাবরিনা বিনতে রহমান, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও নিউট্রিশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোসা. নাজনীন সরকার, এনজিএলআইএইচ-এর ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. খালেদা আক্তার খানম, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আয়েশা সিদ্দিকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএনএফএস-এর পরিচালক ডা. সাইদুল আরেফিন, এনজিএলআইএইচ-এর সাবেক পরিচালক ও অধ্যাপক অধ্যাপক ডা. মো. সাইফ উদ্দৌলা এবং জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড রেডিয়েশন অনকোলজির সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মেহবুব আহসান রনি।

বক্তারা লিভারের প্রদাহ সঠিক সময়ে শনাক্তকরণ এবং ‘ফ্যাটি লিভার’ প্রতিরোধে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে রোগীদের জন্য বিনামূল্যে হেপাটাইটিস বি ও সি স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়।

এসআইসিআইপি-বিজিএমইএ’র ‘ওয়ার্কশপ উইথ হেড অব এইচআর’ অনুষ্ঠিত

দেশের শিল্পখাতে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের জন্য বাস্তব কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ওয়ার্কশপ উইথ হেড অব এইচআর ২০২৬’।

দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ প্রধানদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মশালায় শিল্পের চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সেতুবন্ধন জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিজিএমইএ ও এসআইসিআইপি’র যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরিফুর রহমান এবং প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন রুমানা রশীদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন মুনীর চৌধুরী এবং সঞ্চালনা করেন মো. আশফাকুর রহমান।

বক্তারা বলেন, দক্ষ জনশক্তি দেশের অর্থনীতির অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। এসআইসিআইপি-বিজিএমইএ প্রোগ্রাম প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করে তরুণদের চাকরির সুযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী মানবসম্পদ প্রধানরা শিল্পখাতের বর্তমান দক্ষতা-চাহিদা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের প্রবণতা নিয়ে মতামত দেন।

আইসিইউর সিরিয়াল যখন এলো, গৌরী তখন শ্মশানে

হামের উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আসা ছয় মাস বয়সী শিশু গৌরীকে জরুরি ভিত্তিতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসক। তবে তৎক্ষণাৎ আইসিইউতে শয্যা মেলেনি। ২৬ শিশুর পেছনে অপেক্ষমাণ ছিল সে। ঠিকই সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে, তবে গৌরীর প্রাণ নেভার পর। গত শনিবার দুপুরে মৃত্যুর পরদিন গতকাল রোববার দুপুরে হাসপাতাল থেকে যখন আইসিইউ শয্যা খালি হওয়ার খবর জানাতে ফোন করা হয়, ততক্ষণে গৌরীর নিথর দেহ শ্মশানে।

গৌরী নাটোরের বাগাতিপাড়ার চাঁইপাড়া গ্রামের সোহাগ কুমার ও বন্দনা রানী দম্পতির প্রথম সন্তান। এ নিয়ে রামেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫২ শিশুর মৃত্যু হলো।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হামের উপসর্গ দেখা দিলে বাড়িতেই গৌরীর চিকিৎসা চলছিল। গত বুধবার অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাকে পুঠিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে পাঠানো হয় রামেক হাসপাতালে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হলে চিকিৎসক তাকে দ্রুত আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

গৌরীর বাবা সোহাগ কুমার বলেন, আইসিইউতে গিয়ে দেখি, সিরিয়াল পড়েছে ২৭ নম্বরে, অর্থাৎ গৌরীর আগে আরও ২৬ শিশু আইসিইউর জন্য মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে অপেক্ষায় আছে। আইসিইউ না পেয়ে ওয়ার্ডেই তাকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছিল।

সোহাগ আরও জানান, শনিবার দুপুরে মেয়ের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তিনি আবারও আইসিইউ বিভাগে ছুটে যান। কিন্তু সেখান থেকে জানানো হয়, সিরিয়ালের বাইরে তাদের করার কিছু নেই। এর কিছুক্ষণ পরই মারা যায় শিশুটি।

গতকাল দুপুরে যখন সোহাগের ফোনে আইসিইউ বিভাগ থেকে কল আসে, তখন পরিবারে চলছে মাতম। যিনি ফোন করেছেন, তাঁকে সোহাগ এটুকুই বলতে পেরেছেন, ‘আমাদের আর আইসিইউ লাগবে না। গৌরী আমাদের ছেড়ে চলে গেছে।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে সোহাগ বলেন, আমার মেয়েটা তো চলে গেল, আর কারও সন্তান যেন এভাবে না যায়। আইসিইউ শয্যা বাড়ানো হোক। রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, শিশুদের জন্য আইসিইউ শয্যা বাড়িয়ে ১৮টি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি হামের রোগীর জন্য ও ছয়টি সাধারণ রোগীর জন্য। তবে রোগীর চেয়ে তা অপ্রতুল। আরও আইসিইউ শয্যার প্রয়োজন। নতুন একটি আইসিইউ ওয়ার্ড তৈরির জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। শয্যা ফাঁকা না থাকায় শিশুদের দীর্ঘ সিরিয়ালে থাকতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, হাসপাতালে আসা অধিকাংশ শিশুর অবস্থাই সংকটাপন্ন থাকছে। ফলে আইসিইউর চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

হামের জরুরি টিকা
দেশে হামের প্রকোপ ও মৃত্যু আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় আজ সোমবার থেকে সারাদেশে একযোগে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে এই টিকা দেওয়া হবে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এ রোগের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী ৩ মে থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কর্মসূচি ১৩ দিন এগিয়ে আজ থেকে শুরু করছে সরকার।

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) জানিয়েছে, তিন সপ্তাহের এই কর্মসূচির আওতায় ১১ কর্মদিবসে ১ কোটি ৭০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। আজ প্রথম দিনেই ১১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সারাদেশে ২ লাখ ৮২ হাজার ৫১০টি কেন্দ্রে এই কার্যক্রম চলবে, যার মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজারই অস্থায়ী কেন্দ্র। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এক ভিডিও বার্তায় এই কর্মসূচি সফল করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।

সংক্রমণের ভয়াবহ চিত্র
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এক দিনে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজন মারা গেছে। এ নিয়ে এ বছর উপসর্গসহ মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮১-তে। এর মধ্যে শুধু নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ৩৬ জন। গতকাল সকাল ৮টার আগের ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৯৭ জন চিকিৎসা নিয়েছেন এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৬৫ জনের। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৫ হাজার ৩২৬ জন। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হাম শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৪৪৩।
এদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হামে গত দুদিনে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নাসিরনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গতকাল বহির্বিভাগে ৫৭০ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, যার মধ্যে ২০০-ই শিশু। চিকিৎসকরা বলছেন, পাঁচ থেকে সাত মাস বয়সী শিশুর আক্রান্তের হার বেশি।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ১৪ শিশুর মৃত্যু হলো।
(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা)

আরব আমিরাতে জিলকদ মাসের প্রথম দিন ঘোষণা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে হিজরি ১৪৪৭ সালের জিলকদ মাসের সূচনা হয়েছে। এ চাঁদ দেখার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আসন্ন জিলহজ মাস এবং পবিত্র ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ সম্পর্কেও পূর্বাভাস দিয়েছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাউন্সিল ফর ফতোয়া জানায়, চাঁদ দেখার সঙ্গে সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক তথ্য পর্যালোচনা করে এবং দেশের বিভিন্ন বিশেষায়িত বৈজ্ঞানিক কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জিলকদ মাসের পরই শুরু হবে জিলহজ, যে মাসে মুসলমানরা পবিত্র হজ পালন করেন এবং উদযাপন করেন ঈদুল আজহা। সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২৬ মে আরাফাতের দিন পালিত হবে এবং এর পরদিন ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে।

কাউন্সিলের এ ঘোষণা থেকে বোঝা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত ঐতিহ্যবাহী চাঁদ দেখার প্রথার পাশাপাশি আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিও ব্যবহার করে ইসলামি মাস নির্ধারণ করে থাকে। এ ক্ষেত্রে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব ও প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ—উভয়কেই গুরুত্ব দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো নির্ধারণ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন আজ, অনেক প্রত্যাশা বগুড়াবাসীর

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আজ সোমবার নিজ জেলা বগুড়ায় প্রথমবার আসছেন তারেক রহমান। তাঁর সফর ঘিরে বগুড়াবাসী এ জেলার উন্নয়নে নানা প্রত্যাশা করছেন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর পৈতৃক বাড়ি গাবতলীর বাগবাড়ীতেও যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাওয়া সফরসূচি অনুযায়ী, আজ সকাল ৬টায় রাজধানীর গুলশানের বাড়ি থেকে সড়ক পথে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল সাড়ে ১০টায় তাঁর বগুড়া সার্কিট হাউসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পরে সব অনুষ্ঠান শেষ করে তিনি সন্ধ্যা ৬টায় সড়ক পথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।

যে যৌক্তিক দাবিগুলো ১৭ বছরেও পূরণ হয়নি তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বগুড়ায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বিমানবন্দর থেকে বাণিজ্যিক বিমান চালু, বগুড়া সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণ, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেললাইন নির্মাণ, করতোয়া নদীর প্রাণ ফেরাতে প্রকল্প গ্রহণ ও শহরের যানজট নিরসনে বিকল্প রাস্তা এবং ফ্লাইওভার নির্মাণ। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে রেললাইন নির্মাণ ও করতোয়া নদীর আংশিক খননকাজ হাতে নেওয়া হলেও অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ায় তা বাস্তবায়ন হয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সিটি করপোরেশন ও সারিয়াকান্দিতে নৌবন্দর এবং বিমানবন্দর নিয়ে কাজ শুরু করলেও তা মাঝপথে থেমে যায়। তবে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকার। বিএনপি সরকার গঠন করার পর এসব দাবির সঙ্গে যুক্ত হয় বগুড়ার সারিয়াকান্দি হয়ে জামালপুরের মাদারগঞ্জ পর্যন্ত আরেকটি যমুনা সেতু নির্মাণ, বগুড়া বিভাগ বাস্তবায়ন, বগুড়া টেলিভিশন কেন্দ্র স্থাপন এবং এলপিজি গ্যাস ডিপো চালু। এই দাবিগুলোর সঙ্গে আরও বেশ কিছু দাবিসহ মোট ২৩টি দাবি তুলে ধরেছে বগুড়া নাগরিক ফোরাম। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম সরকার রবিন গতকাল রোববার বগুড়া প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবিগুলো তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী আজ বগুড়া সফরে এসে বগুড়াবাসীর যে প্রত্যাশাগুলো পূরণ করতে যাচ্ছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বগুড়া সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচন। বগুড়া পৌরসভাকে বিএনপির আমলে বর্ধিত করা হয়েছিল এবং ১৩টি ওয়ার্ড থেকে ২১টিতে উন্নীত করেছিল। এটিকে প্রথম প্রধান্য দিয়ে বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছেন তিনি। এ ছাড়া তাঁর অন্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে নিজবাড়ি গাবতলীর বাগবাড়ী এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড, শহীদ জিয়া গ্রাম হাসপাতালে হাম-রুবেলা টিকার কার্যক্রম উদ্বোধন, বাগবাড়ি চৌকিরদহ এলাকায় খাল খনন, বগুড়া জজ আদালতে নতুন ভবন ও ইবেইলবন্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন, বগুড়া প্রেস ক্লাব ও বায়তুর রহমান মসজিদের নতুন ভবনের উদ্বোধন এবং আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় ভাষণ।

সুশাসনের জন্য নাগরিক জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কেজিএম ফারুক আহম্মেদ বলেন, বগুড়া জেলা দীর্ঘদিন থেকে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে, কোনো মেগা প্রকল্প এ জেলায় বাস্তবায়ন হয়নি। এবার আমরা আশা করছি প্রধানমন্ত্রী এ জেলার সন্তান হিসেবে সব প্রত্যাশা পূরণ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী আজ বগুড়া সফরে এসে বগুড়াবাসীর যে প্রত্যাশাগুলো পূরণ করতে যাচ্ছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বগুড়া সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচন। বগুড়া পৌরসভাকে বিএনপির আমলে বর্ধিত করা হয়েছিল এবং ১৩টি ওয়ার্ড থেকে ২১টিতে উন্নীত করেছিল। এটিকে প্রথম প্রধান্য দিয়ে বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছেন তিনি। এ ছাড়া তাঁর অন্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে নিজবাড়ি গাবতলীর বাগবাড়ী এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড, শহীদ জিয়া গ্রাম হাসপাতালে হাম-রুবেলা টিকার কার্যক্রম উদ্বোধন, বাগবাড়ি চৌকিরদহ এলাকায় খাল খনন, বগুড়া জজ আদালতে নতুন ভবন ও ইবেইলবন্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন, বগুড়া প্রেস ক্লাব ও বায়তুর রহমান মসজিদের নতুন ভবনের উদ্বোধন এবং আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় ভাষণ।

সুশাসনের জন্য নাগরিক জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কেজিএম ফারুক আহম্মেদ বলেন, বগুড়া জেলা দীর্ঘদিন থেকে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে, কোনো মেগা প্রকল্প এ জেলায় বাস্তবায়ন হয়নি। এবার আমরা আশা করছি প্রধানমন্ত্রী এ জেলার সন্তান হিসেবে সব প্রত্যাশা পূরণ করবেন।

লেবাননে ইসরায়েলের উন্মত্ততা ৯০ সেকেন্ডে হামলা হয় ১০০ লক্ষ্যবস্তুতে

লেবাননে সামরিক অভিযানের নামে ইসরায়েল যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তা স্মরণকালের ইতিহাসে ভয়াবহ। ইসরায়েলি বাহিনী দেশটিতে বৃষ্টির মতো বোমা ফেলেছে। বৈরুতের সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় এসব হামলায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। ঘরবাড়ি, ভবন ও স্থাপনা মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। দখলদার বাহিনী এক উন্মত্ত ধ্বংসযজ্ঞ দেখিয়েছে। ৯০ সেকেন্ডে ১০০টি স্থানে বোমা হামলা চালানো হয়, যা গত দুই বছরে লেবাননে ইসরায়েলের অন্যতম প্রাণঘাতী বোমা হামলা। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।

লেবাননে গত ১৬ এপ্রিল ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। ইসরায়েল স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই চুক্তি লঙ্ঘন করে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গ্রামে গোলাবর্ষণ করতে একটুও দেরি করেনি। মিডল ইস্ট আই এক বিশ্লেষণে বলেছে, গত ৮ এপ্রিল ছিল সেই ভয়ংকর দিন। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী লেবাননের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইটারনাল ডার্কনেস’ নামক এক উন্মত্ত অভিযান শুরু করে, যার ফল ছিল প্রত্যাশিতভাবেই ভয়াবহ। মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে ইসরায়েল দেশজুড়ে শতাধিক স্থানে হামলা চালায়। এতে ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং অন্তত এক হাজার ১৫০ জন আহত হয়। দিনটি ‘কালো বুধবার’ আখ্যা পেয়েছে।

গত সপ্তাহে ইসরায়েল তার স্বাভাবিক কার্যপদ্ধতি বদলে ফেলে। নির্দিষ্ট সাম্প্রদায়িক ভৌগোলিক অঞ্চলে অর্থাৎ শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি আখ্যা দিয়ে অমানবিক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
ইসরায়েলের এই হামলার কদর্য রূপ নিয়ে ফিলিস্তিনি গবেষক ও প্রয়াত এডওয়ার্ড সাঈদের বোন জ্যাঁ সাঈদ মাকদিসি সেই ১৯৮২ সালের বোমাবর্ষণের যে ভয়াবহ বর্ণনা দিয়েছিলেন তার সঙ্গে মিলে যায়। মাকদিসি এক বইতে লেখেন, ‘মনে হচ্ছিল যেন ইসরায়েলিরা হিংস্র ঘৃণার এক উন্মত্ত আক্ষেপে পৌঁছে গেছে; যা শহরটিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার এক উন্মাদ, ধ্বংসাত্মক তাড়না।’

লেবাননে দুই দিনে ইসরায়েলের ২ সেনা নিহত
গত দুই দিনে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের দুই সেনা নিহত হয়েছে। যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ জানিয়েছে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মোট ১৫ ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে। আরও ১২ সেনা আহত হয়।

যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে পাঁচ শর্ত দিয়েছে হিজবুল্লাহ
লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসন থামাতে এবং স্থায়ী যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে পাঁচটি শর্ত দিয়েছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির মহাসচিব শেখ নাইম কাশেম শনিবার রাতে প্রকাশিত এক বার্তায় ইরানের সহায়তার প্রশংসা করেন এবং লেবাননে এই যুদ্ধবিরতিতে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের অভূতপূর্ব সক্ষমতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ফ্রন্টলাইনে থাকা প্রতিরোধ যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ছাড়া যুদ্ধবিরতি সম্ভব হতো না। হিজবুল্লাহর শর্তগুলো হলো আকাশ, স্থল ও সমুদ্র– সব জায়গায় লেবাননের বিরুদ্ধে আগ্রাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। ইসরায়েলি বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সীমান্ত লাইনে ফিরে যেতে হবে। বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের তাদের শহর ও গ্রামে ফিরে যেতে দিতে হবে এবং আন্তর্জাতিক ও আরব সহায়তায় পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করতে হবে এবং সেটি হবে জাতীয় দায়িত্বের ভিত্তিতে।

হামলার মধ্যেই ঘরে ফিরছে বাস্তুচ্যুত পরিবার
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। সীমান্তের কাছে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণ ও বাড়িঘর ধ্বংস করা সত্ত্বেও হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত লেবানিজ পরিবার তাদের দক্ষিণের মাতৃভূমিতে ফিরতে শুরু করেছে। গত শনিবার তোশক, ব্যাগ ও পতাকা বোঝাই যানবাহনের স্রোত দেখা গেছে সড়কে। লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সংঘাত চলাকালীন ইসরায়েলি হামলায় প্রায় দুই হাজার ৩০০ জন নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের অধিকাংশই দক্ষিণ লেবানন এবং বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরের বাসিন্দা।

সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে কারা সংসদ সদস্য হবেন– তা নির্ধারণে চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করছে বিএনপি। গত শুক্র ও শনিবার রাজধানীর গুলশানে ১০ সাংগঠনিক বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেয় দলটি। এ সময় বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের ত্যাগ ও অবদানের কথা তুলে ধরেন নারী নেত্রীরা।

একই সঙ্গে মনোনয়ন পাওয়া ও না পাওয়ার পরবর্তী করণীয় সম্পর্কেও কথা বলেন তারা। নারী আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। একইসঙ্গে সংরক্ষিত নারী আসনে যারা মনোনয়ন পাবেন, তারা অন্যান্য নারী নেত্রীকে সঙ্গে নিয়ে দেশের উন্নয়নে সরকারকে নানাভাবে সহযোগিতা করবেন বলেও সাক্ষাৎকালে উল্লেখ করেন।

গতকাল শনিবার সাক্ষাৎকারের শেষ দিনে চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলটির মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিন প্রায় সাড়ে চারশ মনোনয়নপ্রত্যাশী সাক্ষাতে অংশ নেন। এর আগে শুক্রবার সাক্ষাৎকারের প্রথম দিনে রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুর বিভাগের ৩৭৮ জনের সাক্ষাৎকার নেয় বিএনপি।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ৩৬ আসনের বিপরীতে আট শতাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীকে দুই দিনে পৃথকভাবে দলের পার্লামেন্টারি মনোনয়ন বোর্ডে ডাকা হয়। সেখানে সংরক্ষিত নারী আসনপ্রত্যাশীদের বায়োডাটা দেখেন বোর্ডের সদস্যরা।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের প্রত্যেকের কাছে মনোনয়ন পেলে কী করবেন, আবার না পেলে কী করবেন– এমনটা জানতে চান। বেশির ভাগ নেত্রীই তারেক রহমানের ওপর এই বিষয়টি ছেড়ে দেন। তারা দলীয় সিদ্ধান্তকে মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়িত করার আহ্বান জানান। এসব বৈঠকে উচ্চশিক্ষিত ও ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়নের আশ্বাস দেয় পার্লামেন্টারি মনোনয়ন বোর্ড।

দলীয় সূত্র জানায়, শনিবার চার শতাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার নেয় বিএনপির  পার্লামেন্টারি মনোনয়ন বোর্ড। বিকেলে ঢাকা বিভাগের ঢাকা জেলা দিয়ে সাক্ষাৎকার শুরু হয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের সাক্ষাৎকার শেষ হয়। বিএনপির পার্লামেন্টারি বোর্ড আরও খোঁজ-খবর নিয়ে আজকালের মধ্যে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করবে।

‘অতিরিক্ত কাজকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ হওয়া জরুরি’

বলিউডে কর্মঘণ্টা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। কয়েকমাস আগে আট ঘণ্টার শুটিং শিফটের দাবি করে ‘পুরুষতান্ত্রিক সিনেমাদুনিয়া’কে নাড়িয়ে দেন সময়ে শীর্ষ পারিশ্রমিক নেওয়া নায়িকা দীপিকা পাড়ুকোন। শুধু তিনি নন তার সঙ্গে একই বিষয়ে একমত পোষণ করে শামিল হন বহু তারকা

এবার দীর্ঘ কাজের সময়, অনিয়মিত বিরতি আর ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাবসহ নানা সমস্যা সামনে আনলেন অর্চনা পুরণ সিং। সম্প্রতি ওয়েব প্রজেক্ট ‘টোস্টার’-এর প্রচারে গিয়ে তিনি খোলাখুলি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তার অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের বাইরে গিয়ে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজ এখন প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, অনেক সময় ঠিক মতো লাঞ্চ ব্রেকও দেওয়া হয় না।

তার ভাষায়, ‘যারা রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভারী সরঞ্জাম নিয়ে কাজ করেন, তাদের ন্যূনতম খাবারের সুযোগ না দেওয়া অত্যন্ত অন্যায্য। এটা এক ধরনের ছোট মানসিকতা।’

তার কথায়, দীর্ঘ শিডিউলের মাঝেও মৌলিক প্রয়োজন। যেমন খাবারের বিরতি। কিন্তু অনেক সময় এই মৌলিক চাহিদাও উপেক্ষিত হয়।

অন্যদিকে অভিনেতা রাজকুমার রাও প্রশ্ন তুলেছেন শুটিংয়ের সময়সূচি নিয়েই। তার মতে, কাজের গতি বজায় রেখেও কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব, যদি পরিকল্পনা সঠিকভাবে করা হয়।

এই বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও কাজের সময়সীমা নিয়ে সরব হয়েছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন। আট ঘণ্টার কাজের দাবি না মানায় তিনি কিছু প্রজেক্ট থেকেও সরে দাঁড়িয়েছিলেন। তার মতে, অতিরিক্ত কাজকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ হওয়া জরুরি।

সব মিলিয়ে, তারকাদের এই অভিজ্ঞতা আবারও মনে করিয়ে দিল—চকচকে পর্দার আড়ালে এখনও রয়েছে বহু অনিয়ম। আর এই বাস্তব বদলাতে গেলে প্রয়োজন শুধু নিয়ম নয়, দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন।