Home Blog Page 112

কোরবানির মাংস সংরক্ষণে যে ভুলগুলো করেন অনেকেই সামান্য অসতর্কতায় বাড়তে পারে দুর্গন্ধ, খাবার নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি

কোরবানির ঈদে ঘরে সবচেয়ে বড় ব্যস্ততার একটি হলো মাংস সংরক্ষণ। কিন্তু প্রতি বছরই একই ধরনের কিছু ভুলের কারণে অনেক পরিবারকে পরে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কখনো ফ্রিজে জায়গা সংকট, কখনো দুর্গন্ধ, আবার কখনো মাংস ঠিকমতো না জমার মতো সমস্যায় নষ্ট হয় স্বস্তি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোরবানির মাংস সংরক্ষণে বেশির ভাগ সমস্যার পেছনে থাকে কিছু সাধারণ অসতর্কতা। সামান্য পরিকল্পনা ও সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে এসব ঝামেলা সহজেই এড়ানো সম্ভব।

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফ্রিজ না গুছানো
সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলোর একটি হলো ঈদের আগ পর্যন্ত ফ্রিজ না গুছানো। অনেকের ফ্রিজেই পুরোনো ফ্রোজেন খাবার, আধখাওয়া আইসক্রিম বা অচেনা বক্স জায়গা দখল করে থাকে। ফলে কোরবানির মাংস রাখার সময় হঠাৎ করেই জায়গা সংকট তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ঈদের অন্তত এক-দুই দিন আগে ফ্রিজ পরিষ্কার করে অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলা উচিত।

মাংস সরাসরি ফ্রিজে ঢুকিয়ে দেওয়া
অনেকে কাটা মাংস প্যাকেট করেই দ্রুত ফ্রিজে ঢুকিয়ে দেন। এতে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায় এবং অন্য খাবারও প্রভাবিত হতে পারে। মাংস কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার পর প্যাকেট করে ফ্রিজে রাখলে সংরক্ষণ নিরাপদ হয়।

অতিরিক্ত গাদাগাদি করে রাখা
ফ্রিজে যতটা জায়গা আছে, তার চেয়ে বেশি মাংস গুঁজে রাখার প্রবণতা খুবই সাধারণ। কিন্তু এতে ঠান্ডা বাতাস ঠিকমতো চলাচল করতে পারে না। ফলে কিছু প্যাকেট শক্ত হয়ে জমে গেলেও কিছু অংশ আধা-গলা অবস্থায় থেকে যায়। এতে মাংস নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং ফ্রিজের কুলিং সিস্টেমের ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

সব ধরনের মাংস একসঙ্গে মিশিয়ে রাখা
অনেকেই কিমা, হাড়সহ মাংস, কলিজা বা নেহারি আলাদা না করে একসঙ্গে প্যাকেট করেন। পরে প্রয়োজনের সময় কোন প্যাকেটে কী আছে, সেটাই আর মনে থাকে না। এ কারণে মাংস আলাদা ক্যাটাগরিতে ভাগ করে প্যাকেট করা ভালো। প্যাকেটের ওপরে নাম লিখে রাখলে আরও সুবিধা হয়।

পাতলা বা নিম্নমানের ব্যাগ ব্যবহার
বাজারের পাতলা প্লাস্টিক ব্যাগে মাংস রাখলে তা বরফের সঙ্গে লেগে যেতে পারে। পরে টানতে গেলে ছিঁড়ে গিয়ে রক্তপানি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। মোটা ও ফ্রিজ-উপযোগী ব্যাগ বা জিপ-লক ব্যবহার করলে এই ঝামেলা কমে।

সমতলভাবে প্যাকেট না করা
বড় গোলাকার ব্যাগে গুঁজে মাংস রাখলে তা জমতে বেশি সময় লাগে। আবার ফ্রিজে স্তূপ করেও রাখা কঠিন হয়। পাতলা ও সমানভাবে ভাগ করে প্যাকেট করলে মাংস দ্রুত জমে এবং জায়গাও কম লাগে।

লিকেজ পরিষ্কার না করা
ঠিকমতো না জমলে প্যাকেট থেকে রক্তপানি বের হয়ে ফ্রিজের ট্রেতে জমে যায়। সময়মতো পরিষ্কার না করলে দুর্গন্ধ তৈরি হয় এবং জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। ফ্রিজের নিচে ট্রে, খবরের কাগজ বা প্লাস্টিক শিট ব্যবহার করলে পরিষ্কার করা সহজ হয়।

বারবার ফ্রিজ খোলা
ঈদের সময় প্রায়ই দেখা যায়, কেউ না কেউ কিছুক্ষণ পরপর ফ্রিজ খুলে দেখছেন সব ঠিক আছে কি না। কিন্তু বারবার ফ্রিজ খোলা হলে ভেতরের তাপমাত্রা ওঠানামা করে, যা মাংস দ্রুত জমতে বাধা দেয়। যে প্যাকেটগুলো বেশি ব্যবহার হবে, সেগুলো সামনে রাখলে অযথা পুরো ফ্রিজ ঘাঁটাঘাঁটি করতে হয় না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামান্য সচেতনতা ও পরিকল্পনাই কোরবানির মাংস দীর্ঘ সময় নিরাপদ ও ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।

ঈদে ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে ১০ লাখ টাকা পেলেন খোকন মিয়া

ওয়ালটনের ফ্রিজ কিনে ১০ লাখ টাকার পুরস্কার জিতেছেন ময়মনসিংহের ভালুকার বাসিন্দা খোকন মিয়া। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ওয়ালটনের ডিজিটাল ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে মিলিয়নিয়ার হওয়ায় আনন্দে ভাসছে তার পরিবার। রোববার রাজধানীতে ওয়ালটন করপোরেট অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে খোকন মিয়ার হাতে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেন চিত্রনায়ক আমিন খান এবং ওয়ালটন ডিস্ট্রিবিউটর নেটওয়ার্কের হেড অব সেলস মো. ফিরোজ আলম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন ফ্রিজের চিফ বিজনেস অফিসার তাহসিনুল হক, চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদ এবং ওয়ালটন ডিস্ট্রিবিউটর শোরুম ‘হক এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী এনামুল হক প্রমুখ।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ৮ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী শুরু হওয়া ‘ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২৪’-এর আওতায় ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন ও বিএলডিসি ফ্যান কিনে ‘আবারও মিলিয়নিয়ার’ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রেতারা।

এই ক্যাম্পেইনে ইতোমধ্যে ছয়জন ক্রেতা ১০ লাখ টাকা করে পুরস্কার পেয়েছেন। খোকন মিয়ার পাশাপাশি রাজধানীর দক্ষিণখানের মাহমুদুল হাসান, নাটোরের আফরোজা বেগম, বান্দরবানের সুপ্রকাশ চাকমা, বাগেরহাটের কুদ্দুস হাওলাদার ও নরসিংদীর তাহমিনা আক্তারও মিলিয়নিয়ার হয়েছেন।

চেক গ্রহণ শেষে খোকন মিয়া বলেন, ‘ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে ১০ লাখ টাকা পাবো এটা যেন স্বপ্নের মতো লাগছিল। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে টাকা হাতে পেয়ে খুবই আনন্দ লাগছে। এই টাকা দিয়ে আমার স্বপ্নের বাড়ি তৈরি করবো।’

ওয়ালটনের ডিস্ট্রিবিউটর নেটওয়ার্কের প্রধান মো. ফিরোজ আলম বলেন, ‘দেশের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসায় ওয়ালটন আজ শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ৫৫টিরও বেশি দেশে ওয়ালটন পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। ক্রেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা থেকেই ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে মিলিয়নিয়ার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, ওয়ালটনের বিভিন্ন ডিজিটাল ক্যাম্পেইনে ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক ক্রেতা মিলিয়নিয়ার হয়েছেন। ওয়ালটনের এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

হজের মূল কার্যক্রম শুরু, লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর আরাফাতের ময়দান সমবেত ১৬ লাখের বেশি মুসল্লি

পবিত্র হজের মূল কার্যক্রম শুরু হয়েছে সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে লাখো মুসল্লির সমবেত হওয়ার মধ্য দিয়ে। আজ মঙ্গলবার ৯ জিলহজ ফজরের নামাজের পূর্বেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১৬ লাখের বেশি হজযাত্রী আরাফাতের ময়দানে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে সমগ্র আরাফাত প্রান্তর।

ভোর থেকেই হাজিরারা ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় মগ্ন রয়েছেন। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, আরাফাতে অবস্থান হজের অন্যতম প্রধান ফরজ এবং হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।

এর আগে সোমবার মিনায় অবস্থানের মধ্য দিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। মঙ্গলবার ফজরের নামাজের পর হাজিরারা মিনার তাঁবু নগরী থেকে আরাফাতের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

আজ মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা প্রদান করবেন মসজিদে নববির প্রবীণ ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি। খুতবার পর হাজিরারা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন।

সূর্যাস্তের পর হজযাত্রীরা মুজদালিফায় গমন করবেন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপনের পর মিনায় ফিরে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি ও কাবা শরিফে তাওয়াফসহ হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।

সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লাখের বেশি নিবন্ধিত হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনে অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে গেছেন প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ হজযাত্রী। এছাড়া সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ হাজিদের অংশগ্রহণে আরাফাতে উপস্থিত মুসল্লির সংখ্যা ১৬ লাখ ছাড়িয়েছে।

মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দান জাবালে রহমত বা ‘রহমতের পাহাড়’কে কেন্দ্র করে বিস্তৃত। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে বিদায় হজে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই প্রান্তরেই তার ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেছিলেন।

রাজধানীতে সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি, ঈদ যাত্রায় ভোগান্তি

রাজধানী ঢাকায় আজ বুধবার সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ফলে ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের যাত্রায় বিঘ্ন ঘটছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।

এছাড়াও আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আজ বুধবার রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

এদিকে ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, যশোর, কুষ্টিয়া, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া দেশের অন্যত্র পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রাজধানীর পান্থপথে সামুরাই কনভেনশন সেন্টারসহ বেশ কিছু জায়গাতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বুধবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রাজধানীর পান্থপথে সামুরাই কনভেনশন সেন্টারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জায়গাতে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা।

এদিন সকাল সাড়ে ৭টায় ‘মুসলিম উম্মাহ বাংলাদেশ’-এর আয়োজনে জামাতে আদায় করা হয় ঈদের নামাজ। এতে অংশ নেন কয়েকশ মুসল্লি।

এদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে মৌলভীবাজারে পবিত্র ঈদুল আজহার একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এই রেওয়াজ মেনে আগাম ঈদ উদযাপন করে আসছেন স্থানীয় কিছু মানুষ। সকাল সাড়ে ৭টায় শহরের সার্কিট হাউস এলাকায় এই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার শতাধিক নারী ও পুরুষ মুসল্লি অংশ নেন। ঈদের জামাতের ইমামতি করেন আবদুল মাওফিক চৌধুরী। জামাত শেষে খুতবা পাঠ করা হয় এবং দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এছাড়া পটুয়াখালীতে ৩৫টি গ্রামের ২৫ হাজার মানুষ পবিত্র ঈদুল আজহা পালন করছে। আবার বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে সাড়ে ৭টার দিকে গাবতলী রেলস্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ে জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা মিজানুর রহমান। নারী ও শিশু মুসল্লিরাও এতে অংশ নেন। মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় এ জামাতে গাবতলীসহ কাহালু ও ধনুট উপজেলা থেকেও কিছু সংখ্যক মুসল্লি ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করেন। বৈরী আবহওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের কিছু পর নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এবারে জামাত খোলা মাঠের অনুষ্ঠিত না হয়ে মসজিদের ভেতরে অর্ধশত মুসল্লি নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকরা জানান, আবহাওয়া কারণে অনেকে এবারে জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারেননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাবতলীতে এটি ছিল ৪র্থ বারের মতো আগাম ঈদ উদযাপন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

আয়োজকদের দাবি, বিশ্বের কোথাও চাঁদ দেখা গেলে সে অনুযায়ী রোজা ও ঈদ পালন করা উচিত। সেই বিশ্বাস থেকেই তারা সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করছেন।

এদিকে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল।

গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হোসেন জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়েছে।

ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করে এই শুভেচ্ছা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘ত্যাগের পরাকাষ্ঠা, তাকওয়ার মহিমান্বিত পথনির্দেশনা এবং আত্মশুদ্ধির অনন্য বার্তা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বছর ঘুরে আবারও বিশ্ব মুসলিমের দুয়ারে হাজির পবিত্র ঈদুল আজহা। আমি এই শুভক্ষণে দেশ এবং বিশ্বের সব মুসলমানকে জানাই ঈদ মোবারক। বিশ্ববাসীকে জানাই পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা।’

তিনি লেখেন, ‘ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুসলমান ঈদুল আজহা উদ্যাপনের জন্য প্রস্তুত। ইসলামের মহিমান্বিত এই উৎসব শুধু একটি আনন্দ-উৎসবই নয় বরং স্রষ্টার প্রতি গভীর বিশ্বাস, আত্মনিবেদন এবং ত্যাগের এক চিরন্তন বার্তা বহন করে। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অটল ঈমান, নিঃশর্ত আনুগত্য এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই দিবসকে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে মহিমান্বিত ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।’

পবিত্র ঈদুল আজহায় আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘তিনি যেন আমাদের ত্যাগ কবুল করেন। আমাদের মাতৃভূমিসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ও মানবজাতির জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা দান করেন। একইসঙ্গে আমি বিশ্বজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি এবং নিরাপত্তার জন্যও মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক এই পবিত্র ঈদুল আজহা। আল্লাহ আমাদের কো রবানি ও ইবাদত কবুল করে নিন। তাঁর অশেষ রহমত ও বরকতে আমাদের জীবন ভরে উঠুক শান্তি ও সমৃদ্ধিতে।’

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা আজ

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আজ বুধবার ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজ, পশু কোরবানি এবং হজের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় এই ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘উকুফে আরাফা’ সম্পন্ন হওয়ার পরই মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার জিলহজ মাসের নবম দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৬ লাখ হাজি সৌদি আরবের আরাফাত ময়দানে সমবেত হন। ভোর থেকেই শুভ্র ইহরামে সজ্জিত হাজিদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আরাফাত প্রান্তর।

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী আরাফাতে অবস্থান করা হজের প্রধান রুকন।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা আরাফাতের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে নামাজ, তওবা-ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আসকারে সময় কাটান। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় কান্না ও প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন তারা।

এরপর দুপুরে ঐতিহাসিক নামিরা মসজিদ থেকে হজের খুতবা দেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। এবার বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় খুতবার অনুবাদ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

খুতবায় তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

খুতবা শেষে হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করে সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করেন তারা। একই সঙ্গে মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কঙ্কর সংগ্রহ করেন হাজিরা।

আজ ১০ জিলহজ সকালে মিনার জামারায় বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

পরে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কুরবানি করবেন হাজিরা। কুরবানি শেষে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরাম ত্যাগ করবেন তারা। এরপর কাবা শরিফ তাওয়াফের মধ্য দিয়ে হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।

সরকার পাঁচ বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ পেতে চায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার আশ্বাস এডিবির

দেশের অর্থনীতির পুনর্গঠন ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে আগামী পাঁচ বছরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে অন্তত ১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নিতে চায় সরকার। জুনের মধ্যে আগামী অর্থবছরের বাজেট সহায়তা হিসেবে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অন্তত তিন বিলিয়ন ডলার ঋণ পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ সফররত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা আগামী পাঁচ বছরে মোট পাঁচ বিলিয়ন ডলারের (৫০০ কোটি ডলার) ঋণ প্যাকেজের ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে  উচ্চ পর্যায়ের সভায় এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে বর্তমান ঋণ কর্মসূচির পরিবর্তে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন একটি তিন বছর মেয়াদি সংস্কারভিত্তিক ঋণ কর্মসূচিতে যাচ্ছে সরকার। গতকাল আইএমএফের ডিএমডি নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভায়  তিন বছর মেয়াদি নতুন সংস্কার কর্মসূচির মাধ্যমে আইএমএফ থেকে পাঁচ থেকে ছয় বিলিয়ন ডলার পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

নতুন ঋণ কর্মসূচিতে সম্মত আইএমএফ 
গত বৃহস্পতিবার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের মধ্যে এক ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান আইএমএফ কর্মসূচির অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়।

সভায় অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কাঠামোগত সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে চলমান আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি ভিন্ন অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছিল। পরে উদ্ভূত দেশীয় বাস্তবতা, রাজনৈতিক অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে কিছু সংস্কার বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার সংস্কার থেকে সরে আসতে চায় না, বরং বাস্তবসম্মতভাবে ধাপে ধাপে এবং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে আগ্রহী। এ পরিপ্রেক্ষিতে নবনির্বাচিত সরকারের অধীনে তিন বছরের একটি নতুন আইএমএফ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে অগ্রাধিকারভিত্তিক ও বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সভায় নাইজেল ক্লার্ক বাংলাদেশের সংস্কার উদ্যোগ এবং নতুন কর্মসূচি গ্রহণের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের গঠনমূলক ও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন। উভয় পক্ষ দ্রুত নতুন কর্মসূচি প্রণয়নের কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে একমত হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে আগামী জুলাই বা আগস্টে আইএমএফের একটি মিশন ঢাকা সফর করতে পারে। তখন ঋণের পরিমাণ, সময়সীমা ও শর্ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

প্রসঙ্গত, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটের মধ্যে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশ আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। পরে ২০২৫ সালে এর পরিমাণ বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। বাকি রয়েছে আরও ১৮৬ কোটি ডলার। তবে রাজস্ব আদায়, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক খাত সংস্কারে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ায় আইএমএফ দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিল।

বিভিন্ন সময়ে সরকার ও আইএমএফের মধ্যে মতপার্থক্যের প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে ছিল অভিন্ন ভ্যাট হার চালু, কর অব্যাহতি কমানো, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার, বিদ্যুৎ ও সারের ভর্তুকি কমানো, ব্যাংক খাত সংস্কার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পুনর্গঠন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, আইএমএফের ঋণ ও সংস্কার কর্মসূচি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, এআইআইবি ও জাইকার মতো সংস্থাগুলোর কাছ থেকে বাজেট সহায়তা পাওয়াও সহজ হয়। সরকার আশা করছে, নতুন কর্মসূচির অগ্রগতি ইতিবাচক হলে বহুপক্ষীয় ঋণদাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে অতিরিক্ত বাজেট সহায়তা পাওয়া সহজ হবে। আগামী জুন মাসের মধ্যে বিভিন্ন দাতা সংস্থা থেকে অন্তত ৩০০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা আশা করছে সরকার।

এডিবির ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ
গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এডিবি জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে সমন্বিত প্রবৃদ্ধিভিত্তিক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়া হবে। এই বিশেষ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দেশের সুষম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। এই প্যাকেজের আওতায় প্রতিবছর গড়ে এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন করা হবে, যা এডিবির নিয়মিত বার্ষিক ঋণ কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা বলেছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন ধাপে প্রবেশ করছে এবং এডিবি এ দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় পাশে থাকবে। তিনি ইতোমধ্যে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন বা ১৪০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার এবং শিপিং খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের ওপর যে বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সম্প্রতি এডিবি এ খাতে আরও ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলোকে আরও জোরালোভাবে সমর্থন দিতে এডিবি তাদের বার্ষিক সার্বভৌম ঋণের পরিমাণ ২০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। এর ফলে বার্ষিক ঋণের পরিমাণ দুই বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। এই অর্থ বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়া সহজ করতে সহায়ক হবে।

আজ পবিত্র হজ, দুয়ারে ঈদ

ত্যাগের বাণী নিয়ে বছর ঘুরে এসেছে মনের পশুত্ব ত্যাগ করে লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষকে পরাভূত করার সময়। এসেছে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উত্তম সময়। আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজ। সারা বিশ্ব থেকে সমবেত হওয়া লাখো হাজির কণ্ঠে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা, ওয়ান নিইমাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক’ ধ্বনিতে মুখর হবে আরাফাতের ময়দান। সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল আজহা আগামীকাল। বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার উদযাপিত হবে ঈদ।

চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে হজ করতে সৌদি আরব গেছেন প্রায় ৭৮ হাজার হাজি। বিভিন্ন দেশের ও স্থানীয় হজযাত্রী মিলে হাজির সংখ্যা এ বছর ১৬ লাখের মতো। ধর্মপ্রাণ এই মুসলমানরা সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর দরবারে হাজিরা দিতে আজ পবিত্র হজের প্রধান আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিচ্ছেন। ধর্মীয় আবেগ ও অনুভূতির মধ্য দিয়ে ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে অন্যতম স্তম্ভ হজের দ্বিতীয় রুকন আদায়ের জন্য তারা মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিদায় হজের স্মৃতিবিজড়িত এই ময়দানে অবস্থান করবেন তারা।

আরাফাত ময়দানের মসজিদে নামিরা থেকে জোহরের নামাজের শেষ ওয়াক্তে হজের খুতবা পাঠ করা হবে। এরপর সেখানে সমবেতরা এক আজান ও দুই ইকামতে জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে জামাতে আদায় করবেন। এরপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও দোয়ায় অংশ নেবেন। এ বছর আরাফার ঐতিহাসিক খুতবা দেবেন মসজিদে নববির প্রধান ইমাম ও খতিব শায়খ আলি বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্তের পর কিছু সময় পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানেই অবস্থান করবেন হাজিরা। সূর্য অস্ত যাওয়ার পরে মাগরিবের নামাজ আদায় না করেই আরাফাতের ময়দান থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেবেন তারা।

ত্যাগের ঈদ, আনন্দের ঈদ 
বাংলাদেশে ঈদুল আজহায় সামর্থ্যবান মুসলমানরা আল্লাহর পথে পশু কোরবানি করবেন। পশু প্রতীক মাত্র। কবি নজরুল বলেছেন– ‘মনের পশুরে করো জবাই/ পশুরাও বাঁচে, বাঁচে সবাই।’
ইসলাম ধর্মমতে, মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে আদিষ্ট হন নিজের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানি করার। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে তাঁর সবচেয়ে প্রিয়, আদরের ধন পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কেই কোরবানির সিদ্ধান্ত নেন ইব্রাহিম (আ.)। পিতার এই সিদ্ধান্ত সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেন পুত্র ইসমাইল (আ.)।

Untitled 1 1779767389

এরপর ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানির প্রস্তুতি নেন পিতা ইব্রাহিম (আ.)। কিন্তু আল্লাহতায়ালা ইব্রাহিমের (আ.) কঠোর আনুগত্য ও ত্যাগকে গ্রহণ করেন। ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে কোরবানি হয় একটি দুম্বা। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই ত্যাগের মহিমার স্মরণে মুসলমানরা প্রতি বছরের ১০ জিলহজ তারিখে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভে কোরবানি করেন।

এই পশু কোরবানি সম্পূর্ণ রূপক। আল্লাহর পথে ত্যাগই ঈদুল আজহার প্রধান শিক্ষা। পশু জবাই করে তা বিলিয়ে দেওয়া দান নয়, ত্যাগ। তাই তো কবি নজরুল ঈদজ্জোহা কবিতায় বলে গেছেন– ‘চাহি নাকো দুম্বা উট, কতটুকু দান? ও দান ঝুট। চাই কোরবানি, চাই না দান।’

সামর্থ্যবানদের জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব। সামর্থ্যবানরা নিজেদের নামে, প্রিয়জনের নামে পশু কোরবানি দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি আদায়ে সচেষ্ট হবেন। যাদের সামর্থ্য নেই, তারাও বাদ যাবেন না ঈদের আনন্দ থেকে। কেননা, কোরবানির পশুর গোশত তিন ভাগ করা উত্তম। এর মধ্যে এক ভাগ বিলিয়ে দিতে হয় গরিব মিসকিনকে। আত্মীয়দের দিতে হয় এক ভাগ। আর অবশিষ্ট এক ভাগ নিজের ও পরিবারের জন্য। প্রতিবছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখ পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। তবে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পবিত্র এই মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যে কোনো দিন পশু কোরবানি দেওয়া যায়। সে হিসাবে আগামী শুক্র ও শনিবারও কোরবানি করা যাবে।

নাড়ির টানে শহরবাসী কোটি মানুষ পথের ভোগান্তি জয় করে ফিরছেন শিকড়ের কাছে। ঈদগাহ ময়দানও প্রস্তুত। সকালের শুরুতেই মুসল্লিরা ঈদগাহে যাবেন ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ে। ফিরে এসে আল্লাহর পথে পশু কোরবানি করবেন।

প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের প্রধান জামাত হবে সকাল সাড়ে ৭টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টা থেকে হবে পাঁচটি ঈদ জামাত। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আয়োজনে বিভিন্ন মসজিদ ও মাঠেও হবে ঈদের জামাত।

ত্যাগের দিন হলেও তো ঈদ বলে কথা! ত্যাগের এই ঈদ বাঙালি মুসলমানরা উদযাপন করেন দারুণ জৌলুসে। বাংলাদেশে ইসলাম আগমনের প্রথম যুগে ঈদ সাদামাটাভাবে উদযাপন করা হলেও মোগল ও নবাবি আমলে ঈদ উৎসবের রূপ পায়। সতেরো শতকে পরিব্রাজক মির্জা নাথানের ‘বাহরিস্তানে গায়েবী’ বইয়ে বাঙালির বর্ণিল ঈদের বর্ণনা পাওয়া যায়। তিনি লিখেছেন, ঈদে বাঙালি মুসলমানরা একে অন্যের বাড়িতে যান। অতিথির জন্য আহারের ব্যবস্থা থাকে। ঈদের দিনে মুসলমানরা সুন্দর পোশাক পরে। অবস্থাসম্পন্ন ব্যক্তিরা মুক্ত হস্তে দান করেন। সেই ধারায় আজও ঈদ উদযাপিত হয় জৌলুসের সঙ্গেই।
ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতাসহ শীর্ষ রাজনীতিবিদরা দেশবাসীকে আনুষ্ঠানিক ঈদের শুভেচ্ছা জানান। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না। ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার সরকারি ছুটি সাত দিনের। পত্রিকায় ছুটি থাকবে পাঁচ দিন। হাসপাতাল, শিশুসদন, আশ্রয়কেন্দ্র ও কারাগারে বিশেষ খাবার দেওয়া হবে ঈদের দিন।

রদ্রিগেজকে অধিনায়ক করে বিশ্বকাপের দল ঘোষণা কলম্বিয়ার

অসুস্থতা ও অনিয়মিত মৌসুমের পরও ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য কলম্বিয়ার দলে জায়গা পেয়েছেন অধিনায়ক জেমস রদ্রিগেজ। ৩৪ বছর বয়সি এই মিডফিল্ডারকে নিয়েই বিশ্বকাপ মিশনে যাচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

গত মার্চে ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালে রদ্রিগেজ অসুস্থ হয়ে পড়েন। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তীব্র পানিশূন্যতার কারণে তাকে তিন দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।

কোচ নেস্তর লরেঞ্জোর দলে আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় ভরসা হবেন বায়ার্ন মিউনিখের ফরোয়ার্ড লুইস দিয়াজ। তবে সৌদি ক্লাব আল নাসরের ডিফেন্ডার জন ডুরান দলে জায়গা পাননি, যা কিনা দেখা হচ্ছে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে পারেনি কলম্বিয়া। আর ২০১৮ বিশ্বকাপে তারা শেষ ষোলোতে ইংল্যান্ডের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয়।

বিশ্বকাপে তাদের সেরা সাফল্য আসে ২০১৪ সালে, যখন তারা কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছিল। সেখানে তারা হেরে যায় স্বাগতিক ব্রাজিলের কাছে।

২০২৬ বিশ্বকাপে কলম্বিয়া রয়েছে গ্রুপ ‘কে’-তে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ পর্তুগাল, উজবেকিস্তান ও কঙ্গো।

কলম্বিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াড

গোলরক্ষক:

কামিলো ভার্গাস, আলভারো মনতেরো, ডেভিড ওসপিনা

রক্ষণভাগ:

দাভিনসন সানচেজ, জন লুকুমি, ইয়েরি মিনা, উইলার দিত্তা, ড্যানিয়েল মুনিওজ, সান্তিয়াগো আরিয়াস, হোহান মোহিকা, দেইভার মাচাদো

মিডফিল্ডার:

রিচার্ড রিওস, জেফারসন লেরমা, কেভিন কাস্তানো, হুয়ান কামিলো পোর্তিয়া, গুস্তাভো পুয়ের্তা, জন আরিয়াস, হোর্হে কারাসকাল, হুয়ান ফের্নান্দো কুইন্তেরো, হেমস রদ্রিগেজ, হ্যামিন্তন কাম্পাস

আক্রমণভাগ:

হুয়ান কামিলো হার্নান্দেজ, লুইস দিয়াজ, লুইস সুয়ারেজ, কার্লোস আন্দ্রেস গোমেজ ও জন কর্দোবা